আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বাস্তবতা ও ঘটনার অন্তরালে।

সাধারণ শিক্ষার্থী। পলাশ,কৃষ্ণচূড়া ভাললাগে। সবুজ ঘাসের শিশিরকণা ছুয়ে দেখতে মন চায়। যাচ্ছিলাম দোহার থেকে ঢাকা। শ্রীনগর যেতে না যেতেই এক ভদ্রলোক এসে বসলো পাশের সিটে।

মুখে আধ পাকা-আধ কাচা দাড়ি,মাথায় পাচকোলির টুপি। মুখে চরম ক্লান্তির ছাপ। হয়ত কোন বড় রকমের অসুবিধায় আছেন। আধ ঘন্টার মধ্যে আমাদের মাঝে কোন কথা হলনা। অবশেষে আমিই কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে জিজ্ঞাসা করে ফেললাম, ভাই আপনি কি কোন সমস্যায় আছেন? তাঁর জবাব- নাহ,কোন সমস্যা নেই ।

আমি বললাম- তাহলে এত ব্যস্ত দেখাচ্ছে যে ভাইজানকে? সে বলল-নাহ,আমি মোটেও ব্যস্ত নই। আমি আর কিছু বললাম না,গাড়ি চলতে লাগলো তাঁর গতিতে। প্রায় একঘন্টা পর লোকটা আমাকে বলল, ভাইজান! আপনে যদি কিছু মনে না করেন তাইলে আমি আপনেরে একখান কথা কইবার চাই। আমি বললাম বলতে পারেন। সে বলল, ভাইজান! কথাডা আসলে না বলাডাই ভালা, তারপরেও আমি কইতাসি।

আমার নাম আব্দুল জলিল। ক্ষেতখামারে কাম করি। বাড়ি একখান বর্গা গরু আছে। এই দিয়াই তিন মাইয়া আর বৌরে চালাইতাম। মাইয়া দুইডা ইস্কুলে পরে।

ভালা মতনই সংসার চলতেছিল। একদিন আমগো এলাকারই এক রাজনৈতিক নেতা, নাম কমুনা,আমার ক্ষেতে এক লোকরে ধইরা আইনা জবাই দিয়া দিল। আমিতো তারে বাচানের লাইগা দৌর দিলাম তাঁর দিকে। ততক্ষনে তাঁর গলাডা দুইভাগ হইয়া গেসে। আমি নেতারে কইলাম,এইডা আপ্নে মোটেও ভালা কাম করেন নাই।

আমি আপনের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষী দিমু। হে কইল, তোর আর পায়ে হাইটা অতদুর যাইতে হইব না,আমিই গাড়ি পাঠাইয়া দিতাসি। উনারা চইল্লা গেল মরাডারে ফালাইয়া আমার ক্ষেতে। আমি কি করুম কিছুই বুঝতে পারতাছিলাম না। আমি বাড়িতে আইসা আমার বৌরে কইলাম সবকিছু।

সে তো শুইন্না কান্না-কাটি শুরু কইরা দিল। কিছুক্ষণ পরে আমার বাড়ির সামনে একগাড়ী পুলিশ আইলো। আমারে আমার বৌ পেছনের দরজা দিয়া বাইর কইরা দিল। আসার আগে ছোট ছোট মাইয়া দুইডারে একবার আদরও করতে পারলাম না। আমার নামে মাডার কেস হইয়া গেল।

সেই যে বাড়ি ছারসি, ৫ মাস হইয়া গেল,আর বাড়ি যাইতে পারিনাই। ঘুইরা ঘুইরা মরতাসি। মাইয়া দুইডা আমার কেমন আছে তাও জানতে পারিনাই। ভাইজান! দুঃখে কইলজা ফাইট্টা যায়। এখন আসি মূল আলোচনায়, এই রকম রাজনৈতিক শিকারীদের শিকার হচ্ছে মানুষ প্রতিনিয়ত।

যেখানে বড় বড় রাজনৈতিক নেতারা খুব সহজেই গুম হয়ে যায়,সেখানে আমাদের মত সাধারণ জনগনের জীবনের কি নিশ্চয়তা আছে? যে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে জীবনের হেফাজতে থানায় জিডি করতে হয়,সে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনের হেফাজত কে করবে? গুম-হত্যা শুধু যে সাধারণ মানুষই হয়,তা নয়। বড় বড় রাজনৈতিক নেতারাও হরহামেশাই গুম হয়ে যাচ্ছে। তবে আরা গুম হলে সারা পৃথিবীর মানুষ জানে। হত্যা বা গুমকারীর বিচার চেয়ে আন্দোলন-মিছিল হয়। হরতাল করে একজনের জন্য পাঁচজন মরে।

কিন্ত যে জেলে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মরল,যে ফেরীওয়ালা রাস্তায় যানবাহনের তলায় পিষে গেল,যে কৃষক রাজনৈতিক শিকার হয়ে ঘর-বাড়ি ছাড়া হল তাদের জন্য কোন আন্দোলন-হরতাল-মিছিল হয়না। তারা যেন এভাবে জীবন-যাপন করার জন্যই জন্মেছিল,এভাবে মরার জন্যই জন্মেছিল। তারা তাদের জানমালের হেফাজত কেনই বা পাবে, তারা তো মানুষ নয়,তারা গরীব। তারা তো আর কোন রাজনৈতিক দলের অনুসারী নয়। এদের জীবনের হেফাজতের কথাও মাঝে মাঝে স্বপ্নে দেখি।

সে স্বপ্নের দেশে যদি আজীবনের জন্য চলে যেতে পারতাম। কতইনা ভাল হত। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।