আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ডেভিড ময়েসঃ একজন আন্ডার রেটেড ব্রিটিশ ফুটবল পণ্ডিত!

জাতে স্কটিশ নিপাট এই ভদ্রলোককে আমার মত অনেকেই হয়ত কখনই একজন আধুনিক ফুটবল ম্যানেজার বলে মনে করেন না। তার চুপচাপ স্বভাব, ডাগ আউটের শান্ত আচরণ আর কথাবার্তা কাউকেই ভাবতে বাধ্য করবে না যে তিনি একজন সফল সক্ষম ক্লাব ম্যানেজার। কিন্তু সব হিসাব নিকাশ উল্টে গেল যখন তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হিসাবে নির্বাচিত হলেন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ২৬ বছরের শাসন শেষে স্যার এলেক্স ফারগুসন যখন তার ছড়িটা বাক্সবন্দি করার ঘোষণা দিলেন তৎক্ষণাৎ অনেকেই ম্যানইউর কোচ হিসাবে অনেক পরিচিত নাম চিন্তা করেছিলেন কিন্তু কে ভাবতে পেরেছিলেন ডেভিড ময়েস বিশ্বের সেরা এই দলটি সামলানোর দায়িত্ব পেয়ে যাবেন! ১১ বছর এভারটনে থাকার পর এইবার ডেভিড ময়েস স্যার এলেক্সের জায়গা পূরণ করতে পাড়ি জমিয়েছেন ম্যানইউতে। তবে আকাশে বাতাসে গুজব ছিল হোসে মরিনহো বা অন্য কোন বিদেশী হবেন ওল্ড ট্রাফোর্ডের পরবর্তী কাণ্ডারি কিন্তু বোর্ড এক স্কটিশের জায়গা অন্য একজন স্কটিশ দিয়েই পূরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ বা ইপিএলের খবর যারা রাখেন তারা নিশ্চয়ই ডেভিড ময়েসের সক্ষমতা সম্বন্ধে সামান্য হলেও ওয়াকিবহাল আছেন। তার একযুগের প্রচেষ্টা লীগ টেবিলে টফিদের প্রতিবছরই একটি সম্মানজনক স্থান অর্জন করতে সাহায্য করেছে। ৯২-৯৩ মৌসুম শুরু হওয়া প্রিমিয়ার লীগে আজ পর্যন্ত এভারটন অনেক ভাল খেলোয়াড় তৈরি করেছে যেমন রুনি (ম্যানইউতে), লেসকট(ম্যানসিটিতে), আরটেটা(আর্সেনালে), পিনিয়েরা, ফেলানি, কাহিল(চেলসিতে) ও বেইন্স তাদের অন্যতম। প্রতিবছর কেউ না কেউ ক্লাব ছেড়ে ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে পাড়ি জমাচ্ছেন, এই ক্লাবকে ময়েস উঠতি খেলোয়াড় তৈরির সফল কারখানা বানিয়ে ফেলেছিলেন। এভারটন সবসময়ই কম বাজেটের দল তৈরি করে কিন্তু ময়েস এই স্বল্প সামর্থের দলকে তার মেধা আর প্রজ্ঞা দিয়ে প্রতি বছর প্রিমিয়ার লীগে একটি সম্মানজনক অবস্থানে রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন।

বড় দলগুলি গুডিসন পার্কে গেলে পুরো পয়েন্ট নিয়ে আসতে শতবার চিন্তা করতে বাধ্য হত আর এর পুরো কৃতিত্ব দিতে হবে ময়েস’কে। সাধারণ লাইনআপ নিয়ে সবসময় অসাধারণ কিছু করে দেখাতেন টফিদের সাবেক এই ম্যানেজার। ১ জুলাই, ২০১৩ থেকে ডেভিড ময়েসের ওল্ড ট্রাফোর্ডে যে যাত্রা শুরু হবে তা যে অনেক দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ হবে তা সহজেই অনুমেয়। তার পূর্বসূরি এই ঐতিহ্যবাহী দলকে ১৩টি প্রিমিয়ারলীগ শিরোপা ও দুই দুইটি ইউরোপ সেরার খেতাব উপহার দিয়েছিলেন, স্যার এলেক্সের এই কীর্তি অতিক্রম করা যে তার জন্য পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ হবে তা দেখার সুযোগ মিলবে আসছে অগাস্ট থেকে। দীর্ঘ ১১ বছরের শাসনামলে ময়েস হয়ত কোন ট্রফি হয়ত জিততে পারেননি কিন্তু তার মেধা ও যোগ্যতা যে তাকে ভবিষ্যতে সাফল্যমণ্ডিত করবে তা আমি বাজি ধরে বলতে পারি।

পাঠক আপনারা জেনে আশ্চর্য হবেন যে, স্যার এলেক্স ম্যানইউ থেকে বিদায় নেয়ার আগেই তার উত্তরসূরি হিসাবে বোর্ডকে ময়েসের নাম উল্লেখ করে গিয়েছিলেন। জানা যায় এরপর ম্যানইউ’র বোর্ড আর কোন নাম যাচাই বাছাই করার প্রয়োজন মনে করেনি। কিন্তু ময়েসকে নিয়ে তাদের এত আত্মবিশ্বাস কিভাবে তৈরি হল? ময়েসের কর্মদক্ষতা ইউরোপের ফুটবল আঙ্গিনায় সুবিদিত, তার কর্মনিষ্ঠায় সবার পাশাপাশি স্যার এলেক্সও বেজায় খুশি ছিলেন আর এই জন্য অনেক আগেই তাকে সহকারী হিসাবে পেতে চেয়েছিলেন। ম্যানইউ কোন আনকোরা দল নয়, তাদের আভিজাত্য আর গৌরব করার মত কীর্তি আবার সবকিছু শুরু থেকে শুরু করার দাবি রাখে না, আর এটাই ময়েসের জন্য বড় চ্যাল্যাঞ্জ বলে মনে করি। দলটি যে অবস্থায় আছে তাকে আরো সমৃদ্ধ করতে ময়েসকে অনেক কাজ করতে হবে এই ব্যপারে সন্দেহ নেই।

এই ব্যাপারে ম্যানইউ’র বর্তমান খেলোয়াড় রিও ফার্ডিনান্ড বলেছেন ফার্গির সাথে ময়েসের কাজ করার অনেক মিল রয়েছে আর এতে তাদের সফলতা ধরে রাখতে তেমন বেগ পেতে হবে। আজ বিদেশী এক পত্রিকায় পড়লাম তিনি ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন তার নতুন সহকারী আর কোচিং স্টাফদের নাম ঘোষণা করার মাধ্যমে। ১ জুলাই থেকে খেলোয়াড় কেনাবেচার বাজার খুলে যাওয়ার অনেক আগ থেকেই তিনি তৎপর আছেন, এতিমধ্যে হাত বাড়িয়েছেন সাবেক দলের স্কোয়াডে। তার সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্পৃহা আন্দাজ করা যায় ম্যানইউতে যোগ দেয়ার পর পরই পুরাতন ক্লাবের যোগ্য শিশ্য ইংলিশ লেফট ব্যাক বেইন্‌সকে ম্যানইউতে নিয়ে আসার চেষ্টা। তবে ওয়েন রুনিকে ওল্ড ট্রাফোর্ডে রেখে দেয়াটা হবে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

রুনি এভারটন থেকে ম্যানইউতে আসার আগে আত্মজীবনীতে ময়েসের বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ এনেছিলেন পরে রুনি তার অভিযোগ তুলে নেন এবং ময়েসের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। এখন দেখার বিষয় তারা পুরনো এই ব্যপারটি কতটুকু ভুলে যেতে পেরেছেন। অনেকের কাছে ম্যানইউতে ময়েসের পদার্পণ আশ্চর্যজনক মনে হতে পারে। মিডিয়া যেভাবে পেপ গার্দিওয়ালা, হোসে মরিনহো, রবার্তো মানচিনিদের নিয়ে মেতে থাকে তাতে তার মত ম্যানেজারেরা সবসময় পাদপ্রদীপের বাইরে থেকে যান। তবে তাকে আর হেলাফেলা করার সুযোগ থাকছে কই? তিনিত এখন রেড ডেভিলদের সর্বেসর্বা।

ছোট দলে কাজ করার অনেক সুবিধার পাশাপাশি একটা বড় সমস্যা হচ্ছে মনের মত দল তৈরি করতে না পারা। ময়েস এতদিন এই সমস্যার কারনে ম্যানেজার হিসাবে ছিলেন সবার নজরের বাইরে দেখা যাক তিনি এবার কতটা স্পটলাইটে আসতে পারেন! ২৬ বছর ওল্ড ট্রাফোর্ডে থেকে স্যার এলেক্স ফারগুসন ইউরোপময় যে পাণ্ডিত্য দেখিয়েছেন তার উত্তরসূরি ডেভিড ময়েস তার কতখানি করতে পারেন তা পরখ করে নিতে পাঠকদের ইংলিশ ফুটবল সিজন শুরু অব্দি অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। সুনামগঞ্জ, জুলাই ২, ২০১৩ ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.