আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে শপথ গ্রহণ ও টুকটাক ভাবনা

আমার ব্লগটি (.net/blog/p3ch4) স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে, কারন অজানা। ব্যাপারটা খুবই হাস্যকর যে ইউনাইটেড স্টেটস, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া সহ প্রায় সবকয়টি উন্নত দেশে, এমনকি আফ্রিকার দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাইবেল ছুঁয়ে শপথ করা হয়। মাঝে মাঝে এইসব দেশের লিড নিউজ হয় কোন এক মুসলিম সিনেটর অথবা পার্লামেন্ট মেম্বার হয়েছেন, এই প্রচার বোঝা যায় তাদের মধ্যেও একধরনের ধর্মীয় প্রেজুডিস কাজ করে। তাদের আমরা উদার জাতি হিশেবে জানি, তারপরেও কোন মুসলিম সিনেটর অথবা এমপি যখন বাইবেলের পরিবর্তে কোরআন ছুঁয়ে শপথ করতে চান তখন তাদের লুকানো লেজটা বের হয়ে পরে। তারা কথায় কথায় 'ব্যক্তিস্বাধিনতা' শব্দটি উচ্চারণ করলেও এক্ষেত্রে যে যার ইচ্ছা মতোন ধর্মগ্রন্থ নির্বাচন করতে গেলে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।

এই একটা দিক দিয়ে আমরা বেশ উদার, সেক্যুলার। আমাদের পার্লামেন্ট মেম্বারদের কোন ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে শপথ করতে হয়না। যদিও কোরআন তেলাওয়াত করে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু করা হয়, তবুও কেউ যদি আপত্তি জানায় তাহলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। গণজাগরণ মঞ্চে চারটি বড়ো ধর্মের বাণী পাঠ করে কার্যক্রম শুরু করা হতো- অল্পস্বল্প ধর্মবিদ্বেষ থাকলেও ব্যাপারটা আমার ভাল লেগেছিল। আমি যখন কিন্ডারগার্টেনে পড়তাম, তখন প্রতি সপ্তাহের ক্লাস সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সুরা ফাতিহা পাঠ হতো, উমা নামে এক মেয়ে ভর্তি হওয়ার পর সুরা'র পরিবর্তে জাতীয় সঙ্গীত অথবা দেশাত্মবোধক গান দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

'উন্নত' দেশগুলো আমাদের দেখে শিখতে পারে কীভাবে বড়ো পরিসরে ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করতে হয় না। প্রগতিশীলদের একটা অংশ প্রায়ই আমাদের ইশকুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ফরমসহ সার্টিফিকেটে ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখের ব্যাপারে আপত্তি জানান। এসবে ধর্মীয় পরিচয় লিখাটা অপ্রয়োজনীয়, উল্টো ইশকুলের বাচ্চাদের মধ্যে একটা পার্থক্য গড়ে দেয়। আমার মনে পড়ে ইশকুলে বইয়ের ফরমের ধর্মের ঘরে অন্যদের দেখে দেখে 'মুসলমান' লিখে ফেলায় এক ছেলে অন্যদের চেয়ে কয়েকদিন পর বই পায়, শুধুমাত্র একটি বইয়ের জন্য তাকে সবকয়টি বই ফেরত দিতে হয়েছিল। বইয়ের ব্যাপারটা হয়তো একটু জটিল, কিন্তু এইধরনের সমস্যায় আরও অনেক বাচ্চাই পড়ে ফরমে ধর্মীয় পরিচয়ের উল্লেখ থাকায়।

আমাদের সোশিও-টেকনোলজির সবচে উন্নত অংশ সোশ্যাল সাইটগুলোতেও ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করতে হয়- এসব সেক্যুলার পৃথিবীর জন্য বড়ো ধরনের বাঁধা। এই ব্যাপারগুলো অনেক ছোট ছোট, কিন্তু একবার তুলে দেয়া গেলে সেটা ভবিষ্যতের সেক্যুলার পৃথিবীর জন্য বাটারফ্লাই ইফেক্ট হিশেবে কাজ করবে। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.