আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আমরি বাংলা ভাষা -- হোগা চ্যাট বাল (স্বল্প হজম শক্তির অধিকারিদের জন্য নয়)

সবুজের বুকে লাল, সেতো উড়বেই চিরকাল ( অকালে প্রয়াত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং আমাদের অভিনয় জগতের অন্যতম নক্ষত্র হুমায়ুন ফরিদির আত্মার মাগফেরাত করছি। ) প্রারম্ভ - সাইবার জগতের বাংলাদেশের খুব তরুণ যোদ্ধারা দেশের উপর ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন। গত ৪০ বছরে এটি একটি বড় অর্জন। এতদিন আমরা বড়জোর কলমের যুদ্ধ চালিয়েছি। যা ভারতীয়দের কর্ণ কুহরে প্রবেশ করেনি।

আমাদের বিগত সব সরকারগুলির নতজানু পররাস্ট্র নীতির কারণে দেশের মানুষ চাইলেও, রাস্ট্রিয় পর্যায়ে আমরা মেরুদন্ড সম্পন্ন প্রমানের ব্যার্থ হয়েছি। উপরন্ত দেশে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে মিডিয়া-লেখক-বুদ্ধিজীবি-ব্যাবসায়ি-শিক্ষক এই শ্রেণীগুলির মধ্যে ভারতপ্রেমিদের সংখ্যা বেশ বেড়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায় এই হ্যাকার তরুণ দলের, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদটি যেন দেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এদের দেশে তাই বিশ্বাস জাগে, যে এখনও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যোগ্যসুরি এদেশে আছে। আশার বিষয় হলো, ব্লগস্ফিয়ারে পৃথিবির প্রতিটি প্রান্তে অবস্থানকারি বাংলাদেশিদের অভিনন্দন আর সমর্থন, এই প্রতিবাদি তরুণদলের সঙ্গেই আছে।

হ্যা ব্যাতিক্রম যে নেই তা না। আমাদের ইতিহাসে মীর জাফর-গোলাম আযম-নিজামি দের উপস্থিতি তো সব সময়ই ছিল। তাই সেদিকে না তাকিয়ে, ওদের কথা বিভ্রান্ত না হয়ে বীর তরুণদল যেন এগিয়ে যায়। আর নব্য রাজাকারদের প্রতিহত করার জন্য তোমাদের অন্য ভাইয়েরা তো আছেই। অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা নিও ভায়েরা আমার।

বাংলা মায়ের সম্মান এখন তোমাদের হাতে। শিরোনামের পরিপ্রেক্ষিত ১ চ্যাট গ্রাম থেকে নানা এসেছেন। খাবার টেবিলে বেশ কিছুক্ষন অপেক্ষার পর নাতির আগমন। " কি নানুভাই, কি করছিলে?" নানার প্রশ্ন। নাতি বলছে " এই তো একটু চ্যাট করছিলাম।

" গ্রামের নানা। চারিদিকে ডিজিটাল উন্নয়নের কিছুই তো তার জানা নেই। স্বভাবতই চ্যাট কথাটা বাংলায় ধরে নিয়ে মনে বড় আঘাত পেলেন। আর ভাবতে থাকলেন, তাহলে কি শহুরে সংস্কৃতি আমাদের এত নীচে নামিয়ে দিলো? শিরোনামের পরিপ্রেক্ষিত ২ হোগা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে খুব বাস্তব ঘটনা নিয়ে যে সব চলচিত্র নির্মিত হয়েছে, তার মধ্যে সংগ্রাম অন্যতম। সেখানে উর্দুর প্রতি প্রচ্ছন্ন ঘৃণাবোধটুকুকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান।

রাজাকারের ভুমিকায় তিনি যেভাবে হোগা হোগা বলে উর্দুর প্রতি ঘৃণা জাগানিয়া ইমেজ তৈরি করেছিলেন, তার রেশ ছিল অনেক বছর। অধুনা হিন্দির আগ্রাসনে মগজ ধোলাই হওয়া বাংলাদেশিরা আজ সেই হোগাকেই আনন্দে উপভোগ করছে হিন্দি ছবি বা গানের মাধ্যমে। হোগা আমাদের ভাষায় গালি অর্থে ব্যাবহৃত শব্দ হলেও, উর্দু হিন্দি ভাষায় সেটার অর্থ "হবে"। সারা জীবন হোগা যে অর্থে আমাদের কাছে নিন্দিত ছিল, হিন্দি গান ও ছবির কল্যাণে এখন সেটা যেন ড্রইং রুমের সাধারণ শব্দে পরিণত হতে চলেছে। শিরোনামের পরিপ্রেক্ষিত ৩--- বাল তখনও খুব অল্প লোক ভিসিয়ারে হিন্দি ছবি উপভোগ করতো।

সেই রকম সৌভাগ্যবান পরিবারের একটি স্কুল পড়ুয়া মেয়ে তার সহপাঠিকে বলছে -- ইস ! কি সুন্দর তোর বাল। ব্যাস আর যাবে কই। সহপাঠি রেগে আগুন। ব্যাপারটা টিচার পর্যন্ত গড়ালো। পড়ে হিন্দি জানা দুই একজন যখন ব্যাপারটা পরিস্কার করলো তখন পরিস্থিতি ঠান্ডা হলো।

তবে সেই স্কুল পড়ুয়া বালিকাটিকে তিরস্কার করা হলো, যেন সে বিজাতিয় শব্দের উচ্চারণ আর না ঘটায়। হোগার মত বালও আমাদের ভাষায় একটি খারাপ শব্দ। অথচ সেই শব্দগুলির অর্থ ভিনদেশি সংস্করণগুলিই যেন আসল শব্দের অর্থগুলিকে প্রতি স্থাপন করতে চলেছে। ভাষার মাস আসলেই আমরা নানা রকম আনুষ্ঠানিকতায় মত্ত হয়ে যাই। বই মেলায় গিয়ে বই কেনা বা বই বেচায় ব্যাস্ত থাকি।

আর ২১শে ফেব্রুয়ারি আসলে কে কার আগে শ্রদ্ধা জানাতে শহিদ মিনারে ফুল দিতে যাবে তা নিয়ে রীতিমত কাড়াকাড়ি এমন কি মারামারি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর ঠিক এক দিন পর যেমনকার তেমন। প্রাণ বিসর্জন খুব খুবই কঠিন কাজ। মানুষ সবচেয়ে ভালোবাসে নিজেকে। কেউ চায় না প্রাণ হারাতে।

এজন্যই কবি বলেছিলেন, মরিতে চাহি না আমি এই সুন্দর পৃথিবিতে। অথচ সেই প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে আমাদেরই পুর্বসুরি ভায়েরা আমাদের মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন। আর তাদের এই ত্যাগের মর্যাদা আমরা কি ভাবে দিচ্ছি? হোগা-চ্যাট-বাল এই সব শব্দের পাশাপাশি সেই বিজায়িত হিন্দি সংস্কৃতিকে আত্মিয়করণের মাধ্যমে। জাগতির মধ্যে দুই একজন মীর জাফর একটি জাতিকে হাজার বছরের জন্য পরাধীনতার শৃংখলে অবদ্ধ করার জন্য যথেষ্ঠ। কিন্ত একটি জাতির মধ্যে বেশির ভাগই যখন মীর জাফরের ভুমিকায় অবতীর্ণ, সে জাতি কি আর নিজস্ব স্বাধীনতা আর স্বকীয়তায় খুব বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে? ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।