আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নামাযের দলীলসমূহ

সূচীপত্র ইকামতের বাক্য গুলো দু’বার করে বলা সুন্নত ৪ নামাযে কব্জির উপর হাত বেঁধে নাভির নীচে রাখা সুন্নত ২১ প্রসঙ্গ: ছানা পড়া ৩৩ মুকতাদী সূরা ফাতেহা পড়বেনা ৩৭ নামাযে নি¤œস্বরে আমীন বলা সুন্নত ৫৫ শুধু তাকবীরে তাহরীমার সময় হাত তোলা সুন্নত ৭১ সেজদায় যাওয়ার সময় আগে হাঁটু, পরে হাত, তারপর চেহারা রাখা সুন্নত ৮৩ প্রথম রাকাত শেষ করে সোজা উঠে দাঁড়ানো সুন্নত ৪৪ নামাযে ১ম ও শেষ বৈঠকে বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা ও ডান পা খাড়া রাখা সুন্নত ৪৫ বিত্র নামায পড়ার তরীকা ৫৫ জুমআর আগের ও পরের সুন্নত ৬০ ঈদের নামাযে অতিরিক্ত ছয় তাকবীর সুন্নত ৭০ জানাযার নামায পড়ার পদ্ধতি ৭৫ তারাবী বিশ রাকাত পড়া সুন্নত ৮০ মহিলাদের নামায-পদ্ধতি পুরুষের নামাযের মত নয় ৯৩ ইকামতের বাক্য গুলো দু’বার করে বলা সুন্নত ১. হযরত আব্দুর রাহমান ইবনে আবী লায়লা র. বলেনÑ حَدَّثَنَا أَصْحَابُ مُحَمَد صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؛ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ زَيْدٍ الأَنْصَارِيَّ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ ، رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنَّ رَجُلاً قَامَ وَعَلَيْهِ بُرْدَانِ أَخْضَرَانِ عَلَى جِذْمَةِ حَائِطٍ ، فَأَذَّنَ مَثْنَى ، وَأَقَامَ مَثْنَى ، وَقَعَدَ قَعْدَةً ، قَالَ : فَسَمِعَ ذَلِكَ بِلاَلٌ ، فَقَامَ فَأَذَّنَ مَثْنَى ، وَأَقَامَ مَثْنَى ، وَقَعَدَ قَعْدَةً. رواه ابن ابى شيبة فى المصنف) ২১৩১( واخرجه الطحاوى ১/১০০-১০২ و ابن خزيمة فى صحيحه ৩৮০ والبيهقى ১/৪২০ من طريق ابن ابى شيبة. قال ابن حزم الظاهرى : هذا اسناد فى غاية الصحة. وقال الماردينى فى الجوهر النقى : رجاله على شرط الصحيح. অর্থ: হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একাধিক সাহাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আল আনসারী রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি স্বপ্নে দেখলাম, এক ব্যক্তি যার পরনে ছিল সবুজ রং এর একজোড়া কাপড়- যেন দেয়ালের একাংশে দাঁড়িয়ে জোড়া জোড়া শব্দে আযান দিলেন এবং ইকামাতও দিলেন জোড়া জোড়া শব্দে। আর কিছু‏ক্ষণ (মাঝখানে) বসে রইলেন, তিনি বলেন, পরে বিলাল রা. তা শুনলেন এবং তিনিও জোড়া জোড়া শব্দে আযান দিলেন, জোড়া জোড়া শব্দে ইকামাত দিলেন। আর (আযান ও ইকামাতের মাঝখানে) একটু বসলেন। ইবনে আবী শায়বা রা. আল মুসান্নাফ, হাদীস নং (২১৩১) তাহাবী. ১ম খৃ: ৪২০ পৃ. সহীহ ইবনে খুযাইমা হা.৩৮০ সুনানে কুবরা, বাইহাকী ১/৪২০ ইবনে হায্ম বলেছেন, এ হাদীসটির সনদ অত্যন্ত সহীহ। আলাউদ্দীন মারদীনী রহ. বলেছেনÑএটি সহীহ হাদীসের মানোত্তীর্ণ।

২. আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ রা. থেকে বর্ণিতÑ قال كان أذان رسول الله صلى الله عليه و سلم شفعا شفعا في الأذان والإقامة. رواه الترمذى-১৯৪. অর্থ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আযান ও ইকামাত ছিল জোড়া জোড়া শব্দে। তিরমিযী, হা.১৯৪ ৩. আব্দুর রাহমান ইবনে আবী লায়লা র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনÑ كَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ زَيْدٍ الأَنْصَارِيُّ مُؤَذِّنُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَشْفَعُ الأَذَانَ وَالإِقَامَةَ. رواه ابن ابى شيبة فى المصنف رقم ২১৫১ অর্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুয়ায্যিন আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আল আনসারী রা. আযান ও ইকামাত জোড়া জোড়া শব্দে দিতেন। মুসান্নাফে ইবনে আবীশায়বা, হাদীস নং (২১৫১) ৪. ইবনে আবী লায়লা র. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনÑ حَدَّثَنَا أَصْحَابُنَا ؛ أَنَّ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ جَاءَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ ، إِنِّي لَمَّا رَجَعْتُ الْبَارِحَةَ وَرَأَيْتُ مِنَ اهْتِمَامِكَ ، رَأَيْتُ كَأَنَّ رَجُلاً قَائِمًا عَلَى الْمَسْجِدِ عَلَيْهِ ثَوْبَانِ أَخْضَرَانِ فَأَذَّنَ ، ثُمَّ قَعَدَ قَعْدَةً ، ثُمَّ قَامَ فَقَالَ مِثْلَهَا ، غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ : قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ ، رواه ابن ابى شيبة فى المصنف رقم-২১৩৭ وابو داود رقم ৫০৬ كلاهما من طريق شعبة عن عمرو بن مرة به. অর্থ: সাহাবীগণ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আনসার গোত্রের জনৈক ব্যক্তি এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! গতকাল যখন আমি ফিরে গেলাম এবং আপনার পেরেশানী দেখলাম, তখন আমি দেখলাম একটি লোক যেন মসজিদে দাঁড়িয়ে আছে। তার পরিধানে ছিল সবুজ রং এর দুটি কাপড়। তিনি আযান দিলেন।

পরে একটু বসলেন। অতঃপর আবার দাঁড়ালেন এবং আগের মতোই বললেন। শুধু এবার قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ ، বাড়িয়ে বললেন। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২১৩৭; আবূ দাউদ, হাদীস নং ৫০৬। ৫.হযরত মুআয ইবনে জাবাল রা. বলেনÑ قَالَ فَجَاءَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ وَقَالَ فِيهِ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ مَرَّتَيْنِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ مَرَّتَيْنِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ثُمَّ أَمْهَلَ هُنَيَّةً ثُمَّ قَامَ فَقَالَ مِثْلَهَا إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ زَادَ بَعْدَ مَا قَالَ ্র حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ গ্ধ. قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ. قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ্র لَقِّنْهَا بِلاَلاً গ্ধ. فَأَذَّنَ بِهَا بِلاَلٌ.اخرجه ابوداود رقم-৫০৭ অর্থ: আনসার গোত্রের লোক আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ রা. আসলেন।

তিনি এও বললেন, ( ঐ ব্যক্তি যাকে তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন) কিবলামূখী হলেন, এবং বললেন, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ। হায়্যা আলাস সালাহ, দু‘বার, হায়্যা আলাল ফালাহ, দু‘বার। আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ,। তবে ‘হায়্যা আলাল ফালাহ’ বলার পর ‘কাদ্ কামাতিস্ সালাহ, কাদ্ কামাতিস্ সালাহ’ বৃদ্ধি করলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বিলালকে এগুলি শিখিয়ে দাও। এর পর থেকে বিলাল রা. এগুলি দিয়েই আযান ইকামাত দিতেন। আবু দাউদ,হাদীস নং ৫০৭ ৬. আবু মাহযূরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনÑ أن النبي صلى الله عليه و سلم علمه الأذان تسع عشرة كلمة والإقامة سبع عشرة كلمة قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح. اخرجه الترمذى رقم- ১৯২ والطيالسى رقم ১৩৫৪ والدارمى ১১৯৬، ১১৯৭ والنسائى ৬৩০ وقال الترمذى حسن صحيح. অর্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আযানের কালিমা ১৯ টি ও ইকামাতের কালিমা ১৭ টি শিখিয়েছেন। তিরমিযী, হাদীস নং ১৯২; আবূ দাউদ তায়ালিসী, হাদীস নং ১৩৫৪; দারিমী, হাদীস নং ১১৯৬, ১৯৯৭; নাসাঈ, হাদীস নং ৬৩০। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

৭. আবূ মাহযূরা রা. বর্ণনা বলেনÑ عَلَّمَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الأَذَانَ تِسْعَ عَشْرَةَ كَلِمَةً وَالإِقَامَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ كَلِمَةً ، الأَذَانُ : . . . . وَالإِقَامَةُ : اللَّهُ أَكْبَرُ ، اللَّهُ أَكْبَرُ ، اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ، أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ ، أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ ، حَيَّ عَلَى الصَّلاَةِ ، حَيَّ عَلَى الصَّلاَةِ ، حَيَّ عَلَى الْفَلاَحِ ، حَيَّ عَلَى الْفَلاَحِ ، قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ ، قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ ، اللَّهُ أَكْبَرُ ، اللَّهُ أَكْبَرُ ، لاَ إلَهَ إِلاَّ اللَّهُ.اخرجه ابن ابى شيبة رقم- ২১৩২ وابو داود رقم ৫০২ كلاهما من طريق همام عن عامر الاحول. وفى طريق لابى داود وعلمنى الاقامة مرتين.رقم৫০১ অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আযানের কালিমা শিখিয়েছেন ১৯ টি, আর ইকামাতের কালিমা শিখিয়েছেন ১৭ টি। আযানের কালিমাগুলি বলার পর তিনি বলেন, আর ইকামাতের কালিমাগুলি হলোÑ আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ। হায়্যা আলাস্ সালাহ, হায়্যা আলাস্ সালাহ, হায়্যা আলাল্ ফালাহ, হয়্যা আলাল্ ফালাহ, কাদ্ কামাতিস্ সালাহ, কাদ্ কামাতিস্ সালাহ। আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লালাøহ।

মুসান্নাফে ইবনে আবীশায়বা, হাদীস নং ২১৩২; আবূদাউদ, হাদীস নং ৫০২। আবূ দাউদ শরীফের আরেকটি বর্ণনায় আছে- আমাকে ইকামাতের কালিমা দু‘বার করে বলা শিখিয়েছেন। (হাদীস নং ৫০১) ৮. আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ র. থেকে বর্ণিত আছে যে, أن بلالا كان يثني الأذان ويثني الإقامة.اخرجه عبد الرزاق ১/৪৬২ والطحاوى ১/১০২ والدارقطنى ১/২৪২ كلهم عن معمر عن حماد عن إبراهيم عنه.واخرجه عبد الرزاق ايضارقم- ১৭৯১أخبرنا عبد الرزاق عن الثوري عن بي معشر عن إبراهيم عن الأسود عن بلال قال كان أذانه وإقامته مرتين مرتين. قال الماردينى فى الجوهر النقى:هذا سند جيد. অর্থ: বিলাল রা. আযান (এর কালিমাগুলি) দু‘বার করে বলতেন, ইকামাতও দু‘বার করে বলতেন। মুসান্নাফে আব্দুর রায্যাক, ১ খৃ, ৪৬২পৃ; তাহাবী, ১ খৃ, ১০২ পৃ;। অন্য একটি সনদে আব্দুর রায্যাক রা. আসওয়াদ রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বিলাল রা. আযান ও ইকামাত দুবার দুবার করে বলতেন।

(দ্র. ১/ ৪৬৩) আল্লামা মারদীনী র. বলেছেনÑএর সনদ উত্তম। ৯. সুওয়ায়দ ইবনে গাফালা রা. থেকে বর্ণিতÑ سمعت بلالا يؤذن مثنى ويقيم مثنى اخرجه الطحاوى ১/১০১ অর্থঃ তিনি বলেছেন, আমি বিলাল রা. কে আযান ও ইকামাত দুবার দুবার করে বলতে শুনেছি। তাহাবী, ১/১০১ ১০. হযরত আবূ জুহায়ফা রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, ان بلالا كان يؤذن للنبى صلى الله عليه وسلم مثنى مثنى ويقيم مثنى مثنى. اخرجه الطبرانى فى الكبير ৯/১৯২ والدارقطنى ১/২৪২ وفى اسناده زياد بن عبد الله البكائى مختلف فيه واحتج به مسلم. অর্থ: বিলাল রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য আযানও দিতেন জোড় শব্দে, ইকামাতও দিতেন জোড় শব্দে। তাবারানী, ৯/১৯২ দারাকুতনী, ১/২৪২ ১১. হাজান্না ইবনে কায়স থেকে বর্ণিত আছে যে, أَنَّ عَلِيًّا كَانَ يَقُولُ : الأَذَانُ مَثْنَى وَالإِقَامَةُ ، وَأَتَى عَلَى مُؤَذِّنٍ يُقِيمُ مَرَّةً مَرَّةً ، فَقَالَ : أَلاَ جَعَلْتَهَا مَثْنَى ؟ لاَ أُمَّ لِلْآخَرِ. اخرجه ابن ابى شيبة رقم-২১৪৯ অর্থ: আলী রা. বলতেন, আযান ও ইকামাতের বাক্যগুলো দুবার করে বলতে হবে। তিনি একজন মুয়ায্যিনকে একবার একবার করে ইকামাত বলতে শুনলেন।

তাকে তিনি বললেন, দুবার করে বললেনা কেন? হতভাগ্যের মা না থাক্। মুসান্নাফে ইবনে আবীশায়বা, হাদীস নং ২১৪৯। ১২. উবায়দ রা. থেকে বর্ণিত, قال ان سلمة كان يثنى الاقامة . اخرجه الطحاوى ১/১০২ অর্থ: সালামা ইবনেুল আক্ওয়া রা. ইকামাতের শব্দগুলো দুবার করে বলতেন। তাহাবী, ১/১০২ ১৩. আবূ ইসহাক রা. থেকে বর্ণিত, قَالَ : كَانَ أَصْحَابُ عَلِيٍّ ، وَأَصْحَابُ عَبْدِ اللهِ يَشْفَعُونَ الأَذَانَ وَالإِقَامَةَ. اخرجه ابن ابى شيبة رقم-২১৫৪ অর্থ: তিনি বলেনÑহযরত আলী রা. ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাস্উদ রা. এর শিষ্যগণ আযান ও ইকামাতের বাক্যগুলি দুবার দুবার করে বলতেন। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২১৫৪।

১৪. মুজাহিদ র. থেকে বর্ণিত, قال ذكر له الإقامة مرة مرة فقال هذا شيء قد استخفته الأمراء الإقامة مرتين مرتين.رواه عبد الرزاق فى المصنف رقم-১৭৯৩ অর্থ: তিনি বলেনÑ তার নিকট ইকামাতের বাক্যগুলো একবার করে বলার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হলে তিনি বললেন, শাসকরা (বনী উমায়্যার) এটা হাল্কা করেছে। ইকামাতের শব্দগুলো হবে দুবার করে। মুসান্নাফে আব্দুর রায্যাক, ১/৪৬৩; তাহাবী, ১/১০১ ১৫. ইবরাহীম নাখায়ী রা. বলেন, لاَ تَدَعُ أَنْ تُثَنِّيَ الإِقَامَةَ. اخرجه ابن ابى شيبة رقم- ২১৫৩ ومحمد فى كتاب الحجة على اهل المدينة ص.২২ অর্থ: আযান ও ইকামাতের শব্দগুলো দুবার দুবার বলতে ছাড়বে না। মুসান্নাফে ইবনে আবীশায়বা, হাদীস নং ২১৫৩; ইমাম মুহাম্মাদ, কিতাবুলহুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনা, পৃ. ২২। নামাযে কব্জির উপর হাত বেঁধে নাভির নীচে রাখা সুন্নত হাত বাঁধার নিয়ম সম্পর্কিত হাদীস ১. হযরত সাহল ইবনে সা’দ রা. বলেন, كَانَ النَّاسُ يُؤْمَرُونَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ الْيَدَ الْيُمْنَى عَلَى ذِرَاعِهِ الْيُسْرَى فِي الصَّلَاةِ.صحيح البخاري (٧٤٠ ) অর্থ : মানুষকে এই আদেশ দেওয়া হতো যে, তারা যেন নামাযে ডান হাত বাম হাতের বাহুর উপর রাখে।

বুখারী শরীফ, হাদীস নং ৭৪০। ২. হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. বলেন, قُلْتُ لأَنْظُرَنَّ إِلَى صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- كَيْفَ يُصَلِّى فنظرت إليه فَقَامَ فَكَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى حَاذَتَا بأُذُنَيْهِ ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى كَفِّهِ الْيُسْرَى وَالرُّسْغِ وَالسَّاعِدِ. أخرجه أبو داود (٧٢٧-٧٢٦) والنسائي (٨٨٩) واللفظ له وأحمد ٤/٣١٨ وابن خزيمة (٤٨٠) بإسناد صحيح. وفي رواية لأبي داود: ثم أخذ شماله بيمينه. অর্থ: আমি (মনে মনে) বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে নামায পড়েন তা আমি লক্ষ্য করবো। আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন এবং উভয় হাত কান বরাবর রাখলেন। অতঃপর তাঁর ডান হাত বাম হাতের পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর রাখলেন। আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭২৬,৭২৭; নাসাঈ শরীফ, হাদীস নং ৮৮৯; মুসনাদে আহমদ ৪খ, ৩১৮পৃ; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস নং ৪৮০।

আবূ দাউদ শরীফের আরেক বর্ণনায় আছে, ثم أخذ شماله بيمينه অর্থাৎ অতঃপর তিনি ডান হাত দ্বারা বাম হাত ধরলেন। এ হাদীসটি সহীহ। ইবনে খুযায়মা র. উক্ত হাদীসের উপর শিরোনাম দিয়েছেন, باب وضع بطن الكف اليمنى على الكف اليسرى অর্থাৎ ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর পিঠ কব্জি ও বাহুর উপর রাখবে। وعند الدارمي ١/٢٨٣ بإسناد صحيح في حديث وَائِلٍ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَضَعُ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى قَرِيباً مِنَ الرُّصْغِ . অর্থাৎ দারিমী র. এক বর্ণনায় সহীহ সনদে ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডান হাত বাম হাতের কব্জির কাছে রাখতে দেখেছি। সুনানে দারিমী, ১খ, ২৮৩পৃ।

৩. হযরত হুলব আততাঈ রা. বলেন, كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يؤمنا فيأخذ شماله بيمينه. أخرجه الترمذي (٢٥٢) وابن ماجه (٨٠٩) وابن أبي شيبة (٣٩٥٥) والدارقطني ١/٢٨٥ অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ইমাম হতেন। তিনি ডান হাত দ্বারা বাম হাত চেপে ধরতেন। তিরমিযী শরীফ,হাদীস নং ২৫২; মুসনাদে আহমদের বর্ণনায় আছে, ডান হাত দ্বারা বাম হাতের ধরার বিবরণ দিতে গিয়ে ইয়াহইয়া র. ডান হাত বাম হাতের কব্জির উপর রেখেছেন। ৪. হযরত শাদ্দাদ ইবনে শুরাহবীল রা. বলেন, رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم قائما يده اليمنى على يده اليسرى قابضا عليها يعني في الصلاة . رواه البزار والطبراني .ذكره الهيثمي في مجمع الزوائد ٢/٢٢٥ وقال: وفيه عباس بن يونس ولم أجد من ذكره ، অর্থ: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দন্ডায়মান দেখলাম। তার ডান হাতটি বাম হাতের উপর, তিনি সেটাকে চেপে ধরে আছেন।

বাযযার ও তাবারানী এটি উদ্ধৃত করেছেন। (দ্র, মাজমাউয যাওয়াইদ, ২খ, ২২৫ পৃ) ৫. হযরত জারীর আদ্দাব্বী বলেন, كان علي إذا قام في الصلاة وضع يمينه على رسغه .أخرجه ابن أبي شيبة (٣٩٦١) موصولا والبخاري قبل حديث رقم ١١٩٨ تعليقا. كتاب العمل في الصلاة ، باب إستعانة اليد في الصلاة الخ অর্থ: হযরত আলী রা. যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন তার ডান হাত বাম হাতের কব্জির উপর রাখতেন। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৬১; বুখারী শরীফ, ১১৯৮নং হাদীসের এর পূর্বে। এ হাদীসটির সনদ সহীহ। নাভির নীচে হাত রাখা ১. হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. বলেন, رأيت النبي صلى الله عليه وسلم وضع يمينه على شماله في الصلاة تحت السرة. أخرجه ابن أبي شيبة قال: حدثنا وكيع عن موسى بن عمير عن علقمة بن وائل عن أبيه وإسناده صحيح. قال الحافظ قاسم بن قطلوبغا في تخريج أحاديث الاختيار شرح المختار : هذا سند جيد وقال الشيخ أبو الطيب السندي في شرحه على الترمذي : هذا حديث قوي من حيث السند وقال الشيخ عابد السندي في طوالع الأنوار: رجاله كلهم ثقات أثبات اهـ অর্থ: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নাভির নীচে রাখতে দেখেছি।

মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৫৯। এর সনদ সহীহ। হাফেজ কাসিম ইবনে কুতলূবুগা র., তিরমিযী শরীফের ভাষ্যকার আবুত্ তায়্যিব সিন্ধী র. ও আল্লামা আবেদ সিন্ধী র. প্রমুখ হাদীসটিকে মজবুত ও শক্তিশালী বলেছেন। এর সনদ এরূপ: ইবনে আবী শায়বা র. ওয়াকী’ থেকে, তিনি মূসা ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি আলকামার সূত্রে হযরত ওয়াইল রা. থেকে। এই সনদে কোন দুর্বল রাবী নেই।

২. হযরত আলী রা. বলেন, السُّنَّةُ وَضْعُ الْكَفِّ عَلَى الْكَفِّ فِى الصَّلاَةِ تَحْتَ السُّرَّةِ. أخرجه أبو داود (في رواية ابن الأعرابي وابن داسة) ٧٥٦ وأحمد ١/١١٠ (٨٧٥) وابن أبي شيبة (٣٩٦٦) والدارقطني ١/٢٨٦ والضياء في المختارة ٢/٧٧٢ وفيه عبد الرحمن بن إسحاق الواسطي وهو ضعيف. ولكن يشهد له الحديث السابق. অর্থ: সুন্নত হলো তালু তালুর উপর রেখে নাভির নীচে রাখা । আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭৫৬; মুসনাদে আহমদ ১খ, ১১০ পৃ, হাদীস নং ৮৭৫; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৬৬; দারাকুতনী, ১খ, ২৮৬পৃ; যিয়া ফিল মুখতারা, ২খ, ৭৭২পৃ। এর সনদে আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক রয়েছেন। তিনি দুর্বল। তবে প্রথম হাদীসটি এর সমর্থন করছে।

৩. হযরত আবূ হুরায়রা রা. বলেছেন, أَخْذُ الأَكُفِّ عَلَى الأَكُفِّ فِى الصَّلاَةِ تَحْتَ السُّرَّةِ. أخرجه أبو داود (٧٥٨) وفيه عبد الرحمن المذكور. অর্থ: হাতের তালু অপর তালুর উপর রেখে নাভির নীচে রাখতে হবে। আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭৫৮। এতেও পূর্বোক্ত আব্দুর রহমান রয়েছেন। ৪. হযরত আনাস রা. বলেছেন, ثلاث من أخلاق النبوة تعجيل الإفطار وتأخير السحور ووضع البد اليمنى على اليسرى في الصلاة تحت السرة. أخرجه ابن حزم في المحلى تعليقا ٣/٣٠ অর্থ: তিনটি বিষয় নবীস্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। ইফতারে বিলম্ব না করা, সাহরী শেষ সময়ে খাওয়া, এবং নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নাভির নীচে রাখা।

ইবনে হাযম, আল মুহাল্লা, ৩খ, ৩০পৃ। তিনি এর সনদ উল্লেখ করেননি। ৫. হাজ্জাজ ইবনে হাসসান র. বলেন, سمعت أبا مجلز أو سألته قال : قلت كيف يصنع قال : يضع باطن كف يمينه على ظاهر كف شماله ويجعلها أسفل من السرة . أخرجه ابن أبي شيبة في مصنفه. (٣٩٦٣) অর্থ: আমি আবূ মিজলায র. (বিশিষ্ট তাবেয়ী)কে বলতে শুনেছি, অথবা হাজ্জাজ বলেছেন, আমি আবূ মিজলায র.কে জিজ্ঞেস করলাম, কিভাবে হাত বাঁধবো? তিনি বললেন, ডান হাতের তালু বাম হাতের তালুর পিঠে রেখে নাভির নীচে বাঁধবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৬৩। এর সনদ সহীহ।

৬. ইবরাহীম নাখায়ী র. (যিনি তাবেয়ী ছিলেন) বলেন, يضع يمينه على شماله في الصلاة تحت السرة . أخرجه ابن أبي شيبة ٣٩٦٠ অর্থ: নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নাভির নীচে বাঁধবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৬০ । এর সনদ হাসান। আল্লামা ইবনুল মুনযির র. তার আল আওসাত গ্রন্থে লিখেছেন, -وقال إسحاق: تحت السرة أقوى في الحديث وأقرب إلى التواضع. অর্থাৎ ইসহাক (যিনি বুখারী র. এর উস্তাদ ছিলেন) বলেছেন, নাভির নীচে হাত বাঁধার হাদীস অধিক শক্তিশালী এবং বিনয়ের নিকটতর। ( ৩খ,২৪৩পৃ) ১ ও ৫ নং হাদীস দুটি সহীহ।

৬ নং হাদীসটি হাসান। প্রসঙ্গ: ছানা পড়া ইমাম আবূ হানীফা র. ও ইমাম আহমাদ র. দুজনেরই মত হলো - নামাযে তাকবীর (আল্লাহু আকবার ) বলার পর এভাবে ছানা পড়া উত্তম: سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك এমতের পক্ষে প্রমাণগুলো নি¤েœ প্রদত্ত হলো: ১.আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, وسبح بحمد ربك حين تقوم অর্থ: যখন তুমি দাঁড়িয়ে যাবে, তখন তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করবে। (সূরা তূর,৪৮) যাহহাক র. বলেছেন, উক্ত আয়াতের মর্ম হলো নামাযে এই ছানা পাঠ করা: سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك ইবনুল জাওযী, যাদুল মাসীর ৮খ. ৩০পৃ.। ইমাম তিরমিযী র. লিখেছেন, والعمل على هذا عند أكثر أهل العلم من التابعين وغيرهم অর্থাৎ তাবেয়ীন ও অন্যান্য আলেমগণের অধিকাংশের আমল হলো- এই ছানা পাঠ করা। ২. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেছেন, كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا افتتح الصلاة قال: سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك، أخرجه النسائي(٨٩٩،٩٠٠) والترمذي (٢٤٢) وأبو داود (٧٧٥) وابن ماجه(٨٠٤)، كلهم من طريق جعفر بن سليمان عن علي بن علي عن أبي المتوكل عنه. অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শুরু করার সময় বলতেন, سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك নাসায়ী শরীফ, হাদীস নং ৮৯৯,৯০০; তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং ২৪২; আবু দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭৭৫; ইবনে মাজা শরীফ, হাদীস নং ৮০৪।

এ হাদীসটি সহীহ। ৩. হযরত আয়েশা রা. বলেন, كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا افتتح الصلاة قال سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك أخرجه الترمذي من طريق أبي معاوية عن حارثة بن أبي الرجال عن عمرة عنها، وحارثة قد تكلم فيه من قبل حفظه قاله الترمذي (٢٤٣) وأخرجه أبو داود من طريق طلق بن غنام عن عبد السلام بن حرب الملائي عن بديل بن ميسرة عن أبي الجوزاء عنها(٧٧٦) অর্থ: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামায শুরু করতেন তখন বলতেন سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং ২৪৩; আবু দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৭৭৬। আবূ দাউদের সনদ বা সূত্রকে আল্লামা আহমাদ শাকের র. তিরমিযী শরীফের টীকায় সহীহ বলেছেন। ৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেছেন, كان رسول الله يعلمنا إذا استفتحنا الصلاة أن نقول: سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك وكان عمر بن الخطاب يفعل ذلك وكان عمر يعلمنا ويقول كان رسول الله يقوله. أخرجه الطبراني في الأوسط (١٠٢٦) অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে শিখিয়েছেন, আমরা যখন নামায শুরু করি, তখন যেন বলি, سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك উমর ইবনুল খাত্তাব রা.ও এমনটি করতেন। তিনি আমাদেরকে শেখাতেন এবং বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও এভাবে বলতেন।

তাবারানী, আল-আওসাত, হাদীস নং ১০২৬। এর সনদ সহীহ। ৫. হযরত আনাস রা. বর্ণনা করেন, عن أنس عن النبي صلى الله عليه و سلم أنه كان إذا كبر رفع يديه حتى يحاذي أذنيه يقول سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك. أخرجه الطبراني في الأوسط (٣٠٣٩) والدارقطني : ١٠/٣٠٠، قال الهيثمي في مجمع الزوائد: رجاله موثوقون. ٢/٢٢٨ অর্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন الله أكبر বলতেন তখন উভয় কান বরাবর হাত উঠাতেন। আর বলতেন, سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك তাবারানী, আল-আওসাত, হাদীস নং ৩০৩৯। ৬. আবদা র. থেকে বর্ণিত: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَانَ يَجْهَرُ بِهَؤُلاَءِ الْكَلِمَاتِ يَقُولُ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ تَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ. أخرجه مسلم(٣٩٩) باب حُجَّةِ مَنْ قَالَ لاَ يَجْهَرُ بِالْبَسْمَلَةِ. ورواه الدارقطني وفيه: يسمعنا ذلك ويعلمنا، ١/٣٠١ অর্থ: হযরত উমর রা. এই কালিমাগুলো উচ্চস্বরে পড়তেন سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ و تَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ মুসলিম শরীফ, হাদীস নং(৩৯৯) দারাকুতনী র.ও এটি উদ্ধৃত করেছেন, সেখানে একথাও আছে, তিনি আমাদেরকে শোনাতেন এবং শেখাতেন।

১ খ, ৩০১ পৃ,। ৭. ইবনে জুরায়জ র. বলেছেন, حدثني من أصدق عن أبي بكر ، وعن عمر ،وعن عثمان ، وعن ابن مسعود : أنهم كانوا إذا استفتحوا قالوا: سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك অর্থ: আবু বকর রা. উমর রা. উছমান রা. ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে এমন এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, যাকে আমি সত্যবাদী মনে করি। তাঁরা যখন নামায শুরু করতেন, তখন পড়তেন: سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং ২৫৫৮, তাবারানী, আল-কাবীর, হাদীস নং ৯১৯৮। মুকতাদী সূরা ফাতেহা পড়বেনা কুরআন মাজীদ ও হাদীস শরীফ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, ইমামের পেছনে মুকতাদী সূরা ফাতেহা বা অন্য কোন সূরা পড়বেনা । এর প্রমাণগুলো নি¤েœ প্রদত্ত হলো Ñ ১.আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন " وإذا قرئ القرآن فاستمعوا له وأنصتوا لعلكم ترحمون " অর্থ: আর যখন কুরআন পড়া হয় তখন তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ কর এবং চুপ থাক।

যাতে তোমাদের প্রতি করুণা করা হয় । ২. হযরত আবূ মূসা আশআরী রা. বলেছেন, إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- خَطَبَنَا فَبَيَّنَ لَنَا سُنَّتَنَا وَعَلَّمَنَا صَلاَتَنَا فَقَالَ ্র إِذَا صَلَّيْتُمْ فَأَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ ثُمَّ لْيَؤُمَّكُمْ أَحَدُكُمْ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وإذا قرأ فأنصتوا وَإِذَا قَالَ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ فَقُولُوا آمِينَ. يُجِبْكُمُ اللَّهُ فَإِذَا كَبَّرَ وَرَكَعَ فَكَبِّرُوا وَارْكَعُوا فَإِنَّ الإِمَامَ يَرْكَعُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ গ্ধ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ্র فَتِلْكَ بِتِلْكَ وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ. فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ. يَسْمَعُ اللَّهُ لَكُمْ فَإِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ -صلى الله عليه وسلم- سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ. وَإِذَا كَبَّرَ وَسَجَدَ فَكَبِّرُوا وَاسْجُدُوا. أخرجه مسلم باب التشهد في الصلاة (٤٠٤) من طريق جرير عن سليمان التيمي عن قَتَادَةَ عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِىِّ عنه. وليس سليمان متفردا فيه بل تابعه عمر بن عامر وسعيد بن أبي عروبة عند الدارقطني والبيهقي، وأبو عبيدة مجاعة بن الزبير العتابي الأزدي أحد الثقات عند أبي عوانة. অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে বয়ান দিলেন, আমাদেরকে দীনের পথ বুঝিয়ে দিলেন এবং নামায শিখিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, তোমরা যখন নামায শুরু করবে তখন কাতার ঠিক করে নেবে। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে বয়োজ্যেষ্ঠ তাকে ইমাম বানাবে। ইমাম যখন তাকবীর দেবে তোমরাও তখন তাকবীর দেবে।

আর যখন সে কেরাত পড়বে, তোমরা তখন চুপ করে থাকবে। সে যখন غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ পড়বে, তোমরা তখন আমীন বলবে। তাহলে আল্লাহ তোমাদের দোয়া কবুল করবেন। অতঃপর সে যখন আল্লাহু আকবার বলবে এবং রুকু করবে তোমরাও তখন আল্লাহু আকবার বলবে এবং রুকু করবে। কারণ ইমাম তোমাদের পূর্বে রুকুতে যায়।

আবার তোমাদের পূর্বেই রুকু থেকে উঠে পড়ে। এতে তার ও তোমাদের রুকুতে অবস্থান সমানই হলো। অতঃপর সে যখন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলবে, তোমরা তখন বলবে اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ । আল্লাহ তায়ালা তোমাদের প্রশংসা শুনবেন। কেননা তিনি তাঁর নবীর মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তার প্রশংসা শুনেন।

আর যখন সে তাকবীর দেবে এবং সেজদা করবে তখন তোমরাও তাকবীর দেবে এবং সেজদা করবে। মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ৪০৪; আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৯৭৩; ইবনে মাজাহ শরীফ, হাদীস নং ৮৪৭; মুসনাদে আহমাদ, ৪খ, ৪১৫ পৃ; মুসনাদে বাযযার, (দ্র, নাসবুর রায়াহ, ২খ, ১৫পৃ); সহীহ আবূ আওয়ানা, ২খ, ১৩২পৃ। ইমাম আহমদ, ইমাম মুসলিম, ইমাম ইবনে জারীর তাবারী র. প্রমুখ এ হাদীসকে সহীহ বলেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী র. ফাতহুল বারী গ্রন্থে বলেছেন, এটি সহীহ হাদীস। ৩. হযরত আবূ হুরায়রা রা. বলেছেন, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ্র إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ. رواه أبو داود والنسائي وابن ماجه وابن أبي شيبة من طريق أَبي خَالِدٍ عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِى صَالِحٍ عَنْه. وتابع أبا خالد محمد بن سعد الأشهلي أحد الثقات عند النسائي (٩٢٣) والدارقطني ١/٣٢٧ وتابعه أيضا محمد بن ميسر الصاغاني عند أحمد ٢/٣٧٦. অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইমাম নিয়োগ করার উদ্দেশ্য তাকে অনুসরণ করা ।

সুতরাং সে যখন তাকবীর বলবে, তোমরাও তখন তাকবীর বলবে। আর যখন কেরাত পড়বে, তখন তোমরা নীরব থাকবে। যখন সে سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলবে, তখন তোমরা রাব্বানা লাকাল হামদ বলবে। আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৬০৪; নাসাঈ শরীফ, হাদীস নং ৯২২-৯২৩; ইবনে মাজা শরীফ, হাদীস নং ৮৪৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৮২০; মুসনাদে আহমদ, ২খ, ৩৭৬ পৃ; দারাকুতনী, ১খ, ৩২৭পৃ। ইমাম মুসলিম র. বলেছেন, هو عندي صحيح আমার দৃষ্টিতে এটি সহীহ।

মুসলিম শরীফ, হাদীস নং, হাদীস নং ৪০৪। ৪. হযরত আবূ হুরায়রা রা. বলেছেন, ..... أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ ্র إِذَا قَالَ الْقَارِئُ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ. فَقَالَ مَنْ خَلْفَهُ آمِينَ . فَوَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ أَهْلِ السَّمَاءِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ গ্ধ. أخرجه مسلم في باب التسميع والتأمين (٤١٠) من طريق قُتَيْبَة بْنِ سَعِيدٍ عن يَعْقُوبَ- يَعْنِى ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْه. وقريب منه ما رواه البخاري بلفظ إذا أمن القاري فأمنوا فإن الملائكة تؤمن (٦٤٠٢) وأخرجه ابن ماجه في باب الجهر بآمين من طريق سفيان عن الزهري عن سعيد بن المسيب وأبي سلمة بن عبد الرحمن عنه نحو رواية مسلم (٨٥٢) অর্থ: কুরআন পাঠ কারী (অর্থাৎ ইমাম) যখন বলে غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ এবং যারা তার পেছনে, তারা (মুকতাদীরা) বলে আমীন, যার আমীন বলা আসমান বাসী (ফেরেশতা)দের আমীন বলার সাথে মিলে যাবে তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ৪১০। ইমাম বুখারী র.ও স্বীয় সহীহ গ্রন্থে (বুখারী শরীফ, হাদীস নং ৬৪০২) হাদীসটি এভাবে উল্লেখ করেছেন- কুরআন পাঠকারী যখন আমীন বলবে, তোমরাও তখন আমীন বলবে। কেননা ফেরেশতাগণও আমীন বলে থাকে।

ইমাম ইবনে মাজা র.ও হাদীসটি মুসলিম শরীফের অনুরূপ উদ্ধৃত করেছেন। (দ্র, হাদীস নং ৮৫১-৮৫২)। ৫. হযরত আবূ হুরায়রা রা. বলেছেন, .... ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إذا قال الامام غير المغضوب عليهم ولا الضالين فقولوا آمين فانه من وافق قوله قول الملائكة غفر له ما تقدم من ذنبه. أخرجه البخاري (٧٨٢) অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইমাম যখন غير المغضوب عليهم ولا الضالين বলবে, তোমরা তখন আমীন বলো। কেননা যার আমীন বলা ফেরেশতার আমীন বলার সঙ্গে মিলে যাবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। বুখারী শরীফ, হাদীস নং৭৮২।

৬. হযরত জাবির রা. বলেছেন, .....عن النبي صلى الله عليه وسلم قال : كل من كان له إمام فقراءته له قراءة. أخرجه ابن أبي شيبة (٣٨٢٣) قال حدثنا مالك بن إسماعيل عن حسن بن صالح عن أبي الزبير عنه. وإسناده صحيح. وأخرجه عبد بن حميد في مسنده قال : ثنا أبو نعيم ثنا الحسن بن صالح عن جابر عن أبي الزبير عنه مرفوعا. قال البوصري : إسناده صحيح على شرط مسلم. وأخرجه أحمد بن منيع في مسنده قال: أنا إسحاق الأزرق نا سفيان وشريك عن موسى بن أبي عائشة عن عبد الله بن شداد عن جابر مرفوعا. قال البوصري: إسناده صحيح على شرط الشيخين. وأخرجه الإمام محمد في الموطا (صـ٩٨) عن أبي حنيفة نا أبو الحسن موسى بن أبي عائشة عن عبد الله بن شداد بن الهاد عن جابر مرفوعا. وإسناده صحيح. وأخرجه أحمد عن أسود بن عامر – وهو ثقة – عن الحسن بن صالح عن أبي الزبير عن جابر مرفوعا وهو إسناد صحيح أيضا. وأخرجه ابن ماجه كذلك وفي إسناده جابر الجعفي (٨٥٠) অর্থ: নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তির ইমাম আছে, তার ইমামের কেরাতই তার কেরাত বলে গণ্য হবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৮২৩। এ সনদটি সহীহ। দ্র, মুহাম্মদ আওওয়ামা মাদ্দা যিল্লুহু এর মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বার টীকা; মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মদ, পৃ ৯৮; মুসনাদে আহমদ, ৩খ, ৩৩৯পৃ; (এ সনদ দুটিও সহীহ)। ইবনে মাজাহ শরীফ, হাদীস নং ৮৫০।

এতে জাবির জু’ফী রয়েছে। ৭. হযরত আবূ হুরায়রা রা. বলেছেন, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- ্র إِذَا جِئْتُمْ إِلَى الصَّلاَةِ وَنَحْنُ سُجُودٌ فَاسْجُدُوا وَلاَ تَعُدُّوهَا شَيْئًا وَمَنْ أَدْرَكَ الرَّكْعَةَ فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاَةَ গ্ধ. أخرجه أبو داود عن مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْحَكَمِ حَدَّثَهُمْ أَخْبَرَنَا نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنِى يَحْيَى بْنُ أَبِى سُلَيْمَانَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِى الْعَتَّابِ وَابْنِ الْمَقْبُرِىِّ عنه(٨٩٣) وأخرجه نحوه عبد الرزاق عن شيخ من الأنصار . ٢/٢٨١ অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমরা সেজদায় থাকাবস্থায় যদি তোমরা নামাযে শরীক হও তবে তোমরাও সেজদা করবে। সেটাকে কিছু গণ্য করবেনা। যে ব্যক্তি রুকু পেল সে নামায (অর্থাৎ ঐ রাকাত ) পেল। আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৮৯৩; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, ২/২৮১।

৮. হযরত আবূ বাকরা রা. বলেছেন, عن أبى بكرة انه انتهى إلى النبي صلى الله عليه وسلم وهو راكع فركع قبل ان يصل إلى الصف فذكر ذلك للنبى صلى الله عليه وسلم فقال زادك الله حرصا ولا تعد. أخرجه البخاري (رقم ٧٨٣) وفي رواية البخاري في كتاب القراءة والطبراني: فقال: أيكم صاحب هذا النفس قال خشيت أن تفوتني الركعة معك. অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকুতে থাকাবস্থায় তিনি এসে পৌঁছলেন। এবং কাতারে যাওয়ার পূর্বেই রুকুতে চলে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তিনি ব্যাপারটি জানালে তিনি বললেন, আল্লাহ তোমার আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিন। তবে এমনটি আর করো না। বুখারী শরীফ, হাদীস নং৭৮৩।

وعن زيد بن وهب قال دخلت أنا وابن مسعود المسجد والامام راكع فركعنا ثم مضينا حتى استوينا بالصف فلما فرغ الامام قمت أقضى فقال قد أدركته . قال الهيثمي في مجمع الزوائد: ورجاله ثقات .)٢/٢٨٣( وعبد الرزاق في المصنف)٢/٢٨٣( অর্থাৎ যায়দ ইবনে ওয়াহব র. বলেন, আমি ও ইবনে মাসউদ রা. মসজিদে প্রবেশ করলাম। ইমাম তখন রুকুতে ছিলেন। আমরা রুকু করে হেঁটে হেঁটে কাতারে পৌঁছলাম। ইমাম নামায শেষ করলে আমি রাকাতটি পড়বার জন্যে দাঁড়াতে যাচ্ছিলাম। তিনি বললেন, তুমি তো রাকাত পেয়ে গেছ।

হায়ছামী বলেন, এর বর্ণনাকারীরা বিশ্বস্ত। মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, ২খ, ২৮৩পৃ। বুখারী শরীফের হাদীস ও সাহাবীগণের এসব ফতোয়ার প্রেক্ষিতে অধিকাংশ আলেম এই মত পোষণ করতেন যে, যে ব্যক্তি রুকু পেল সে রাকাত পেয়ে গেল। ৯. আতা ইবনে ইয়াসার র. বলেছেন, ..... أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَأَلَ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ عَنِ الْقِرَاءَةِ مَعَ الإِمَامِ فَقَالَ لاَ قِرَاءَةَ مَعَ الإِمَامِ فِى شَىْءٍ . ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।