আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভিশন ২১ বাস্তবায়নে ‘জ্বীন’-এর ভূমিকা

নীরব পাঠক ঢাকা: বর্তমান সরকারের গৃহীত ‘ভিশন ২১’ বাস্তবায়নে দেশের সাধারণ জনগণের পাশাপাশি এদেশে বসবাসকারী ‘জ্বীন’ সম্প্রদায়ও ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। গ্রামগঞ্জের মাঠঘাট, বনবাদাড় ছেড়ে তারাও এখন নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতি দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। সম্প্রতি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত একটি পরিসংখ্যান থেকে এরকমই একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এদেশে বসবাসকারী ‘জ্বীন সম্প্রদায়’ প্রাচীনকাল থেকেই নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে নানাভাবে মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। আগে তারা রাতে, বিশেষ করে মধ্যরাতে, গ্রামগঞ্জের পথেঘাটে ঘাপটি মেরে বসে থাকত, হাট থেকে বাড়ি ফেরা অথবা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হওয়া লোকদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাতো।

কিন্তু বিগত কয়েক সরকারের আমল থেকেই দেশের স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং যাতায়াত ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতির ফলে লোকজন ইদানিং আর পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছে না বা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বনেবাদাড়েও যাচ্ছে না। আর শহরের রাস্তাঘাটও এখন আর আগের মতো ফাঁকা হয় না, এমন কি মধ্যরাতেও না। এরকম পরিস্থিতিতে বর্তমানে জ্বীনদের জন্য অস্তিত্ব জানান দেওয়াটা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এরকম সংকটময় পরিস্থিতি থেকে নিজের উত্তরণের জন্য তারা এখন বেছে নিচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। মানুষকে ভয় দেখাতে তারা এখন ব্যবহার করছে মোবাইল ফোন, ই-মেইল এবং ফেসবুক। তবে, এক্ষেত্রে মোবাইল ফোনই তাদের পছন্দের তালিকায় প্রথম।

কারণ, এর মাধ্যমে রাতের যেকোনো সময় যে কাউকে ভয় দেখানো সহজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কথিত এক ‘জ্বীন’ এ ব্যাপারে বলেন, “ভয় দেখানোর জন্য আমরা সাধারণত বেছে নিই মফস্বল শহরের বোকাসোকা ক্ষুদ্রব্যবসায়ী অথবা গৃহবধূদের। কারণ তাদের বেশ যুতমত ভয় দেখানো যায়। মাঝে মধ্যে কপাল ভাল থাকলে কিছু মালকড়িও হাতানো যায়। ” মোবাইল নম্বরগুলি কিভাবে জোগাড় করা হয়, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানালেন, “সাধারণত নোংরা কিছু মানুষ আমাদের নম্বরগুলো দিয়ে থাকে, এর মাধ্যমে তারাও টু-পাইস কিছু কামিয়ে নেয় কমিশন হিসেবে।

” সেই ‘জ্বীন’ আরও বলেন, “তবে, রাজধানীসহ মূল শহরগুলোতে আমরা নারীদেরই ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকি। নম্বরগুলো দেয় তাদেরই সহকর্মী, সহপাঠী, প্রতিবেশি অথবা পরিচিতজনরা, যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে যোগ্যতার দিক দিয়ে কোনোভাবেই তাদের সঙ্গে পেরে ওঠে না। ভয় দেখিয়েই আত্মতৃপ্তি পেয়ে থাকে, আমরাও আমাদের কাজ চালাতে পারি। ” ব্যাপারটি অনৈতিক কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দেখুন এত কথা বলা যাবে না। আমরা ধর্মীয় বিধি মেনে আল্লাহ খোদার নাম নিয়ে আমাদের কাজ করে যাই।

তাছাড়া, নারীদের যথেষ্ট সম্মান দিয়ে মা সম্বোধন করেই ভয় দেখানো হচ্ছে। ” জানা যায়, তারা মোবাইলে ফোন করে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়ার বিনিময়ে তার থেকে বেশি টাকা দেওয়ার লোভ দেখায়। এতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা সফল না হলেও এমন অনেকে আছেন যারা তাদের এ ফাঁদে পা ফেলেছেন। এব্যাপারে একজন নারী ভুক্তভোগী জানালেন, “মোবাইল কোম্পানিগুলো সিম বিক্রির সময় আরো সতর্ক ভূমিকা পালন করলেই এসব ঘটনা অনেক কমে যাবে। আমি তাদের অনুরোধ করব তারা যেন শুধুমাত্র মানুষের কাছেই পণ্য বিক্রি করেন, জ্বীনের কাছে নয়।

” সূত্রমতে, মানুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জ্বীনরাও বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে বেশ আগ্রহী এবং সরকারের ভীশন ২১ বাস্তবায়নে তারাও রাখতে চায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। এব্যাপারে, জ্বীনদের মোবাইল সন্ত্রাস পরিচালনাকারী সংগঠন ‘কথা বল মা’ এর একজন উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক জানালেন, “আমরা এব্যাপারে ব্যাপক সফলতা ইতোমধ্যেই অর্জন করেছি এবং সামনে আমরা আরও এগিয়ে যাব কারণ নোংরা মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ” বিদ্র: ওপরের প্রতিবেদনটি কাল্পনিক বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে, শুক্রবার মাঝরাতে ০১৭৩৬৭৭৭৫০৮ এই নম্বরটি থেকে আমার মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনে ব্যক্তি নিজেকে জ্বীনের বাদশাহ বলে পরিচয় দিয়ে নানা রকম ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।

আমি কোনো উত্তর না দেওয়ায় সে আমার মাথা চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে চায়। শনিবার বাংলানিউজের পক্ষ থেকে তাকে ফোন করা হলে সে জানায় তার নাম মিনারুল ইসলাম। রংপুরের একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন। কথার এক পর্যায়ে সে ফোন করার বিষয়টি অস্বীকার করে এবং বলে সে তখন ঘুমিয়ে ছিল, কাউকে ফোন করার প্রশ্নই ওঠে না। সত্য যাই হোক, তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এরকম একটি লেখা লিখতে আমাকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য।

তবে, তাকে আমার অনুরোধ আমার মাথাটি খেতে চেয়েন না, সত্যিই বেশ ভয় পাই, মাথা বেঁচেই, করে খাচ্ছি কিনা! বাংলাদেশ সময়: ১৭০১ ঘণ্টা, মার্চ ৩০, ২০১৩ সম্পাদনা: মীর সানজিদা আলম, নিউজরুম এডিটর Click This Link ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.