আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সুরঞ্জনার উন্দালে ২টি সিলেটি রেসিপি।

. আমার নাইবা হলো পারে যাওয়া... আজ সিলেটের জনপ্রিয় দুটি রেসিপি নিয়ে এলাম। একটি হলো " লাইশাক ভর্তা (রাইশাক) ও অন্যটি সাতকরা দিয়ে মাংস। আমার ক্যামেরা সংক্রান্ত জটিলতার কারনে রেসিপির ছবি তোলা হয়না। আর ছবি ছাড়া রেসিপি অনেকটাই যেন আলুনি আলুনি লাগে। আর লাইশাক ঠিক কোন ধরনের সেটা বোঝানোর জন্য ও সাতকরা কতটুকু পরিমান দিতে হবে সেটার জন্যও ছবির খুব বেশী দরকার ছিলো।

কন্যাকে বললাম, " আমায় ছবি তুলে দাওনা গো মা"। সে দেই, দিচ্ছি করে আর খোঁজ নেই। শেষে আমার বেয়াইনকে বললাম। উনিই সব যোগাড়-যন্ত করে মেয়েকে দিয়ে ছবি তোলান। এই হলো লাইশাক(রাইশাক) শর্ষশাকের মতই দেখতে।

তবে ছোট থাকতেই চারাগুলো বেশ ফাঁক ফাঁক করে লাগানোর ফলে পাতাগুলো এমন বড় বড় হয়। খাবার জন্য শুধু পাতা তুলে নেয়ায় গাছে আবার নতুন পাতা জন্মে। এবং তা অনেকদিন পর্যন্ত থাকে। লাইশাক ভর্তায় কি কি লাগবে দেখে নিন। লাই পাতার মাঝের মোটা শিরা ফেলে মিহি করে কুঁচিয়ে চিপে নেয়া ১ কাপ, টাকিমাছ ভেজে কাঁটা বেছে নেয়া আধ কাপ।

টাকি মাছের বিকল্প হিসেবে রুই/তেলাপিয়া মাছ হলেও হবে। পিঁয়াজ কুচি ১ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচি ১ টেবিল চামচ, শুখনা মরিচ টালা/ভাজা ৩/৪টা, লবন ও শর্ষের তেল পরিমান মত। এখন সব উপকরন ভালো করে মাখিয়ে নিন। ব্যাস! তৈরী হয়ে গেলো মজাদার লাইশাক ভর্তা। সাতকরা দিয়ে মাংস।

***************** সাতকরা একটি লেবু জাতিয় ফল। এটা সিলেটে খুবই জনপ্রিয়। ইদানিং এর জনপ্রিয়তা সিলেট ছাড়িয়ে সব অঞ্চলের মানুষের মাঝেই ছড়িয়ে পড়েছে। সিলেটে সাতকরা বিভিন্ন বড় মাছ, ছোট মাছ ও মাংস দিয়ে রান্না করা হয়। সাতকরার বুকের টক অংশ-সহ ছোট মাছ বা বড় মাছ দিয়ে রান্না করা হয় টেংগা বা খাট্টা।

এই টেংগা বা খাট্টা সিলেটে খুবই জনপ্রিয়। আমি যদিও সাতকরা শুধু মাংস ও বড় মাছেই সীমাবদ্ধ রেখেছি। অনেকেই সাতকরা রান্না করতে না জানায় এটা অখাদ্য বলেই জেনেছে। আমার আম্মা সিলেটে থাকতে একদিন একটি মুরগী আস্ত একটি সাতকরা দিয়ে ভূনা করেছিলেন। মুখে দিয়ে আমাদের তো আক্কেল গুড়ুম! তিতা জহর! সব তরকারী ফেলে দিতে হয়েছিলো।

একটা সাতকরা দিয়ে ৮/১০ তরকারী রান্না করা যায়। আর সাতকরা কিনার সময় হাতে নিয়ে হালকা ওজনেরটা কিনলে তিতার সম্ভবনা কম থাকে। তারপরও আমার মতো একটু খুঁটে মুখে দিয়ে দেখে নিলে ভালো হয়। এখন খেয়াল করে দেখুন সাতকরা আমি কিভাবে নিয়েছি। সাতকরা কিনে ডীপ-ফ্রীজে রেখে দিন।

রান্নার ১৫/২০ মিনিট আগে বের করে তারপর প্রয়োজন মত টুকরো কেটে নিয়ে আবার ফ্রীজে রেখে দিন। অনেকে সাতকরা শুখিয়ে রাখেন। শুখনা সাতকরায় ঘ্রান অনেক কমে যায়। উপরে ছবিতে দেখছেন আমি সাতকরা থেকে যে টুকরোটি নিয়েছি তার বুকের টক অংশটি বাদ দিয়ে শুধু খোসাটি কয়েক টুকরো করে নিয়েছি। এই সাতকরা থেকে আমি ২ তরকারী রান্না করেছি।

আমি নিয়েছি এমন ছোট অংশ। এখন দেখে নিন কি করে সাতকরা দিয়ে মাংস রান্না করবেন। মুরগী, গরু, খাসী যে কোন মাংস ১ কেজিতে ঐ ছোট এক টুকরো সাতকরা দিবেন। মাংস যেমন করে রান্না করেন তেমনই করবেন। মাংস আধ-সেদ্ধ হলে সাতকরার টুকরোগুলি ধুয়ে দিয়ে দিবেন।

মাংস যখন পুরো সেদ্ধ হয়ে যাবে। তখন আপনার রুচি অনুযায়ী ঝোল কম বেশী রাখতে পারেন। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১১ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।