আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

২০৫০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে ২২ কোটি ৬০ লাখ ..

বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ। বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি ১৪ লাখ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে দেশটি বিশ্বে জনসংখ্যার দিক থেকে সপ্তম স্থানে এসে দাঁড়াবে। তখন দেশের জনসংখ্যা হবে ২২ কোটি ৬০ লাখ। সম্প্রতি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী '৭০০ কোটির বিশ্ব' উদযাপন উপলক্ষে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই তথ্য জানানো হয়।

এদিকে ২০৫০-এর পর থেকে দেশটিতে জনসংখ্যা বাড়ার আর তেমন একটা সম্ভাবনা নেই। বাংলাদেশে '৭০-এর দশকের জনসংখ্যা বৃদ্ধির উচ্চহার, বয়স কাঠামো বিশেষ করে ১০-১৪ বছরের মধ্যে যাদের বয়স, জনসংখ্যার প্রাধান্য এবং নির্দিষ্ট একটি শ্রেণীর সক্ষম দম্পতির মধ্যে সংগত কারণেই অপেক্ষাকৃত ধীরগতিতে প্রজনন হারের কারণে ২০৫০ সালের পর আর জনসংখ্যা বাড়বে না বলে মনে করছে ইউএনএফপিএ। তবে এ সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ২২ কোটি ৬০ লাখে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) দেয়া বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট-২০১১তে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি মাসের শেষের দিন বিশ্বের জনসংখ্যা ইতোমধ্যেই ৭শ' কোটি পূর্ণ হয়েছে।

যদিও ১২ বছর আগে বিশ্বে জনসংখ্যা ছিল ৬শ' কোটি। ২০২৫ সালে এ জনসংখ্যা দাঁড়াবে ৮শ' কোটি, ২০৪৩ সালে ৯শ' কোটি এবং ২০৮৩ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ১ হাজার কোটি হবে। আগের চেয়ে মানুষের গড় আয়ু, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন ও কমসংখ্যক সন্তান গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং যতই দিন যাচ্ছে ততই যেন তা গুণিতক হারে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যেখানে জনউর্বরতা কমে যাওয়া ও অধিক বয়সী জনসংখ্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন, সেখানে দরিদ্র দেশগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদা পূরণে প্রতিদিন হিমশিম খাচ্ছে। এজন্য অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে বিশ্বের অধিকসংখ্যক মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পাশাপাশি সুপেয় পানির স্বল্পতা এবং জলবায়ু সম্পর্কিত নানা ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকির সম্মুখিন হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা খাতে ৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হলে শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে ৩২ কোটি ৭০ লাখ ডলার ব্যয় সাশ্রয় হবে। ইউএনএফপিএ মনে করছে, পরিবার পরিকল্পনা খাতে ১ ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে ব্যয়-সাশ্রয় হবে ৬ দশমিক ৫ ডলার। এ ব্যয় সাশ্রয় খাতসমূহের মধ্যে রয়েছে শিক্ষা খাতে ১৫ দশমিক ৩০ কোটি ডলার, টিকা প্রদানে ৪০ লাখ ডলার, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনে ৬ দশমিক ৮০ কোটি ডলার এবং মাতৃস্বাস্থ্য সেবায় ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার। উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচীতে ১ ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে ১৬ ডলার ব্যয় সাশ্রয় হয়। মিসরে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচীতে ১ ডলারের বিপরীতে ৩১ ডলার সাশ্রয় হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা এক অর্থে জনশক্তি হলেও দেশে তা এখনও সমস্যা। অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা দেশের কৃষি জমি ও বনাঞ্চল নিঃশেষ করে দিচ্ছে। ইউএনএফপিএর প্রতিবেদনে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি ১৪ লাখ হলেও পঞ্চম আদমশুমারির প্রাথমিক ফল অনুযায়ী জনসংখ্যা ১৪ কোটি ২৩ লাখ ১৯ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ সাত কোটি ১২ লাখ ৫৫ হাজার এবং নারী সাত কোটি ১০ লাখ ৬৪ হাজার। বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিষয়ে পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক আদমশুমারির তথ্যের সঙ্গে ইউএনএফপির দেয়া তথ্যের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিল রয়েছে বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশটির সরকার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সচিব রীতি ইব্রাহীম বলেন, তারা জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের সঙ্গে একমত। তার কারণ দেশব্যাপী আদমশুমারি করার সময় হয়তো সংখ্যাগত কিছু তথ্য বাদ পড়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদ, বিআইডিএস জনসংখ্যার সঠিক তথ্যের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তবে দেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি হবে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম।

অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনের জনসংখ্যা বর্তমানে ১৩৪ কোটি ৬০ লাখ। এদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের জনসংখ্যা ১২৪ কোটি ১০ লাখ, শ্রীলংকার ২ কোটি ৩০ লাখ, নেপালের ২ কোটি ৯৪ হাজার এবং পাকিস্তানের জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৭০ লাখ। এছাড়াও দেখা যাচ্ছে জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা ৩১ কোটি ২০ লাখ, ইন্দোনেশিয়ার ২৩ কোটি ৮০ লাখ, ব্রাজিলের ১৯ কোটি ৭০ লাখ, নাইজেরিয়ার ১৬ কোটি ২০ লাখ, রাশিয়ায় ১৪ কোটি ৩০ লাখ এবং জাপানের ১২ কোটি ৮০ লাখ। -আবাম। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।