আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

অনন্য জামিয়া মসজিদ

আমি মানুষ জামিয়া মসজিদ ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম বিখ্যাত এক মুসলিম স্থাপত্য। এই মসজিদের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এখানে একসঙ্গে ৩৩ হাজার ৩৩৩ জন মুসলি্ল নামাজ পড়তে পারেন! স্থাপত্যশিল্পের সুপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ভারতবর্ষে বিভিন্ন শাসকের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অসংখ্য মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ইত্যাদি। এসব স্থাপত্যের মধ্যে প্রাচীনকালে এমন কিছু মসজিদ গড়ে উঠেছে, যা দেখলে দু'চোখ জুড়িয়ে যায়। এমনই একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য কাশ্মীরের শ্রীনগরের জামিয়া মসজিদ। শহরের প্রাণকেন্দ্র লালচক থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে নওহাট্টায় এর অবস্থান।

এ বিশাল মসজিদটির স্থাপত্য সৌন্দর্যের টানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন ইতিহাস ও স্থাপত্যের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। আসেন বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও। জামিয়া মসজিদটি ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩০৪ বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। এর দেয়ালগুলো পোড়া ইটে তৈরি। ভেতরের আঙ্গিনার আয়তন ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩৭০ বর্গফুট।

আঙ্গিনার মাঝখানে রয়েছে ছোট্ট একটি পুকুর ও ফোয়ারা। বিশালত্ব, আয়তন এবং স্থাপত্যশিল্পের উৎকর্ষের কারণে এটি পৃথিবীর একটি চমৎকার মসজিদ হিসেবে খ্যাত। ৩৭৪টি বিশাল দেবদারু গাছের খুঁটি ব্যবহার করা হয়েছে থাম হিসেবে। প্রতিটি থাম চার মিটার লম্বা। চারটি ব্লকের প্রতিটির কেন্দ্রভূমি থেকে পুরো শ্রীনগর শহরকে একনজরে দেখা যায়।

জামিয়া মসজিদের প্রথম পরিকল্পনা করেছিলেন চতুর্দশ শতকের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব মীর মুহাম্মদ হামাদানি। তিনি ছিলেন ইরানের হামাদান শহর থেকে আসা খ্যাতনামা মুসলিম পণ্ডিত ও ধর্মপ্রচারক মীর সৈয়দ আলী হামাদানির পুত্র। ১৩৯২-৯৩ সালে সুলতান সিকান্দারকে এ মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুরোধ করা হলে তিনি তৎকালীন বিশিষ্ট প্রকৌশলী সৈয়দ সদর-উদ-দিন খুরাসিনকে দিয়ে এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। সৈয়দ সদর-উদ-দিন খুরাসিন তার বিপুল অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং ধর্মানুরাগের জন্য লোকসমাজে সমাদৃত ছিলেন। এ মসজিদটির নির্মাণশৈলী এমন, এখানে একসঙ্গে ৩৩ হাজার ৩৩৩ জন নামাজ পড়তে পারবেন, যাতে 'আল্লাহ মহান'_ এ মহিমাময় শব্দটি একত্রে এক লাখ বার উচ্চারিত হয়।

মসজিদটি বেশ কয়েকবার ভস্মীভূত হয়েছিল। ১৬৭৪ সালে যখন এ মসজিদে আগুন লাগে, তখন ভারতবর্ষের সম্রাট ছিলেন আওরঙ্গজেব। কথিত আছে, সম্রাট দুর্ঘটনার খবর শোনামাত্র জানতে চেয়েছিলেন, মসজিদের আশপাশের চিনার গাছগুলো সুস্থ আছে কিনা। আওরঙ্গজেব বলেছিলেন, 'খুবই স্বল্প সময়ে হয়তো মসজিদ পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব। কিন্তু পূর্ণ বয়স্ক চিনার গাছ দ্রুত পুনঃস্থাপন করা সম্ভব নয়।

' কয়েকশ' বছরের পুরনো হলেও ঐতিহ্যবাহী দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি বিশ্বের সেরা স্থাপত্যগুলোর অন্যতম হিসেবে এখনও বিখ্যাত। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।