আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সব ছোট ভাইরা ভালো থাকুক

আজকের এই পোস্ট আমার সব ছোট ভাইদের জন্য। ব্লগে এসে ছোট ভাই ছাড়াও অনেক বড় ভাই, বড় আপু আর ছোট বোনও পেয়েছি। কিন্তু তারা যেন মন খারাপ না করেন, আজকে শুধু ছোট ভাইদের কথাই বলব। একটু হাবি জাবি কথা দিয়ে শুরু করি। ব্লগের সাথে পরিচয় হয় সামহোয়্যারইনের জন্মলগ্ন থেকেই।

মেজপা সব সময় বলত যেন আমি লিখি। ঐ সময় ওদের লেখা দেখতাম শুধু। নিজেরও যে ইচ্ছা করত না তা নয়। কিন্তু মনস্থির করতে পারিনি তখনও। আর তখন নিজের কম্পিউটারও ছিল না।

মেজপার কম্পিউটারে মাঝে-মধ্যে বসতাম, কখনও সাইবার ক্যাফেতে। ঐখানে বসে ব্লগ লেখার মত পরিবেশ পাইনি। শুধু মেইল চেক করা হত। খুব বেশি হলে মেজপার ব্লগগুলো পড়া হত। একেক জনের মন্তব্য পড়ে মনে হত, কি সুন্দর একটা সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে শুধু এই ব্লগ দিয়েই।

এক সময় টারজান কম্পিউটার কিনল। কিন্তু ইন্টারনেটের কানেকশন নিব নিব করে নেয়া হচ্ছিল না। সারাদিন গেম খেলেই কেটে যেত। তবে ইন্টারনেট হলে ব্লগ লিখব এরকম একটা ইচ্ছা ছিল মনে মনে। ওয়ার্ড ফাইলে কয়েকটা ছোট ছোট লেখাও তৈরী করে ফেললাম।

কোনদিন ব্লগে রেজিস্ট্রেশন করলে এগুলো দিব। এক সময় গ্রামীণের একটা মডেম পাওয়া গেল, ধার হিসেবে। তা-ই সই। ব্লগে রেজিস্ট্রেশন করে ফেললাম। কিন্তু নানান ঝামেলা।

ফন্ট বুঝি না, ফোনেটিক বুঝি না, আর ঐ সময় গ্রামীণের স্পিড ছিল কচ্ছপের চেয়েও কম। নিজের নামটাই ঠিকমত টাইপ করতে পারলাম না। গুলটু গুলটু কি কি যেন ঢুকে গেল। মেজাজ চরম খারাপ। এইভাবে ব্লগ লেখা যায় নাকি।

বাদ দিলাম ব্লগের চিন্তা। এর আরও দেড়-দুই বছর পরের কথা। চাকরী পেয়ে প্রথম পোস্টিং হিসেবে গ্রামে যাচ্ছি। একা একা থাকব, সময় কাটবে কিভাবে? এই চিন্তা করে একটা ল্যাপটপ কিনে ফেললাম। সাথে সিটিসেল জুমের একটা মডেম।

এইবার আবার মনে পড়ল সেই ব্লগের কথা। কিন্তু ততদিনে কী নামে রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম তা-ই মনে নেই, পাসওয়ার্ড তো আরও ভিতরের কথা। কি আর করা, আবার নতুন করে শুরু করলাম। একটা নিক ঠিক করতে হয়, কি করব বুঝতে পারছি না। প্রিয় একজন গায়কের নাম দিলাম।

মডারেটর সেটা বাতিল করে দিল। এখন কী করি? এদিক ওদিক তাকিয়ে যা চোখে পড়বে তা-ই দিয়ে দিব এমন একটা অবস্থা। অনেক দিন আগের রাখা একটা ফোল্ডার চোখে পড়ল, যেখানে কিছু বাঘের ছবি রেখেছিলাম, ফোল্ডারের নাম দিয়েছিলাম বড় বিলাই। এটাই তাহলে আমার নিক হোক। আর সব পোস্টে থাকুক বাঘের ছবি।

শুরু হল আমার ব্লগিং। যত আগ্রহ নিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম, লিখতে গিয়ে দেখি মাথা আর চলে না। হাবি জাবি বোকা মার্কা কয়েকটা লেখা দিলাম। কয়েকটা জোকস দিলাম। আজকে কী করলাম, এই টাইপের কয়েকটা বিরক্তিকর লেখাও দিলাম।

ভারী মুশকিল, এইভাবে তো ব্লগিং চলে না। এরপর একদিন হঠাৎ তামিম ইরফানের বান্দরবেলা চোখে পড়ল। পড়তে গিয়ে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দিতে দিতে চোখের পানি বের করে ফেললাম। তারপর মাথায় এল, আমিও তো আমার ছোটবেলার কথা লিখতে পারি। হঠাৎ মনে পড়ল, আমি তো আমার ডাইরীতে ছোটবেলার কিছু কথা লিখেও রেখেছিলাম।

শুরু করলাম তার কপি পেস্ট, সেই সাথে নতুন নতুন অনেক কথা মনে পড়ল, আর লিখতে থাকলাম। শুরুতে আমার লেখা খুব একটা পড়ত না কেউ। একেবারে মন্তব্য ছাড়া কিছু পোস্টও আছে। কিছুদিন পর কয়েকজন পাঠক পেলাম যারা আমার লেখা পড়া শুরু করল, আর মন্তব্য করতে থাকল। আজকে তাদের মধ্য থেকে শুধু ছোট ভাইদের কথা বলব।

এদের মধ্যে নিয়মিত ছিল ভাঙা পেন্সিল আর মুক্ত বয়ান। এই ছোট ভাই দুটোর লেখা আমিও খুব পছন্দ করতাম। শাওন বিলাইকেও এক সময় আমার ব্লগে পাওয়া শুরু করি। সাঁঝবাতির রূপকথাকে নিয়ে একটা পোস্টও দিয়েছিলাম। কিন্তু এক সময় এরা সবাই সামু ছেড়ে যায়।

অনন্ত দিগন্তের কথা আলাদা করে আসলে বলার কিছু নেই। এই লাল পান্ডাকে নিয়ে বলা শুরু করলে পুরো একটা ব্লগ লিখে ফেললেও শেষ হবে না। আর কাব্য তো আমাদের বিবাহ বার্ষিকীর কথা সারা বছর ধরেই মনে করিয়ে দিত। এইবার অবশ্য ঐ সময়ে তার দেখা পেলাম না। শামসীর, আহমেদ রাকিব, চতুষ্কোণ এরা সবাই আমাকে নিয়মিত উৎসাহ দিয়ে গিয়েছে।

এরা সবাই বয়সে আমার একটুখানি ছোট, তাই ছোট ভাইদের কাতারে এদেরকেও ফেললাম। আরেক পাগলা ছোট ভাইয়ের কথা না বললেই নয়, সে তার পাগলামীর জন্য বিখ্যাত, একটু মাথা গরমও আছে। সে হল স্রাফা। হুট করে উদয় হয়ে হুটহাট অদৃশ্য হয়ে যাওয়া তার নিয়মিত কাজের অংশ। আরেকটা ছোট ভাই ছিল রোমাস, যে মাঝখানে অনেক দিন ডুব মেরে বসে ছিল।

আবার তাকে ফিরে পেয়েছি। পরে ছোট ভাইদের মধ্যে আরও পেয়েছি আমড়া কাঠের ঢেঁকি আর তার দোস্ত বিলুপ্ত বৃশ্চিককে, পেয়েছি শ্রাবণের ফুল, রাজ বারামদীকে। এরাও ইদানীং অনিয়মিত। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে পেয়েছি অন্যরকম, রাতমজুর, আকাশ পাগলা, চাঙ্কু, জিকসেস, আমি ভালো আছি, সাকিন ইভান, মুকুটবিহীন সম্রাট, আলিম আল রাজী, ছোট ভাই, আর এইচ সুমন, রিয়েল ডেমোন, এন এইচ আর, স্মৃতির নদীগুলো এলোমেলো, ফ্লাইং ডাচম্যান, সায়েম মুন, নষ্ট গিটার, টিনটিন, শাহেদ খান, জ্যাক স্প্যারো, মুনতা, বৃষ্টি ভেজা সকালসহ আরও অনেককে। হয়ত অনেকের নাম বাদ পড়ে যেতে পারে, এই মুহূর্তে সব নাম মনে পড়ছে না।

আর অনেকের নাম মনে পড়লেও দিইনি, জানি না তারা আমার ছোট না বড় না সমান। সবার জন্যই একই শুভ কামনা, যে যেখানেই থাকুক, এটাই চাই সবাই যেন অনেক ভালো থাকে। যেমনটা চাই আমার অভিমানী ছোট ভাইটার জন্য, সবার উপর অভিমান করে যে দূরদেশে পাড়ি জমিয়েছে। আজ ওর জন্মদিন। ভালো থাকুক ও, যেখানেই থাকুক।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।