আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তানিয়া রহমান, কেন ডিভি জিতেও ইম্রিকা গেলো না ?

তানিয়া রহমান, মাস্টার্স পাশ, বিবাহিতা, স্বামী স্ত্রী ২ জনেই সম্মানজনক চাকুরী করে। ১ টা ফুটফুটে ২ বছরের সন্তান আছে। সবকিছুই চলছিলো সাজানো গোছানো, এরমধ্যেই হঠাৎ ছন্দপতন। সেটা হলো ডিভি লটারী। একটা অচেনা নাম্বার থেকে ফোন করে বললো '' আপনি ডিভি জিতেছেন, স্বামী সহ''।

তানিয়া হতভাগ, কারণ সে ডিভিতে এপ্লাই করে নাই। তার তো ডিভিতে জিতার কথাই না। ২ দিন পর আবার ফোন, তারা বললো, সব প্রমাণ সহ আছে, এবং তারা গ্রামের বাড়ীর স্হায়ী ঠিকানাতে গিয়ে তানিয়ার প্রতিবেশীদের ছবি সহ তারা ডিভি জিতার ডকুমেন্টের ফটোকপি দেখালো । (তানিয়ার বর্তমান ঠিকানা তারা জানেনা। ) আবার ফোন, আত্মীয় স্বজনের দেখা ছবি, সব দেখে তানিয়া ব্যাপারটা বুঝতে পারলো, কোনো একটা কোচিং সেন্টার থেকে তার ব্যাক্তিগত তথ্য পাচার হয়েছে, এবং তানিয়ে সত্যি সত্যিই ডিভি জিতেছেন।

কিন্তু আসল কথাটা তানিয়া তখনো জানতো না। যখন সে রাজী হলো, স্বপ্নের আমেরিকা যাবে, তখন জানা গেল বাকী ঘটনা। আবার ফোন, এই সেই লোক (সায়হাম) বাইরে দেখা করে সব খুলে বললো। তানিয়াকে কোনো টাকা পয়সা খরচ করতে হবে না, পাসপোর্ট ভিসা সবই সায়হাম করে দিবে, কিন্তু স্পাউজ হিসাবে সায়হামকে নিয়ে যেতে হবে। আসল ব্যাপারটা হলো, সায়হাম তানিয়ার স্পাউজ সেজে তানিয়ার নামেই এপ্লাই করেছিল।

(শুধু তানিয়া নয়, অনেক মেয়ের স্পাউজ সেজে সে এপ্লাই করেছিলো) তানিয়া যদি আমেরিকা যায়, তবে সায়হাম টার স্বামী হিসাবে আমেরিকা যেতে পারবে। তানিয়া না গেলে সায়হামের কোনো লাভ হবে না, তাই সে যে কোনো মূল্যে তানিয়াকে রাজী করানোর চেষ্টা করছিলো। এমনকি ডিভিতে এপ্লাই করার সময় তানিয়ার নামের বানান ভুল করেছিলো সায়হাম। সেই ভুলটা তো আর পরিবর্তন করা যাবে না, তাই সায়হাম শিক্ষাবোর্ডে গিয়ে টাকা পয়সা খরচ করে তানিয়ার এসএসসির সার্টিফিকেটে তানিয়ার বানান পরিবর্তনও করলো। ব্যাক ডেটের বিয়ের রেজিস্ট্রেশনেরও ব্যবস্হা করলো টাকা পয়সা খরচ করে।

তানিয়া এটা শুনে প্রথমে রাজী হয় নাই, পরে আবার মনে করেলো, বিদেশ গিয়ে আর তার আসল স্বামী সন্তানকে নিয়ে আসবে কিছুদিনের মধ্যে, তাই সে এই ব্যাপারে খোজ খবর নেওয়া শুরু করলো। কিন্তু তানিয়া যখন বুঝলো, সত্যি সত্যি আর একজনের বউ সেজে আমেরিকাতে যেতে হবে, তখন তার মন বেকে বসলো। যদি সায়হাম আমেরিকা গিয়ে সত্যি সত্যি তাকে বউ বলে দাবী করে? তানিয়াতো অস্বীকার করতে পারবে না। যদি দাবী নাও করে, সায়হামকে ডিভোর্স দিয়ে পুরোনো স্বামী আর বাচ্চাকে আমেরিকা নিয়ে যেতে কম করে হলেও ৩-৪ বছর লেগে যাবে। এতো দিন তার বাচ্চাটা কই থাকবে? তাই শেষ পর্যন্ত তানিয়া সিদ্ধান্ত নিলো, স্বপ্নের আমেরিকাতে যাবে না।

ডিভি বাতিল। এদিকে সায়হাম এখন মরিয়া হয়ে আছে , কারণ সে ইতিমধ্যে দেড়লাখ টাকা মত খরচ করে ফেলেছে প্রসেসিং এর জন্য। আর তানিয়ার পরিবার এখন সায়হামের ভয়ে আত্মগোপন করে আছে। (গতকাল এক আত্মীয় থেকে এই ঘটনা শুনলাম, এটা উনার নিজের পরিবারেরই ঘটনা। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য তানিয়া ও সায়হাম ছদ্মনাম হিসাবেই ব্যবহার করলাম।

)  ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১০ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.