আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

'চাকু দিয়ে উরু থেকে দুই পা বিচ্ছিন্ন করি' ফতুল্লায় স্কুলছাত্র ইমন হত্যাকারী নাহিদ:

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি 'চাকু দিয়ে উরু থেকে দুই পা বিচ্ছিন্ন করি'পরিকল্পনা মোতাবেক ইমনকে ভাতের সঙ্গে মেশানো হয় অচেতন নাশক দ্রব্য। কিছু সময়ের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়ে ইমন। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ধইঞ্চা ক্ষেতে। প্রথমে ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর চাকু দিয়ে বিচ্ছিন্ন করা হয় উরু থেকে দুই পা।

সব মিলিয়ে ইমনের দেহ ৯ টুকরা করে পানিতে ফেলে দেয়া হয়। এ বর্ণনা ইমন হত্যাকারী ঘাতক নাহিদের। নাহিদ সম্পর্কে ইমনের দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই। ফতুল্লা থানা পুলিশ হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর গতকাল রবিবার নাহিদকে চকবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। গতকাল দুপুরে নাহিদকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়।

এ সময় নাহিদ হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা করে। হত্যার কারণ সম্পর্কে নাহিদ জানিয়েছে, মূলত প্রতিহিংসাবশত তাকে হত্যা করা হয়। বুড়িগঙ্গা নদী বেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল ফতুল্লার বক্তাবলীরচর রাধানগর গ্রামের ইসমাইল হোসেন রমজানের ছেলে ইমন। সে ফতুল্লা উপজেলার বক্তাবলীর কানাইনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র । গত ১৩ জুন রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে ইমন নিখোঁজ হয়।

গত ২২ জুন বিকালে ইমনের বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে নির্জন একটি শস্যক্ষেত থেকে ইমনের ৯ টুকরা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বক্তাবলী ইউনিয়নের চর রাধানগর এলাকার আমানউল্লার ছেলে নাহিদ। সে নিহত ইমনের বংশীয় চাচাতো ভাই। ইমনের লাশ উদ্ধারের পর নাহিদসহ অন্য আসামিরা পলাতক থাকে। নাহিদ পলাতক অবস্থায় চকবাজারের একটি জুতার দোকানে চাকরি নিয়েছিল।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ইতিপূর্বে গ্রেফতার করে ইমনের বংশের চাচী আয়েশা ও চাচাতো ভাই মামুনকে। তাদের দেয়া তথ্যমতে গ্রেফতার করা হয় নাহিদকে। জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদ জানায়, গত দুই বছর আগে ইমনের বড় ভাই ইকবালের সঙ্গে বিবাদ হয় আহাম্মদ আলীর। এরপর থেকেই ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে আহাম্মদ আলী। সে পরিকল্পনা মোতাবেক ১৩ জুন রাত সাড়ে ৮টায় ইমনের চাচা সিরাজ মিয়ার স্ত্রী সালমা বেগম নিজেই ইমনকে ভাতের সঙ্গে অচেনত নাশক বস্তু মিশিয়ে দেয়।

ঐ ভাত খাওয়ার পর ইমন অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে একটি নৌকায় করে নাহিদসহ অন্য আসামিরা মিলে ইমনকে বাড়ির অদূরে একটি ধইঞ্চা ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে আসামি আহাম্মদ আলী একটি ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। অপর আসামি সেন্টু তার হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে ইমনের দুই হাত ও বুকের মাঝে আঘাত করে শরীর বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আর নাহিদ তার হাতে থাকা চাকু দিয়ে দুই পা উরু হতে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

অন্য আসামি সিরাজ চাপাতি দিয়ে শরীর টুকরো করে। ইমনের দেহ টুকরো করার সময় সহায়তা করে সালমা ও হুসনা। লাশ ৯ টুকরো করার পর খণ্ড বিখণ্ড লাশের টুকরো ধইঞ্চা ক্ষেতের ভেতরে পানির মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে দেয়া হয়। রক্তমাখা নৌকা, চাকু, চাপাতি পানিতে পরিষ্কার করে যার যার বাড়িতে চলে যায় । গ্রেফতারের পরপরই ফতুল্লা থানা পুলিশ নাহিদকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আশরাফুজ্জামান, ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আকতার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মঈনুর রহমান প্রমুখ। পুলিশ সুপার জানান, অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আশা করছি দ্রুত অপর আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১৪ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.