আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আবেদ খান, আপনি ঠিকই বলেছেন।

পুলিশই কি হরতাল সফল করে দেয় আবেদ খান কোনো হরতাল সফল করতে পুলিশের ভূমিকার বিকল্প নেই। এই কাজটি পুলিশ সব আমলেই খুব নিপুণভাবে করে এসেছে এবং এখনো আসছে। কী দরকার ছিল এই বেপরোয়া ধরপাকড়ের? কী দরকার ছিল অহেতুক সন্দেহবাতিকে ভোগার? এমনিতেই তো হরতালের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের কোনো সায় নেই। সায় নেই গরিব রিকশাওয়ালা-ফেরিওয়ালাদের, সায় নেই ব্যবসায়ীদের। এর পরও হরতাল ডাকা হয় এবং হরতাল আহ্বানকারী রাজনৈতিক দলগুলো চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকলেও অনায়াসে হরতাল হয়ে যায়।

রাস্তায় গাড়ি কমে যায়, অফিস-চলতি মানুষ ভয়ে থাকে। দোকানপাট এমনিতেই ঝাঁপ বন্ধ করে রাখে। এর কারণ আর কিছু নয়, আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা। কখন রাস্তায় মিছিল হবে এবং পুলিশ এসে বেধড়ক পেটাবে_এই ভয়ে পথচারীও থাকে শঙ্কিত। এটা শুধু এবারের ব্যাপার নয় কিংবা এ আমলেরও ব্যাপার নয়।

এ রকম ঘটনা গত আমলেই দেখেছি; তার আগের আমলে এবং তার আগের আমলেও। পুলিশের পক্ষ থেকে সব সময়ই বলা হয়েছে, বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, সে জন্যই নাকি এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। কিন্তু এর তো কোনো দরকার নেই। রাজনৈতিক দলগুলো বলে থাকে, হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার। হ্যাঁ, আমরাও মনে করি হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকারই বটে; কিন্তু হরতালের নামে বেপরোয়া ভাঙচুর, স্বাভাবিক জীবনধারণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি অথবা ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনোমতেই গণতান্ত্রিক অধিকার বলে বিবেচিত হতে পারে না।

কলকাতার হাইকোর্টে কিছু দিন আগে একটি রায় হয়েছিল হরতালের বিরুদ্ধে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই রায় সংশোধিতও হয়েছিল। এই সংশোধিত রায়ে যা বলা হয়েছিল তার মর্মার্থ হচ্ছে, হরতাল করা যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার, হরতাল না করাটাও ঠিক তেমনি গণতান্ত্রিক অধিকার। কাজেই আমি যদি হরতাল না করতে চাই, আমি যদি রাস্তায় গাড়ি নামাতে চাই, আমি যদি ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতে চাই, আমি যদি দোকানপাট খুলতে চাই_তোমার কোনো অধিকার নেই সে ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার। এ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করার অর্থ, আমার স্বাধীন অধিকার প্রয়োগের ওপর জোর খাটানো।

আমরা মনে করি, যাঁরা হরতাল আহ্বান করেন, তাঁদের যেমন এ সত্যটি বুঝতে হবে, ঠিক তেমনি যাঁরা শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে চান, তাঁদেরও এ বিষয়টি অবশ্যই মনে রাখতে হবে। এবারের হরতালের কথাই ধরা যাক। আমরা পত্রপত্রিকায় পড়লাম, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে হরতাল যেহেতু গণতান্ত্রিক অধিকার, সেহেতু সরকার কিংবা সরকারি দল এই হরতাল পালনে কোনো রকম বাধা সৃষ্টি করবে না। তা-ই যদি হয়ে থাকে, তা হলে পুলিশের কী এত দায় পড়ল ব্যাপক ধরপাকড় করার? আমরা বরাবরই এ বিষয়টি লক্ষ করে আসছি যে পুলিশ অকস্মাৎ অতিমাত্রায় কর্তব্যপরায়ণ হয়ে যায়_যখন বিরোধী দল কোনো হরতাল বা বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রদান করে। এমনিতেই বর্তমান পরিস্থিতি একেবারেই হরতালের অনুকূলে নয়।

কোনো রকম আগাম পুলিশি অভিযান না হলে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এ ধরনের হরতাল প্রত্যাখ্যান করতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু অত্যুৎসাহীদের মাত্রাতিরিক্ত 'কর্তব্যপরায়ণতা' মানুষকে যেমন সন্ত্রস্ত করছে, হরতাল আহ্বানকারীদেরও তেমনি সন্তুষ্টিবিধানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিচ্ছে। আমাদের মনে আছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একবার বিরোধী দল শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেছিল এবং তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এই মানববন্ধন সফল করার ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছিল। এর ফলে বিরোধী দলের আন্দোলন সেখানেই মুখ থুবড়ে পড়েছিল। আর তাতে প্রমাণিত হয়েছিল তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা।

আমরা আশা করেছিলাম, এবারও তার প্রতিফলন দেখব। কিন্তু তেমন আভাস তো দেখছি না। একটু জানা দরকার, আসলে কোন কারণে পুলিশের এত উৎসাহ। আমরা অবশ্য এ দেশের পুলিশ বাহিনীর ওপর এ আস্থাটুকু রাখতে চাই যে তারা অহেতুক সমালোচনার পাত্রে পরিণত হবে না। পিকেটিং যদি না হয়, কোনো রকম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির যদি সৃষ্টি না হয়, তা হলে এই হরতালের রাজনীতি এ দেশের মানুষ এখন আর কিছুতেই গ্রহণ করবে না।

কারণ, এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ হয় সবচেয়ে বেশি। আর, একবার যদি মানুষ সফলভাবে হরতাল প্রত্যাখ্যান করতে পারে, তা হলে এই অস্ত্র ভবিষ্যতে আর সহজে কাজে লাগানো যাবে না। আমি বিশ্বাস করতে চাই যে সরকার এই সহজ যুক্তিটি অনুধাবন করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তাব্যক্তিরাও এটি মানেন। তার পরও এ ধরনের অপরিণামদর্শী হরতালে ভয় পাওয়ারই বা কী আছে, আর এত ঘন ঘন হুঁশিয়ারিবাক্য উচ্চারণ করে মানুষকে ভয় পাইয়ে দেওয়ারই বা কী আছে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ, দয়া করে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করে অপ্রয়োজনীয় হরতালকে প্রয়োজনীয় করে তুলবেন না। [সূত্রঃ কালের কণ্ঠ, ২৯/১১/১০] ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.