আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

অকাজের আঁখিজল আমার শুধুই গড়িয়ে পড়ে

অচেনা মানুষ অকাজের আঁখিজল আমার শুধুই গড়িয়ে পড়ে মৌনতা বাতাসের চলাচল স্তব্ধ করে দেয়, বিড়ালটা করুণার দৃষ্টি নিয়ে চেয়ে আছে আমার চোখের বাঁকে ঢেউগুলি মিশে গেছে পাড়ে পৌছার অনেক আগেই--- আমার------------- শৈশবের ছোটছোট ঢেউ, যৌবনের ভরাট ঢেউ, জীবিকার দূষিত ঢেউ শুধুই অশ্রুত, অযোগ্য---- করুণার আস্তরণে মুড়িয়ে যায়। শুকনো পাতার সঙ্গিত আর যাপিত জীবনের জমানো খরা, কখনও শরৎএর আকাশ হয়নি, কখনও ছড়ায়নি জাফরানী ঘ্রাণ। অবেলা এ আঁখির জলে অভাব এনেছে, মৃত্যু এসে এ দুয়ারে মুচকি হেসেছে। আমিও মানুষ--- আমি জন্মেছিলাম ------আমারও মা ছিল, ছিল শিশুকাল, ছিল শৈশব, ছিল আরও ছিল যতকিছু--- সাড়া দিয়েছি পৃথিবীর আলোকে অনিশ্চত জীবনের ভেতর স্বপ্ন দেখেছি বালিকা হয়ে, পূবের হাওয়ায় খোলা মাঠে উদ্দেশ্যহীন ছুটেছি, বর্ষায় গা ভিজিয়ে তিড়িং বিড়িং লাফিয়েছি, মেঘের ডাকে চমকে উঠে মায়ের বুকে মুখ গুঁজেছি , আনন্দে অদ্ভুত সব শব্দ করেছি। পাশের বিলে শাপলা তুলেছি, ভেলা ভাসিয়েছি পাড়ার বালকদের সাথে, অভিমানি কিশোরী হৃদয়ে জেদ ধরেছি হয়ত পাইনি যা চেয়েছি, হেসেছি যখনই হাসতে চেয়েছি, বাঁচার জন্য খাইনি-- খাওয়ার জন্যও বাঁচিনী, খেলেছি পুতুল খেলা খেলেছি ধুলো মেখে, ছুটেছি অস্থির -- এবাড়ি ওবাড়ি।

সন্ধ্যায় মায়ের বুকে মা-মা গন্ধে আকুল প্রাণ এক্কা দোক্কার স্বপ্নে বিভোর হয়ে ঘুমিয়েছে শান্তির ঘুম। নদীর ভাঙ্গন আমার ঘুম খেয়েছে, চনমনে মনে এনেছে একরাশ আতংক, ভাঁজ পড়েছে যৌবনের পুরোনো চামড়ায়, ভালবাসা বোঝার আগেই ফুরিয়ে গেছে বাতাসার মত। নাবিকের দেখা পেয়েছিলাম , আমার ভেতর বেড়ে উঠেছে যারা ভরেছিলাম আমার গোলা তাদের দিয়ে দিন চলে গেছে, আমার গোলা খালি হয়েছে কেউ মনে রাখেনি, আমি আমার মাকে রেখেছি মনে অতি যতনে, স্মৃতির কুকুরটা শুধুই ঘেউ ঘেউ করে অকারণে, ধরলা নদীর তিরে বসে শুধু দু-ফোটা অশ্রু ফেলেছিলাম, ধরলা সব নিয়েছে, নেয়নি আমার দু-ফোটা অশ্রু। ভিক্ষাবৃত্তি আমার নির্লোজ্জ পরিনতি। [বি.দ্র: অনেকদিন আগের ২০০৪ সাল হবে, আমি যখন এইস.এস.সি লেভেল এ পড়ি তখন কুড়ি্গ্রাম এ বেড়ে ওঠা এক ৭০ বছরের বৃদ্ধার সাথে অনেক্ষন কথা হয়েছিল, আজ হঠাৎ করেই ওনার কথা মনে পড়ল।

উনি ভিক্ষাবৃত্তির সাথে জড়িত ছিলেন। ওনার স্মৃতি নিয়ে কিছুটা লেখার চেষ্টা করলাম, উনি ওনার জীবনের সোনালী দিনগুলি আমার সাথে শেয়ার করেছিলেন। জানিনা উনি আজ বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। ] ২৪.০৬.২০১১ইং কোরিয়া। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।