আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

শিশুশ্রম বন্ধে দ্রুত পুনর্বাসন অতীব জরুরী

মা মাটি মানুষকে ভালোবাসি-এই মিথ্যে কথাটা বলতে আর ভালো লাগে না! অনুচ্চাকাঙ্ক্ষী, দৃঢ়, সত্য প্রকাশে অনঢ়...

দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত মে দিবসের এই ছবিই বলে দিচ্ছে বাংলাদেশে শিশুশ্রম বন্ধ হয়নি। বরং আগের চাইতেও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। শিশুদের দিয়ে খুব সহজেই মিথ্যা বলে খারাপ কাজ করানো যায়, অপরাধ-জগতেও শিশুদের দিয়ে মাদক-ব্যবসা, মাদক চোরাচালান, চুরি-ছিনতাই এর মতো গুরুতর অপরাধ করানো হয়ে থাকে। ঢাকা শহরের পথে-ঘাটে-রাস্তায় যত শ্রমজীবী, পপকর্ন-ফুল বিক্রেতা শিশু-কিশোরদের দেখা যায় বিশ্বের আর কোন উন্নয়নশীল দেশে কী এমনটা আছে? আমরা কী কখনো সেটা ভেবে দেখেছি? বরং নিজেদের জানালার কাঁচ বন্ধ করে নাক সিঁটকাতেই বেশি পুলক অনুভব করি। কখনো ভেবেও দেখি না, এই শিশুগুলোকে পুনর্বাসন না করলে, এক বেলা খাবারের ব্যবস্থাও ঠিকমতো না করতে পারলে একটা ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর জন্ম হবে।

যারা খুনি-ছিনতাইকারি হবে, ভেতরে বড়লোক-গাড়িওয়ালাদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ জন্মাবে। আমরাই এদের ফ্র্যাংকেনস্টাইন হবার পথটা তৈরী করে দিচ্ছি নিজেরাই হত্যা করছি এদের বিবেক কে। অন্তত আমাদের একজনকে এদের পাশে দাঁড়িয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। আবার মোরশেদুল ইসলামদের মতো হলে চলবে না। যারা শিশু চলচ্চিত্র উৎসবের নামে ইউনিসেফ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ওয়ারিদ (বর্তমানে এয়ারটেল) প্রভৃতি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় কিন্তু এইসব রাস্তার শিশুদের জন্য কিছুই করে না।

নামেমাত্র দুই-একজনকে ধরে নিয়ে এসে তামাশা বানায়। এরাই মূলত সমাজের মূল অবক্ষয়ের জন্য দায়ী। পকেটে মিথ্যা বলে পয়সা ভরবো, কামের কাম কিছুই করবো না- এই নীতিতে বিশ্বাসী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ থেকে দেখা যাক - বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোও (বিবিএস) গত ২০০২-২০০৩ সাল থেকে শিশু শ্রমিকদের নিয়ে গবেষণা করেছে। বিবিএসের করা সর্বশেষ (২০০৬ সাল) সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঢাকায় এক লাখ ৪২ হাজার শিশু গৃহকর্মীর কাজ করছে।

সারা দেশে শিশু গৃহকর্মীর সংখ্যা চার লাখ ২১ হাজার ২২৬। একই গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকায় পথশিশু রয়েছে তিন লাখ ৩৪ হাজার ৮০৭টি। এরাও কেউ না কেউ কোনো ধরনের শ্রমে নিয়োজিত। গৃহকর্মী ও পথশিশুদের বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন এবং হয়রানির শিকার হওয়া সাধারণ ব্যাপার... ইউনিসেফ শিশুশ্রম বন্ধে বহুমুখী পদক্ষেপ নিলেও বাংলাদেশের এনজিও এবং কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শিশুশ্রমের নামে প্রাপ্ত অর্থ সঠিক কাজে ব্যবহার করছে না। বাংলাদেশের পতিতালয়গুলোতেও ১৮ বছরের কম বয়সী অজস্র মেয়েকে যৌনকর্মে বাধ্য করা হচ্ছে।

কলকাতার সোনাগাজির মতো পতিতালয়ে বহু শিশুকে পাচারের ঘটনা অহরহ ঘটছে। কারা এর মূল হোতা? কাদের প্রশ্রয়ে বর্ডার ক্রস করে আমাদের শিশুরা পৌঁছে যাচ্ছে নরকে? বাংলাদেশ পুলিশ এর অসৎ সদস্যরা এর নেপথ্যে জড়িত। পুলিশ সরকারেরই একটি অঙ্গসংগঠন। কিন্তু বাংলাদেশি পুলিশ টাকার জন্য করতে পারে না এমন কিছুই নাই। অথচ আইন কি বলে দেখা যাক : Section 364A - দশ বছরের নিচের কাউকে অপহরণ করে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ কিংবা যৌনকর্মে বাধ্য করতে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১৪ বছরের জেল এবং সেটা অবশ্যই ৭ বছরের নিচে “ Section 373 - Whoever buys, hires or otherwise obtains possession of any person under the age of eighteen years with the intent that such person shall at any age be employed or used for the purpose of prostitution or illicit intercourse with any person or knowing it likely that such person will at any age be employed or used for such purpose with imprisonment of either description for a term which may extend 10 years and fine. Any prostitute or any person keeping or managing a brothel, who buys, hires or otherwise obtains possession of a female under the age of 18 years, shall until the contrary is proved, be presumed to have obtained possession of such female with the intent that she shall be used for the purpose of prostitution. আইন এর সঠিক ব্যবহার কী হচ্ছে? অপরাধীরা কিন্তু ঠিকই ছাড় পেয়ে যাচ্ছে... শিশুশ্রম বন্ধে আপনার আমার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই যথেষ্ট - এই বিশ্বাস অবশ্য ব্যক্তিগত! তথ্যসূত্র : ১. দৈনিক প্রথম আলো লিংক : Click This Link ২. ইউনিসেফ লিংক : Click This Link ৩. উইকিপিডিয়া লিংক : Click This Link


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.