আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

স্বপ্নবালিকা: ছন্দের জমিনে লুৎফুর রহমানের সফল ফলন

সম্পাদনা করি আমিরাত-বাংলা মাসিক মুকুল। ভালবাসি মা, মাটি ও মানুষকে..

# আব্দুল আজিজ সেলিম # স্বপ্নবাজ মানুষদের স্বপ্ন নিয়ে ফেরি করে যানলেখক-সাহিত্যিকরা। পাঠকের সুখ, দু:খ আর আনন্দ-বেদনা নিজের মনে করে শব্দের পেছনে শব্দ গেঁথে ফুটিয়ে তুলে মানুষের আশা-আকাঙ্খার কথা। আর এমন-ই এক প্রেমিক মনের স্বপ্নসাধনা নিয়ে একুশে বইমেলা ২০১১ তে বের হয়েছে দুবাই প্রবাসি মাসিক মুকুল সম্পাদক তরুণ ছড়াকার লুৎফুর রহমানের প্রথম ছড়াগ্রন্থ স্বপ্নবালিকা। বয়সে তরুণ হলেও লুৎফুরের মেধা ও মনন বোদ্ধা মহলের দৃষ্টি কাড়ে প্রতিনিয়ত।

এই মনন থেকেই স্বপ্নবালিকা ছড়াগ্রন্থে রঙধনু রঙ মিশিয়ে এঁকেছেন ভালবাসার অসীম আকাশ। বাংলাসাহিত্যের স্বনামধন্য ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটনের ভাষায় এমন-‘লুৎফুরের হৃদয়ের যাবতীয় আকুলতা আর ব্যাকুলতার মলাটবন্দি রূপ স্বপ্নবালিকা। তার আবেগকে ধারণ করেছেন চাঁদ কিংবা জোসনার পাশাপাশি ফেসবুক এবং মুঠোফোনেও। একজন আধুনিক প্রেমিক তার বুকের পিদিম জালিয়ে ক্ষান্ত হয়না, বরং যোগাযোগের সব ক্ষেত্রেই চালিয়ে যায় তার প্রেমের পাঠ। আর পাঠককুলে খুব সহজে এই কথাটি ফুটিয়ে তুলেছেন লুৎফুর রহমান।

চাঁদ কিংবা জোসনার মায়াবি আলোয় মাখামাখি হয়ে স্বপ্নের আলয়ে ফেরি করে স্বপ্নবাজ তরুণের মন। এমন মনের সহজ দৃশ্য ফুটে ওঠেছে স্বপ্নবালিকা বইটিতে। যাও পাখি বলো তারে সে যেনো ভোলেনা মোরে মন্ত্রপাঠে পাঠককে ধরে রাখতে চেষ্টা করেছেন তিনি। আর তার এই প্রয়াস ছন্দপ্রেমীদের আনন্দ দিবে। ’ এমন কথা লিখেছেন বইয়ের ভূমিকায়।

অনেক পরম মমতায় বুকের জমিনে স্বপ্নচাষ করার সাতকাহন করেছেন স্বপ্নবালিকা বইয়ের ‘মনের মানুষ’ ছড়ায়। লিখেছেন-চতুর্দিকে পাখির নাচন/ কোমল সবুজ ঘাস/ আমার বুকের জমিন মাঝে/ স্বপ্ন করি চাষ/ তুমি আমার মনের মানুষ/ মনেই তোমার বাস। একজন প্রেমিকের আকুলতা আর রঙিন ইচ্ছে তার প্রিয়াকে নিয়ে থাকে। সেই ইচ্ছে ফুটিয়ে তুলেছেন ‘ইচ্ছে করে’ ছড়ায় এভাবেই- ‘ইচ্ছে করে তোমার গালে/ স্বপ্নগুলো আঁকতে/ বুকের সাথে বুক মিলিয়ে/ চুপটি করে থাকতে/ চাঁদনী রাতে ইচ্ছে করে/ জোসনা গুলো মাখতে/ বুক পকেটে আপন সুখে/ তোমার ছবি রাখতে। ’ নানা রকম মনভুলানো আর স্বপ্নের তুলিকে এঁকেছেন স্বপ্নবালিকার জমিন।

লুৎফুর সেই কাজটি করেছেন অত্যন্ত সুচারুভাবে। ছন্দের ঢেউভাসা জোয়ারে তিনি যে এক সফল সাম্পানওয়ালা তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। প্রিয়া নি:স্ব করে বিশ্বকে কালো করে অন্যের ঘরে যায় তখন প্রেমিকের আকাশে আর জোসনা উঠেনা প্রেমিন মন বলে ওঠে- ‘শুনো প্রিয়া চন্দমূখী/ তুমি ছিলে মন্দলোকই/ তাই করোনি ঘর/শুনো ওগো ফুলকুমারি/ একা সব ভুলতুমারি/করলে আমায় পর/ তুমি ছিলে নীলদরিয়া/ ভালেবাসো দিলভরিয়া/ কালবোশেখী ঝড়/এখন তুমি চারতলাতে/ চাকর ঝিও পারতলাতে/ ভালোবেসে আমায় দিলে/ ভাঙা খড়ের ঘর। ’ আর এই কথাটি লিখেছেন ‘চন্দমূখী’ ছড়ায়। লুৎফুর রহমান তার মনমাতানো ছন্দ দিয়ে সকল প্রেমিয় দের হাসি ফুটিয়েছেন এভাবেই- ‘এমন সময় আসুক/ প্রেমের নদে সাতার কেটে/ সবজনা তাই ভাসুক/ মনের সাথে মন মিলিয়ে/ সকাল-বিকেল হাসুক।

’ সকলের হাসি কামনা করার এই ছড়ার নাম দিয়েছেন ‘এমন যদি হতো’। সমসাময়িক চিন্তার এক তরুণ পাঠককে নিয়ে যান সমকালীন চিন্তায় আর ‘ভালবাসা ডটকম’ নামক ছড়ায় নিয়ে গেছেন ক্রিকেটের ভাষায় প্রেমের সরল সমীকরণে- ‘ব্যাট বলে মিল হলে/ যায় লেগে ছক্কা/ ভালবাসা ডটকমে/ হয় প্রেম রক্ষা/ প্রেম থাকে সবখানে/ মাটি থেকে আকাশে/ ফিল্ডিং বদ হলে/ হয় মন ফাঁকা সে। এমন দারুণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন প্রেম কাহিনী। লুৎফুর রহমান তার ৩২ টি ছড়াতে ভিন্ন স্বাদ দেবার চেষ্টা করেছের পাঠককুলকে। আর সে ক্ষেত্রে তিনি একজন সফল ছন্দচাষি বলা যায়।

বইয়ের নামভুমিকা ‘স্বপ্নবালিকা’ ছড়ায় লিখেছেন- মিষ্টি হাসি একলা নিজে/ তোমার পরশ পেয়ে/ সুখ সাগরে সময় কাটে/ সুখের গীতি গেয়ে/ বালিকাগো জোসনা খুঁজি/ তোমার দিকে চেয়ে। নানা চাওয়া-পাওয়া আর মিল-অমিলের নিপুণ মলাটবন্দি রূপ ই স্বপবালিকা। বইয়ের ভুমিকা লেখক লুৎফর রহমান রিটন চ্যানেল আই সরাসরি বইমেলা অনুষ্ঠানেও এই কথা পুনরাবৃত্তি করেছেন। লুৎফুর তার দৃষ্টি নন্দিত এই বইটি উৎসর্গ করেছেন রেহানা পারভীন ও তুষার মুহিব কে। ছড়াকার পরদেশে পরবাসী হয়ে থাকলেও ছন্দ তার নিত্যসঙ্গী।

স্বপ্নবালিকা পাঠকের মন জয় করে আরো ছন্দের ঝনকানি দেখাবেন নতুন কোনো বইয়ে। এই প্রত্যাশা আমাদের। সিলেটের সংস্কৃতির শহর বিয়ানীবাজারের নিদনপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া এই ছড়াকারের প্রথম গ্রন্থটি পাঠকমহলে সমাদৃত হবে এই কামনা। স্বপ্নবালিকা : লুৎফুর রহমান প্রকাশক: জলছাপ প্রকাশন, ঢাকা প্রচ্ছদ ও অলংকরণ : স্বপন তীর্থ প্রকাশকাল: একুশে বইমেলা ২০১১ দাম: ৬০ টাকা

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।