আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

এ বিশ্ব পূর্ণ হোক ভালবাসায়

দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার!

ধ্বংস, অত্যাচার, সন্ত্রাস আর মৃত্যু যেন এদেশ এবং পৃথিবীর সকল ভালবাসার দখল নিতে চায়। মৃত্যু উপত্যকায় দাঁড়িয়ে বিশ্বের সভ্যতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সভ্যতার অহংকারকে লাঞ্ছিত করে ইরাক, গাজা তথা সমগ্র বিশ্বেই চলছে অন্যায় ধ্বংসযজ্ঞ। নির্যাতিত হচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে আবাল-বৃদ্ধা-বনিতা। ধ্বংসযজ্ঞের ছবি দেখে যে কারো চোখেই পানি আসার কথা। পৃথিবী কি তবে ভালবাসাহীন গ্রহে পরিণত হয়ে যাচ্ছে? নাকি পৃথিবী নামক গ্রহের মানুষগুলোর হৃদয় থেকে প্রেম-ভালবাসা মুছে যাচ্ছে? ভালবাসাহীন বিশ্ব, ভালবাসাহীন সমাজ কখনোই মানুষের জন্য নিরাপদ ও নির্ভয় আশ্রয়স্থল হতে পারে না।

জীবনে ভালবাসাই হতে হবে মানুষের অভয়মন্ত্র, জীবনের শ্রেষ্ঠ সঞ্চয়। আমরা ভালবাসা চাই। আমাদের সকলের হৃদয় ভালবাসার ছোঁয়া পেতে চায়। ভালবাসার মানুষকে কাছে পেতে চায়, ভালবাসার কথা শুনতে এবং শোনাতে চায়। কারণ, ভালবাসা মানুষকে আপন হতে শেখায়।

ভালবাসার অদৃশ্য বন্ধন হৃদয়ের দুয়ার খুলে ভালবাসার মানুষকে দু’বাহু বাড়িয়ে টেনে নেয় বুকে। ভালবাসার দুয়ার মুক্ত, এর ওপর কোন জোর খাটে না। প্রকৃতির সহজাত নিয়মেই মানুষের হৃদয়ে প্রেম-ভালবাসার উৎপত্তি হয়। ভালবাসা এক অন্তর্মুখী শক্তিসম্পন্ন গুণ যা সুপ্ত আত্মা ও বিবেককে জাগ্রত ও উজ্জীবিত করে। এটি অনুভব, অনুধাবন ও উপলব্ধির ব্যাপার।

এর অভাবে বাস্তব জীবনে দেখা দেয় অন্ধকার-তমসাচ্ছন্ন ছবি। সময়ের গতি পরিবর্তনের সাথে সাথে সম্ভবত ভালবাসার টান এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে। তাই হয়তো ‘ভালবাসা দিবসে’ একটুখানি ভালবাসা দেবার বা নেবার জন্য প্রতিদিনের বাধা বা নিয়মকে শিথিল করি, প্রয়োজনকে শিথিল করি, সংকোচকে শিথিল করি। সত্যকে যুক্তি বা বাঁধনের প্যাঁচে ফেলা যায়, ভালবাসা কোন বাঁধন মানে না। তাই তো যুগে যুগে কবি-সাহিত্যিকগণ সর্বদাই জীবনে ভালবাসার জয়গান করে গিয়েছেন।

জীবন থেমে থাকে না, চলার পথে জীবনে প্রতিটি ধাপ সকলকেই অতিক্রম করতে হয়। স্বপ্নবিলাসী মানুষ জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখতে ভুল করে না, তাইতো বারবার ফিরে তাকায় হৃদয়ের দিকে, যেখানে জীবনের জন্য লুকিয়ে আছে ভালবাসা। ভালবাসার অদৃশ্য শক্তি মানুষের জীবনে দেয় মহত্ত্বতার মহাঐশ্বর্য। এটি যুগে যুগে মানুষের হৃদয়ে বহমান থেকে তার সমগ্র সত্তাকে করে জাগ্রত, উদ্বেলিত আর জীবনকে ভরপুর করে নানা বৈচিত্র্যের ফল্গুধারায়। তবে আজকাল প্রেম-ভালবাসার ব্যাপারটি কেমন যেন বয়স ও লিঙ্গ ভেদে সীমাবদ্ধতার বেড়াজালে আটকে পড়েছে।

ভালবাসার কথা বললেই তারুণ্যের ছোঁয়া দীপ্ত প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসাটাই প্রাধান্য পায়। কিন্তু ভালবাসা সার্বজনীন ব্যাপার অস্বীকার করার উপায় নেই। সমাজ, সংসার, দেশ, কর্মস্থল সর্বত্রই তো ভালবাসার অস্তিত্ব বিদ্যমান। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে আমরা ভালবাসার কথা বলি না, চর্চাও করি না। ভালবাসা দিবসের কথা উঠলেই ভাসমান রাজহংসের জুটি নয়তো কপোত-কপোতীর দৃশ্যই মানসপট তথা পত্রিকার পাতায় দৃশ্যমান হয়।

ভালবাসা দিবসে নিঃশব্দে, নীরবে বা সরবে, সংকোচে বা নিঃসংকোচে অনুরাগ প্রেম সলিলে ডুব দিকে প্রেমিক-প্রেমিকাগণ ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। ভালবাসার উৎপত্তিস্থল কোথায় তা বলা কঠিন। পৌরাণিক কাহিনীতেও দেব-দেবীর ভালবাসার গল্পে আমরা মুগ্ধ হই। ভালবাসা দিবস সংক্রান্ত ভালবাসার চমকপ্রদ গল্পটি কারো অজানা নয়, এ যুগে। এই ভালবাসার জন্যই জগদ্বিখ্যাত হয়ে আছে লাইলী-মজনু, শিরি-ফরহাদ, রোমিও-জুলিয়েট।

ভালবাসার এমনই গুণ যা যুগ-যুগান্তরের ব্যবধান কমিয়ে সৃষ্টি করে বন্ধন, মনের মাঝে তিলে-তিলে গড়ে তোলে পছন্দের মানুষের সৌধ। একটু যদি দৃষ্টি ফেরাই বর্তমানের দিকে, প্রযুক্তির দাপটে প্রেম-ভালবাসাও যেন অনেকটা যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়েছে। সময়ে-অসময়ে প্রেম এসে ধরা দেয় মানুষের মনে। তার রূপ অনেকটাই এরকম, ‘তোমাকেই আমি ভালবাসিয়াছি শতরূপে শতবার, কাহারো সাথে প্রেম করিলে আমি তাহার। তুমি কি দেখিয়াছ এ মনের রং, শতরূপ আছে যার? বহুরূপী মন, মানে না বাঁধন, জানি না কখন কার’।

হুজুগের হাওয়া এত তীব্র যে সত্যিকারের ভালবাসার পাল ধরে রাখা সত্যিই অসম্ভব ব্যাপার। জীবনে চলার পথে ভালবাসার বিকল্প নেই।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.