আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সপ্নের সেতু পদ্মা!!



সপ্নের সেতু পদ্মা!! হ্যা আমরা যারা পদ্মার ঐ পারের মানুষ তারা বুঝি এই পদ্মা নদী কত দূরে ঠেলে দিয়েছে আমাদের আপনজনের কাছ থেকে। ঢাকায় থাকি কত ব্যস্ততা। আপনজনের কাছে খুব যেতে মন চায়, বাড়িতে এখন শুধু বাবা, মা থাকে। তারা অপেক্ষায় থাকে কবে বাড়ি যাব। আমাদের বাড়ি যাওয়ার পথের কষ্টের কথা বললে মা বলে আর কষ্ট করে আসতে হবে না! আমি জানি এটা তাদের মনের কথা না, শুধু মূখে বলে।

বাড়ি যাওয়ার পর আমার মায়ের খাবার খাওয়ানোর ব্যস্ততা, মনে হবে যেন ঢাকাতে না খেয়ে থাকি! একটু পর পর নানা পদের পিঠা, গ্লাস ভর্তি গরুর দুধ , পছন্দের মাছ, বাড়িতে পালা মুরগির ভূনা আরো কত কি। ঢাকায় আসার কথা বললে মায়ের আদর মাখা আবদার আরেকটা দিন থেকে যা। মায়ের মন, এত আদরের পরও বুঝি অতৃপ্ত থেকে যায়। ঢাকা থেকে আমার গ্রামের বাড়ি যেতে ৬-৭ ঘন্টা লেগে যায়। তার পর যদি ফেরী সমস্যা বা কোন উৎসব এর ছুটি থাকে তাহলেতো কথাই নেই।

আমার অভিজ্ঞতায় বলছি ৩২ ঘন্টা লেগেছিলো একবার ঈদে বাড়ি যেতে!! কিন্তু সেতু হলে মাত্র ৩ ঘন্টাই বাড়ি যেতে পারব। এই তো গত সপ্তাহে মায়ের ফোন আমার বিয়ের জন্য পাত্রি দেখেছে বাড়ি যেতে হবে। আমার পছন্দ হলেই সানাই বাজবে। কিন্তু ছুটি পাব না মনে হচ্ছে আর আরিচা দিয়ে গেলে কম করে হলেও ১০ ঘন্টা লাগবে, বউ দেখা তাহলে হবেনা। অগ্যতা মাওয়া দিয়ে গেলাম, স্প্রিট বোটে পার হলাম আগে ১০ মিনিট লাগত এখন ৩০ মিনিট লাগে।

নদীটা পার হতে গিয়ে বুকটা হু হু করে কেঁদে উঠল, বিশাল পদ্মা এখন যেন মরা নদী, চারদিকে চর জেগেছে, নদীর ভিতরেই জাল ফেলে মৎস্য চাষ হেচ্ছে, সাই সাই করে সারা দিনই যাত্রী পার করছে স্প্রিট বোট গুলো। নষ্ট হচ্ছে মাছের অভয়অরণ্য। চর জুড়ে বসতি গড়ে উঠেছে, নতুন দু'একটা ভবন ও নির্মান হচ্ছে। এভাবেই কি নদী মাতৃক এই দেশটা থেকে নদী বিলীন হয়ে যাবে?? তবে হ্যা নদীর নাব্যতা রাখার জন্য যা যা দরকার সব কিছুই সরকারের করা উচিত। পাশাপাশি আমাদের দক্ষিনাঞ্চল তথা পদ্মার ঐ পারের জেলা গুলোর মানুষের সপ্নের সেতু পদ্মা সেতু নির্মাণ করে আমদের সপ্ন পূরন করবেন বর্তমান সরকার এটাই সবার প্রত্যাশা


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.