আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

শাহরুখ কিস কি ভুক?

সত্যের কাছে মিথ্যে চিরকালই পরাজিত

লেখার শিরোনাম টা হিন্দি সিনেমা "Hungama" থেকে নেয়া। আমি হিন্দি অল্প অল্প বুঝি একসময় কিছু সিনেমা দেখতাম, যেগুলো কমেডি টাইপের। এখন আর দেখিনা, শেষ দেখেছি "3 idiots". ভালোই লেগেছিলো। যাইহোক, নিজের লেখা প্রসংগে আসি, অনেকে অনেক লেখাই লিখেছে, অনেক ভালো ভালো কথাও অনেকে বলেছে, তাই আমার লেখাটা কেউ নাও পড়তে পারেন, তবুও লিখছি। এটাই আসলে স্বাধীনতা।

স্বাধীনতার মাস,বিজয়ের মাস, সবাই আমরা এ মাস আসলেই স্বাধীনতা অনুভব করি, সবাই দেখলাম ফেসবুক এ প্রফাইল এ বাংলাদেশের পতাকা জুড়ে দিয়েছে, মনে হচ্ছে এ মাস আসলে আমরা স্বাধীন আর অন্য সময় পরাধীন। যেমনটা করে থাকি ফেব্রুয়ারি তে, ভাষা নিয়ে খুব বাড়াবাড়ি করি। কেউ কি বলতে পারি যে বাংলা কোন মাসের কত তারিখ ভাষা আন্দোলন হয়েছিলো? আমার মনে পড়ছে একদিন দেখছি আজিজ মার্কেটে একটা মেয়েদের শর্ট ফতুয়া তে বাংলা অক্ষর সাজানো, মানে ভাষার জন্য খুব ভালোবাসা, অথচ শর্ট ফতুয়া কি আমদের সংস্কৃতির সাথে সংগতিপূর্ণ? মূল প্রসংগ, শাহরুখ খান বাংলাদেশ এ না এলে আমাদের কি হত? আমাদের তথাকথিত উচুঁশ্রেণীর মানুষ গুলো যারা টাকা দিয়ে বিনোদন কিনে বেরায়, তাদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য কি এ আয়োজন? কি দিয়ে গিয়েছেন শাহরুখ? অসভ্য কিছু শিখিয়ে গেছেন আমাদের তরুনদের বিপথগামী করার জন্য। দেশ যখন নারী উত্যক্তকারীদের(ইভ টিজিং বলে আমরা যেটাকে সম্মানিত করেছি পেশা হিসেবে!) যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ, তেমনি একটা মুহুর্তে এমন একটা আয়োজন। আমি কিছুই দেখিনি,তবে স্টেজ এ শাহরুখ যা করেছেন শুনলাম তাতে আমাদের মূল্যবোধের যে অধ:পতন তার গতিকে ত্বরান্বিত করা ছাড়া আর কিছু কি? আমাদের মধ্যে অনেকে ইলিয়াসের ব্যাপারে বলেছেন যে , সে দেশের ইমেজ নষ্ট করেছেন, আমি একমত, কিন্তু শাহরুখ যা করলেন তাতে আমাদের ইমেজ কি বৃদ্ধি পেয়েছে? যে লোকটি তার গার্লফ্রেন্ড কে দিলেন শাহরুখের চুমু খেতে, এখন যদি অন্য কেউ তাকে চুমু খেতে চায় উনি কি দিবেন? ঔ মেয়ের বাবা মা কি টিভিতে দেখে খুব উল্লসিত হয়েছেন? আপনি কি উল্লসিত হয়েছেন? ভাবখানা এমন যেন শাহরুখ একমাত্র আশরাফুল মাখলুকাত, কিস করলে ধন্য হয়ে যাব! এসব দেখে তরুন সমাজ কিভাবে ভালো কিছু শিখবে?সকলেই তো তাদের প্রিয় নায়ক কে অনুসরন করতে চাইবে।

তখন সেটাকে নাম দিব ঈভ টিজিং। ঢাকা শহরে প্রতিদিন শত শত নারী তার সম্ভ্রম স্বেচ্ছায় বিকিয়ে দিচ্ছে তাদের সেই কথিত প্রেমিক গুলোর হাতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, কার্জনে কি হচ্ছে? এগুলো কি সম্ভ্রম বিকিয়ে দেয়া নয়? নাকি সম্ভ্রমের সংগা ভিন্ন? কোটি টাকা খরচ করে আমরা অধ:পতন ডেকে আনছি? কোন মানুষগুলোর ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা্য়? ঐ ক্ষুধার্ত মানুষ গুলো যারা ঘরে বসে পর্ন দেখে ক্ষুধা মেটায়, তাতে না হলে বার এ যায়, টাকা দিয়ে মনের কুৎসিত বাসনা পূরন করে। শাহরুখ কি তাদের ক্ষুধা মেটাতে এসেছিলেন? আমার মনে হয় না! দেশের কিছু অসৎ লোকের কারসাজিতে, এ্ই ঘৃণ্যতা থেকে মুক্ত মানুষের মাঝে এই ক্ষুধা তৈরি করতে এসেছিলেন! যারা স্টেডিয়াম এ যেতে পারেনি স্যাটেলাইট এর কল্যাণে ঘরে বসে এইসব দেখেছে। এই আমাদের দেশপ্রেম! ডিসেম্বরে আমাদের বিজয়ের উপহার! শাহরুখের উপর আমার কোন রাগ নেই, কারন অসভ্যতা করেই সে খ্যাতি পেয়েছে, এটাই তার পেশা! তাকে যারা আনলো তারা কি নিজের জাতিসত্তাকে ভালোবাসে? তাহলে নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে অসুস্থ সংস্কৃতিকে আলিঙ্গন করছি কেন?যেমনটা দেখেছিলাম এটিএন এর জন্মদিনে ভারতীয় শিল্পীদের গান দিয়ে অনুষ্ঠান করতে। আমাদের কি ভালো শিল্পীর কোন অভাব আছে? এই মাহফুজুর রহমান আবার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলেন।

উনি কি পারতেন না স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান নিয়ে অনুষ্ঠান করতে? চ্যানেল আই-প্রথম আলো, যারা দেশের লাখ লাখ টাকা খরচ করে শারজায় গিয়ে অনুষ্ঠান করে, এতে আমদের কি লাভ হচ্ছে? বসুন্ধরা তাদের ব্যবসার জন্য সেই দেশে আমাদের খেটে খাওয়া মানুষ গুলোকে প্রলোভন দেখিয়ে এল! তাদের কে যদি বিনামূল্যে দেখার সুযোগ দিত তাহলেও না হয় কিছুটা সান্ত্বনা ছিলো। সেই দেশে আমাদের সেই শ্রমিক ভাইরা যারা দেশের সমস্ত সম্পত্তি বন্ধক রেখে ঐখানে কাজ করছে দেশে টাকা পাঠানোর জন্য, তাদের সেই টাকা গুলো তারা হাতিয়ে নিলো তাদের কাছে টিকিট বিক্রী করে। তাদের কাছ থেকে দেশকে মায়ের মত ভালবাসার শ্লোগান ও শুনছি এখন। এ যেন মাকে বস্ত্রহীন করে, ভালবাসার কবিতা শুনানো! সংস্কৃতি মায়ের বস্ত্রস্বরুপ, দেশের মুক্তিযোদ্ধারা মায়ের অলংকার। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা লাণ্ঞনার শিকার, নকল মুক্তিযোদ্ধায় ভরে গেছে দেশ।

এ যেন মায়ের স্বর্ণ ছিনিয়ে নিয়ে মাকে এমিটেশন দিয়ে সাজানো! পরিশেষে আমার বিনীত অনুরোধ, আসুন দেশকে মন থেকে ভালবাসি মুখে বলার দরকার নেই, কাজে প্রমান করি।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।