আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

এলএইচসির বিগ ব্যাং এক্সপেরিম্যান্টের আপডেট: যদি বলি বোসন কনার খোজ পাওয়া গেছে, তাহলে কি খুজবেন আপনি? সত্যেন বোসকে উৎসর্গ করা একটা পোস্ট!

আসেন দুর্নীতি করি। আর এই দুনিয়াটাকেই খুচাই!

ছোটবেলায় দেখতাম মাস্তান কাকু আমাদের বাসায় বিল্ডিং উঠানো শুরু করলো তারা টানা তিনদিন শুধু মাটিই খুড়টে লাগলো। একদিন সকাল বেলা উঠে দেখলাম আমার ছোট ফুপুর বানানো বাগানটা তারা উপড়ে ফেলেছে দু ঘন্টা মধ্যে। মনটা খারাপ হয়ে যায় এই ভেবে যে এই বাগানটায় কতনা পুরোনো স্মৃতি লুকিয়ে ছিলো। লুকিয়ে ছিলো সেই হাসনাহেনার গাছের সাথে যখন ফুল ফুটতো মনে হতো পুরো বাড়িটায় কেউ সেন্ট মেখে দিয়েছে অথবা বাসায় এসেছে কোনো পরী গায়ে অদ্ভুত সুন্দর সুগন্ধি মেখে।

আস্তে আস্তে দেখি রাজমিস্ত্রি মাস্তান কাকু সেখানে মাটি খুড়ে ওখানে ঢালাই সিমেন্ট দিলেন, রড বসালেন মেপে, একদিন আমাকে ডেকে বুঝইয়ে দিলেন কিভাবে ফাউন্ডেশন গড়তে হয়। তার ভাষায় যতউচু বিল্ডিং উঠাবো তার অন্ত ২৫ ভাগ মাটির নীচে দিতে হবে আর যদি মাটি নরম হয় ৪০ ভাগ। মাস্তান কাকু ক্লাস এইট ফেল লোক ছিলেন! একসময় দেখলাম ইটের গায়ে ইট সিমেন্ট দিয়ে জোড়া দিতে শুরু করলো মাস তিন পর গড়ে উঠলো বিশাল একটা বিল্ডিং! যখন আমি পার্টিক্যাল ফিজিক্সের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাবতে শুরু করি তখন মনে থিওরী অব এভরিথিং এর কনসেপ্ট এটাই। তবে মাঝে মাঝে সন্দেহ উকি দিতো আসলেই কি থিওরীটা ঠিক আছে, আসলেই পাওয়া যাবে সেই বোসন কনার অস্তিত্ব আসলেই কি দেখা যাবে গ্রাভিট্রন? সিমেট্রি এসিমেট্রির টানপোড়েনে খুজতে থাকি স্টিরং থিওরীতে লুকিয়ে থাকা টেকনিক, কিন্তু স্বীকার করি আমি এসব খুজবার মতো এতা পরিপক্ক নই! গতবছর জাপানে বোসন কনা খুজা যাবে কিভাবে তার একটা ক্যালকুলেটিভ রোডম্যাপ বানানো হয়েছিলো যেখানে খুব প্রসাইসলি বলা হয়েছিলো আসলে আমরা কত কাছকাছি এই কনা খুজবার জন্য! সেই মাহেন্দ্রক্ষনটি ছিলো ১৮ নভেম্বর ২০১০ যেদিন সার্ন তার প্রেস ব্লগে জানালো প্রথম জেড বোসনটি ডিটেক্ট করা গেছে! আসুন একটু গভীর যাই। তার আগে একটা ইনফো দিয়ে শুরু করি, পার্টিক্যাল ডার্ক ম্যাটারে একটা হাইপোথেটিক্যাল পার্টক্যাল আছে যার নাম নিউট্রালিনো! সুপারসিমেট্রক পার্টিক্যালে সবচেয়ে হালকা পার্টিক্যাল বা কনা এটি এবং এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটার আর ক্ষয় বা ডিকে হবার সম্ভাবনা নেই।

তার মানে হচ্ছে যেহেতু এটা একা একা বিস্ফোরিত হচ্ছে না সেহেতু এটা একটা অমর কনা। এটা ইলেক্ট্রিক্যালি নিরপেক্ষ আর যেহেতু এর কোনো বর্ন নেই সেহেতু একে খুব কঠিন বস্তুই এর গতিরোধ করে। ধারনা করা হয় বিগ ব্যাং এর পর পুরো ইউনিভার্সের যে ভরের ভারসাম্যতা বিদ্যমান এর গোড়ায় নিউট্রালিয়ানোর অবস্হান! আরো জানতে চাইলে জার্নালটা পড়ে দেখতে পারেন। আসল কথায় আসি: সার্নের সিএমএস এক্সপেরিমেন্টের ১০ ইভেন্টের উপর বিশদভাবে পর্যবেক্ষন করে দেখা গেছে যে Z boson পুনর্গঠিন শুরু হয় এক জোড়া ইলেক্ট্রন অথবা এক জোড়া মিউওন থেকে যেখানে Z boson এর যতটুকু ভর থাকবার কথা ঠিক সেই ভরটিই ওখানে ধ্রুব হিসাবে পাওয়া গেছে নীচের ছবি দুটোতে ডিটেলস দেখানো হয়েছে! এই ক্যালরীমিটার গ্রাফে লিড-লিড সংঘর্ষে ক্যানডিডেট Z boson দুটো ইলেক্ট্রনে ক্ষয় হতে দেখা যাচ্ছে (দুটো সবচেয়ে লম্বা লাল রং এর রড) অন্য লাল এবং নীল টাওয়ার দ্বারা শক্তির আধারকে দেখানো হচ্ছে যেগুলো অন্যান পার্টিক্যালের মাধ্যমে তৈরী হয়েছে এই ক্যালরীমিটার গ্রাফে লিড-লিড সংঘর্ষে ক্যানডিডেট Z boson ক্ষয় হয়ে দুটো মিউওনে (দুটো লাল লাইন) পরিনত হওয়া। সবুজ নির্দেশ করছে সিএমএস এর ভিতর থাকা পার্টিক্যাল দ্বারা তৈরী কৃত শক্তির আধার বা বিচ্ছুরন! এখানে আপনি যদি Z কমপোনেন্টের ভর হিাব করতে যান তাহলে একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন বহির্মুখী মিউওনের মোমেন্টার যোগফল এর সাথে মিলে যাবে তবে তাদের অভিমুখ লম্বালম্বি।

যারা বিএসসিতে ভেক্টর করেছেন তারা ব্যাপারটা ধরতে পারবেন নিশ্চয়ই! ছবিটা আমরা যদি আরও সরলীকরন অথবা রেখার দ্বারা প্রকাশ করি তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে! এখানে একটি প্রশ্ন থাকতে পারে যে এখানে সোনার বদলে লিড ব্যাব হার করা হলো কেন? আসলে লিড স স্তা আর অপেক্ষকৃত ভারী। তাহলে অনেকেই হয়তো বলবে ইউেরেনিয়াম তো সবচেয়ে ভারী তাহলে সেটা নয় কেন? তাহলে এখানে স্ট্যাবিলিটির একটা বিষয় এসে পড়ে যেটা এই মুখী পরীক্ষার ডাটাকে ক্ষতিগ্রস্হ করে ফেলবে কেননা এখানে সবার আগ্রহ মহাবিশ্বের সেই বিগ ব্যাং এর পরিবেশটাকে স হজভাবে দেখা। এছাড়া আইসোটোপ গুলো হতে যে বেটা এবং গামার এমিশন ঘটবে সেটা পরে নিউট্রন আর ফোটন নম্বরগুলোর সাথে মিথস্ক্রিয়া ঘটিয়ে আরও জটিলতার সৃষ্টি করবে! এই কলিশনটা এ বছরের সর্বশেষ কলিশন যেটা ২০১১ পর্যন্ত ছুটি হিসাবে চলবে আর কি! আর এই Z boson কনাটি সার্নের ১৯৮৩ সালে আবিষ্কৃত হলেও এটা কখনো কোনো কলিশনে ধরা পড়েনি। ভারী আয়নের সংঘর্ষের কারনে Z boson সৃষ্টি হওয়াটা একটা গুরুত্বপূর্ন মাইলফলকই বলা যায় যদি আমরা জে/ সাই পার্টিক্যাল অথবা হ্যাড্রনের ভারসাম্যপূর্ন শক্তির অভিলম্বমুখী জেটের সৃষ্টির সাথে তুলনা করলে। কিছুদিন আগে লার্জ হেড্রন কোলাইডারে যে মহাবিশ্ব সৃষ্টির পূর্বাপর পরিবেশের উড্ভব ঘটানো সম্ভব হয়েছিলো যেখানে মূলত কোয়ার্ক গ্লুওন প্লাজমার একটা উত্তপ্ত ঘন অবস্হার তৈরী করা হয়েছিলো সেখান থেকেই এই Z boson এর ডিকে বা ক্ষয় বা রূপান্তর ধরা পড়েছে! ৮ ই নভেম্বর এলএইচসিতে প্রথমে লিড-লিড (সীসা বলা হয় বাংলায়) সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট কোয়ার্ক গ্লুওন প্লাজমা তৈরী করা হয়।

তবে এটা ব্রকহেভেনের আরএইচআইসিতে ১০ বছর আগে এরকম একটা পরীক্ষা করা হয়েছিলো। দ্বিতীয় রাতে এলএইচসিতে Z boson এর দুটো মিউওনে ক্ষয়ে যেতে দেখা যায় সিএমএসে! অন্যান্য ইন্টারেস্টিং ইভেন্টের মধ্যে আরও যেটা দেখা যাচ্ছে এক জোড়া শাক্তিশালী জেট, একটা ফোটন দ্বারা একটি জেটের ভারসাম্য, কিছু J/Psi এবং নিরপেক্ষ পাইওনস: যেগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে যে একটা শক্তিশালী সংঘর্ষের ফলে শত সহস্র পার্টিক্যালের স্বতঃস্ফূর্ত তৈরী হওয়াটা- খুব স হজেই বিগ ব্যাং এর পর কিভাবে মহাবিশ্বের পথ চলা শুরু হলো সেটার একটা পূর্নাঙ্গ ছবি! অদ্ভূত তাই না?

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।