আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মারে নদীর তীরে ঈদ

LIVING IN CUONTRY SA

অষ্টেলিয়া মহাদেশের বৃহত্তম নদী মারে-ডার্লিং রিভার। এর তীরেই একটি ছোট শহর লক্সটন। এ বছর এপ্রিলে আমি প্রথম এখানকার হাসপাতালে সাউথ অষ্টেলিয়ার কান্ট্রি হেলথ এস,এ- এর অধীনে একটা সরকারী চাকুরী পাই। আমার পরিবারকে বর্ডারটাউন নামের ছোট্ট এক শহরে রেখে আমি একা ২৪০ কি,মি, ড্রাইভ করে গিয়ে চাকুরীতে যোগদান করি। কিছুদিন পরই স্টাফ লজে সস্তায় একটা ইউনিট পেয়ে যাই।

এই লক্সটন হচ্ছে রিভারল্যান্ড জেলার অধীনে। আমার বর্ডারটাউন হচ্ছে তাতীয়ারা জেলার অধীনে। মাঝখানে সাউথার্ন ম্যালের শহর পিনারো। ক্যাঙ্গারুর উৎপাতের কারণে পিনারো হয়ে যাবার সময় খুব সাবধান থাকতে হয়। ১৩৩ কি.মি.-এর মধ্যে মানুষের কোন গন্ধ নেই।

মাঝপথে গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলে উদ্ধারকারী কোম্পানী আর,এ,এ-কে কল দেয়ার জন্য মোবাইল নেটওয়ার্কও নেই। ভরসা হচ্ছে- ০০০, স্যাটেলাইট সিগনালে পুলিশের সাহায্য নিতে হবে। ১ ঘন্টার মধ্যে সাহায্য পৌছার কথা থাকলেও সাধারণত কিছঝ১ ঘন্টার মধ্যে সাহায্য পৌছার কথা থাকলেও সাধারণত কিছু বেশি সময় লাগে। গত ৬ মাসে এ বিপদজনক রাস্তা দিয়ে অনেকবার যাওয়া আসা করতে হয়েছে আমাকে। সবচেয়ে রোমঞ্চকর জার্নি হয় এবার শবে-কদরে।

হঠাৎ আমার স্ত্রীর কোম্পানির জরুরী ফোন পেয়ে রাত ২ টায় রওয়ানা দেই লস্কটন থেকে। প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে ভোর সাড়ে পাচটায় এসে পৌছি বর্ডারটাউনে। ওকে ওর কোম্পানিতে নামিয়ে দিয়ে বাচ্ছা নিয়ে যাই এক বাঙালির (খালেদ ভাই) বাসায়। গত ২ মাস কোম্পানি বন্দ থাকায় আমরা বর্ডারটাইনের বাসা ছেড়ে লক্সটন চলে গিয়েছিলাম। যাই হোক ভোর বেলা উঠে রে-হুয়াইট নামে এক রিয়েল-ষ্টেটের কাছ থেকে ১০০০ ডলার বন্ড দিয়ে সপ্তাহে ১৬৫ ডলারে একটা বাসা পেলাম।

তারপর বিদ্যুত পেলাম পরের দিন। তারপরেরদিন আবার রওয়ানা দিলাম রিভারল্যান্ডে। মারে নদীর তীরের শহর গুলো খুবই সুন্দর। লক্সটন থেকে ২০কি,মি, গেলেই বেরী। আরো ২০ কি,মি, গেলেই রেনমার্ক।

রেনমার্কে একটা মসজিদও আছে। তার্কিসরা সেখানে বৃহস্পতি বারে ঈদ করলো। আমি লক্সটনে আরো এক বাঙালী পরিবারের সাথে ইফতার করলাম। উনারা অবশ্য ঈদ করছেআমি লক্সটনে আরো এক বাঙালী পরিবারের সাথে ইফতার করলাম। উনারা অবশ্য ঈদ করছেন।

সেখানে পাকিস্তানী ডাক্তার নাজির উনার স্বামী ছেেেল মেয়ে নিয়ে এসেছেন। বেশ ভালো ভদ্রমহিলা। আমি সিডনী, মেলবোর্ন আর এডিলেডের সাথে শুক্রবারে ঈদ করবো ভেবে রেখেছিলাম। কিন্তু ভোরবেলা উঠে ২৫০ কি,মি, ড্রাইভ করে এডিলেডে যেতে ইচ্ছা করলো না। কিছুুক্ষণ পর জরুরী একটা ফোন পেয়ে হাসপাতালে গেলাম।

দুপুরে বার্মেরাতে গেলাম নতুন এক বাঙালী ডাক্তারকে দেখতে। আধ ঘন্টার ঈদের বেড়ানো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। বিকেলে আবার হাসপাতালে যেতে হবে। সারাদিনে ১০ ঘন্টা ডিউটি করে ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়লাম। বর্ডারটাউনে আমার মেয়ে রামিসাকে ফোন করলাম।

আমাকে না দেখে সে ভারি রাগ করেছে ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.