আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ইন্টেরিওর টিপস



বেশ কিছু দিন ধরেই কি ভাবছেন বাসার সাজসজ্জা নিয়ে কিছু একটা করা প্রয়োজন??বাথরুমটা রেনোভেশন করালে ভাল হত, কিংবা পর্দাগুলো পুরানো হয়ে গেছে, নতুন একটা লুক প্রয়োজন?? তাহলে আর দেরী কেন? এইতো সুবর্ন সুযোগ, সামনে ঈদ। এই কয়টা দিনের মধ্যেই আপনি আপনার ছোট্ট স্বপ্নপুরীকে দিতে পারেন এক জমজমাট মেক ওভার। এক্ষেত্রে আপনার ক্রিয়েটিভিটি আর ইচ্ছাই হতে পারে প্রধান সহায়। তারপর ও আপনাদের সাহায্য করতে রইলো কিছু টিপস। যদি আপনাদের কাজে আসে তাহলে জানাতে ভুলবেন না।

প্রথমেই আসি বেডরুমের সাজে, কারন বেডরুমই হচ্ছে ঘরের সবচেয়ে অপরিহার্য অংশ, সারাদিনের ক্লান্তি শেষে এখানেই মিলে একটু শান্তির পরশ। বেডরুমকে নতুনের মত দেখানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হল ঘরের ফার্নিচারগুলো একটু এদিক সেদিক সরিয়ে নতুনভাবে গুছিয়ে ফেলা। বেডরুমে খুব বেশী ফার্নিচার বা এক্সেসরিজ না রাখাই ভালো। আপনার বেডরুমটি যদি খুব বড় হয় তাহলে জানালার পাশে সিমেন্ট বা কাঠের স্ল্যাব দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন চমতকার উইন্ডো সিট,সেখানে নরম ফোমের তোষক আর রঙ বেরঙ এর কুশন সাজিয়ে সুন্দর একটি লুক দিতে পারেন। সারাদিনের কাজ শেষে বিকেলে এককাপ কফি নিয়ে বসে পরতে পারেন সেখানে।

প্রিয় কোন ম্যাগাজিনের পাতা উল্টাতে ঊল্টাতে কফির মগে চুমুক দেয়া আর জানালার ফাক দিয়ে বাইরের মনোরম দৃশ্যের স্বাদ নেয়ার মজাই আলাদা। বেডরুমের কালার থিম হিসেবে বেছে নিতে পারেন হালকা কোন রঙ, যেমন নীল, সাদা বা গোলাপী, যা আপনার রুমটিকে অন্যরকম এক নির্জন প্রশান্তিতে ভরিয়ে তুলবে। পর্দার রঙ অবশ্যই রুমের রঙের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পছন্দ করবেন। বেডরুমের খাটের পাশে রাখতে পারেন একটি সাইড টেবিল যাতে দৈনন্দিন বিভিন্ন প্রয়োজনিয় জিনিস রাখতে পারবেন। টেবিলের উপরে রেখে দিতে পারেন কাচা ফুলে ভরা কোন ফুলদানি, কিংবা পিতলের ছোট্ট টবে মানিপ্লান্টের গাছ,যা নিশ্চিতভাবে আপনার ঘরের সৌন্দর্যকে দ্বিগুন করে তুলবে।

বেডরুমে অবশ্যই নরম কার্পেট ব্যাবহার করবেন। ঘরের কোনায় ছোট্ট একটি বুক র্যা ক থাকলে ভালো হয়। রাতে শোবার আগে অনেকেই বই পড়তে খুব পছন্দ করেন। আর আসবাবের ক্ষেত্রে দেয়াল জুড়ে বড় একটি আলমারি আর ছোট্ট ড্রেসিং টেবিলই যথেষ্ট। বেশী আসবাব রাখলে আবার আপনার হাসফাঁস লাগতে পারে।

এবার বাসার সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন সদস্যের কামরা নিয়ে কিছু কথা। আগের দিনে বাচ্চাদের জন্য আলাদা কোন কামরা থাকতো না। সব ভাইবোনদের জন্য একটাই রুম। এখন যুগ পাল্টেছে,মানুষের চিন্তা ভাবনা অ পাল্টেছে। বাচ্চাদের ঘরের ইন্টেরিওরের ক্ষেত্রে সবসময় তাদের ভালোলাগার গুরুত্ব দেয়া উচিত।

সাধারনত বাচ্চাদের কামরায় কোন গাঢ় রঙ ব্যবহার করা উচিত, যেমন লাল, কমলা। হলুদের বিভিন্ন শেড ও ভালো লাগবে। একের অধিক বাচ্চা হলে বাংক বেড ব্যাবহার করা যেতে পারে। এতে জায়গা যেমন বাচবে তেমনি নতুনত্ব ও আসবে। বেডের পেছনের দেয়ালে মিকি মাউস, টম জেরী,তাদের পছন্দের কোন কার্টুন কিংবা ফুল পাখি ইত্যাদির পেইন্টিং করা যেতে পারে।

অপর পাশের দেয়ালে আপনার বাচ্চার বিভিন্ন বয়সের দুষ্টুমী ভরা কিছু ছবি টানিয়ে দিতে পারেন। বাচ্চাদের রুম খুব বেশী ক্রাউডেড না হলেই ভালো হয়। দেয়ালজুড়ে ক্যাবিনেট, বুক শেলফ আর পড়ার টেবিল ব্যস এটুকুই যথেষ্ট। আরেকটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে যাতে বাচ্চার রুমে পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে। বাচ্চার বয়স ১০ এর বেশী হলে দেয়ালে তার পছন্দের কোন খেলোয়ারের ছবি ও টানাতে পারেন।

এতে সে খুশী হবে নিশ্চিত। এবার বাথরুমের ইন্টেরিওর এ আসি। বাথরুমের ইন্টেরিওরের ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন মেনে চলা উচিত। বাথরুম রঙ করার ক্ষেত্রে হাল্কা সবুজ বা সী গ্রীন কালার ব্যাবহার করতে পারেন। অন্যরকম একটা ফ্রেশ ফীল এনে দেবে।

বেসিনের কাছে ফ্রেশ ফ্লাওয়ার যেন থাকে সেটা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। বাথরুমের জানালায় ফ্লোরাল প্রিন্টের বা লেস লাগানো পর্দা ইউজ করা যেতে পারে। জানালার পাশে মানিপ্লান্ট বা লতানো কোন গাছের টব রাখতে ভুলবেননা যেন। বাথরুমের লাইটিং এর ব্যাপারেও সতর্ক থাকবেন। বাথরুমে খুব বেশী আলো ভালো লাগবেনা।

বাথটাবের পাশে ম্যাট রাখবেন যাতে বাচ্চা বা বুড়োরা পিছলে পড়ে না যায়। লিখতে লিখতে অনেক লিখে ফেললাম। পোষ্টটা অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে। আজ এ পর্যন্তই থাক। অন্য কিছুর টিপস নিয়ে আবারো হয়তো হাজির হব।

কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.