আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

এরশাদ অন্যায় করেছেন তবে জিয়ার অন্যায় ছিল আরও গুরুতর

বাঙ্গাল মানুষ
সংবিধান স্থগিত করে এইচএম এরশাদ অন্যায় করলেও আরেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের অন্যায় আরও গুরুতর। কারণ জিয়াউর রহমান শুধু সংবিধান স্থগিতই করেননি, সংবিধান স্থগিত এবং সংবিধানের মূল নীতি পরিবর্তন করে আরও গুরুতর অপরাধ করেছেন। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন জেনারেল এইচএম এরশাদের সামরিক শাসনকে সংবিধান পরিপন্থী ও অবৈধ ঘোষণার রায়ে এ মন্তব্য করেন। সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ এভাবেই দুই সেনা শাসকের ক্ষমতা দখলকে সমালোচনা করেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, সংসদ গঠনের পর ১৯৮৬ সালে ওই সংসদে এরশাদের সব সামরিক ফরমান ও কাজের বৈধতা দিতে সপ্তম সংশোধনী পাস করা হয়।

এরশাদকে জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে অভিহিত করে আদালত মন্তব্যে বলেছেন, এরশাদ বিচারপতি সাত্তারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করেন। রায়ে বলা হয়, এরশাদ অন্যায় করলেও জিয়া করেছেন গুরুতর অন্যায়। কেননা তিনি সংবিধান স্থগিত ও কিছু মূল বিধান পরিবর্তন করেছিলেন। আর এরশাদ কেবল সংবিধান স্থগিত করেছিলেন। জিয়া সম্পর্কে রায়ে বলা হয়, তিনি পাকিস্তানপন্থি ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী করার পাশাপাশি একই ধারার অনেককে পুনর্বাসিত করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। জিয়া ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন। রায়ে আরও বলা হয়েছে, জিয়া সামরিক ফরমানের বলে সামরিক আদালত ও ট্রাইব্যুনাল গঠন করে কর্নেল তাহেরসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে অবৈধভাবে বিচার করে শাস্তি দিয়েছেন। এর আগে ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। ওই রায়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত খন্দকার মোশতাক আহমেদ, আবু সা্থদাত মোহাম্মদ সায়েম এবং জিয়াউর রহমানের শাসনকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়।

রায়ে খন্দকার মোশতাক আহমেদ, আবু সা'দাত মোহাম্মদ সায়েম এবং জিয়াউর রহমানের মতো এইচএম এরশাদকেও অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত করে হাইকোর্ট। এতে আরও বলা হয়েছে, জেনারেল এরশাদ জিয়ার উত্তরসূরি হিসেবে বিচারপতি সাত্তারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করেন। এরশাদ ক্ষমতা দখল করে সংবিধান স্থগিত করেন। খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও জেনারেল জিয়া সামরিক ফরমান বলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সংবিধানের যে মূল নীতি করা হয়েছিল তা পরিবর্তন করেন। আদালত রায়ে বলেছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমানকে একদল উচ্ছৃঙ্খল সেনা সদস্য হত্যা করে।

খন্দকার মোশতাক আহমেদ স্পিকার বা ভাইস প্রেসিডেন্ট না হয়েও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন। খন্দকার মোশতাকের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। জিয়া খন্দকার মোশতাকের সহায়তায় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারের পথ বন্ধ করেছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সংবিধানে পরিবর্তন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি টেলিভিশন ও বেতারের নাম পরিবর্তন করেন বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

সূত্র
 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।