আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

চতুর্থ তফসিল-বিবিধ-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান



চতুর্থ তফসিল [১৫০ অনুচ্ছেদ] ক্রানি-কালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী গণপরিষদ ভঙ্গকরণ ১। প্রজাতন্ত্রের জন্য সংবিধান-রচনার যে দায়িত্বভার এই গণপরিষদের উপর ন্যস্ত ছিল, তাহা পালিত হওয়ায় এই সংবিধান-প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গণপরিষদ ভাঙ্গিয়া যাইবে। প্রথম নির্বাচন ২। (১) এই সংবিধান-প্রবর্তনের পর যথাশীঘ্র সম্ভব সংসদ-সদস্য-নির্বাচনের জন্য প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে এবং এই উদ্দেশ্য সাধনকল্পে ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ভোটার-তালিকা আদেশ (১৯৭২ সালের পি.ও. নং ১০৪)-এর অধীন প্রস’ত ভোটার-তালিকা এই সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ-অনুযায়ী প্রস’ত ভোটার-তালিকা বলিয়া গণ্য হইবে। (২) সংসদ-সদস্যদের প্রথম নির্বাচনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে ১৯৭০ সালে প্রকাশিত ও পূর্বতন প্রাদেশিক পরিষদ গঠনের উদ্দেশ্যে চিহ্নিত নির্বাচনী এলাকাসমূহের সীমানা এই সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদের অধীন চিহ্নিত সীমানা বলিয়া গণ্য হইবে এবং নির্বাচন কমিশন-প্রয়োজনবোধে যে কোন নির্বাচনী এলাকার নাম কিংবা তাহার অন-র্ভুক্ত মহকুমা বা থানার নাম পরিবর্তন করিয়া-সরকারী বিজ্ঞপ্তি-দ্বারা অনুরূপ নির্বাচনী এলাকাসমূহের তালিকা প্রকাশ করিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, এই সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের (৩) দফায় উল্লিখিত মহিলা-সদস্যদের আসন সম্পর্কিত বিধানাবলী কার্যকর করিবার জন্য আইনের দ্বারা বিধান করা যাইবে।

ধারাবাহিকতা-রক্ষা ও অন-র্বর্তী ব্যবস্থাবলী ৩। (১) ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ হইতে এই সংবিধান-প্রবর্তনের তারিখের মধ্যে প্রণীত বা প্রণীত বলিয়া বিবেচিত সকল আইন, স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র বা যে কোন আইন হইতে আহরিত বা আহরিত বলিয়া বিবেচিত কর্তৃত্বের অধীন অনুরূপ মেয়াদের মধ্যে প্রযুক্ত সকল ক্ষমতা বা কৃত সকল কার্য এতদ্বারা অনুমোদিত ও সমর্থিত হইল এবং তাহা আইনানুযায়ী যথার্থভাবে প্রণীত, প্রযুক্ত, ও কৃত হইয়াছে বলিয়া ঘোষিত হইল। (২) ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ অস্থায়ী সংবিধান আদেশ বাতিল হইয়া যাওয়া সত্ত্বেও এই সংবিধানের বিধানাবলী অনুসারে সংসদ যেদিন প্রথমবার মিলিত হইবে, সেইদিন পর্যন- এই সংবিধান-প্রবর্তনের তারিখের অব্যবহিত পূর্বে প্রজাতন্ত্রের আইন-প্রণয়নগত ও নির্বাহী ক্ষমতা (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক আদেশের দ্বারা আইন-প্রণয়নের ক্ষমতাসহ) যেরূপে প্রযুক্ত হইয়াছে, তাহা সেইরূপে প্রযুক্ত হইতে থাকিবে। (৩) এই সংবিধানের যে বিধান সংসদের উপর আইন-প্রণয়নের ক্ষমতা ও দায়িত্ব অর্পণ করিয়াছে, উপরি-উক্ত পদ্ধতিতে সংসদ প্রথমবার মিলিত না হওয়া পর্যন- সেই বিধান রাষ্ট্রপতিকে আদেশের দ্বারা আইন-প্রণয়নের ক্ষমতা ও দায়িত্ব অর্পণ করিয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং এই অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত কোন আদেশ এইরূপে সক্রিয় হইবে, যেন তাহার বিধানাবলী সংসদ কর্তৃক বিধিবদ্ধ হইয়াছে। কতিপয় ফরমান বৈধকরণ ইত্যাদি ৩ক।

(১) ১৯৭৫ সালের ২০শে আগষ্ট এবং ৮ই নভেম্বরের ফরমানসমূহ ও ১৯৭৬ সালের ২৯শে নভেম্বরের তৃতীয় ফরমান, এবং উহাদের সংশোধনকারী বা সম্পূরক অন্যান্য সকল ফরমান ও আদেশ, অতঃপর যাহা এই অনুচ্ছেদে সমষ্টিগতভাবে উক্ত ফরমানসমূহ বলিয়া উল্লেখিত, এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট হইতে উক্ত ফরমানসমূহ বাতিল ও সামরিক আইন প্রত্যাহার করিবার তারিখের (উভয় দিনসহ) মধ্যে, অতঃপর যাহা এই অনুচ্ছেদে উক্ত সময় বলিয়া উল্লিখিত, প্রণীত সকল সামরিক আইন প্রবিধান, সামরিক আইন আদেশ এবং অন্যান্য আইন বৈধরূপে প্রণীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, এবং তৎসম্পর্কে কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনালে, অথবা উহাদের নিকট, কোন কারণেই কোন প্রশ্ন উত্তাপন করা যাইবে না। (২) উক্ত যে কোন ফরমান বা কোন সামরিক আইন প্রবিধান বা সামরিক আইন আদেশ বা অন্য কোন আইন হইতে আহরিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিয়া বা প্রয়োগ বলিয়া বিবেচিত করিয়া অথবা অনুরূপ কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করিয়া বা প্রয়োগ বলিয়া বিবেচনা করিয়া কোন আদালত বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত কোন আদেশ বা প্রদত্ত কোন দণ্ডাদেশ কার্যকর বা পালন করিবার জন্য উক্ত সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি বা প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বা অন্য কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত আদেশ, কৃত কাজ-কর্ম, গৃহীত ব্যবস’া বা কার্যধারাসমূহ, অথবা প্রণীত, কৃত বা গৃহীত বলিয়া বিবেচিত আদেশ, কাজ-কর্ম, ব্যবস’া বা কার্যধারাসমূহ বৈধভাবে প্রণীত, কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, এবং তৎসম্পর্কে কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনালে, অথবা উহাদের নিকট, কোন কারণেই কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না। (৩) (২) উপ-অনুচ্ছেদে উল্লেখিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিয়া বা প্রয়োগ বিবেচনা করিয়া অথবা অনুরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ করিয়া বা প্রয়োগ বিবেচনা করিয়া প্রণীত কোন আদেশ বা প্রদত্ত দণ্ডাদেশসমূহ কার্যকর বা পালন করিবার জন্য প্রণীত কোন আদেশ, কৃত কোন কাজ-কর্ম বা গৃহীত কোন ব্যবস’া বা কার্যধারার জন্য বা ব্যাপারে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনালে কোন মামলা, ফৌজদারী কার্যধারা অথবা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা চলিবে না। (৪) উক্ত ফরমানসমূহের দ্বারা এই সংবিধানের যে সকল সংশোধন, সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস’াপন ও বিলোপসাধন করা হইয়াছে তাহা এইরূপ কার্যকর হইবে যেন অনুরূপ সংশোধন, সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস’াপন ও বিলোপসাধন এই সংবিধান অনুযায়ী এবং ইহার প্রয়োজন মোতাবেক করা হইয়াছে। (৫) উক্ত ফরমানসমূহ বাতিল এবং সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হইলে, এই সংবিধান, উপরি-উক্ত সংশোধন, সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস’াপন এবং বিলোপসাধন সাপেক্ষে, এইরূপ কার্যকর ও সক্রিয় থাকিবে যেন উহা অব্যাহতভাবে সক্রিয় ছিল।

(৬) উক্ত ফরমানসমূহ বাতিল এবং সামরিক আইন প্রত্যাহার এমন কোন অধিকার বা সুযোগ পুনরুজ্জীবিত বা পুনর্বহাল হইবে না যাহা অনুরূপ বাতিল বা প্রত্যাহারের সময় বিদ্যমান ছিল না। (৭) উক্ত ফরমানসমূহ বাতিল এবং সামরিক আইন প্রত্যাহারের অব্যবহিত পূর্বে বলবৎ সকল আইন, উক্ত ফরমানসমূহ বাতিল এবং সামরিক আইন প্রত্যাহারকারী ফরমান সাপেক্ষে, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিবর্তিত, সংশোধিত বা রহিত না হওযা পর্যন- অব্যাহতভাবে বলবৎ থাকিবে। (৮) সংসদের কোন আইন এবং উহা রহিতের ক্ষেত্রে ১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লজেজ অ্যাক্ট যেরূপ প্রযোজ্য, উক্ত ফরমানসমূহ এবং উক্ত সময়ে প্রণীত সামরিক আইন প্রবিধান ও সামরিক আইন আদেশসমূহের ক্ষেত্রে, এবং উক্ত ফরমানসমূহ বাতিল এবং সামরিক আইন প্রত্যাহার এবং উক্ত সামরিক আইন প্রবিধান এবং সামরিক আইন আদেশসমূহ রহিতের ক্ষেত্রেও, সেইরূপ প্রযোজ্য হইবে, যেন উক্ত ফরমানসমূহ এবং যে ফরমান দ্বারা ঐগুলি বাতিল ও সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হইয়াছে তাহা এবং সামরিক আইন প্রবিধান ও সামরিক আইন আদেশসমূহ, সকলই সংসদের আইন ছিল। (৯) সংবিধানের বাংলা বা ইংরাজী পাঠের মধ্যে কোন বিরোধ, বৈপরীত্য, অসংগতি অথবা অসামঞ্জস্যতার ক্ষেত্রে, যতদূর তাহা উক্ত ফরমানসমূহ দ্বারা সংবিধানের কোন পাঠ কিংবা উহার উভয় পাঠের কোন সংশোধন, সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস’াপন অথবা বিলোপ-সাধন সম্পর্কিত হয়, ইংরাজী পাঠ প্রাধান্য পাইবে। (১০) এই অনুচ্ছেদে, “আইনসমূহ” বলিতে অধ্যাদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, আদেশ ও বিজ্ঞপ্তিসমূহ এবং আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন অন্যান্য দলিল অন-র্ভুক্ত।

রাষ্ট্রপতি ৪। (১) এই সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের অধীন রাষ্ট্রপতি-পদে নির্বাচিত কোন ব্যক্তি কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন- এই সংবিধান-প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে যিনি রাষ্ট্রপতি-পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তিনি উক্ত পদে বহাল থাকিবেন, যেন তিনি এই সংবিধানের অধীন রাষ্ট্রপতি-পদে নির্বাচিত হইয়াছেন: তবে শর্ত থাকে যে, বর্তমান অনুচ্ছেদের অধীন পদাধিষ্ঠান এই সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের (২) দফার উদ্দেশ্যসাধনকল্পে গণ্য হইবে না। (২) এই সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদের (১) দফা-অনুযায়ী স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন- এই সংবিধান-প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে যাঁহারা গণপরিষদে স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার-পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, সংসদ গঠিত না হওয়া সত্ত্বেও তাঁহার স্ব স্ব পদে বহাল রহিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে। প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী ৫। এই সংবিধানের অধীন প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের অধীন প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত না হওয়া পর্যন- এবং তিনি কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন- এই সংবিধান-প্রবর্তনের তারিখের অব্যবহিত পূর্বে যিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তিনি উক্ত পদে এবং উক্ত তারিখের অব্যবহিত পূর্বে যাঁহারা মন্ত্রীপদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী ভিন্নরূপ নির্দেশ না দিলে তাঁহারা সেই সকল পদে বহাল থাকিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তাঁহারা স্ব স্ব পদে নিযুক্ত হইয়াছেন, তবে এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের কোন কিছুই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে অন্যান্য মন্ত্রী-নিয়োগ নিবৃত্ত করিবে না।

বিচারবিভাগ ৬। (১) ১৯৭২ সালের অস’ায়ী সংবিধান আদেশের দ্বারা গঠিত হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি-পদে যিনি এবং অন্যান্য বিচারক-পদে যাঁহারা এই সংবিধান-প্রবর্তনের তারিখের অব্যবহিত পূর্বে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তাঁহারা উক্ত তারিখ হইতে স্ব স্ব পদে বহাল থাকিবেন, যেন তাঁহারা এই সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের অধীন ক্ষেত্রমত প্রধান বিচারপতি বা বিচারক-পদে নিযুক্ত হইয়াছেন। (২) এই সংবিধান-প্রবর্তনের কালে যাঁহারা এই অনুচ্ছেদের (১) উপ-অনুচ্ছেদ-অনুসারে বিচারক-পদে (প্রধান বিচারপতি ব্যতীত) অধিষ্ঠিত রহিয়াছেন, তাঁহারা হাইকোর্ট বিভাগে নিযুক্ত হইয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং এই সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ-অনুযায়ী আপীল বিভাগে নিয়োগদান করা হইবে। (৩) এই অনুচ্ছেদের (৪) উপ-অনুচ্ছেদে উল্লিখিত আইনগত কার্যধারা ব্যতীত এই সংবিধান-প্রবর্তনের তারিখের অব্যবহিত পূর্বে হাইকোর্টের যে সকল আইনগত কার্যধারা মীমাংসাধীন ছিল, তাহা হাইকোর্ট বিভাগে স’ানান-রিত হইবে ও উক্ত বিভাগে মীমাংসাধীন বলিয়া গণ্য হইবে এবং এই সংবিধান-প্রবর্তনের পূর্বে প্রদত্ত হাইকোর্টের কোন রায় বা আদেশ হাইকোর্ট বিভাগের দ্বারা প্রদত্ত বা কৃত রায় বা আদেশের ক্ষমতা ও কার্যকরতা লাভ করিবে। (৪) যে সকল আইনগত কার্যধারা এই সংবিধান-প্রবর্তনের তারিখের অব্যবহিত পূর্বে হাইকোর্টের আপীল বিভাগের মীমাংসাধীন ছিল, এই সংবিধান-প্রবর্তন হইতে ঐ সকল কার্যধারা নিষ্পত্তির জন্য আপীল বিভাগে স’ানান-রিত হইবে এবং এই সংবিধান-প্রবর্তনের পূর্বে হাইকোর্টের আপীল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত বা কৃত যে কোন রায় বা আদেশ এইরূপ ক্ষমতা ও সক্রিয়তা লাভ করিবে, যেন তাহা আপীল বিভাগের দ্বারা প্রদত্ত বা কৃত হইয়াছে।

(৫) এই সংবিধানের বিধানাবলী এবং অন্য কোন আইন-সাপেক্ষে (ক) যে সকল আদি, আপীল ও অন্যান্য এখতিয়ার ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ অস’ায়ী সংবিধান আদেশ-দ্বারা গঠিত হাইকোর্টের উপর ন্যস- ও উক্ত হাইকোর্ট কর্তৃক প্রয়োগযোগ্য করা হইয়াছিল (হাইকোর্টের আপীল বিভাগের উপর ন্যস- এখতিয়ার ব্যতীত), এই সংবিধান-প্রবর্তন হইতে অনুরূপ এখতিয়ার হাইকোর্ট বিভাগের উপর ন্যস- ও উক্ত বিভাগ কর্তৃক প্রয়োগযোগ্য হইবে; (খ) এই সংবিধান-প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে এখতিয়ার ও কার্যক্ষমতা প্রয়োগরত সকল দেওয়ানী, ফৌজদারী ও রাজস্ব আদালত ও ট্রাইব্যুনাল এই সংবিধান-প্রবর্তন হইতে স্ব স্ব এখতিয়ার ও কার্যক্ষমতা প্রয়োগ করিতে থাকিবেন এবং যাঁহারা অনুরূপ আদালত ও ট্রাইব্যুনালসমূহের বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তাঁহারা স্ব স্ব পদে বহাল থাকিবেন। (৬) অধঃস্তন আদালত সম্পর্কিত এই সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগের ২য় পরিচ্ছেদের বিধানাবলী যথাশীঘ্র সম্ভব বাস-বায়িত করা হইবে এবং তাহা বাস-বায়িত না হওয়া পর্যন- উক্ত পরিচ্ছেদে বর্ণিত বিষয়াদি এই সংবিধান-প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে যেরূপ নিয়ন্ত্রিত হইত, আইনের দ্বারা প্রণীত যে কোন বিধান-সাপেক্ষে তাহা সেইরূপে নিয়ন্ত্রিত হইতে থাকিবে। (৭) এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই কার্যধারা বাতিল হওয়া সম্পর্কে কোন প্রচলিত আইনের কার্যকরতাকে প্রভাবিত করিবে না। বিশেষ দ্রষ্টব্য ঃ সংবিধানের ইংরেজী পাঠে সন্নিবেশিত চধৎধমৎধঢ়য ৬অ এবং ৬ই এর বাংলা পাঠ প্রণীত হয় নাই। আপীলের অধিকার ৭।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানায় কার্যরত কোন হাইকোর্ট (১৯৭২ সালের বাংলাদেশ হাইকোর্ট (সংশোধনী) আদেশের (১৯৭২ সালের পি.ও. নং ৯১) অধীন গঠিত আপীল বিভাগ ব্যতীত) কর্তৃক ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের প্রথম দিবস হইতে প্রদত্ত, কৃত বা ঘোষিত যে কোন রায়, ডিক্রী, আদেশ বা দণ্ডের বিরুদ্ধে সময়গত যে কোন বাধা সত্ত্বেও সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে আপীল করা যাইবে: তবে শর্ত থাকে যে, এই সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ হাইকোর্ট বিভাগ হইতে আপীলের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য হয়, উপরি-উক্ত যে কোন আপীলের ক্ষেত্রে তাহা সেইরূপ প্রযোজ্য হইবে: তবে আরও শর্ত থাকে যে, এই সংবিধান-প্রবর্তনের তারিখ হইতে ৯০ দিনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হইলে অনুরূপ কোন আপীল করা যাইবে না। নির্বাচন কমিশন ৮। (১) এই সংবিধান-প্রবর্তনের তারিখের অব্যবহিত পূর্বে কর্মরত নির্বাচন কমিশন উক্ত তারিখ হইতে এই সংবিধানের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত নির্বাচন কমিশন বলিয়া গণ্য হইবেন। (২) এই সংবিধান-প্রবর্তনের তারিখের অব্যবহিত পূর্বে যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদে এবং যাঁহারা কমিশনারের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, উক্ত তারিখ হইতে তাঁহারা স্ব স্ব পদে বহাল থাকিবেন, যেন তাঁহারা এই সংবিধানের অধীন অনুরূপ পদে নিযুক্ত হইয়াছেন। সরকারী কর্মকমিশন ৯।

(১) এই সংবিধান-প্রবর্তনের তারিখের অব্যবহিত পূর্বে কর্মরত সরকারী কর্মকমিশনসমূহ উক্ত তারিখ হইতে এই সংবিধানের অধীন প্রতিষ্ঠিত সরকারী কর্মকমিশন বলিয়া গণ্য হইবেন। (২) এই সংবিধান-প্রবর্তনের তারিখের অব্যবহিত পূর্বে যিনি কোন সরকারী কর্মকমিশনের সভাপতি বা অন্য কোন সদস্যের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, উক্ত তারিখ হইতে তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন, যেন তিনি এই সংবিধানের অধীন অনুরূপ পদে নিযুক্ত হইয়াছেন। সরকারী কর্ম ১০। (১) এই সংবিধান ও যে কোন আইনের বিধান-সাপেক্ষে (ক) (ক) এই সংবিধান-প্রবর্তনের তারিখের অব্যবহিত পূর্বে প্রজাতন্ত্রের কর্মে রত যে কোন ব্যক্তি উক্ত তারিখ হইতে স্বীয় কর্মে বহাল থাকিবেন এবং এই সংবিধান-প্রবর্তনের তারিখের অব্যবহিত পূর্বে তাঁহার ক্ষেত্রে কর্মের যে শর্তাবলী প্রয়োগযোগ্য ছিল, তাহা অপরিবর্তিত থাকিবে; (খ) এই সংবিধান-প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানায় দায়িত্ব পালনরত সকল বিচারবিভাগীয়, নির্বাহী ও মন্ত্রণালয়ের কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারী এই সংবিধান-প্রবর্তন হইতে স্ব স্ব দায়িত্বপালন করিতে থাকিবেন। (২) এই অনুচ্ছেদের (১) উপ-অনুচ্ছেদের কোন কিছুই (ক) ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ সরকার (কর্ম বিভাগসমূহ) আদেশের (১৯৭২ সালের পি.ও. নং ৯) কিংবা ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ সরকার (সার্ভিসেস স্ক্রীনিং) আদেশের (১৯৭২ সালের পি.ও. নং ৬৭) অব্যাহত প্রয়োগে বাধাপ্রধান করিবে না; অথবা (খ) এই সংবিধান-প্রবর্তনের পূর্বে কোন সময়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিদের কিংবা এই অনুচ্ছেদের বিধানাবলী-অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মে বহাল ব্যক্তিদের কর্মের শর্তাবলী (পারিশ্রমিক, ছুটি, অবসর-ভাতার অধিকার ও শৃঙ্খলামূলক বিষয়াদি সংক্রান- অধিকারসহ) পরিবর্তন বা বাতিল করিয়া আইন-প্রণয়ন করা হইতে বিরত করিবে না।

১১। এই সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে যে সকল পদের জন্য শপথ বা ঘোষণা-পাঠের ফরম নির্ধারিত হইয়াছে, সেই সকল পদে এই তফসিলের অধীন বহাল থাকিবেন, এমন যে কোন ব্যক্তি এই সংবিধান-প্রবর্তনের পর যথাশীঘ্র সম্ভব যথাযথ ব্যক্তির সম্মুখে অনুরূপ ফরমে শপথ বা ঘোষণা পাঠ করিবেন ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিবেন। পদে বহাল থাকার জন্য শপথ ১২। [স'ানীয় সরকার- সংবিধান (চতুর্থ সংশোধন) আইন, ১৯৭৫ (১৯৭৫ সনের ২ নং আইন) এর ৩২ ধারাবলে বিলুপ্ত। ] করারোপ ১৩।

এই সংবিধান-প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে বাংলাদেশে বলবৎ যে কোন আইনের অধীন আরোপিত সকল কর ও ফি অব্যাহত থাকিবে, তবে আইনের দ্বারা তাহার তারতম্য বা তাহা রহিত করা যাইতে পারিবে। অন্তবর্তী আর্থিক ব্যবস্থাসমূহ ১৪। সংসদ অন্যরূপ সিদ্ধান- গ্রহণ না করা পর্যন- এই সংবিধান-প্রবর্তনের কালে চলতি অর্থ-বৎসরের ক্ষেত্রে এই সংবিধানের ৮৭, ৮৯, ৯০ ও ৯১ অনুচ্ছেদের বিধানাবলী কার্যকর হইবে না এবং সংযুক্ত তহবিল বা প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব হইতে যে ব্যয় করা হইয়াছে, তাহা বৈধভাবে ব্যয় করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, রাষ্ট্রপতি যথাশীঘ্র সম্ভব তাঁহার স্বাক্ষর-দ্বারা প্রমাণীকৃত অনুরূপ সকল ব্যয়ের একটি বিবৃতি সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করিবেন। অতীত হিসাবের নিরীক্ষা ১৫। এই সংবিধান-প্রবর্তনের কালে চলতি অর্থ-বৎসর ও তাহার পূর্ববর্তী বৎসরগুলির হিসাব সম্পর্কে এই সংবিধানের অধীন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের ক্ষমতাসমূহ প্রয়োগযোগ্য হইবে এবং মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক অনুরূপ হিসাব সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির নিকট যে রিপোর্ট পেশ করিবেন, রাষ্ট্রপতি তাহা সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করিবেন।

সরকারের সম্পত্তি পরিসম্পৎ, স্বত্ব, দায়-দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা ১৬। (১) এই সংবিধান-প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে যে সকল সম্পত্তি, পরিসম্পৎ বা স্বত্ব গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কিংবা উক্ত সরকারের পক্ষে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের উপর ন্যস্ত ছিল, তাহা প্রজাতন্ত্রের উপর ন্যস্ত হইবে। (২) এই সংবিধান-প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে প্রজাতন্ত্রের সরকারের যে সকল দায়-দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা ছিল, তাহা প্রজাতন্ত্রের দায়-দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতারূপে অব্যাহত থাকিবে। (৩) বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানায় কখনও কার্যরত কোন সরকারের কোন দায়-দায়িত্ব বা বাধ্যবাধকতা প্রজাতন্ত্রের সরকার স্পষ্টরূপে গ্রহন না করিলে তাহা প্রজাতন্ত্রের দায়-দায়িত্ব বা বাধ্যবাধকতা নহে কিংবা হইবে না। আইনের উপযোগী-করণ ও অসুবিধা দূরীকরণ ১৭।

(১) বাংলাদেশে বলবৎ যে কোন আইনের বিধানাবলীকে এই সংবিধানের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ করিবার উদ্দেশ্যে এই সংবিধান-প্রবর্তনের দুই বৎসরের মধ্যে রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা সংশোধনী বা রহিতকরণের মাধ্যমে অনুরূপ বিধানাবলীর প্রয়োগ, সংশোধন বা রহিত করিতে পারিবেন এবং অনুরূপভাবে প্রণীত যে কোন আদেশ ভূতাপেক্ষ তারিখ হইতে কার্যকর হইতে পারিবে। (২) এই সংবিধান-প্রবর্তনের পূর্বে প্রচলিত অস’ায়ী সাংবিধানিক ব্যবস’া হইতে এই সংবিধানের বিধাবালীতে উত্তরণের জন্য উদ্ভূত যে কোন অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা নির্দেশ দান করিতে পারিবেন যে, অনুরূপ আদেশে নির্ধারিত মেয়াদের জন্য তাঁহার বিবেচনায় যেরূপ আবশ্যক বা সমীচীন হইবে, সেইরূপ পরিবর্তন, সংযোজন বা পরিবর্জনের মাধ্যমে গৃহীত উপযোগীকরণ-সাপেক্ষে এই সংবিধান কার্যকর হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, এই সংবিধানের অধীন গঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকের পর অনুরূপ কোন আদেশ জারী করা হইবে না। (৩) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও এই অনুচ্ছেদের অধীন প্রত্যেকটি আদেশ সংসদে উপসি’ত করা হইবে এবং সংসদের আইন-দ্বারা তাহা সংশোধিত বা রহিত হইতে পারিবে। ফরমানসমূহ, ইত্যাদির অনুমোদন ও সমর্থন ১৮। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট হইতে ১৯৭৯ সালের ৯ই এপ্রিল তারিখের (উভয় দিনসহ) মধ্যে প্রণীত সকল ফরমান, ফরমান আদেশ, সামরিক আইন প্রবিধান, সামরিক আইন আদেশ, ও অন্যান্য আইন, এবং উক্ত মেয়াদের মধ্যে অনুরূপ কোন ফরমান দ্বারা এই সংবিধানের যে সকল সংশোধন, সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস’াপন ও বিলোপসাধন করা হইয়াছে তাহা, এবং অনুরূপ কোন ফরমান, সামরিক আইন প্রবিধান, সামরিক আইন আদেশ বা অন্য কোন আইন হইতে আহরিত বা আহরিত বলিয়া বিবেচিত ক্ষমতাবলে, অথবা অনুরূপ কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে গিয়া বা অনুরূপ বিবেচনায় কোন আদালত, ট্রাইব্যুানাল বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত কোন আদেশ কিংবা প্রদত্ত কোন দণ্ডাদেশ কার্যকর বা পালন করিবার জন্য উক্ত মেয়াদের মধ্যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ প্রণীত আদেশ, কৃত কাজ-কর্ম, গৃহীত ব্যবস’া বা কার্যধারাসমূহ, অথবা প্রণীত, কৃত, বা গৃহীত বলিয়া বিবেচিত আদেশ, কাজ-কর্ম, ব্যবস’া বা কার্যধারাসমূহ এতদ্বারা অনুমোদিত ও সমর্থিত হইল এবং ঐ সকল আদেশ, কাজ-কর্ম, ব্যবস’া বা কার্যধারাসমূহ বৈধভাবে প্রণীত, কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া ঘোষিত হইল, এবং তৎসম্পর্কে কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট কোন কারণেই কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চের ফরমান, ইত্যাদির অনুমোদন ও সমর্থন ১৯। (১) ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চের ফরমান, অতঃপর যাহা এই অনুচ্ছেদে উক্ত ফরমান বলিয়া উল্লেখিত, এবং ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ ও সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সালের ১নং আইন) প্রবর্তনের তারিখের (উভয় দিনসহ) মধ্যে, অতঃপর যাহা এই অনুচ্ছেদে উক্ত মেয়াদ বলিয়া উল্লেখিত, প্রণীত অন্যান্য সকল ফরমান, ফরমান-আদেশ, প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের আদেশ, সামরিক আইন প্রবিধান, সামরিক আইন আদেশ, সামরিক আইন নির্দেশ, অধ্যাদেশ এবং অন্যান্য আইন এতদ্বারা অনুমোদিত ও সমর্থিত হইল এবং বৈধভাবে প্রণীত হইয়াছে বলিয়া ঘোষিত হইল, এবং তৎসম্পর্কে কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট কোন কারণেই কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না। (২) উক্ত ফরমান বা অন্য কোন ফরমান, ফরমান-আদেশ, প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের আদেশ, সামরিক আইন প্রবিধান, সামরিক আইন আদেশ, সামরিক আইন নির্দেশ, অধ্যাদেশ বা অন্য কোন আইন হইতে আহরিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিয়া বা প্রয়োগ বলিয়া বিবেচনা করিয়া অথবা অনুরূপ কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করিয়া বা প্রয়োগ বলিয়া বিবেচনা করিয়া কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত কোন রাষ্ট্রপতি বা প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বা অন্য কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত আদেশ, কৃত কাজ-কর্ম, গৃহীত ব্যবস’া বা কার্যধারাসমূহ, অথবা প্রণীত, কৃত বা গৃহীত বলিয়া বিবেচিত আদেশ, কাজ-কর্ম, ব্যবস’া বা কার্যধারাসমূহ বৈধভাবে প্রণীত, কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, এবং তৎসম্পর্কে কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট কোন কারণেই কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না। (৩) (২) উপ-অনুচ্ছেদে উল্লেখিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিয়া বা প্রয়োগ বিবেচনা করিয়া অথবা অনুরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ করিয়া বা প্রয়োগ বিবেচনা করিয়া প্রণীত কোন আদেশ বা প্রদত্ত দণ্ডাদেশসমূহ কার্যকর বা পালন করিবার জন্য প্রণীত কোন আদেশ, কৃত কোন কাজ-কর্ম বা গৃহীত কোন ব্যবস’া বা কার্যধারার জন্য বা ব্যাপারে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনালে কোন মামলা, ফৌজদারী কার্যধারা অথবা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা চলিবে না। (৪) তৃতীয় তফসিলে উল্লেখিত কোন পদে উক্ত মেয়াদের মধ্যে যে সকল নিয়োগ প্রদান করা হইয়াছে সেই সকল নিয়োগ বৈধভাবে প্রদান করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, এবং তৎসম্পর্কে কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট কোন কারণেই কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না, এবং কোন ব্যক্তি উক্ত মেয়াদের মধ্যে উক্ত ফরমানের অধীন এই প্রকার কোন পদে নিযুক্ত হইয়া থাকিলে এবং সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সালের ১নং আইন), অতঃপর যাহা এই অনুচ্ছেদে উক্ত আইন বলিয়া উল্লেখিত, প্রবর্তনের তারিখের অব্যবহিত পূর্বে উক্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকিলে তিনি উক্ত তারিখ হইতে স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন, যেন তিনি এই সংবিধানের অধীন উক্ত পদে নিযুক্ত হইয়াছেন; এবং তিনি উক্ত তারিখের পর যথাশীঘ্র সম্ভব যথাযথ ব্যক্তির সম্মুখে তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথ বা ঘোষণা-পাঠের ফরমে শপথ বা ঘোষণা-পাঠ করিবেন এবং শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর দান করিবেন।

(৫) উক্ত মেয়াদের মধ্যে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক যে সকল পদে নিয়োগ প্রদান করিয়াছেন সেই সকল পদ যদি উক্ত আইন-প্রবর্তনের তারিখের পরেও বহাল থাকে, তাহা হইলে উক্ত তারিখ হইতে সেই সকল পদে নিয়োগ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত বলিয়া গণ্য হইবে। (৬) উক্ত আইন-প্রবর্তনের তারিখের অব্যবহিত পূর্বে বলবৎ সকল অধ্যাদেশ এবং অন্যান্য আইন, উক্ত ফরমান বাতিল এবং সামরিক আইন প্রত্যাহারকারী ফরমান সাপেক্ষে, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিবর্তিত, সংশোধিত বা রহিত না হওয়া পর্যন- অব্যাহতভাবে বলবৎ থাকিবে। (৭) উক্ত ফরমান বাতিল এবং সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হইলে এই সংবিধান সম্পূর্ণরূপে পুনরুজ্জীবিত ও পুনর্বহাল হইবে এবং উহা, এই অনুচ্ছেদের বিধানাবলী সাপেক্ষে, এইরূপ কার্যকর ও সক্রিয় থাকিবে যেন উহা কখনও স’গিত ছিল না। (৮) উক্ত ফরমান বাতিল এবং সামরিক আইন প্রত্যাহারে এমন কোন অধিকার বা সুযোগ পুনরুজ্জীবিত বা পুনর্বহাল হইবে না যাহা অনুরূপ বাতিল বা প্রত্যাহারের সময়ে বিদ্যমান ছিল না। (৯) সংসদের কোন আইন এবং উহার রহিতের ক্ষেত্রে ১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লজেজ এ্যাক্ট যেরূপ প্রযোজ্য, উক্ত ফরমান, এবং উক্ত মেয়াদের মধ্যে প্রণীত অন্যান্য ফরমান, ফরমান-আদেশ, প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের আদেশ, সামরিক আইন প্রবিধান, সামরিক আইন আদেশ এবং সামরিক আইন নির্দেশসমূহের ক্ষেত্রে, এবং উক্ত ফরমান ও অন্যান্য ফরমান বাতিল ও উক্ত ফরমান-আদেশ, প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের আদেশ, সামরিক আইন প্রবিধান, সামরিক আইন আদেশ এবং সামরিক আইন নির্দেশসমূহ রহিতের ক্ষেত্রেও, সেইরুপ প্রযোজ্য হইবে, যেন উক্ত ফরমান ও অন্যান্য ফরমান, ফরমান-আদেশ, প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের আদেশ, সামরিক আইন প্রবিধান, সামরিক আইন আদেশ এবং সামরিক আইন নির্দেশসমূহ এবং যে ফরমান দ্বারা উক্ত ফরমান বাতিল করা হইয়াছে তাহা, সকলই সংসদের আইন ছিল।

(১০) এই অনুচ্ছেদ “আইন” বলিতে বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, আদেশ ও বিজ্ঞপ্তিসমূহ এবং আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন অন্যান্য দলিল অন-র্ভুক্ত। ] ২০। উপ-রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধান- সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ২৮ নং আইন) এর ২৫ ধারাবলে বিলুপ্ত। ২১। (১) ১৩৯৭ বঙ্গাব্দের ২১শে অগ্রহায়ণ মোতাবেক ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর তারিখে তদানীন-ন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক উপ-রাষ্ট্রপতি হিসাবে বাংলাদেশের প্রধান বিচাপতিকে নিয়োগ ও শপথ প্রদান এবং তাহার নিকট পদত্যাগ প্রদান এবং ১৩৯৭ বঙ্গাব্দের ২১শে অগ্রহায়ণ মোতাবেক ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর হইতে সংবিধান (একাদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সালের ১৪নং আইন) এর প্রবর্তনের তারিখের (উভয় দিনসহ) মধ্যে বা ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নূতন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হইয়া কার্যভার গ্রহণ করা পর্যন- সময়কালের মধ্যে (যাহাই পরে হউক) উক্ত উপ-রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অস’ায়ী রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রয়োগকৃত সকল ক্ষমতা, প্রণীত সকল আইন ও অধ্যাদেশ এবং প্রদত্ত, কৃত ও গৃহীত অথবা প্রদত্ত, কৃত ও গৃহীত বলিয়া বিবেচিত সকল আদেশ, সকল কাজকর্ম এবং সকল ব্যবস’া এতদ্বারা অনুমোদিত ও সমর্থিত হইল এবং আইনানুযায়ী যথার্থভাবে প্রণীত, প্রদত্ত, কৃত ও গৃহীত হইয়াছে বলিয়া ঘোষিত হইল।

উপ-রাষ্ট্রপতির নিয়োগ অনুমোদন ও সমর্থন ইত্যাদি (২) সংবিধান (্‌একাদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সালের ২৪নং আইন) প্রবর্তনের পর এবং সংবিধান মোতাবেক নুতন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হইয়া কার্যভার গ্রহণের পর উক্ত উপ-রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির কার্যভার ও দায়িত্ব গ্রহণ করিতে পারিবে এবং ১৩৯৭ বঙ্গাব্দের ২১শে অগ্রহায়ণ মোতাবেক ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর হইতে তাঁহার উক্ত কার্যভার ও দায়িত্ব গ্রহণের তারিখের মধ্যবর্তী সময় ঝঁঢ়ৎবসব ঈড়ঁৎঃ ঔঁফমবং (খবধাব, চবহংরড়হ ধহফ চৎরারষবমবং) ঙৎফরহধহপব, ১৯৮২ (ঙৎফরহধহপব ঘড়. ঢঢ ড়ভ ১৯৮২) এর ংবপঃরড়হ ২(ধ) এর উদ্দেশ্য সাধনকল্পে প্রকৃত কর্ম (ধপঃঁধষ ংবৎারপব) বলিয়া গণ্য হইবে। ] ২২। সংবিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সালের ২৮নং আইন) প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে যে সংসদ কর্মরত ছিল উহা সংবিধান ও আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে নির্বাচিত ও গঠিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং উহা সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী বহাল থাকিবে। সংসদে মহিলা-সদস্য সম্পর্কিত অস’ায়ী বিশেষ বিধান ২৩। (১) সংবিধান (চতুর্দশ সংশোধন) আইন, ২০০৪ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য পঁয়তাল্লিশটি আসন কেবল মহিলা-সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে এবং তাঁহারা আইনানুযায়ী সংসদ সদস্যদের দ্বারা সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে একক হস-ান-রযোগ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হইবেন।

(২) (১) দফায় উল্লিখিত মেয়াদে, ৬৫ অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত তিনশত সদস্য এবং এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় বর্ণিত পঁয়তাল্লিশ মহিলা-সদস্য লইয়া সংসদ গঠিত হইবে। ”

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.