আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নিমজ্জন এবং অতঃপর সার্বজনীন সমাজতন্ত্র

সবকিছুই চুকিয়ে গেছে গালিব! বাকি আছে শুধু মৃত্যু!!

নিঃসঙ্গতা বা একাকীত্ব আমার জন্য নতুন কিছু নয়। এটা আমাকে কখনই বিবর্ণ বা বিধ্বঃস্ত করেনা। বরং আমার নিঃসঙ্গতা নিজেকে নতুন করে চেনার ভিত্তি তৈরী করে, নিজেকেই নিজের শ্রেষ্ঠ বন্ধু করে। একদিন যারা আমার নিত্যদিনের অংশ ছিল, ধর্মবিশ্বাসের কারণে প্রতিনিয়ত প্রার্থনায় যাদের মঙ্গল কামনা করতাম, পৃথিবীর চলমান নিয়মেন ঋণ শোধ করতে গিয়ে সবাই আমা থেকে নিমজ্জিত হয়েছে। এ নিমজ্জন স্বার্থের, এ নিমজ্জন যুগের বাস্তবতার সাথে তাল মিলিয়ে চলার মানসিকতার দৃশ্যমান রূপ।

আদৌতে প্রতিটা মানুষই এমন একা, প্রতিটা মানুষই নিমজ্জিত। কাজেই নিঃসঙ্গতা নিয়ে গর্ব করার কারণে আমাকে অসামাজিক বা অর্বাচীন বলার আগে একবার নিজের অবস্থানটা যাচাই করুন। জীবনের পংতিগুলো সুবিন্যস্ত করে সাজানোর প্রচেষ্টাটা সবসময়ই ইচ্ছেমাফিক হয় না। তারপরেও মানুষকে জীবন সাজাতে হয়। এখানে জীবনের জন্য মানুষ, মানুষের জন্য জীবন নয়।

কিন্তু একজন বস্তুবাদী মানুষ হিসেবে আমি কখনই এমনটা ভাবতে পারিনা। আমার কখনই ভাবা উচিত নয় যে, মানুষ অলৌকিক শক্তির খেলার পুতুল। কিন্তু বাস্তবতা যা অনুচিত তাকেই উচিতে পরিণত করে। একটা পর্যায়ে আমাকে ঠিকই বিশ্বাস করতে হয় যে, অলৌকিক বলে আসলেই কোন একটি স্বত্তা আছে। তবে এ স্বত্তা কোন অবস্থায়ই নিরাকার কোন শক্তি নয়।

এই স্বত্তা আমার মতোই দেখতে, রক্তমাংসে গঠিত অভিজাত শ্রেণীভুক্ত স্বল্পসংখ্যক কিছু মানুষ। প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন যখন দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসেন তখন আমার চিন্তার জগৎটা সবেমাত্র প্রসারিত হতে শুরু হয়েছে। তাঁর মাঝেই আমি একজন আদর্শ মানুষকে খুঁজার চেষ্টা করলাম। সত্যি বলতে তাঁর চলাফেরা, কথার স্টাইল, বিশেষ করে হাসিটা অসাধারণ মনে হত। কখনও কখনও মনে করতাম তিনিই হয়তো স্বর্গের দেবদূত।

কিন্তু যখন জানলাম এই দেবদূতই হোয়াইট হাউজের এক শিক্ষানবিশ কর্মীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন এবং প্রাথমিক অবস্থায় শপথ নিয়ে এ সম্পর্কে মিথ্যা বলেছেন তখন বুঝলাম মানুষ আসলে কোন অবস্থায়ই দেবদূত হতে পারেনা। মানুষকে খোলসের মধ্যে আবদ্ধ থাকতে হয়, প্রয়োজনে ধর্মপুস্তক হাতে নিয়েও মিথ্যা বলতে হয়। ঝামেলাবিহীন জীবনের সহজ শর্ত হচ্ছে নিজেকে সুশীল যন্ত্রে পরিণত করা। যে যেমন করে ব্যবহার করতে চায় ঠিক তেমনভাবে নিজেকে উপযোগী করা। তবে যন্ত্রের মতো সুশীল হওয়া বহু সাধনার ফল।

খুব কমসংখ্যক মানুষই সে পর্যায়ে পৌছতে পারেন। আপনি হয়তো তাই হতাশ হচ্ছেন এই ভেবে যে, যন্ত্রের মতো সুশীল হওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। না, যন্ত্রের পর্যায়ে না পৌছতে পারলেও হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। শুধু সবকিছু মেনে নিতে শিখুন। মন না চাইলেও মেনে নিন।

এতেই মোটামুটি চলবে। বিপ্লবী চে' এখন পুঁজিবাদীদের রোজগারের খুব ভাল উৎস। সারা পৃথিবীতে কোটি কোটি টাকায় বিক্রি হয় তাঁর ছবি সম্বলিত টি-শার্ট, পোস্টার, এমন কি পুতুলও। পুঁজিবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোই এ ব্যবসায় সবচেয়ে এগিয়ে। মহান মাও'য়ের চীন মুখে সমাজতন্ত্র বুলি নিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে অগ্রসরমান পুঁজিবাদী দেশ।

প্রতিদিনই সেখানে বাড়ছে ধনী আর দরিদ্রের ব্যবধান। নব্য ধনীক শ্রেণীর সাথে সৃষ্টি হচ্ছে নব্য সর্বহারা শ্রেণী। প্রায় তিনদশক একচেটিয়া ক্ষমতায় থাকার পর পশ্চিম বঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার বুঝতে পারল ঠিক এই মুহুর্তে জনগণের চাইতে রতন টাটার সাথে বন্ধুত্বই তাঁদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কিউবা আর উত্তর কোরিয়াতে সমাজতন্ত্রের নামে চলছে পরিবারতন্ত্র। বাবার পরিবর্তে পুত্র বা ভাইয়ের স্থানে ভাই অধিষ্ঠিত হচ্ছেন রাষ্ট্রক্ষমতায়।

আসলে তন্ত্র-মন্ত্র কিছুই না। আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে কোন রকমে ক্ষমতায় টিকে থাকা। তবুও একদিন সমাজবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়, তবুও একদিন সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এ কথার জন্য আমি হয়তো এ মুহুর্তে আপনার হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছি। কিন্তু না, আমিই ঠিক।

মৃত্যু একদিন ঠিকই পৃথিবীর সর্বোচ্চ ধনী আর দরিদ্রতম ব্যক্তিটিকে সমান জায়গায় নিয়ে আসে। পৃথিবীর তাবৎ সৃষ্টির উপর তার নিয়ন্ত্রণ, অধিকার, চর্চা সমান। আর মৃত্যু নামক এই অমোঘ সত্যি ও শক্তিটি একদিন সবাইকে ঠিকই সর্বহারা শ্রেণীতে পরিণত করে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।