আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

হিমালয়ের বরফ গলছে না তাই বাংলাদেশও ডুবছে না - এই কথাটি ভুল ....(দৃষ্টি আকর্ষণ: কুঁড়ের বাদশা)

Everyone is entitled to my opinion.
IPCC (International Panel for Climate Control) ২০০৭ সালের তাদেরই এক রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে বলেছিলো ২০৩৫ সালের মধ্যে হিমালয়ের সব বরফ গলে যাবে। কিন্তু সম্প্রতি এক রিপোর্টে তারা স্বীকার করেছে ২০৩৫ সালের মধ্যে হিমালয়ের বরফ গলার মূল রিপোর্টটি ভুল ছিলো। এখন তারা বলছে আপাততঃ হিমালয়ের বরফ ২২৫০ সালের আগে গলবে না। IPCC'র এই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ইত্তেফাক একটি প্রতিবেদন ছাপিয়েছে যেটার মূল কথা হলো হিমালয়ের বরফ শিঘ্রী গলছে না তার মানে বাংলাদেশও অদূর ভবিষ্যতে ডুবছে না। রিপোর্টে বলা হয়েছে, "২০৩৫ সালের মধ্যে হিমালয়ের হিমবাহ গলে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চল পানিময় হবে বলে যে ভয় দেখানো হয়েছিল, তা আসলেই ভুয়া!" এই বিষয়টা নিয়ে কুঁড়ের বাদশা এরই মধ্যে তিনটা পোস্ট করেছেন।

এখানে বলে রাখা ভাল ইত্তেফাকের প্রতিবেদক সহ কুঁড়ের বাদশা একটা বড় ধরণের ভুল করছেন যেটি হলো তারা অনুমান করে নিয়েছেন হিমালয়ের বরফ গলার কারণেই বাংলাদেশ ডুবে যাওয়ার কথা ছিলো। আসলে ধারণাটি ঠিক নয়। কুঁরের বাদশার পোস্টগুলো: ১) হুদাই কোপেনহেগেন সম্মলনে , বাংলাদশে ডুবছে না !!! [ একটি কপি-পোষ্টিপোষ্ট ]http://www.somewhereinblog.net/blog/invincible416/29099712#comments ২) বিশ্বরাজনীতির নগ্ন থাবায় কাঠের পুতুল আমরা Click This Link ৩) ডিজিটাল সরকার কি দুনিয়ার খবর রাখে না ? Click This Link বাংলাদেশ পানিতে ডুবে যাবে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বর্তমান উচ্চতা থেকে আরও কমপক্ষে তিনফুট বেড়ে যায়, তবেই। এ ব্যাপারটাতে পরে ফিরে আসব তার আগে চলুন হিমালয়ের বরফগলা পানির প্রভাব কি হতে পারে সেটা জেনে নিই। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহের বরফগলা পানি সাধারণতঃ নদ-নদীগুলোর বাৎসরিক পানি প্রবাহের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়ার সাথে সাথে ভুমিধ্বস, ফ্লাশ ফ্লাড, এবং পাহাড়ী হ্রদগুলোর উপচে পড়ার কারণ ঘটিয়ে থাকে।

আর শুষ্ক মৌসুমে হিমালয়ের বরফগলা পানি ভারত, বাংলাদেশ সহ বেশ কিছু দেশের প্রধান প্রধান নদিগুলোর পানির মূল উৎস। তাই হিমালয়ের বরফ যদি দ্রুতহারে গলে যেত তবে এই অঞ্চলের মানুষেরা প্রতিবছরই বন্যা এবং তার পরবর্তি খরার মুখোমুখি হত। ফলশ্রুতিতে খুব দ্রুতই ভারত-বাংলাদেশের প্রায় ৬০০ মিলিয়ন জনগোষ্ঠি তাদের খাবার এবং কৃষিকাজের পানি থাকে বঞ্চিত হত। সবশেষে হিমালয়ের বরফ গলা পানি শেষ হয়ে গেলে বাংলাদেশের বিস্তীর্ন এলাকা পরিনত হত অনাবাদী এক মরুভুমিতে। তাই এটা অবশ্যই আমাদের জন্য এক খুশীর খবর।

অন্ততঃ আগামী ২৫০ বছরের জন্য। তবে হিমালয়ের বরফগলা পানি কখনই বাংলাদেশ ডুবে যাওয়ার কারণ ছিলো না। এখন ফিরে আসি সমু্দ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে পারে দুইভাবে। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে পানির ঘনত্ব কমে গিয়ে সমুদ্রের পানির আয়তন বেড়ে যেতে পারে।

ফলে পানির উচ্চতাও বেড়ে যাবে। তাছাড়া গ্রীনল্যান্ড এবং আর্কটিক (পৃথিবীর প্রধান দুটি জমাট পানির উৎস) সহ পৃথিবীর প্রধান ৩০ টি হিমবাহের পানি গলে সমুদ্রে মিশে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি করে। জাতিসঙ্ঘের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০৯০ সালের মধ্যে সারা পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৮.৭ থেকে ১৭ ইঞ্চিতে বেড়ে যাওয়ার কথা। তারপরও সেটা অনাকাঙ্খিত ৩ ফুটের চেয়ে কম। তবে উপকূল অঞ্চলগুলো যে ক্ষষ্তিগ্রস্হ এবং জলমগ্ন হবে সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

সবশেষ কথা, অন্য অনেকের মত আমিও ধারণা করি জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক রাজনীতিকরণ হয়ে থাকেতে পারে। সে সম্ভাবণা একেবারে ফেলে দেয়ার মত না। তবে হিমালয়ের বরফ না গলার রিপোর্টের সাথে বাংলাদেশের ডুবে না যাওয়ার কোন সম্পর্ক আগেও ছিলো, এখনও নেই।
 

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.