আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

শারিয়া আইনে জামাতের মৃত্যুদন্ড - ইসলামি দলিল

বাংলার সাংস্কৃতিক, নৈতিক, মানবিক ও ধর্মতাত্ত্বিক বৈভবে গর্বিত সাধারণ বাংলাদেশী

সবাই জানেন একাত্তরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জামাত সশস্ত্র জিহাদী যুদ্ধের ডাক দিয়েছিল,তবু প্রমাণ দিচ্ছি। (১) তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আমীর মওলানা আব্বাস আলী খানের বক্তৃতা, একাত্তরের ৬ই ডিসেম্বর ঢাকা বেতার কেন্দ্র থেকেঃ- ‘‘বদরের যুদ্ধে মুসলিম সৈন্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১৩ জন। বিপক্ষে কুরাইশদের সংখ্যা ছিল ১ হাজার’’ - ইত্যাদি ইত্যাদি। (২) গোলাম আজম, একাত্তরে ১৭ই সেÌেটম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে বক্তৃতা:- ‘‘বিপদের মধ্যেও তোমাদের দৃ• শপথে অবিচল থাকতে হবে, তবেই আল্লাহ’র কাছে সত্যিকারের মুজাহিদের মর্যাদা লাভ সম্ভব হবে’’। (৩) গোলাম আজম, একাত্তরের আগষ্টে লাহোরের সাপ্তাহিক ‘‘জিন্দেগী’’-তে বক্তব্যঃ- ‘‘জামাত কর্মীরা শহীদ হতে পারে কিন্তু পরিবর্তিত হতে পারে না’’।

বলাই বাহুল্য বদর যুদ্ধ, মুজাহিদ, শহীদ শব্দগুলো সশস্ত্র যুদ্ধ জিহাদ থেকেই আসে। তার পরে ডিসেম্বরের প্রথম দিকে পরাজয় নিশ্চিত জেনে দেশে ছেড়ে পালানো। এবারে দেখা যাক তিনটে দলিলের দিকে, কোরাণ, নবীজী এবং শারিয়া আইন। আল্‌ কোরাণঃ- ‘‘হে ঈমানদারগন, তোমরা যখন কাফেরদের সাথে মুখোমুখী হইবে, তখন পশ্চাদপসরণ করিবে না। আর যে লোক সেদিন তাহাদের হইতে পশ্চাদপসরণ করিবে, লড়াইয়ের কৌশল-পরিবর্তনকল্পে কিংবা যে নিজ সৈন্যদের নিকট আশ্রয় নিতে আসে সে ব্যতীত, - অন্যরা আল্লাহ’র গজব সাথে নিয়া প্রত্যাবর্তন করিবে।

আর তাহাদের ঠিকানা হইল জাহান্নাম’’ - সুরা আনফাল ১৫ ও ১৬। নবীজীঃ- ‘‘সাত প্রকারের ধ্বংসকারী গোনাহ তোমরা পরিহার করিয়া চলিবে। ’’ তালিকা দেয়া আছে, হাদিস নং ৬৩, মোহাম্মদ আবদুল করিম খানের সংকলিত হাফেজ আবদুল জলিলের সম্পাদিত ‘‘বাংলায় বোখারী শরীফ হাদীস সমুহ’’। সেই সাতটা ধ্বংসকারী গোনাহ্‌-এর মধ্যে ছয় নম্বর হল জেহাদের ময়দান থেকে পালানো। এ হাদিসকে তারা মিথ্যে বলতে পারেন না কারণ তাঁদেরই প্রাক্তন আমীর মওলানা আবদুর রহীম দাবী করেছেন - ‘‘সহি বুখারী ও মুসলিমের সব হাদিসই গ্রহণযোগ্য’’ - হাদিস সংকলনের ইতিহাস - পৃষ্ঠা ৪৪৯।

শারিয়া আইনঃ - (ক) ‘‘পিছিয়ে এসে আবার নিজেদেরকে একত্রিত করা, অথবা অন্যদলের (নিজেদের সহযোদ্ধা দল) সাথে যোগ দিয়ে তাদেরকে শক্তিশালী করা (এ দুটো কারণ ছাড়া) ছাড়া অবিশ্বাসীদের সাথে লড়াই থেকে পালিয়ে যাওয়া’’ হল ইসলাম ও তাকওয়ার বিরুদ্ধে ৪৪২-টা অপরাধের ৩৭৭ নম্বর। ইবনে হাজার হায়তামি’র এই তালিকা সমর্থন করেছেন ইমাম শাফি’ - ‘‘রিলায়্যান্স অফ দি ট্র্যাভেলার, ইসলামী পবিত্র আইনের মৌলিক ম্যানুয়াল’’ - পৃষ্ঠা ৯৬৬, আইন নম্বর- ডাবলিউ ৫২’এর ১ এবং ৭১০ পৃষ্ঠা আইন নম্বর ও-পি-৭৬-০। শাফি’ আইনের এই কেতাবকে সত্যায়ন করেছে মিশরের আল্‌-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়। শারিয়া আইনঃ -(খ) আল্‌ ফিরা’র মিন আল্‌-যাহফ্‌ - (জিহাদে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন) - উদ্ধৃতিঃ- ‘‘ ইসলামী আইনের প্রতিটি শাখার আইনবিদের মতে যুদ্ধক্ষেত্র হইতে পালাইয়া যাওয়ার মত মারাত্মক অপরাধের হুদুদ শাস্তি হইল মৃত্যুদন্ড। আধুনিক সৈন্যদলের নিয়ম কানুনের সহিতও ইহা খাপ খায় ............... সর্বশ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য হইল বিজয় বা মৃত্যু।

একজনের মৃত্যু হইলেও তাহার আত্মত্যাগের ফলে উম্মা’র অগ্রগতি হইবে’’ -‘‘শারিয়া দি ইসলামিক ল’’, ডঃ আবদুর রহমান ডোই- পৃষ্ঠা ২৬৭। আইনটার ব্যাখ্যা হল ঃ- ‘‘ইসলামের জন্য যখন কোন মুসলমান জিহাদে অংশগ্রহন করে, কিংবা যে ইতিমধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর সহিত যুদ্ধে লিপ্ত রহিয়াছে, শারিয়ায় তাহার পলায়নকে বড় ধরণের অপরাধ বলিয়া গণ্য করা হয়। তখন দৃ•তার সাথে নেতার সযত্নে রচিত পরিকল্পনা ও কৌশলের পক্ষে কাজ করিতেই হইবে। ................ যুদ্ধক্ষেত্র হইতে পালাইয়া গেলে তাহা মুসলিম উম্মা’র জন্য বিপদজনক হইতে পারে। ইহা যে কতবড় অপরাধ তা কোরাণ শরীফে সুস্পষ্ট বলিয়া দেওয়া হইয়াছে সুরা আনফাল-এর ১৫ এবং ১৬ নম্বর আয়াতে’’।

একাত্তরে তাঁরা ‘‘কৌশল-পরিবর্তন করে নিজ সৈন্যদের নিকট আশ্রয়’’ নিতে যান নি কারণ তাঁদের চুরানব্বই হাজার নাপাক সৈন্য তখন লন্ডন-মধ্যপ্রাচ্য নয়, ভারতে বন্দী। আর কৌশল তো তাঁরা করেছেনই, ওগুলোকে কৌশল না বলে অপকৌশল বলাই ভাল। লন্ডনে বসে প্রথমে-ই কোরাণের সুরা হজ্ব আয়াত ৩০ (তোমরা মিথ্যা কথা হইতে দুরে থাক)-কে লংঘন করে নবজাত রক্তøাত বাংলাদেশের বুকে ছুরি চালিয়েছেন এই চীৎকার করে যে ‘‘বাংলাদেশে মসজিদ ভাঙ্গা হচ্ছে’’। ঘোড়ার ডিম হচ্ছে। আমরা সেখানে ছিলাম, কোন মসজিদ মন্দির ভাঙ্গা হয়নি।

তখন, সর্বদা এবং এখনও তাঁরা কোরাণ-রসুল লংঘন করে কত অজস্র মিথ্যে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন, ছাপছেন তাঁদের পত্রিকায় তা সব ধরা থাকছে মহাকালের ইতিহাসে। জনতার ভৈরব গর্জনে সেখানে চুড়ান্ত মূল্য দিতে হবে একদিন। শারিয়া আইনটা বদলানোও তাঁদের পক্ষে অসম্ভব। কারণ কথাটা সব শারিয়া কেতাবেই আছে যেমন আয়াতুললা খোমেনী’র ‘‘ইসলামিক জুরিষ্প্রুডেন্স’’ কিংবা ডঃ ডোই-এর ‘‘১৫০০ হিজরিতে শারিয়ার সমস্যা ও সম্ভাবনা’’- পৃষ্ঠা ৪৪। তাঁদের সর্বোচ্চ নেতা মওদুদিও বলেছেন - ‘‘যেখানে আল্লাহ এবং তাঁর রসুলের সুস্পষ্ট নির্দেশ রহিয়াছে, সেখানে কোন মুসলিম নেতা, বা আইনবিদ, অথবা ইসলামী বিশেষজ্ঞ নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত দিতে পারিবে না, এমনকি সমস্ত দুনিয়ার প্রত্যেকটি মুসলমান ঐক্যবদ্ধ হইলেও ইহাতে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করিবার অধিকার কাহারও নাই’’- ‘‘ইসলামিক ল’ অ্যান্ড কনস্টিটিউশন’’ পৃষ্ঠা ১৪০।

একাত্তরে পালিয়ে গিয়ে কোরাণ-রসুলের সিদ্ধান্েত তাঁরা ইসলামের বিরুদ্ধে অপরাধ করেছেন। এবং তাঁদেরই প্রস্তাবিত শারিয়া আইনে সেই অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। সেই দন্ডের পর জাহান্নামের লকলকে আগুন তো আছেই, একেবারে লাল কার্পেট পেতে জিহ্বা বের করে অপেক্ষা করে আছে তাঁদের জন্যই- সুরা আনফাল ১৫ ও ১৬। ০৯ জানুয়ারী ৪০ মুক্তিসন (২০১০ সাল) হাসান মাহমুদ

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।