আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মিয়ানমারের পর এবার চীনের সাথে ....



বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ ক্ষমতার মসনদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই ভারতকে সন্তুষ্ট করার জন্য যে তৎপর তাই নয় বরং এক্ষেত্রে যেন দিশেহারা হয়ে গেছে । দেশ ও জাতির স্বার্থ হাসিনা আপুর কাছে বড় কথা নয় । ভারতকে কিভাবে রাজী-খুশী করা যায় সেটাই আওয়ামী নেতা এবং বুদ্ধিজীবীদের একমাত্র সাধনা । টিপাই মুখ বাধ নিয়ে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞরাই যে বিরোধিতা করেছেন তাই নয় , ভারতের মানুষও এর বিরোধিতা করছে । এক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিরা এবং আওয়ামীলীগ নেতারা যেভাবে কথা বলেছেন , টিপাই বাধেঁর ব্যাপারে যেভাবে সাফাই গেয়েছেন তাতে ভারতীয়রাও লজ্জিত হয়েছে ।

বাণিজ্যমন্ত্রী ও নৌপরিবহন মন্ত্রী মহোদয়ের সাফাই শোনার পর ভারতের একজন সচিব নাকি মন্তব্য করেছেন এই ছাগলগুলোই সব নষ্ট করে দিবে । হাসিনার উচিত এই ছাগলগুলোকে সামলানো । আসলে অতিরিক্ত দালালী যে হিতে বিপরিত ফল বয়ে আনে তা ভারতের ঐ সচিব মহোদয় বুঝতে পারলেও হাসিনা আপু তা বুঝতে পারেন না । কৃতজ্ঞতা এবং দায় বোধটা আওয়ামীলীগ নেতা-বুদ্ধিজীবীদের একটু বেশি চাঙ্গা বলেই হয়ত তারা এই কার্যের ক্ষেত্রে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন । এশিয়ান হাইওয়ের কথাই ধরা যাক ।

আওয়ামীলীগ চায় হাইওয়েটি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে আবার ভারতেই ঢুকে পড়ৃক । অর্থাৎ হাইওয়ের মাধ্যমে যুক্ত হবে শুধু ভারত । আর বিএনপি ও সমমনা দলগুলো চায় হাইওয়েটি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে তা মিয়ানমার হয়ে চীন ও দঃ পূর্ব দেশগুলোকে যুক্ত করুক । এ বিষয়টি ছোট্ট একটি বালকও বুঝবে দ্বিতীয় রুটের মাধ্যমে বাংলাদেশ অনেক গুলো দেশের সাথে যুক্ত হয়ে বেশি লাভবান হতে পারবে । আর আওয়ামীলীগ যা করতে চাচ্ছে তাতে বাংলাদেশ শুধু ভারতের সাথেই যুক্ত হবে এবং এক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশকে করিডোর হিসেবে ব্যাবহার করে বেশি লাভবান হবে ।

হাসিনা আপু ক্ষমতার মোহে দিশেহারা হয়ে বললেন কোন শক্তিই নাকি হাইওয়ে থেকে বাংলাদেশকে বিরত রাখতে পারবে না । জাতির পিতার বাংলাদেশ নিয়ে জাতীয় আপু এমন দম্ভক্তি করতেই পারেন । কিন্তু তিনি হয়ত ভুলে গেছেন ৭৫ এর আগেও আওয়ামী নেতারা এমন মনোভাবীই ছিলেন যে কোন শক্তিই বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদ থেকে তাদেরকে হঠাতে পারবে না । তারা এটাও মনে করতো বাংলাদেশ জাতীর পিতার সম্পদ । তারা বা তিনি যা বলবেন জাতিকে তা্ই মেনে নিতে হবে ।

কিন্ত ৭৫ এর পর আওয়ামীলীগকে দুই দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকতে হয়েছে । কাজেই কোন শক্তিই পারবে না এধরণের দম্ভক্তি করা উচিত নয় । এই বাস্তবতা আওয়ামীলীগ নেতাদের ভালো করে বুঝা উচিত । কয়েক দিন আগেও দেশের পত্র পত্রিকাগুলো মিয়ানমারের সাথে টানাপড়েনের খবর ফলাও করে প্রচার করেছে । বর্তমানে মিয়ানমারের সাথে ঢাকার শীতল সম্পর্ক বজায় রয়েছে ।

আজ একটি ওয়েব সাইটে দেখলাম ঢাকায় একটি সংগঠন তিব্বতের উপর আলোকচিত্র প্রদর্শনি করতে চেয়েছিল কিন্তু চীনা দূতাবাসের প্রতিবাদের মুখে সরকার তা বন্ধ করে দেয় । (সূত্র ) কথা হচ্ছে তিব্বত নিয়ে টানা টানি করে চীনের সাথে সম্পর্ক তিক্ত করার পেছনে কারা ইন্ধন যুগাচ্ছে ? তাহলে আমরা কি শুধু ভারতের সাথেই সম্পর্ক রাখবো আর অন্যান্য প্রতিবেশীদের সাথে রাখবো না ? এ জন্যই কি আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম ? এটাই কি তাহলে স্বাধিনতার চেতনা ? আমাদেরকে আজ অনেক ভাবতে হবে । সচেতন হতে হবে । তা না হলে এ জাতির কপালে অনেক কষ্ট আছে ।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.