আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মুক্তগদ্য: ইটখোলার চিমনিতে ধোঁয়া দেখে ভাবি, জমিও চুরুট টানে

ডুবোজ্বর

০১. কিছুই স্মৃতিতে নেই, বিস্মৃতিতেও নেই। যখন আমরা জাগি বাস-ট্রাক সমগ্র বাঙলাদেশ আমাদের অতিক্রম করে। আমরা ময়ূরের নাচ দেখে বুঝি ছেলেরাও নাচতে পারে। আহা! রাধাকল্যাণ মন, তুই ঘুরে ঘুরে চক্রমন হতে না পারিস, চক্রবর্তী তো হবি! গ্রীষ্মের চাতালে রোদ নেমে গোলমরিচের মতো রোঁয়া উঠে। ইটখোলার চিমনিতে ধোঁয়া দেখে ভাবি, জমিও চুরুট টানে।

০২. দাঁতের ব্যথায় ঘুম ভাঙলো দুপুরে। ডাক্তারের কাছে যাবো না ভাবছি। দুপুরের ঘুম মেদ বৃদ্ধি করে পেটে। তারচেয়ে ভাবি শূন্যে কোনো যানে ভেসে যায় মাধুরীমায়া। সে ভালো আছে দাঁতে ব্যথা নিয়ে; তাকে অবাক করে দেয়ার কথা ভাবি।

সে ভুলে যায় বাতাবিনেবুর ঘ্রাণ। আর খোলাজানলায় দাঁড়িয়ে বলে গান আর বাগানের কথা। ০৩. আমি কিছুই হতে পারি নি। কখন যে মরে যাবো! ইদানীং প্রতিদিনই মন খারাপ হয়। কী যে অনিশ্চয়তা! আসলে গরিব হয়ে জন্মানোর কোনো মানে নেই।

গরিবদের মধ্যে আমি ভ্যানগগ আর দস্তয়ভস্কিকে ঈর্ষা করি। কিন্তু তাদের মতো হওয়ার যোগ্যতা এবং সুযোগ কোনোটাই আমার নেই। আমার কাছে অনেকগুলি বকুলের মালা আছে। আর মনে মনে আমার মুঠোর মধ্যে সবসময়ই একটা মাছরাঙা থাকে। পাখিটাকে উড়াই মাঝে মাঝে।

পাখিটা বারংবার ফিরে আসে। কেনো যে আসে, কেনো যে আসে? আমি ভয়ানক শূন্যতা চাই। আমি কী যে চাই? আমাকে যদি কবিতা ছেড়ে যায় আমি মরে যাবো। কান্না সুন্দর। আমিও কাঁদতে চাই।

০৪. কিছুই গ্রহণ করি নি, আবার কিছু খুঁজিও নি। মুহূর্তগুলি আলাদা হয়ে বালিঘড়ির পায়ে গড়িয়ে পড়ে। মরুভূমির পাশের গলিতে সেখানে একজন চন্দ্র ছিলো। তার হাত পা বাঁধা ছিলো বেতের কাঁটায়। কেননা সে নিজেকে পয়গম্বর বলে দাবি করেছিলো।

তার পাশে আরেকজন কবন্ধ হয়ে পড়ে আছে যে কিনা নিজেকে কবি বলেছিলো। কেউ মানে নি। ইদানীং তার কবিতা আসমানি হরফে লেখা লীলাচুর পাখি হয়ে গেছে। ০৫. পাঁচটাকা প্লেট বিরিয়ানি খেয়ে ঘরে ফিরেছি রাতে। ঘ্রাণটা অসাধারণ।

কিন্তু কেনো যে পেট ব্যথা করছে। পেটব্যথা নিয়ে আমি অদ্ভুত হলুদ এক পাখির কথা ভাবছি। আর দেয়ালে নিজের ছায়ার নাচ দেখে মজা পাচ্ছি। আমার একটা নিজস্ব ছাদ থাকলে ভালো হতো। ছাদে অনেক স্বাধীনতা বাঁধা আছে।

হাসান বললো টিপিকাল তাই নতুন করে ভাবছি। টিপিকাল কিছু ভাবলে বানোয়াট মনে হয়। আমি অনেক দূরে যাবো, শীতল এক পাতাবাহারের কাছে। এই কার্তিকের রাতে আমি পাতাবাহারের স্বপ্ন দেখছি। ০৬. ইদানীং লাল নিয়ে সমস্যায় পড়েছি।

লাল কতো প্রকার ও কী কী? তুমি বলেছিলে যেদিন আমার চুম্বনের রঙ লাল হবে তুমি আমার হবে। কিন্তু আমার রক্তে শ্বেতকণিকার বিস্তার অভাবনীয়। মেরুন, মেজেন্ডা, রক্ত, স্কার্লেট, করবী, ক্যাডমিয়াম এইসবের মানে কী? বাউলরা চার চন্দ্রের সাধন করেন। লাল সম্পর্কে তাদের সম্যক ধারণা বিদ্যমান। ০৭. ঘুম নেই প্রিয় নদী, ফুলেরা অন্ধঘুমে।

কান্না আমার শোনো যদি-- এসো এই জল চুমে। অনেকদিন আগে আমি এই রকম একটা গান লিখেছিলাম। একজন সুর করেছিলো। অপর্ণা গেয়েছিলো। আমাকে শোনায় নি।

অন্যজন্মে আমার চুম্বনের রঙ লাল হবে।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।