আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ঢাকাই নদীর আর্তনাদ-১ : নদীখেকো দস্যুরা একটু একটু করে বুড়িগঙ্গাকে গিলে খাচ্ছে

zahidmedia@gmail.com

ঢাকাকে ঘিরে রেখেছে ৫টি নদী। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী এখন দখল-দুষণে মৃতপ্রায়। স্বার্থপর মানুষের অত্যাচারে আজ ঐতিহ্যবাহী এসব নদীর বুক থেকে বেরিয়ে আসছে আর্তনাদ- মৃত্যুযন্ত্রণা। নদী বাঁচাতে সরকারের পক্ষ থেকে বার বার উদ্যোগ নেয়া হলেও নদীর ক্রন্দন যেন থামছে না। ঢাকার নদীগুলোর দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে বার্তা সংস্থা ফোকাস বাংলা নিউজ ধারবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।

ফোকাস বাংলা নিউজের সিনিয়র সাব-এডিটর জাহিদুর রহমানের ‘ঢাকাই নদীর আর্তনাদ’ শিরোনামে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রথম পর্ব ব্লগে প্রকাশ করা হলো। ................ বুড়ীগঙ্গা নদীর প্রশস্ততা কমে আসছে দিনকে দিন। নদীখেকো দস্যুরা প্রতিদিনই একটু একটু করে দখল করে নিচ্ছে বুড়ীগঙ্গার দুই তীর। নানান তাল বাহানায় চলছে তাঁদের এই অপকর্ম। বুড়ীগঙ্গাকে কেন্দ্র করে একসময় গড়ে ওঠে বর্তমান ঢাকা।

কিন্তু দিনকে দিন বেড়েই চলেছে এ নদীটির ওপর অত্যাচারের মাত্রা। তবে এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে তা নিয়েও ঢাকাবাসীর নানা প্রশ্ন। সরেজমিনে বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী বাবুবাজার ব্রীজ ও আগানগর ব্রীজঘাটের দু’পাশ ঘুরে দেখা যায় নানা ধরনের স্থাপনা গড়ে তুলে নদী দখল করা হচ্ছে। কেউবা তৈরি করেছ কাঠের আড়ত, কেউবা বালুর আড়ত, কলার আড়ত অথবা মিলিয়েছে বাঁশের বাজার। তবে এসমস্ত স্থাপনার বেশীর ভাগেরই শুরুর দিকে ছোট থেকে শুরু হয় এবং দিনে দিনে এগুলোর আকার বাড়তে থাকে।

অনেক সময় প্রথমে নদীর পাশেই স্থাপন করা হয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, তার পরে সেই লাইন ধরেই স্থাপন করা হয়ে থাকে বিভিন্ন আড়ত ও গোডাউন। এই ধর্মীয় স্থাপনার আড়ালেই বাড়তে থাকে তাদের নদী দখলের কর্যকলাপ। বাবুবাজার ব্রীজ ও সদর ঘাটের মধ্যে নদী সংলগ্নে তৈরি করা হয়েছে অনেক আড়ত। এই অড়তের প্রতিটিই গড়ে তোলা হয়েছে নদীর জায়গা দখল করে। প্রথমে তৈরি করা হয় একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তার পরে সেই লাইনেই দিনে দিনে বেড়ে চলছে নদী দখলের পাঁয়তারা।

এ ব্যাপারে নদী পাড়ের এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, এই নদী আগে আরো বড় ছিলো কিন্তু যেভাবে দখল হচ্ছে তাতে একদিন নদীর আর কোনো চিহ্ন থাকবে বলে মনে হয়। আগানগর ব্রীজের সাথেই দেখা গেল কার্গো থেকে বালু নামানো হচ্ছে এবং নদীর পাড় ঘেঁষেই গড়ে তোলা হয়েছে বালু রাখার জায়গা। প্রথমে এই বালু রাখার জায়গা ময়লা রেখে ভরাট করা হয় এবং তার ওপরেই বর্তমানে তৈরি করা হয়েছে বালু রাখার জায়গা। স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেকদিন থেকেই এখানে রাখা হচ্ছে বালু। তবে এ ব্যপারে কখনও কেউ কিছু বলেননি এই বালু ব্যবসায়ী মহাজন মোঃ বাবলুকে।

তবে এ ব্যাপারে মহাজন বাবলুকে খোঁজ করলে জানা যায় তিনি এখন এখানে নেই। স্থানীয় জনগণ বলেন, দখলের প্রথম দিকে ফেলানো হয় ময়লা আবর্জনা। এক সময় ময়লা ফেলতে ফেলতে অবর্জনার স্তূপ বড় হয়ে উঠে, তার পরে সেখানে গড়ে তোলা হয় ছোট আকারের কোন স্থাপনা এবং এক পর্যায়ে সেখানেই স্থাপন করা হয় বড় ধরনের কোন স্থাপনা। নদীর দু’কূল জুড়েই গড়ে উঠছে নানা ধরনের স্থাপনা। একই সঙ্গে নদীতে নিষ্কাশন করা হচ্ছে ইন্ডাসট্রিয়াল ওয়েস্ট এছাড়া ঢাকার যাবতীয় মানবসৃষ্ট বর্জও নিষ্কাশন করা হচ্ছে এই নদীতেই।

ফলে দিন দিন নদী হারাচ্ছে তার সৌন্দর্য ও নাব্যতা একই সঙ্গে বিশাক্ত হয়ে উঠছে পানি। বিভিন্ন সময় সরকার ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গা নদীকে রক্ষায় নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। কিন্তু তাতেও হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য ফিরে পায়নি বুড়িগঙ্গা। তবে সরকারের সক্রিয় কোন পদক্ষেপ পাল্টে দিতে পারে এর চেহারা।



এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।