আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মৌলভীবাজারের লন্ডনী বাড়ি এবং অন্যান্য

!!!

বৃহত্তর সিলেটের যে জেলার লোকজন বেশী পরিমানে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সে জেলা হচ্ছে মৌলভীবাজার জেলা। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর কোন জেলা সবচেয়ে ধনী এর উত্তরে যদি মৌলভীবাজার জেলার নাম উল্লেখ করা হয় তবে তা অত্যুক্তি হবে না। কোন কোন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় সিলেট জেলা থেকে মৌলভীবাজার জেলায় বেশী। প্রবাসী তথা লন্ডনীদের (এই অঞ্চলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাত্রই লন্ডনী নামে পরিচিত) পাঠানো অর্থ ব্যয়ে এখানে গড়ে উঠেছে বিলাস বহুল বাড়ি, কমিউনিটি সেন্টার ও শপিং কমপ্লেক্স। সিলেটের সমাজ হয়ে উঠেছে পরমমাত্রায় 'কনজ্যুমার সোসাইটি'।

আপনি কোন শপিং সেন্টারে যান সেখানে আপনার চাহিত দ্রব্যাদির পাশাপাশি রয়েছে হোটেল-রেস্টুরেন্ট। অর্থাৎ আপনি সারাদিন যাতে কেনাকেটা করতে পারেন তার জন্য এই ব্যবস্হা। সারা বছর ক্রেতা হিসেবে পাবেন লন্ডনীদের। লন্ডন থেকে এই অর্থ কিভাবে আসে? বৈধ নাকি অবৈধভাবে? আসুন জেনে নেই সেই চমকপ্রদ তথ্য। প্রবাসী লন্ডনীরা অধিকাংশ মূলত রেস্টুরেন্ট ব্যাবসার সাথে জড়িত।

বৃটিশ ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট তৎপর থাকায় ব্যাবসায়ীরা ট্যাক্সের বিষয়ে খুব সচেতন থাকেন। তবে আইনের ফাঁকতো আছে বৃটিশরা যে রেস্টুরেন্ট পছন্দ করে তাতে নিয়মিত তারা যায়। ফলে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের সাথে ক্লায়েন্ট হিসেবে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই পরিচিত ক্লায়েন্টরা যখন বিল পরিশোধ করে তখন সম্পর্কের কারণে রসিদ না নিয়ে ক্যাশ অর্থ দিয়ে দেয়। এবং হিসেবের বাইরের এই অর্থ হয়ে উঠে ব্ল্যাকমানি।

যেহেতু ট্যাক্সবিহীন এই অর্থ লন্ডনীরা সেখানে ব্যবহার করতে পারে না ফলে এই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে চলে আসে দেশে। এই অর্থ দিয়ে তৈরী হয় বিশাল বাড়ি, কমিউনিটি সেন্টার ও শপিং কমপ্লেক্স -যা এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কোন ইতিবাচক ভূমিকা রাখে না। উল্লেখ্য পরিচিত ক্লায়েন্ট ছাড়া রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ কোনভাবেই ক্যাশ অর্থ রাখেন না। কারণ বৃটিশ ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টের অফিসাররা ক্লায়েন্ট সেজে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে ফাঁদে ফেলে অনেককে পথে বসিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশে অর্থ বিনিয়োগের বিষয়ে প্রবাসীদেরও রয়েছে ক্ষোভ। কোন উৎপাদনশীল কর্মকান্ডে যদি তাঁরা বিনিয়োগ করতে চান তাহলে যে ঝামেলা তাঁদের পোহাতে হয় তাতে তাঁদের আগ্রহ নেমে আসে শূণ্যের কোঠায়।

এমনও হয়েছে কোটি টাকা ব্যয়ের পরও অনেকে তাঁদের প্রকল্প বন্ধ করে ফেরত গেছেন। তবে সফলতা যে পাননি তেমন নয়। লন্ডনীরা এদেশে চা-বাগান, ইন্স্যুরেন্স ব্যাবসায় বেশ সফলতা দেখিয়েছেন। তবে তাঁদের সংখ্যা হাতে গোনার মতো। বাড়িগুলো দেখুন।

এসব বাড়িতে কিন্তু পাহারাদার ছাড়া কেউ থাকে না। বাড়ি যখন তৈরি হয় তখন বাড়ির মালিক আশেপাশের জমি ক্রয় করে বিশাল বাড়ি বানান। যে জমিতে হয়তো পূর্বে ধান চাষ হতো। ফলে এসব বাড়ি এলাকায় কৃষির উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অর্থের কি অপচয় !!! এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার যদি এসব প্রবাসীদের বিষয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করে, ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে তাঁদের উৎসাহিত করে তবেই হয়তো এই বিপুল পরিমান অর্থের একটা লাগসই ব্যবহার সম্ভব।

নচেৎ আমাদের নতুন নতুন বাড়ি, কমিউনিটি সেন্টার ও শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণ দেখেই যেতে হবে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.