আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

জানবার বড় সাধ- আমি কোন শ্রেণীর নাগরিক ? তব বঙ্গে, হে জননী !



আগেও একবার বলেছি, আমরা বরাবরই আক্রান্ত জাতি । শতাব্দীর পর শতাব্দী আমরা অন্যের বশ্যতা স্বীকার করে গেছি । আর্য,হুন, বর্গী, মোঘল, পাঠান, ইংরেজ, পাকি কে-না শোষণ করেছে আমাদের । সকল সময়ে আমরা দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক ছিলাম । কলোনীর যুগ শেষ হলেও নয়া কলোনী আমাদের পোস্ট মডার্ণ দাসত্বের জটিল জালে বেঁধে রেখেছে ।

আমরা কখনোই প্রথম শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত হতে পারবনা । তৃতীয় বিশ্বে জন্মানোর এ যেন এক আজন্ম পাপ ! কোন এক কালে আমার কানাডা পাড়ি দিবার শখ জেগেছিল । আমি যখন প্রস্তুতি শুরু করার চুড়ান্ত পর্যায়ে, আমার এক অনুজ ব্যাপারটায় বেশ আহত হল । আমার মত লোক দেশে থাকলে নাকি দেশের অনেক উপকারে আসব । বিদেশে গিয়ে তো দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে থাকব ।

আমি বলেছিলাম, দেশে আমি কোন শ্রেণীর নাগরিক ? তার সাফ জবাব ছিল-অবশ্যই প্রথম শ্রেণীর নাগরিক । তার সাথে ব্যাপারটা নিয়ে আমি তর্ক করিনি । পাছে তার মনেও বিদেশ যাবার খায়েশ জাগে -এই ভয়ে । কারণ ওর মত আমারও ধারনা ছিল ওর মত ছেলে দেশে থাকা জরুরী । আমার ভীনদেশগামী প্লেনের টিকেট কাটা হয়নি এখনো ।

তাই বলে শহীদ কাদরীর মত এভাবেও বলিনি - “কিন্তু তবু চুরুট ধরিয়ে মুখে তিন বোতামের চেক-কাটা ব্রাউনরঙা সুট প’রে, বাতাসে উড়িয়ে টাই ব্রিফকেস হাতে ‘গুডবাই’বলে দাঁড়াবো না টিকিট কেনার কাউন্টারে কোনোদিন- ভুলেও যাবো না আমি এয়ারপোর্টের দিকে দৌড়ুতে-দৌড়ুতে, জানি, ধরবো না মেঘ-ছোঁয়া ভিন্নদেশগামী কোনো প্লেন । ” রাজা যায় রাজা আসে, আমাদের ভাগ্যের শিকে আর ছিঁড়েনা । দিন বদলের শ্লোগান নিয়ে আসা এই সরকারের সময়টাকেও যদি বিবেচনায় আনি, দেখব নাগরিকত্বের কোন শ্রেণীতেই আমার স্থান নেই । বিজয়ী দলের মন্ত্রী-এমপি-জাতীয় নেতাদের প্রথম শ্রেণীর ধরলে, দ্বিতীয় শ্রেণীতে অনায়াসে সেইসব দলের দ্বিতীয় শ্রেণীর নেতা, বিরোধী দলের এমপি-জাতীয় নেতা এবং সরকারের ক্ষমতাকে পোক্ত করতে পারে এমন সব অস্ত্রধারীরা (সেনা) চলে আসবে; চলে আসবে সরকার সমর্থক বড় বড় ব্যবসায়ীরাও । ।

তৃতীয় শ্রেণীতে চলে আসবে বিজয়ী দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা, আমলা, পুলিশ, প্রশাসনের সাথে যুক্ত কর্তা ব্যক্তিরা । সরকার সমর্থক বিভিন্ন পেশাজীবিরাও দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণীর মধ্যে চলে আসবে । আমার মত তৃতীয় বিশ্বের হাড়-কংকালের চিহ্ন বহনকারীকে শ্রেণীভূক্ত করতে হলে মাঝে আরো অনেকগুলো শ্রেণী তৈরী করতে হবে - যার স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক ভাবে তো বটেই স্থানীয়ভাবেও নেই । আমি । মানে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তের মাঝামাঝি একজন মানুষ ।

যার নুন আনতে পানতা ফুরায়- সত্যিকার অর্থেই কি কোন দেশকে নিজের বলে দাবী করতে পারি ? দেশপ্রেম আমার জন্য কুহকীর ডাক । আমার রক্তে-মাংসে-হাড়ে-মজ্জায় স্বদেশপ্রীতির কোন চিহ্ন থাকাও পাপ । দুর্বলের কোন দেশ নেই । যেমন সবলের কোন নীতি নেই । আমি অস্ত্র এবং বারুদের ভাষায় কথা বলতে শিখিনি ।

আমি শিখিনি আমার অধিকার অন্যের ঘাড়ে পা দিয়ে আদায় করার মন্ত্র । আমি ভাবিনি কোনকালে সত্যিকার অর্থেই সম্পদের পাহাড় গড়তে হবে আমাকে । আমি শুধু পূর্বপুরুষের উত্তরাধিকার উত্তরপুরুষের কাছে পৌঁছে দেবার সনাতনী দায়িত্ব পালন করছি । সেদিন সেই অনুজকে একটি চ্যানেলে বাজেট নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে দেখলাম । সত্যিই ওদের মত ছেলেদের দেশের বড় দরকার ।

আর আমার মত লোকদের ? দেশপ্রেমহীন দ্রোহীদের ?ফাঁসীর দড়ি নয়- ক্রসফায়ারের তপ্ত বুলেটের স্পর্শ বড় বেশি প্রয়োজন । নইলে যে জননীকে বারবার শুনতে হবে অমর্যাদাকর সব প্রশ্ন !

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.