আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রিয়েল লাইফ জুকস (৩)

~ ভাষা হোক উন্মুক্ত ~
১) তখন আমি অনেক ছোট, স্কুলে ভর্তি হইনি তখনও। ছোট বোনটা মাত্র কিছুদিন আগে জন্মেছে। সারা দিন ওর সাথে খেলা করি, ওকে হাসাই। সেই সময় বাসার সামনে আব্বু টমেটো গাছ লাগিয়েছিলেন। অফিস থেকে এসেই সেই গাছের পেছনে লেগে পড়তেন।

একসময় গাছ ভর্তি করে টমেটো ধরলো তারপর একসময় সেগুলোর মধ্যে ২/১টা পেকে লাল টুকটুকে রঙ নিলো। আমি ভাবলাম এই তো সু্যোগ, এর চাইতে ভাল খেলনা আর হয়না, মনের সুখে দুহাতে টেনে টেনে ছিড়লাম ৫/৬টা টমেটো (দুহাতে যত গুলো ধরে আর কি)। মনে ছিলোনা যে আব্বু সেদিন বাসায়। বারান্দায় উঠতেই আব্বু দেখে ফেললেন, ফলে আমি খেলাম প্রচন্ড একটা চড় । কাঁদতে কাঁদতে গেলাম মা'র কাছে, সেখানেও আরেকটা কাঠের খুন্তির বাড়ি জুটলো।

ভাবলাম এই জীবন আর রাখবোনা। বোনের কাছ থেকে বিদায় নিলাম, আমার সব খেলনা দিয়ে দিলাম ওকে। শুনেছিলাম নিঃশ্বাস বন্ধ হলে মরে যায় মানুষ। তাই ছাদে গিয়ে এক কোনায় বসে নিঃশ্বাস নেয়া বন্ধ করে দিলাম, বেশীক্ষন থাকতে পারিনা, নিঃশ্বাস নিয়ে ফেলি। আবার চেষ্টা করি, কিন্তু আমার মরে যাওয়া আর হয়না কিছুক্ষন পর ছোট খালা আমাকে খুঁজতে ছাদে এলেন, জানতে চাইলেন কি করি, আমার অভিমানী উত্তর "মইরা যামু, তুমি যাও"।

আচ্ছা - তাহলে তুমি মরে যাও, আমি নীচে গিয়ে বিরিয়ানী খাই, বলে খালামনি চলে গেলেন, আমি ভেবে দেখলাম - মরে যখন যাবই, বিরিয়ানিটা খেয়েই মরি, নিচে নেমে আসলাম সাথে সাথেই ২) গুলশানে গেছিলাম একটা কাজে, গুলশান ১ নম্বর থেকে লোকাল বাসে উঠেছি, প্রচন্ড ভীড়, বাসের পেছনে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছি, এক লোক দরজা ধরে ঝুলছিলো, তার হারিকেনটা রেখেছিলো পেছনের একসারি সিটের নীচে। মহাখালীতে নেমে যাওয়ার আগে সে তার হারিকেনটা নেবে, কিন্তু বেচারার হাত যাচ্ছিলোনা হারিকেন পর্যন্ত, সে চেঁচিয়ে বললো - 'ভাইজানেরা, কেউ আমার হাতে হারিকেনডা দেন ইট্টু", শেষ সারির সিট থেকে কে যেন বলে উঠলো - "'হ বাই, উনার হাতে কেউ হারিকেনডা দেন, আমার কাছে বাঁশের লাডি আছে, জায়গা মত দিয়া দিতেছি, এক্কেরে হাতে হারিকেন ...'য় বাঁশ নিয়া বাইত যাক" ৩) সাইন্স ল্যাব থেকে মিরপুরের বাসে উঠেছেন এক লোক, অফিস টাইমের ভীড়ে বাসে পা ফেলার যায়গা নেই, বাসে উঠেই উনি বললেন - "আরি-ব্বাবা, এক্কেরে চিড়িয়াখানায় ঢুইক্কা পড়ছি দেহি"। পেছন দিক থেকে একজনের উত্তর "জ্বি ভাই, আমরা বাঘ সিংহগুলা অনেক্ষন থিকা বইসা আছি, ভাবতেছিলাম গাধাটা গেলো কই, এখন আপনে আইলেন, চিড়িয়াখানা পুরা হইলো" ৪) মিরপুর ১০ থেকে বাসটা ছাড়ার একটু পরেই কন্ট্রাক্টার এলো ভাড়া নিতে, এক লোক ভাড়া দিতে গিয়ে দেখে তার পকেটমার হয়েছে, পকেটের জায়গাটা নিখুঁত করে কাটা। লোকটা একটু থমকে গিয়ে হাসতে শুরু করলো। সবাই তো অবাক, পকেটমার হলে কেউ হাসে? সবাই জানিতে চায় - ঘটনা কি? হাসতে হাসতে লোকটা বললো - "মামু ছ্যাক খাইছে আইজকা, আমি তো ট্যাহা রাখি সামনের পকেডে, আর মানিব্যাগের মিধ্যে একটা কাগজে যে কইয়ডা গাইল জানি হেইডি লিখখা ভইরা রাহি, অহন মামু পড়তে পারলে হয়"
 


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।