আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সাম্প্রতিক অস্থিরতা-



যৌবনজ্বালা কিংবা হালের যৌবনযাত্রায় পিয়ালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সংযুক্ত করা অন লাইন পিটিশন বিষয়ে সবাইকে অবহিত করা মাত্রাই বিষয়টার পক্ষে ও বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয়েছে। উদ্যোগটি কেনো গৃহীত হলো এই নিয়েও অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সাধারণ মানুষের মাথায় এসেছে- তেমনই একটা হলো- মুক্তিযুদ্ধের আবেগকে ব্যবহার করে যৌবনযাত্রা তার প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্টের স্বীকৃতি আদায় করে নিলো। বাংলাদেশের বিনোদনজগতে প্রাপ্ত বয়স্ক ছবি প্রচারের অনুমতি পেতে হলে নির্দিষ্ট কতৃপক্ষ বরাবর আবেদন করতে হয়। এভাবেই দেশের অনেক প্রেক্ষাগৃহে প্রাপ্তবয়স্কদের ছবি চলছে। যদি উপযুক্ত ঘোষণা থাকে, তবে বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত ছবি চলতে পারে- আইনী বাধা রয়েছে তবে সেটা প্রজোয্য শুধুমাত্র এমনক্ষেত্রে যেখানে সরকারের অনুমতি না নিয়েই কেউ উন্মুক্ত ভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত বিনোদন কোনোরকম পূর্ব নির্দেশনা কিংবা ঘোষণা ব্যতীত সাধারণের ভেতরে বিক্রী করছে কিংবা লেনদেন করছে।

বাংলাদেশের সামাজিক পরিস্থিতিতে যৌনতা অপ্রয়োজনীয় বিলাসও নয়, তেমন কোনো নিষিদ্ধ ঘোষিত বিষয়ও নয়। এখানে অনুমতি না নিয়েও পর্ণোগ্রাফিক চলচিত্রের চিত্রধারণ করা হয়- র‌্যাব কিংবা অন্যান্য সংস্থা যখন চলচিত্রের অসুস্থ যৌনতার বিরুদ্ধে অভিযানে নামে তখন তার পেছনে একটাই কারণ থাকে তা হলো সাধারণকে সাবধান না করেই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত কিংবা গেনারেল কিংবা আনক্যাটাগোরাইজড বিভাগে ছবি জমা দিয়ে সেখানে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট প্রদান করা হচ্ছে। যৌবনজ্বালার নিজের বৈধতা প্রমাণের জন্য বাংলাদেশের সরকারের কাছে অনুমতি গ্রহন করতে হয় না। বাংলাদেশের অবকাঠামো থেকে হয়তো কোনো সাইটকে সাময়িক বন্ধ রাখা সম্ভব- তবে সেটা দেখবার উপায় অনেক রয়েছে। উন্মুক্ত অন্তর্জালে কাউকে কিংবা কোনো ওয়েবপেজকে আটকে রাখবার ব্যবস্থা আপাতত জানা নেই।

ফ্যামিলি ফিল্টার, বিশেষ ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট একটি কম্পিউটারে হয়তো এডাল্ট কনটেন্টের অনুপ্রবেশ রুখতে পারে কিন্তু সব কম্পিউটারের জন্য এই ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা কোনো সাইবার আইনে নেই। এডাল্ট সাইট মানেই নাকি নারীর প্রতি সহিংসতা প্রকাশের একটা ধরণ। অসংখ্য সমকামী সাইটে পুরুষদের ছবি দেওয়া আছে, মেয়েরাও ন্যাংটা ছেলে দেখছে এডাল্ট সাইটে গিয়ে, এমন কি সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে পর্ণোগ্রাফিক মুভি দেখা মেয়েরও দেখা পাওয়া যায় বাংলাদেশে। পূর্বে যখন ভিডিও সিডির যুগ ছিলো তখনও সেইসব ভিডিওক্যাসেট আর ভিডিও সিডির কাস্টমার হিসেবে মেয়েরাও ছিলো। তারা সবাই সমকামী বলেই নারীদের প্রতি সহিংস আচরণ করতো এমন সরল সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া অসম্ভব।

মূলত প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ যেমন নিজের যৌন সঙ্গী বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রাখে তেমনই সে কিভাবে নিজেকে বিনোদিত করবে সেটা বাছাই করে নেওয়ার অধিকারও সে সংরক্ষণ করে। কেউ যদি পর্ণোগ্রাফিক ছবি দেখে বিনোদিত হতে চায় এবং সে যদি প্রাপ্ত বয়স্ক হয় তবে তাতে কোনো বাধা নেই। যৌবনযাত্রা সাইটে কেউ নিবন্ধিত হতে চাইলে তাকে তার জন্মতারিখ প্রদান করেই নিবন্ধিত হতে হয়। যে যদি নিজেকে মাইনর হিসেবে তুলে ধরে সাইটের প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্টে তার প্রবেশাধিকার নেই। পাল্টা প্রশ্ন আসবে আসল বয়েস কিভাবে যাচাই করা যাবে- আমারও পাল্টা প্রশ্ন- এক টিকেটে দুই ছবি দেখা সবাই প্রাপ্ত বয়স্ক হয় না।

অনেক স্কুলের ছাত্রই এইসব ছবি দেখে, এখন বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্রের যুগের সূচনা হয়েছে , সুতরাং আইন করা যায় যাদের ভোটার আইডি আছে তারাই শুধু এক টিকেটে দুই ছবি দেখতে যেতে পারবে- এর বাইরে আইনত কিছু করা তো সম্ভব নয়। যৌবনজ্বালা নিজের বিজ্ঞাপনের জন্য এমনটা করছে কিংবা নিজের বৈধতা প্রদানের জন্য এমনটা করছে এমন ভাবনা আসবার কারণ কি? বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ২০০০ এর প্রতিবেদনের পরও যৌবজনজ্বালা বন্ধ হয় নি, কিংবা বাংলাদেশ থেকে এটা যেনো না দেখা যায় এমন কোনো ব্যবস্থাও গৃহীত হয় নি। সেটা এখন যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয় তবে এটুকু বলা যাবে যে বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরা নিজেরাই যথেষ্ট বিবেচনা করেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি জানাচ্ছে। সাধারণ মানুষের মনে হচ্ছে বিষয়টা মুক্তিযুদ্ধের অবমাননার পর্যায়েও চলে যেতে পারে। একই সাইটে মুক্তিযুদ্ধের ছবি এবং ন্যাংটা মেয়ের ছবির লিংক পাশাপাশি থাকলে সেটাতে মুক্তিযুদ্ধের গরিমা কি ধ্বংস হয়ে যায়? মানুষ নিজের দ্বিধা এবং নিজের সামাজিক সংকোচ অনেক ভাবেই নিরাপদ রাখতে চায়।

জনমানসের রুচি ও আমাদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টি বলে মায়া কান্না কাঁদা তার একটি পন্থা। গোপনে ধারণ করা ছবি কিংবা ভিডিও বিষয়ে অনেকের আপত্তি রয়েছে দেখা গেলো। কোনটা গোপনে ধারণকৃত- কোনটা স্বেচ্ছায় ধারণকৃত এবং প্রচারের উদ্দেশ্যে নির্মিত এমনটা জানা সম্ভব নয় মেনে নিলাম, তবে যদি সাইটের কতৃপক্ষকে অভিযোগ জানানো হয় তবে সাইট থেকে সেই ছবি নামিয়ে ফেলার মানসিকতা রয়েছে কতৃপক্ষের। সাধারণ ব্যবহারকারীদের ছবি দিয়েই চলে এমন সবকয়টা এডাল্ট সাইটেই এমন বিষয় সংযুক্ত আছে। শেষ কথা, পৃথিবীতে এত সাইট থাকতে কেনো এমন একটা সাইটে অন লাইন পিটিশন রাখতে হবে।

পবিত্র স্থান অনেক ছিলো অন্তর্জালে সবগুলো বাদ দিয়ে কেনো এমন একটা সাইটে এইপিটিশন রাখা যা নিজের প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্টের জন্য কুখ্যাত কিংবা পরিচিত। শেষমেশ একজন বললেছেন জেবতিকের লেখার মন্তব্যে- এই সাইটের পক্ষ থেকে যদি কোনো বাস্তব জীবনের র‌্যালী করা হয় তবে কতজন সেখানে যাবেন? সচেতনভাবে হলে অন্তত আমার ধারণা সবাই সেখানে উপস্থিত হবে। অন্তত একটি ফোরামে যা বাংলাদেশের আইন মোতাবেক নিষিদ্ধ কোনো কাজ করছে না- সেখানে যদি প্রাপ্ত বয়স্ক বিষয়াদি থাকে, সেই সাইটের পক্ষ থেকে সচেতনতা মিছিল নিয়ে মাঠা নামতে দোষ কি? সারাক্ষণ চ্যানেলে চ্যানেলে এইডস থেকে রাহাই পাওয়ার উপায় জানানো হচ্ছে, বাঁচতে হলে জানতে হবে যৌন জীবন সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠতে হবে এমন প্রচারণা চলছে, ড্রাইং রুমে সবার সামনেই প্রদর্শিত হচ্ছে জন্ম নিয়ন্ত্রনকারী বড়ি আর কন্ডোমের বিজ্ঞাপন। প্রচারিত হচ্ছে যৌনসুরসুরি দেখা পোশাক প্রদর্শনী। সেসব সাধারণ মানুষ সচেতন ভাবেই দেখছে- পিরিয়ড আর পুরোনোকে বাদ দিয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন পড়ে সুস্থ থাকুন বিজ্ঞাপণ প্রচারেও আপত্তি নেই সরকারে।

যত সমস্যা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি এমন একটা সাইটে শুরু করা যার একটা প্রাপ্ত বয়স্ক সেকশন আছে। যারা বিরোধিতা করছেন, তারা অন্য কোনো সামাজিক সাইটে গিয়ে এই পিটশন রাখুক, সামহোয়্যারেও একটি পিটিশন রাখবার ব্যবস্থা করা যায়- অনেক সাইটেই এই পিটিশন যুক্ত করা যায়- বাংলাদেশের বাস্তবতা হলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তইক ফোরাম ও সাইটগুলো শুধুমাত্র কতিপয় মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অবসেসড মানুষ এবং এমন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংগঠিত মানুষের নিয়মিত পদচারনার মুখর। তাদের সাইটের ভিজিটর কম- ব্যপক প্রচারণাও সেটাকে জনপ্রিয় করে না। দুধ বেচে মদ খাওয়ার মানুষের অভাব নেই এখানে, শুধু অভাব মদ বেচে দুধ খাওয়া মানুষেরা। একজন যদি যৌবনজ্বালা কিংবা যৌবনযাত্রা থেকেই বিচারের দাবি তুলে সমস্যা কোথায়? যারা এটাতে আক্রান্ত বোধ করছে তারা অন্য কোথাও এই দাবি উত্থাপন করুক।

আমি সবগুলোতে গিয়ে সাক্ষর করে আসবো। যত কণ্ঠ সোচ্চার হলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাস্তবে সম্ভব হবে, তত কণ্ঠ থেকে প্রতিবাদ উঠিয়ে আনা হোক। অমি পিয়াল করছে যৌবনযাত্রায়, ফেসবুক আছে, সামহোয়্যার ইন আছে, প্রথম আলো ব্লগ আছে। প্রযুক্তি ফোরাম আছে, সব খানেই এখন দাবি সম্বলিত পিটিশন রাখা হোক/ দেখা যাক কোথায় কতজন এই বিচারের দাবিতে সহমত প্রকাশ করে। যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের দাবি একমত হোন, অন লাইন পিটিশনে সাক্ষর করুন।

হোক না সেটা যৌবনজ্বালায় কিংবা ইসলাম অনলাইনে - আসুন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবি তুলি।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.