আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মনোবিজ্ঞানি অধ্যাপক জেমস ম্যাস, আমাদের ছানোয়ার হোসেন ও যৌন হয়রানি: প্রয়োজন নীতিমালা

রাজনীতি ও অর্থনীতি এই দুই সাপ পরস্পর পরস্পরকে লেজের দিক থেকে অনবরত খেয়ে যাচ্ছে

ড. জেমস ম্যাস একজন নামকরা মনোবিজ্ঞানী। যুক্তরাষ্ট্রের কর্ণেল ইউনিভার্সিটির অত্যন্ত নামকরা এই প্রফেসর ঘুম নিয়ে কাজ করে আজ অব্দি প্রসিদ্ধ। ১৪ বছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পড়িয়েছেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বিখ্যাত। তাঁর ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯শ এবং তাঁর কাশই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড়।

তাকে বলা হতো জুয়েল অব দ্য কর্ণেল। পাওয়ার স্লীপ তার লেখা একটি বেস্ট সেলিং বই। এবার ড. ম্যাসের আরেকটি দিকের কথা বলি। সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৪ সালে ড. ম্যাসের প্রাক্তন চারজন ছাত্রী তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হয়রাণির অভিযোগ আনে।

দুজনের অভিযোগ ছিল ড. ম্যাস তাদের স্পর্শ করতেন, চুমুও খেয়েছেন। একজন বলেছিলেন যে ড. ম্যাস তার স্তন চেপে ধরেছিলেন। আর সর্বশেষ জনের অভিযোগ ড. ম্যাস তাকে অত্যন্ত দামী উপহার দিয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল পোশাক ও অলঙ্কার। এর পরে শুরু হয় তদন্ত। কলেজের প্রফেশনাল এথিকস কমিটির সিনিয়র সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্ট কাউনসিলার তদন্ত শেষে পাঁচদিন ব্যাপী শুনানীর আয়োজন করেন।

শুনানী শেষে রায় দেওয়া হয় যে অধ্যাপক জেমস ম্যাস যারা করেছেন তা যথাযথ ছিল না এবং তা যৌন হয়রানির মধ্যেই পড়ে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপ কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। তবে ড. ম্যাসের বক্তব্য ছিল অন্যরকম। তিনি বলেছিলেন তিনি মূলত কাশের পরিবেশ সহজ করতেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশতেন। এর পেছনে অন্য কিছু ছিল না।

ড. ম্যাস কর্ণেলের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে ১৫ লাখ ডলার তিপূরণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিউইয়র্ক কোর্টে ১৯৯৫ সালে। আদালত ১৯৯৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষেই রায় বহাল রেখেছিলেন। অর্থাৎ এত বড় একজন শিক্ষাবিদ হয়েও তিনি শেষ পর্যন্ত আইনী লড়াইতেও হেরে যান। একজন অতি জনপ্রিয় শিকের ছিল এই পরিণতি। এর পর পর্যায়ক্রমে ড. ম্যাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরে যান।

কেননা তাকে বলে দেওয়া হয়েছিল এ ধরণের ঘটনা আরও ঘটলে চাকরি চলে যাবে। ইন্টারনেট ঘাটতে গিয়ে পেলাম এই কাহিনী। বিশ্বের সেরা ২০টি যৌন হয়রানির কাহিনীতে ড. ম্যাসের অবস্থান ১৫তম। এই তথ্য ঘাটতে হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌণ হয়রানির অভিযোগ থেকে শিক্ষক ছানোয়ার হোসেনের রেহাই পাওয়া নিয়ে। সাক্ষী ছাড়া ধর্ষনও আসলে এখানে আইনসঙ্গত।

এখন সময় এসেছে আসলে যৌন হয়রানি নিয়ে নীতিমালা গঠনের। রাসেল, কৌশিক, ভাস্করদা এবং আরিফ জেবতিক ভাই পোস্ট দিয়েছেন। সমর্থন করে আমার এই পোস্ট দেওয়া। নীতিমালা গঠন এবং তা দেখভাল করার জন্য বাইরের মতো কোনো এথিকস কমিটি বা কাউন্সিলও থাকা প্রয়োজন। আসুন আমরা সবাই সচেতন হই।

আমার বোন এখন পড়ে, কদিন পর আমার মেয়েও পড়বে। এভাবেও কি ভেবে দেখবেন সবাই?

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।