আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

চলুন ঘুরে আসি সিউল গ্র্যান্ড পার্ক-পর্ব ২

গলাবাজ আর সত্যিকারের লেখক এই ব্লগে টিকে থাকে, আমি কোনটাই না

পর্ব ১ এখানে চিড়িয়াখানার গেটে টিকিট দেখিয়ে ঢুকলাম, একটা র‌্যাকে দেখি সব লিফলেটই কোরিয়ান ভাষায়। গেটের এক মহিলাকে বল্লাম ইংরেজীতে গাইড বই নাই? সে আরেকটা র‌্যাক দেখিয়ে দিলো। নিয়ে তো মাথা আরও গরম, এত কিছু কেন? আমাদের মেইন টার্গেট ছিলো ডলফিন শো। নেটে ওদের সাইটে ইংরেজীতে যেটুকু তথ্য তাতে জেনেছিলাম দিনে ৩ টা শো। প্রথমটা দুপুর সাড়ে বারোটায়।

বারবার ঘড়ি দেখছি, তখন কেবল সাড়ে দশটা, হাতে আরও দু ঘন্টা তাই ডলফিন শোর আশেপাশে ঘোরা শুরু করলাম। শুরুতেই এক জায়গায় অনেক ফ্লেমিংএর বিচরণ সেকি গলা আর ঠোঁট প্রথমেই দেখি একপাল সাদা গোলাপী পাখি (ফ্লেমিংগো) দৌড়াদৌড়ি করছে। ওখানে একটা আর্টিফিসিয়াল ঝর্নার থেকে রংধনু তৈরী হচ্ছিলো, ওখানে কিছুক্ষণ থেকে সামনের দিকে গেলাম। সেখানে দেখি জিরাফ ভাইয়ারা ঘুরাঘুরি করছে। ওদের ইয়া লম্বা লম্বা গলা আর শরীর দেখে খুব অসস্তি হলো কেনো যেন।

হালকা রংধনুর মতো দেখা যাচ্ছিলো ওখানে আর কারও দরকার হলোনা ওদের গলা এতো লম্বা হলো কেন? আরেকটু সামনে গেলাম, ওখানে অনেকগুলো বেজী প্রজাতির মিয়ারক্যাট লাফাচ্ছিলো। আমার জন্য খুব সুন্দর করে পোজ দিলো তাদের কয়েকজন। এর ঠিক পাশেই ইয়া বড় এক জলহস্তী ঘুমাচ্ছিলো, হাজার হোক আমি গেছি তাই অনিচ্ছা সত্বেও সে আড়মোড়া ভেংগে উঠলো আর তুললো ইয়া বড় এক হাই। সাথে সাথে সেটা আমি ক্যামেরায় বন্দী করে নিলাম। ক্যামেরা .... আ্যাকশান সাইড থেকেও তো পোজ দেয়া দরকার ঐ হা তে যে কেউ ঢুকে যেতে পারবে দুটো পানির ভিতরে জলকেলি করিতেছিলো জলহস্তীর পরেই দেখি একপাল গরু না ছাগল (বুঝতে পারিনাই)।

দাড়ি মাটি ছুই ছুই। তারা আবার বেশ একেকজন একেক পজিশনে বসে ছিলো, এটুকু শিওর তাদের ভিতর শ্রেনী বৈষম্য বিদ্যমান। ঠিক সামনে দেখি একটা ছোট সাইজের ফুল বাগান। ওখানে একটু ছবি তোলার জন্য থামলাম। পাশেই চার পাঁচটা টিনএজ মেয়ে খুব চিল্লাচিল্লি করছিলো।

তাদের একজন এগিয়ে এসে বলে ক্যান আই টেক আ পিক উইথ ইউ? দিলাম পোজ তাদের সাথে। কি খুশি বিদেশীর সাথে ছবি তুলে। এক মেয়ের একটা ছবিতে গেলো চোখ বন্ধ হয়ে। ফলে আরেকটা তোলা লাগলো, সেজন্য বার কয়েক সরি সরি করলো বেচারা। একেক তলায় একেকজনের অবস্হান ইনি মনে হয় রাজা... এবার খুঁজে পেলাম শীল মাছের আড্ডাখানা, একটানা ডেকেই যাচ্ছে কোনটা না কোনটা।

বল্লাম ছবি তুলবো একবার বলায় রাজি হয়ে গেলো। দুটো ঘুমাচ্ছিলো ওভাবেই তাদের ছবি তুলে নিয়ে আসলাম। ছবি তোলার জন্য হালকা মাথা উঁচু করছিলো এরা ছবির কেয়ার করেনা তাই ঘুমাচ্ছে আহ কি শান্তির ঘুম ডলফিন শোর গেটে যেয়ে মেয়েটাকে বল্লাম শো তো সাড়ে বারোটায় কটায় ঢুকতে দিবা, বললো বারোটায়। তখনো বিশ মিনিট প্রায় বাকি, তাই পাখির খাঁচার দিকে গেলাম। পাখি দেখতে দেখতে মনে হলো কিছু পেটে দেয়া দরকার।

একটু কেক আর জুস খেয়ে নিলাম। ডলফিন শো দেখে লান্চ করবো। পোজ দিতে কেউ কম যায়না পাখিটার নাম জানিনা, তবে রংটা ভালো লাগছে চলবে...

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।