আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ঈমান প্রসঙ্গ -৩

রাজা

আসমানী কিতাব সমূহের উপর বিশ্বাস একজন মুসলমান হিসাবে এ বিশ্বাস স্থাপন করবে যে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবী ও রাসুলগনের উপর অনেকগুলো কিতাব অবতীর্ন করেছেন যাতে তারা মানুষের নিকট আল্লাহর পয়গাম পৌছে দিতে পারেন। অর্থাৎ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপন সত্যের ঘোষণা এবং তার প্রতি আহ্‌বান জানানোর উদ্দেশ্যে তাঁর নবী ও রাসুলগণের ইপর বহুসংখ্যক কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। এ কিতাব সমূহে রয়েছে আল্লাহর তাওহীদ ও ইবাদতের প্রতি আহ্‌বান, আল্লাহর প্রতি ঈমাণ, আখেরাতেরে প্রতি ঈমানের দিকে আহ্‌বান। উত্তম চরিত্র ও মর্যাদাপূর্ন আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ, নিকৃষ্ট চরিত্র ও খারাপ কাজ হতে সতর্কীকরণ। সুরা – বাক্কারাহ (২:২১৩) সকল মানুষ একই জাতি সত্তার অন্তর্ভুক্ত ছিল| অত:পর আল্লাহ্ তা’আলা পয়গম্বর পাঠালেন সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকরী হিসাবে| আর তাঁদের সাথে অবর্তীণ করলেন সত্য কিতাব, যাতে মানুষের মাঝে বিতর্কমূলক বিষয়ে মীমাংসা করতে পারেন| বস্তুত: কিতাবের ব্যাপারে অন্য কেউ মতভেদ করেনি; কিন্তু পরিüকার নির্দেশ এসে যাবার পর নিজেদের পারস্পরিক জেদবশত: তারাই করেছে, যারা কিতাব প্রাপ্ত হয়েছিল| অত:পর আল্লাহ্ ঈমানদারদেরকে হেদায়েত করেছেন সেই সত্য বিষয়ে, যে ব্যাপারে তারা মতভেদ লিপ্ত হয়েছিল| আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছা, সরল পথ বাতলে দেন| সুরা হাদীদ (৫৭:২৫) আমি আমার রসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে| আর আমি নাযিল করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচন্ড রণশক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার| এটা এজন্যে যে, আল্লাহ্ জেনে নিবেন কে না দেখে তাঁকে ও তাঁর রসূলগণকে সাহায্য করে| আল্লাহ্ শক্তিধর, পরাক্রমশালী| পবিত্র কুরাণে যে সব আসমানী কিতাবের উল্লেখ এসেছে (আল্লাহ তায়ালা যে সব কিতাবের নাম উল্লেখ করছেন) তার প্রতি আমরা আরও বিশদভাবে বিশ্বাস স্থাপন করব।

• কুর’আন কারীম – হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর নাযিল করেছেন। • তাওরাত – মুসা (আঃ) এর উপর নাযিল করেছেন। • ইঞ্জিল – ঈসা (আঃ) এর উপর নাযিল করেছেন। • যবুর – দাউদ (আঃ) এর উপর নাযিল করেছেন। • ইব্রাহীম (আঃ) এবং মুসা (আঃ) এর সহীফাসমূহ।

আসমানী কিতাব সমূহ এর উপর বিশ্বাস এর অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে আমরা এ বিশ্বাস স্থাপন করবো যে এসব আল্লাহ তয়ালার কালাম বা কথা যা তিনি নবীদের উপর নাযিল করেছনে। এইসব কিতাবের মধ্যে যা উল্লেখ করা হয়েছ তা বিশ্বাস করা। এসব সম্পর্কে যেসব বিশুদ্ধ বর্ননা রয়েছে তা সত্য মনে করা। এর মধ্যে কুর’আন সর্বোত্তম, সর্বশেষ ও রহিতকারী কুর’আন পূর্ববর্তী অপর কিতাব সমূহের সংরক্ষক ও সত্যয়নকারী। গোটা মানবজাতির উপর ওয়াজিব হচ্ছে এ কিতাবের অনুসরন করা এবং সাথে সাথে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর যে সব বিশুদ্ধ সুন্নাহ সহ এরই মীমাংসা মেনে নেওয়া।

আমরা এ বিশ্বাস স্থাপন করব যে, পবিত্র কুর’আন ব্যতীত বাকী সব কিতাবেই বিকৃতি, পরিবর্তন ও বিনষ্ট সাধন করা হয়েছে। আর পবিত্র কুর’আন –এ কোন বিকৃতি হয় নাই। এ প্রসংগে সুরা- হজির (১৫:৯) আমি স্বয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ অবতারণ করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক। আসমানী কিতাবসমূহে বিশ্বাস . আল্লাহর বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমত সম্পর্কে জানা এভাবে যে, তিনি তাদের উদ্দেশ্য আসমানী কিতাব সমূহ নাযিল করেছেন যাতে বাতিল হতে হক বা সত্যকে সুপষ্ট করে দিয়েছেন। . আল্লাহর পরিপূর্ণ প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের পরিচয় লাভ করা ।

. কিকাব সমূহের সর্বশেষ কিতাবের অনুসরনের মাধ্যমে হেদায়েতে পৌছা বা হেদায়েত লাভ করা আর তা হচ্ছে কুর’আননুল করীম। . কোরণ করীম তেলায়াত এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা এবং এতে যে বিধি বিধান আছে সে অনুযায়ী আমল করা। কুর’আন এর ক্ষেত্র আমাদের করণীয় – কুর’আন কে ভালবাসা এবং তার মহত্ব উপলব্ধি করা কেননা এটি আল্লাহর কালাম কা বাণী। কুর’আন তেলায়াত, হেফাজত ও তার আয়াত সমূহ চিন্তা গবেষনা করার মাধ্যমে ইবাদত পালন করা। কুর’আন এর বিধান এর মাধ্যমে আমল করা তার আখলাক চরিত্রবান হওয়া তার আদবে শিষ্টাচার লাভ করা।

আমাদের জীবনের প্র্রত্যেকটি ক্ষেত্রে কুর’আন এর বিচার ফয়সালা মেনে নেওয়া। সুরা আল ইমরান (৩:৭) তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন| তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুýপষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ| আর অন্যগুলো রূপক| সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর| আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ্্ ব্যতীত কেউ জানে না| আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেন: আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি| এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে| আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না| সুরা – ইউনুস (১০:৩৭) আর কোরআন সে জিনিস নয় যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কেউ তা বানিয়ে নেবে| অবশ্য এটি পূর্ববর্তী কালামের সত্যায়ন করে এবং সে সমস্ত বিষয়ের বিশ্লেষণ দান করে যা তোমার প্রতি দেয়া হয়েছে, যাতে কোন সন্দেহ নেই-তোমার বিশ্বপালনকর্তার পক্ষ থেকে| সুরা –বনী ঈসরাইল (১৭:৯) এই কোরআন এমন পথ প্রদর্শন করে, যা সর্বাধিক সরল এবং সৎকর্ম পরায়ণ মুমিনদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্যে মহা পুরস্কার রয়েছে| দ্বিতীয় পর্ব প্রথম পর্ব চলবে...

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।