আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বুশ যাচ্ছেন , আসছেন কে ?



বুশ যাচ্ছেন , আসছেন কে ? ফকির ইলিয়াস ------------------------------------------------------------- যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র ক' মাস বাকি। ২০০৮ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠ গরম করে তুলেছেন রাজনীতিকরা। বিশেষ করে হিলারি ক্লিনটন প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেয়ার পরই পাল্টে যায় অনেক দৃশ্য। শিকাগো অঙ্গরাজ্যের প্রভাবশালী সিনেটর কৃষ্ণাঙ্গ নেতা বারাক আবামা ও, প্রাইমারিতে লড়ছেন। কিন্তু ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে লড়ে কে জিতবেন তা বলা যাচ্ছে না।

এখানে নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে হিলারি ক্লিনটন যতোটা নাড়া দিতে পেরেছেন তা হওয়ার কথা ছিল না। পরিস্খিতি বাধ্য করেছে, একজন নারী সিনেটরকে এতো সামনে এগিয়ে যেতে। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ মংগলবারের সুপার টুইস ডে'র পরই স্পষ্ট হয়ে যাবে সব চিত্র। রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে জন ম্যাকেইন প্রায় চুড়ান্ত বলা যায়। অবস্থা যাই হোক না কেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা।

তাদের বক্তব্য হচ্ছে, মার্কিনি ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বলে, এখনো যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ইহুদি বংশোদ্ভূত (জুইশ) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হননি। শ্বেতাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বাদ দিলে নীতিনির্ধারক জুইশদের মেধা, প্রজ্ঞা এবং রাজনীতির অগ্রসরমানতার বলে তাদের গোত্রীয় কোনো নেতাই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হওয়ার কথা। তারপর কোনো মহিলা প্রেসিডেন্ট হতে পারেন। এবং সম্ভাবনার শেষ অবস্খানে রয়েছেন কৃষ্ণাঙ্গ কোনো নেতা। অর্থাৎ জুইশ, এরপর নারী এরপর কৃষ্ণাঙ্গ­ এই ধরাবাহিকতায় মার্কিনিরা মনে মনে একটি ভবিষ্যৎ চিত্রকল্প এঁকে রেখেছেন।

তাহলে কি হিলারি ক্লিনটন এই জমাকৃত ধারণা ভেঙে দেবেন? এমন একটি ধারণা আজকাল বেশি আলোচিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। অতীত ইতিহাসে দেখা যায়, কৃষ্ণাঙ্গ প্রভাবশালী নেতা জেসি জ্যাকশন ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে এর আগে লড়ে হেরে গিয়েছেন। তারপর বারাক অবামাই দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিসেবে প্রাইমারিতে লড়ার ঘোষণা দিলেন। এই ঘোষণা দেওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে ইরাক যুদ্ধ। কারণ মার্কিনি অনেক রাজনীতিক মনে করছেন, তারা ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করে সম্ভবত লাইম লাইটে আসতে পারবেন।

যদিও বাস্তবে তা হওয়ার সম্ভাবনা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা কংগ্রেস এবং সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দখল পেলেও তারা কি খুব শক্তিশালীভাবে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করতে পারছেন? কিংবা প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে পাল্টাতে পারছেন? না, পারছেন না। আর পারছেন না বলেই প্রেসিডেন্ট বুশ কোনো কিছুর পরোয়া না করেই ইরাক নীতির সিদ্ধানএত অটল রয়েছেন। স্টেট অফ ইউনিয়নে প্রেসিডেন্ট যে ভাষণ গেলো কদিন আগে দিয়েছেন, তাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের শিক্ষা, চিকিৎসা, সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে এনেছেন। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরাকে যুদ্ধ অব্যাহত থাকলেও ২০০৬-২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চাঙ্গা ছিল।

পরোক্ষভাবে বুশ বলে দিয়েছেন, তেলের বাজার রক্ষা এবং সমতা রাখার যে প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র করছে তা অনেকটা সফল হয়েছে। আর নিরাপত্তার নামে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের প্রতি আঙুল উঁচিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেছেন, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনেই যুক্তরাষ্ট্রকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর থাকতে হবে। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরাকের আভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে ঝানু কূটনীতিক, সমর বিশেষজ্ঞ এবং পলিটিক্যাল এক্সপার্টদের বাগদাদ পাঠানো হবে। আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে নিযুক্ত বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিশিয়া বিউটেনিসকে ইতিমধ্যেই বাগদাদে পাঠানো হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবিন্দুতে পৌঁছতে এই যে মার্কিনি প্রচেষ্টা­ তা অব্যাহত থাকবে এটা স্পষ্ট করে বলা যায়।

মার্কিন রাজনীতিতে একটি বিশেষ সুবিধা হচ্ছে এখানে দলকে নেতা তৈরি করতে হয় না। নেতারা তৈরি হয়েই বছরের পর বছর লাইনে অপেক্ষা করতে থাকেন। নির্বাচনের আগে হঠাৎ করেই দেখা যায় কেউ না কেউ সামনে এগিয়ে এসেছেন। দলের হাল ধরেছেন এবং মনোনয়নও পেয়ে গেছেন। ২০০৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জর্জ বুশের সঙ্গে ডেমোক্রেট প্রার্থী জন কেরির আগমন কিন্তু এভাবেই ঘটেছিল।

এছাড়াও বব ডোল, মাইকেল ডুকাকিস এমনকি বহুল আলোচিত প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও কিন্তু একই কায়দায় উঠে আসা ডেমোক্রেট নেতা। রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেট উভয়পক্ষের এমন অনেক নেতাই হঠাৎ ঝলসে উঠেছেন এবং প্রার্থিতাও পেয়েছেন। সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে নেতারা জনগণের কতোটা প্রিয় হয়ে সামনে আসতে পেরেছেন। এখানে আরেকটি কথা মনে রাখা দরকার, ইমিগ্র্যান্ট অধ্যুষিত নিউইয়র্ক, শিকাগো, ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বড়ো স্টেটগুলোই কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাপকাঠি নয়। শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যগুলোর নীরব ভোট বিপ্লব এবং ব্যবসায়ীদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা অনেকটাই নির্ধারণ করে ডেমোক্রেট রিপাবলিকানদের ভাগ্য।

এটা কে না জানে, একটি বোমা ফোটানোর সুযোগ এলেই আরো ১০টি বোমা বানানোর অর্ডার পড়ে। আর তখনই অস্ত্র নির্মাণাগারগুলোর কাজের পরিধি বেড়ে যায়। নিরাপত্তার নামে বিশ্বে অস্ত্র ব্যবসার দাপট দেখানোও অভিন্ন গণতন্ত্র চর্চার অংশই হয়ে গেছে আজকাল পরাক্রম শক্তিদের কাছে। যেমন ধরা যায় ইরান বিষয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কগুলোর কথা। অনেক কংগ্রেসম্যান, সিনেটররা মনে করেন, আলোচনার মাধ্যমেই ইরান সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।

জাতিসংঘ এ বিষয়ে ভূমিকা রাখুক। কিন্তু পূর্বের কায়দায় বুশই এককভাবে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করে ২০০৮ সালে ক্ষমতা ত্যাগের আগে একটি ‘অ্যাকশনের রোড ম্যাপ করে যেতে চাইছেন। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বারাক অবামা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরান ইস্যুটি কূটনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে। ইরাকের দরজার কাছে ইরানে আরেকটি যুদ্ধ উপত্যকা তৈরি করা যুক্তরাষ্ট্রের বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক হবে না। হিলারি ক্লিনটন ও পাড়া ফেলছেন খুব হিসেব করে।

পরিস্থিতি এমন হতে পারে প্রাইমরিতে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিসেবে হিলারী জিতলে , জন ম্যাকেইন ই হবেন পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কারণ, আমেরিকা এখনো মহিলা প্রসিডেন্টের জন্য প্রস্তুত কিনা সে প্রশ্ন এখনো তুংগে। আর কৃষ্ণাংগ বিষয়ে প্রশ্ন তো আছেই। তাহলে কি আবারো রিপাবলিকানরাই জয়ী হয়ে আসছে ??

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।