আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

স্বপ্নের হাতিরঝিল প্রকল্পে দু:স্বপ্নের হাতছানি : প্রয়োজন কার্যকরী আইনি হস্তক্ষেপ

জানতে চাই........

রিবেশ ও নান্দনিকতার দিক থেকে হাতিরঝিল প্রকল্প রাজধানী ঢাকায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে, এটা সত্যি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চলতি বছরে ২ জানুয়ারি থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয় স্বপ্নের এ হাতিরঝিল প্রকল্প। বিস্তারিত ও তথ্য সুএ: Click This Link প্রকল্পের শুরুতেই ঝিলের গতিপথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো ‘বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি’ (বিজিএমইএ)-এর অবৈধভাবে নির্মিত বহুতল ভবনটিকে পাশে রেখেই এগিয়ে চলছিলো প্রকল্পের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে র্যাংশগস ভবন ভেঙে ফেলা হলেও অজানা কারণে হাইকোর্টের নির্দেশনা ক্রমাগত অবহেলা করেই প্রশাসনের নাকের ডগায় বিজিএমইএ’র এ ভবনটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে। যেন ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ এটি।

সবকিছু ভুলে সৌন্দর্যপিয়াসি মানুষ দুর্গন্ধযুক্ত ও বসবাসের প্রায় অযোগ্য রাজধানীর বুকে একটু প্রাণ খুলে নি:শ্বাস নিতে ঝিলের পরশ পেত শুরু করেছিলো। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই নগরের সৌন্দর্যকে নষ্ট করতে এক শ্রেণির মানুষ উঠে পড়ে লেগেছে। দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে মানুষের ঢল যখন বাড়তে শুরু করল ঠিক তখন এক শ্রেণির দুষ্ট ব্যবসায়ীদের ছত্রছায়ায় রাতের রানীদের (ভ্রাম্যমাণ পতিতাদের) আনাগোনা বাড়তে লাগল এ অঞ্চলে। এখন রাত নামলেই দেখা যায় রাস্তার আশে-পাশে কিংবা ঝিলের পার্শ্ববর্তী ছোট ছোট ঘরের সামনে খদ্দেরের অপেক্ষা করছে এরা। ফলে সুন্দর পরিবেশ ধীরে ধীরে বিষাক্ত হতে শুরু করেছে।

এর সাথে ইদানিংকালে যোগ হয়েছে ঝিলের পানির দুর্গন্ধ। বর্জ্য মিশ্রিত পানির দুর্গন্ধ দিন দিন সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। মানুষ এখন নাকে রুমাল চেপে লেক এলাকা অতিক্রম করছে। এ কারণে হাতিরঝিল লেকের বিনোদনপ্রেমীদের সংখ্যাও দিন দিন কমতে শুরু করেছে। কারণ হিসেবে এলাকাবাসী বলছে, লেকে আগে বিভিন্ন লাইনের পানি আসত।

পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এতদিন গন্ধ বোঝা যায় নি। এখন শুধু ঢাকা ওয়াসার লাইনের পানি আসছে লেকে। আর ওয়াসার লাইনের পানির সবই মল ও বর্জ্য মিশ্রিত। সোনারগাঁও হোটেলের দক্ষিণ পাশের বেগুনবাড়ি খাল ও টঙ্গী ডাইভারশন রোড হয়ে রামপুরা ব্রিজের মাঝের নিম্নাঞ্চল পর্যন্ত পুরো লেক ঘুরে দোগোনাও অনেক বেড়ে গেছে। ’ বেগুনবাড়ি খালসহ হাতিরঝিল এলাকার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের পানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার।

ওয়াসার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক প্রকৌশলী জানান, রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় আলাদা কোনো পয়ঃনিষ্কাশন লাইন নেই। গভীর ড্রেনগুলো দিয়ে পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন হচ্ছে। এ কারণে হাতিরঝিল লেকে মল ও বর্জ্য মিশ্রিত পানি ঢুকে পড়ছে। এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি, পানি নিষ্কাশন ও পয়ঃনিষ্কাশনের আলাদা লাইন তৈরি করার।

এটা করা গেলে আশা করছি হাতিরঝিলের পানিতে আর এমন দুর্গন্ধ থাকবে না। ” অথচ প্রকল্পের শুরুতে এমনটা হওয়ার কথা ছিলো না। প্রকল্প বাস্তবায়নে সারা বছর ঝিলের পানি স্বচ্ছ রাখার ব্যবস্থা থাকার কথা ছিলো। ঝিলের চারদিকে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ওভারপাসসহ ঝিলের দুপাশে পূর্ব-পশ্চিমে সড়ক নির্মাণ করা, লেকের এপার থেকে ওপারে যাওয়ার জন্য দৃষ্টিনন্দন সেতু, নজরকাড়া বাহারি ফোয়ারা, চমৎকার শ্বেতশুভ্র সিড়ি নির্মাণ করা হয়। বিনোদনের জন্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, শিশুপার্ক, বিশ্বমানের থিয়েটার, শরীর চর্চা কেন্দ্র, পর্যটকদের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদ কিংবা পালতোলা নৌকায় নৌবিহার করার সুবিধা থাকারও কথা ছিলো।

বেগুনবাড়ি খালসহ হাতিরঝিল এলাকার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। প্রকল্পের মূল কাজ প্রায় শেষ। কিছু সাইটে প্রকল্পের কাজ এখনও চলছে। জুন ২০১৪ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজও শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিলো জুলাই ২০০৭ সালে।

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বন্যা প্রতিরোধকল্পে বেগুনবাড়ি খাল ও হাতিরঝিলের নিচু এলাকা খনন ও উন্নয়ন, দূষিত পানি অপসারণ ইস্যু বিবেচনায় ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার উন্নয়নপূর্বক সমগ্র এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন করাই ছিলো এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। হাতিরঝিল প্রকল্পের আওতায় ৮ দশমিক ৮০ কিলোমিটার সার্ভিস রোড, ৮ কিলোমিটার এক্সপ্রেস ওইয়ে, ফুটপাথ ৮ কিলোমিটার, ব্রিজ করা হয়েছে ৪টি, ভায়াডাক্ট ৩টি, ওভারপাস করা হয়েছে ৪টি, ইউলুপ করা হয়েছে ২টি। মেইন ডাইভারশন স্যুয়ারেজ লাইন ১০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার, লোকাল ডাইভারশন স্যুয়ারেজ লাইন ৭ দশমিক ৭০ কিলোমিটার। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অন্তর্ভুক্ত কাজসমূহ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করে ৩০ ডিসেম্বর ২০১২ সালের মধ্যে হাতিরঝিল প্রকল্পটি উদ্বোধনের উপযোগী করা হয়েছে। এখন ডিপিপি সংযোজিত নতুন অঙ্গসমূহ যেমন, ২৫০০ আসন বিশিষ্ট একটি উন্মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ, রামপুরা প্রান্তের রাস্তায় দু’টি ইউলুপ, ভিউয়িং ডেক, ওয়াটার টেক্সি টার্মিনাল ঘাট, ফুটওভার ব্রিজ, কালচারাল অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিল্ডিং, পাবলিক টয়লেটসমূহের নির্মাণ কাজ চলমান প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে রাজউককে ১ হাজার ১১৩ কোটি ৭ লাখ টাকা, এলজিইডিকে ২৭৬ কোটি টাকা, ঢাকা ওয়াসাকে ৮৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রকল্প সমীক্ষায় জড়িত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে ১ কোটি ৯২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশনকে (এসডব্লিউও) ৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো। জাপানের ঋণ মওকুফ অনুদানের বরাদ্দকৃত অর্থ রয়েছে ১৫০ কোটি এবং বাকি টাকা অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার। উল্লেখ্য, হাতিরঝিল প্রকল্পটিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অরগানাইজেশনের পশ্চিম বিভাগের কর্মকর্তা ও সৈনিকরা মাঠ পর্যায়ে সামগ্রিকভাবে কাজের বাস্তবায়ন করছেন। রাজউক লিড অরগানাইজেশন হিসাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

Click This Link

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.