আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

শুদ্ধভাবে সালাত আদায়

আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য। ইবাদতের মধ্যে প্রথমেই রয়েছে সালাত বা নামাজ। শুদ্ধভাবে সালাত বা নামাজ আদায় আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের নিশ্চয়তা দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ঘোষণা করেন- "অতএব সেসব নামাজির জন্য (জাহান্নামের) 'ওয়ায়েল' (নামক কূপ) নির্ধারিত হয়ে আছে, যারা স্বীয় নামাজে অমনোযোগী। এ আয়াতের তাফসির প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, যারা রুকু-সেজদা সঠিক নিয়মে আদায় করে না, শুধু উঠবস করে এখানে তাদেরকে বুঝানো হয়েছে।

সহিহ বোখারী ও মুসলিম শরিফে হজরত আবু হোরায়রা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত। একদা এক লোক মসজিদে নববীতে প্রবেশ করল, রাসূলুল্লাহ (সা.) সেখানে বসা ছিলেন। অতঃপর লোকটি নামাজ পড়ল। নামাজ শেষে এসে নবী (সা.)-কে সালাম জানাল। তিনি সালামের উত্তর দিয়ে বললেন, 'ফিরে যাও, আবার নামাজ পড়। কেননা তুমি নামাজ পড়নি। সে ফিরে গিয়ে আবার আগের মতো নামাজ পড়ে পুনরায় কাছে এসে নবীজীকে সালাম জানাল। তিনি সালামের উত্তর দিয়ে আবার বললেন, 'ফিরে যাও (পুনঃ) নামাজ পড়। কারণ তুমি নামাজ পড়নি।' (অর্থাৎ নামাজ সঠিকভাবে আদায় হয়নি)। এভাবে লোকটি তিনবার নামাজ পড়া শেষে আরজ করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! যে আল্লাহ আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, তাঁর শপথ! এর চেয়ে ভালোভাবে নামাজ পড়ার নিয়ম আমার জানা নেই, আমায় শিখিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, 'যখন নামাজে দাঁড়াবে প্রথমে তাকবির বলবে। অতঃপর তোমার সাধ্যানুযায়ী কোরআন (কেরাত) পড়। এরপর রুকু কর এবং ধীরস্থিরভাবে রুকু করে সোজা হয়ে দাঁড়াও। অতঃপর ধীরস্থিরভাবে সেজদা কর। অতঃপর স্থির হয়ে বস। এরপর আবার সেজদা কর এবং সেজদায় গিয়ে স্থির হও। এভাবে বাকি রাকাতও সম্পন্ন করে নামাজ শেষ কর। মুসনাদে আহমাদ, সুনানে আবু দাউদ ও জামে তিরমিজীর বর্ণনায় আছে, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, 'যে ব্যক্তি নামাজের রুকু সেজদায় পিঠ সোজা করে না, তার নামাজ তার জন্য যথেষ্ট নয়।' আর এক রেওয়ায়েত মতে, 'যে পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি তার রুকু ও সেজদায় স্বীয় পিঠ সোজা না করবে। (সে পর্যন্ত তার নামাজ অসম্পূর্ণ থাকবে)।'

যে লোক নামাজে রুকু সেজদা শেষে আপন পিঠ সোজা করে না, তার নামাজ দূরস্ত না হওয়ার স্বপক্ষে নবীজীর এ হাদিসটি অকাট্য দলিল। এ বিধান ফরজ নামাজ সম্পর্কিত। আর 'এতমিনানে'র তাৎপর্য হলো, দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আপন আপন স্থানে স্থির হওয়া। আরেক হাদিসে আছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, 'মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চুরি হলো নামাজে চুরি করা।' নিবেদন করা হলো, নামাজে কীভাবে চুরি করা হয়? তিনি বললেন, যথাযথ নিয়মে রুকু-সেজদা আদায় না করা এবং সহীহ শুদ্ধভাবে কেরাত না পড়া।'

লেখক : ইসলামী গবেষক।

সোর্স: http://www.bd-pratidin.com/

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.