আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মুশফিককে ভয় নিউজিল্যান্ডের

কন্ডিশন, স্পিন, উইকেট—মাইক হেসনের কথায় বারবার এল শব্দগুলো। অভিজ্ঞতা বলে উপমহাদেশের কন্ডিশনে স্পিনাররাই বেশি ভোগায় ব্ল্যাক ক্যাপদের। তবে নিউজিল্যান্ড কোচের হাতে এবার বুঝি স্পিন আর কন্ডিশনকে হার মানানোরও অস্ত্র আছে!
বাংলাদেশে নিজেদের সর্বশেষ সফরে হোয়াইটওয়াশের তিক্ত স্বাদ নিয়ে ফিরেছিল নিউজিল্যান্ড দল। ২০১০ সালের অক্টোবরে ওয়ানডে সিরিজে ৪-০ ব্যবধান ‘বাংলাওয়াশ’ নামে নতুন একটা শব্দও যোগ করেছিল ক্রিকেট অভিধানে। তবে আরেকবার বাংলাদেশে এসে নিউজিল্যান্ড কোচ সেটা ভুলেই থাকতে চাচ্ছেন।

উপমহাদেশের কন্ডিশন, স্পিন কিংবা অনভিজ্ঞ কিউই দলের প্রসঙ্গ উঠলেই তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন গত দুই মাসে ভারত ও শ্রীলঙ্কা সফর করা নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের ক্রিকেটারদের। সেই দলের ৪-৫ জন ক্রিকেটার আছেন এই দলে। কাল চট্টগ্রামের উদ্দেশে হোটেল ছাড়ার আগে সেটি মনে করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘গত দুই মাসে নিউজিল্যান্ড “এ” দলের হয়ে খেলা কয়েকজন ক্রিকেটার আছে এই দলে। ভারত ও শ্রীলঙ্কা সফরে উপমহাদেশের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাদের। কাজেই দলটা তরুণ হলেও অভিজ্ঞতা কম নয়।

সামনের সপ্তাহগুলোয় তারা অন্যদের সঙ্গে সেই অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করবে। ’এর আগে চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে আজ শুরু তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচটাও কাজে লাগাতে পারে নিউজিল্যান্ড দল। তবে বৃষ্টিতে আউটফিল্ডের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ায় ম্যাচটা ঠিকভাবে হতে পারে কি না, তা নিয়েই আছে সংশয়।
হেসনের চোখে সাকিব আল হাসানের চেয়েও নিউজিল্যান্ডের বড় হুমকি অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তাঁর জন্য আলাদা পরিকল্পনা আছে জানিয়ে মনে করিয়ে দিলেন, মুশফিকের ওপরও ভালো খেলার চাপ আছে।

গত কিছুদিন মুশফিকের পারফরম্যান্স খুবই ভালো। তাই বলে ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে ৩৬ রানে ৭ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে প্রায় একাই ধসিয়ে দেওয়া সাকিব আল হাসানের নামটা একবারও বলবেন না!
আসলে সর্বশেষ শ্রীলঙ্কা সফরের কারণে স্পিন-ভয় এবার যেন একটু কমই আছে নিউজিল্যান্ড কোচের, ‘বাংলাদেশে আসার আগে শ্রীলঙ্কায় নয় দিন কাটিয়েছি। ওখানে স্পিনারদের খেলার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা হয়েছে। বাংলাদেশের স্পিনারদের ব্যাপারেও আমরা সচেতন। বেশ কয়েকজন বাঁহাতি স্পিনার আর গাজীর (সোহাগ) মতো অফ স্পিনারদের মুখোমুখি হতে হবে এখানে।

’ মানসিক প্রস্তুতিটাও নেওয়া আছে বলে জানালেন, ‘যখনই উপমহাদেশে এসেছি, প্রচুর স্পিন বল খেলতে হয়েছে আমাদের। স্পিনাররা এখানে প্রচুর উইকেটও পায়, কারণ শতকরা ৯০ ভাগ বল তো তারাই করে। তবে স্পিনারদের বিরুদ্ধে খেলায় আমরাও উন্নতি করেছি। এবার তার একটা পরীক্ষা হয়ে যাবে। ’
ভারত-শ্রীলঙ্কা সফর করে আসা কিউই ক্রিকেটাররা বাংলাদেশ দলের কাছেও বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছেন।

তাঁদের সর্বশেষ ম্যাচগুলোর ফুটেজ আর পরিসংখ্যান আলাদা করে সংরক্ষণ করা আছে কোচিং স্টাফদের ল্যাপটপে। এঁদের বাইরে নিউজিল্যান্ড দলের আরও একজনকে নিয়েও বাংলাদেশ দলের আছে আলাদা পরিকল্পনা, তিনি ট্রেন্ট বোল্ট। কাল কোচের পাশে বসে থাকা এই ফাস্ট বোলারকেও মনে হলো কন্ডিশন জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, ‘এখানে পেস বল করাটা একটু কঠিন। তবে এই অঞ্চলে খেলার কিছু অভিজ্ঞতা আমার আছে, কিছু সাফল্যও আছে। আশা করছি, কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কষ্ট হবে না।

নতুন বলে যতটা সম্ভব সুইং করিয়ে পরে রিভার্স সুইংয়ের চেষ্টা করব। ’
বাংলাদেশে নিউজিল্যান্ডের সর্বশেষ টেস্ট অভিজ্ঞতা সেই ২০০৮ সালের অক্টোবরে। ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্টটি বৃষ্টির কারণে ড্র হয়েছিল। চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টে হারতে হারতে জিতেছিল ড্যানিয়েল ভেট্টোরির অলরাউন্ড নৈপুণ্যে। সেই সফরে না থাকলেও ইতিহাসটা তো আর অজানা নয় হেসনের, ‘অনেক কঠিন সিরিজ ছিল সেটি।

তবে বড় কথা হলো চট্টগ্রাম টেস্টটা আমরা জিতেছিলাম। শেষ ইনিংসে ৩০০ রান তাড়া করা চাট্টিখানি কথা নয়। ’ সঙ্গে অবশ্য বাংলাদেশ দলকেও দেখালেন সম্মান, ‘এবারও আমরা ওই সিরিজের চেয়ে সহজ কিছু আশা করছি না। ’

নিউজিল্যান্ডের সেই দল আর এই দলের মধ্যে বড় পার্থক্য অভিজ্ঞতা। আরও নির্দিষ্ট করে বললে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি।

তাঁর অভাব তো বোধ করবেনই হেসন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে ড্যানিয়েলের (ভেট্টোরি) অতীত অনেক ভালো। তাকে তো আমরা মিস করবই। ’ বাংলাদেশে এসে এক দিনও অনুশীলন না করে আজ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নেমে যাবে নিউজিল্যান্ড দল। এদিক দিয়ে অবশ্য তাদের প্রতিপক্ষ বিসিবি একাদশেরও একই অবস্থা। বিমানে সকালেই চট্টগ্রামে পৌঁছে গেলেও জাতীয় দল বা বিসিবি একাদশ, কোনো দলই অনুশীলন করতে পারেনি।

পরশু রাত নয়টায় ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে তাদের লাগেজপত্র যে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে কাল বিকেল চারটায়! প্রস্তুতি ম্যাচের আগে স্বাগতিক আর অতিথি দলের মধ্যে সামান্য হলেও ভারসাম্য এনে দিয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিখ্যাত যানজট।

 

সোর্স: http://www.prothom-alo.com

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।