আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ধেয়ে আসছে পাইলিন, আতঙ্কিত ওডিশার মানুষ

ঘূর্ণিঝড় পাইলিন আজ শনিবার বিকেলে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ ও ওডিশায় আঘাত হানতে পারে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে বেশ শঙ্কায় আছে ওডিশার জগিসংপুর জেলার মানুষেরা। ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত গাছ কেটে ফেলার কারণে প্রাকৃতিকভাবে ঘূর্ণিঝড় প্রতিরোধ করার সম্ভাবনা খুব একটা নেই।

আজ শনিবার ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র খবরে বলা হয়, ওডিশায় সরকারিভাবে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি।
খবরে বলা হয়, ওডিশার জাতাধারি নদীর দুই কিলোমিটারের মধ্যের গ্রামটিতে এক সময় প্রচুর পরিমাণে ঝাউজাতীয় ক্যাসুরিনা গাছ ও কাজুবাদামের গাছ ছিল।

সেগুলো এখন কেটে ফেলা হয়েছে। ক্যাসুরিনা গাছ ঝোপ আকারের হয় এবং এই গাছ ৩৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। যেকোনো ধরনের ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় এই গাছ প্রাকৃতিক শক্তি হিসেবে কাজ করে।
নোলিয়াসাসি গ্রামের বাসিন্দা মহাদেব বলেন, ‘নির্বিচারে গাছ কেটে এই এলাকা উজাড় করার জন্য প্রশাসন দায়ী। আজ যেকোনো মুহূর্তে আমাদের গ্রামে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে।

এই ভয়ে গত কয়েক দিন আমরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছি। ’
এ ছাড়া পাশের পোলাঙ্গা ও গাদাকুজাং গ্রামেও ঘূর্ণিঝড় পাইলিন আঘাত হানতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে।
দুই বছর আগে ওই এলাকায় পোসকো স্টিল প্লান্ট স্থাপনের সময় সরকারিভাবে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়।
জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় পাইলিন আজ ওডিশার দিকে ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছে। এ কারণে সরকার সতর্ক সংকেত জারি করেছে।

গতকাল শুক্রবার উপকূলীয় অঞ্চল থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১৯৯৯ সালে ওডিশায় একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল। এতে কুজাং ও ইরসামা গ্রামে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
ওডিশার নওগাঁ অঞ্চলের বাসিন্দা পবিত্র বলেন, ‘যখন এই অঞ্চলে গাছপালা ছিল, তখন অনেক শান্তিতে ছিলাম। ক্যাসুরিনা গাছসহ অন্যান্য গাছপালা ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের মোকাবিলা করেছে।

এ কারণেই ১৯৯৯ সালের পর এখানে আর বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় হয়নি। এখন গাছ কেটে সাবাড় করে ফেলেছে। এখন আমাদের কে রক্ষা করবে?’

সোর্স: http://www.prothom-alo.com

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।