আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

পরকাল ভাবনাঃ আত্মা এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবন - পর্ব ৩

নির্বোধদের সাথে কখনো তর্ক করা উচিত না, তারা প্রথমে তোমাকে নিজেদের কাতারে নামিয়ে আনবে এবং তারপর তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে তোমাকে তর্কে পরাজিত করবে - মার্ক টোয়েন।

পরকাল ভাবনাঃ আত্মা এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবন - পর্ব ১ পরকাল ভাবনাঃ আত্মা এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবন - পর্ব ২ আপনি কেন গাছের বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ হন না, মানুষের বিরুদ্ধে ক্ষেপে যান প্রচন্ডভাবে। এর কারণ শুধু একটিই : বৃক্ষ অনুভূতিশূন্য আর মানুষ তার বিপরীত। বৃক্ষের কাজটি নিছক ঘটনাজাত ফলাফল (রেজাল্ট), পক্ষান্তরে মানুষেরটা ঘটনাজাত (রেজাল্ট) হয়ার সাথে সাথে একটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যবহ। এর মানে, মানুষের প্রতিটি কাজের দুটি দিক রয়েছে।

এক. কাজের ফলাফলঃ যেমন, আপনার মাথায় ঢিল মারা- এর দ্বারা একটি ঘটনা সংঘটিত হয়। দুই. ইচ্ছার ফলাফলঃ কাজটি বৈধ না অবৈধ, পবিত্র মানসিকতা নিয়ে করা হচ্ছে না অপবিত্র মানসিকতা নিয়ে ইত্যাদির বিবেচনা। মানবকৃত্যের প্রথম দিকটির ঘটনাগত ফলাফল এ-পৃথিবীতেই প্রকাশ পায়, পক্ষান্তরে দ্বিতীয় দিকটির ইচ্ছাগত ফলাফল এ-পৃথিবীতে প্রকাশ পায় না। যদি কখনো পায় তাহলে অসম্পূর্ণরূপে। যে ব্যক্তি আপনাকে পাথর মেরেছে তার কর্মের ফলাফল তো সাথে সাথেই প্রকাশ পেয়েছে : আপনার মাথায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু তার কর্মের দ্বিতীয় দিকটির- অথাৎ ভুল জায়গায় শক্তি প্রয়োগের ফলাফল এ-পৃথিবীতে প্রকাশ পাওয়া জরুরি নয়। সে ব্যক্তির ইচ্ছা ছিলো আপনার মাথায় আঘাত করতে অতঃপর আপনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। এর পাশাপাশি সে ইচ্ছা করেছিলো একটি অবৈধ কাজ করবে, কিন্তু তার এই ইচ্ছাটার উপযুক্ত ফলাফল এ-পৃথিবীতে আসেনি। যেমন-হিটলার অসংখ্য মানুষ হত্যা করেছে, কিন্তু বিনিময়ে আপনি তাকে মাত্র একবারই হত্যা করতে পারবেন। আবার, আঘাতকারী লোকটি যদি শক্তিশালী, প্রভাবশালী হয় আর আপনি দুর্বল হন, তাহলে আপনি এই যুলুম নীরবে সহ্য করে যাবেন, তার এই অন্যায় কাজের কোন প্রতিশোধ নিতে পারলেন না, আপনি আপনার ইচ্ছার বাস্তবায়ন করতে পারলেন না।

সুতরাং, সেই লোকটির কাজের ফলাফল প্রকাশ পেল, আপনি ব্যথা পেলেন, কিন্তু ইচ্ছার ফলাফল প্রকাশ পায়নি, বা পাওয়া জরুরী নয়, বা কখনো প্রকাশ পেলেও অসম্পূর্ণরূপে। মানুষের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশকেই ফলাফল বলে , আর আমরা দেখি যে, মানুষের ইচ্ছার ঘটনাগত ফলাফল (action এর result) হরহামেশাই সামনে আসছে। তাহলে মানুষের ইচ্ছার দ্বিতীয় দিকটির ফলাফলের প্রকাশ, অর্থাৎ চারিত্রিক ফলাফল(motif এর result) ও অবশ্যই প্রকাশ পাওয়া উচিত। পরকাল মানবকৃত্যের এই দ্বিতীয় দিকটির পরিপূর্ণরূপে প্রকাশের জায়গা। মানবকৃত্যের একটি দিক যেমন কিছু ঘটনাপুঞ্জের সৃষ্টি করে, তদ্রপভাবে মানবকৃত্যের অন্যদিকটিও নিশ্চয়ই কিছু ফলাফল সৃষ্টি করে; পার্থক্য শুধু এতটুকু যে প্রথম প্রকার ফলাফল এ-পৃথিবীতেই প্রকাশ পায়, পক্ষান্তরে দ্বিতীয় প্রকার ঘটনার ফলাফল আমরা দেখতে পাবো পরজগতে।

এ-পৃথিবীতে বসবাসরত প্রতিটি মানুষই তার কর্মের মাধ্যমে কোনো না কোনো ফলাফল সৃষ্টিতে ব্যস্ত রয়েছে। হোক সে কর্মব্যস্ত অথবা বেকার, সর্বাবস্থায় তার পক্ষে অথবা বিপক্ষে সৃষ্টি হচ্ছে একটি জগৎ। ব্যক্তির চিন্তা-চেতনা, অভ্যস-প্রকৃতি আচার-ব্যবহার ইত্যাদির নিরিখে মানুষেরা মন্তব্য করে থাকে তার পক্ষে বা বিপক্ষে। শক্তির যথার্থ অথবা অযথার্থ প্রয়োগের ফলে তার কার্যাদি হয়তো সুচারুভাবে সম্পাদিত হয় অথবা বিগড়ে যায়। যে ধরনের বিষয়কে লক্ষ্য করে তার চেষ্টা সাধনা পরিচালিত হয় সে ধরনের বিষয়েই প্রতিষ্ঠিত হয় তার অধিকার ।

অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তিই তার চারপাশে গড়ে যাচ্ছে একটি নিজস্ব জগৎ যা তার কৃতকর্মেরই সরাসরি ফলাফল। মানুষের সৃষ্ট এ জগৎটির একাংশ পৃথিবীর আলোতে দৃশ্যমান করছে নিজেকে। পক্ষান্তরে অপর অংশটি, অর্থাৎ বৈধ-অবৈধ হয়ার দিকটিও একটা ফলাফল অবশ্যই সৃষ্টি করছে যা আড়াল করে রেখেছে নিজেকে পরজগতে প্রকাশের অপেক্ষায়। আমাদের কর্মের দ্বিতীয় অংশটি মূলত কর্মের চারিত্রিক দিক যা স্বতন্ত্র রকমের একটা ফলাফল সৃষ্টি করে যাচ্ছে, ধর্মীয় পরিভাষায় যাকে স্বর্গ ও নরক বা জান্নাত ও জাহান্নাম বলা হয়। আমাদের মধ্যে প্রত্যেকেই প্রতি মুহূর্তে এ জান্নাত অথবা জাহান্নাম নির্মাণ করে যাচ্ছে।

আর যেহেতু মানুষকে এ-পৃথিবীতে পরীক্ষার উদ্দেশে রাখা হয়েছে , তাই এ-জান্নাত ও জাহান্নাম মানুষের চোখের অন্তরালে রাখা হয়েছে। পরীক্ষার জন্য বেঁধে দেয়া সময় যখন শেষ হয়ে যাবে, এবং পূনরুত্থান দিবস চলে আসবে প্রত্যেককেই, তখন, তার নির্মিত জগতে পাঠিয়ে দেয়া হবে। এখানে একটি প্রশ্ন জাগে : আমাদের কর্মের যখন একটি চারিত্রিক দিক আছে, তবে তা দৃষ্টিগ্রাহ্য না হয়ে দৃষ্টির অন্তরালে থাকছে কেন। ধরা যাক আমাদের পাশেই একটি বিল্ডিং এর নির্মাণ কাজ চলছে, এ কাজের একটি ফলাফল তো এই যে নির্মিত হয়ে বিল্ডিংটি দাঁড়িয়ে যাচ্ছে যা আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু এ-কাজটির অন্য আর-একটি দিক অর্থাৎ বিল্ডিংটি কি বৈধভাবে নির্মিত হচ্ছে না অবৈধভাবে. এ-দিকটির যদি কোনো ফলাফল বা পরিণতি সৃষ্টি হয়ে থাকে তবে তা কোথায়? এমন কি-ইবা পরিণতি থাকতে পারে যা ধরাছোঁয়ার বাইরে, দৃষ্টির অন্তরালে।

এ-প্রশ্নের উত্তর মানবকৃত্যের উল্লেখিত দুটি দিকের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যাবে। কোনো কর্মের ঘটনাগত দিক প্রতিটি মানুষই দেখতে পায়। এমনকী ক্যামেরার চোখও তা ধরতে পারে। কিন্তু সে কর্মের চারিত্রিক দিক দৃষ্টির আওতায় আসার মতো জিনিশ নয়, বরং এ-দিকটি কেবলই আঁচ করার, অনুভব করার। কর্মের এ-দুটি দিকের মধ্যখানে যে পার্থক্য তা অত্যন্ত স্পষ্ট করে ইঙ্গিত দিচ্ছে, উভয় প্রকার ফলাফল কীভাবে প্রকাশ পাওয়া উচিত।

অর্থাৎ মানবকৃত্যের প্রথম দিকটির ফলাফল এ-পৃথিবীতেই দৃষ্টিগ্রাহ্য হয়া উচিত যা আমরা স্পর্শ করে দেখতে পাবো, পক্ষান্তরে দ্বিতীয় দিকটির ফলাফল ওই জগতে প্রকাশ পাওয়া উচিত যা এখনো দৃষ্টির অন্তরালে। ঘটনা অনেকটা এ-রকম যে যেটা যেভাবে হয়া উচিত সেটা ঠিক সেভাবেই হচ্ছে । এ-মহাবিশ্বে এ ধরনের অদৃশ্য ফলাফলের উপস্থিতির বিষয়টি আজ দুর্বোধ্য কোনো বিষয় নয়। এখানে কেবল বিচার বুদ্ধির নিরেখে সম্ভাবনাময় একটি ঘটনার কথাই বলা হচ্ছে না, বরং এ-মহাবিশ্ব সম্পর্কে চিন্তাভাবনা মানুষকে এ-সিদ্ধান্তে উপনীত করছে যে এখানে প্রতিটি কর্মেরই দু’প্রকার ফলাফল রয়েছে। এখানে এমন কর্মফলও রয়েছে যা কর্ম সম্পাদনের পর তৎক্ষণাৎ দেখা যায়।

আবার এমন কর্মফলও রয়েছে যা দৃষ্টির নাগালের বাইরে থাকা সত্ত্বেও অস্তিত্ববান। এ-মহাবিশ্বে এ ধরনের অদৃশ্য ফলাফলের উপস্থিতির বিষয়টি আজ দুর্বোধ্য কোনো বিষয় নয়। উদাহরণস্বরূপ আওয়াজের কথা ধরুন: আওয়াজ, সবাই জানে, কিছু তরঙ্গমালা যা চর্মচোখে দেখা যায় না। আমরা যখন কথা বলার জন্য জিহ্বা নাড়াই তখন আবহাওয়ায় একপ্রকার তরঙ্গের সৃষ্টি হয়। আমাদের জিহ্বা নাড়ানোর ফলে এ তরঙ্গমালা আবহাওয়ার গায়ে এঁটে যায়।

যখনই কেউ কথা বলে ডেউয়ের আকৃতিতে তা বাতাসে অঙ্কিত হয়ে যায় এবং তা বিরাজমান থাকে স্বতন্ত্রভাবে। এমনকী বিজ্ঞানীরা ধারনা করছেন আজ থেকে হাজার বছর পূর্বের কথা-শব্দ-বক্তব্য সবই বাতাসে ঢেউ-এর আকৃতিতে বিদ্যমান রয়েছে। যদি আমাদের কাছে এসব আওয়াজ ধরার কোন যন্ত্র থাকে তাহলে যেকোনো সময় অতীতের কথাসমূহ শোনার সূযোগ পাবো। আমাদের চারপাশে বাতাসের একটি আবরণ রয়েছে যাতে আমাদের প্রতিটি আওয়াজ মুখ থেকে বের হয়ার সাথে সাথে অঙ্কিত হয়ে যাচ্ছে- যদিও আমরা আওয়াজ, অথবা আওয়াজটির বাতাসে অঙ্কিত হয়ে যাওয়া, কোনোটাই দেখতে পাই না ঠিক একইরূপে পরজগতও আমাদেরকে চারপাশ থেকে ঢেকে রেখেছে এবং আমাদের নিয়ত ও ইচ্ছাসমূহকে প্রতিনিয়ত রেকর্ড করে যাচ্ছে। পরজগতের পর্দায় আমাদের কৃত্যের নকশা অঙ্কিত হচ্ছে যা মৃত্যুর পর দৃষ্টিগ্রাহ্য হবে।

গ্রামোফোনের উদাহরণ গ্রামোফোন যদি চালু থাকে এবং ডিস্ক তার উপর ঘুরতে থাকে তাহলে সুঁইয়ের স্পর্শ পাওয়া মাত্রই নিশ্চুপ বস্তুটি বাজতে শুরু করে। মনে হয় যেন সে এ-অপেক্ষাতেই ছিলো যে, কেউ যখন তার উপর সুঁই রেখে দেবে অবলীলায় সে বাজতে শুরু করবে। ঠিক একইরূপে আমাদের সমস্ত কর্মের রেকর্ড রাখা হচ্ছে, যখন সময় হবে তখন বিশ্বপ্রতিপালক তা চালু করে দিবেন, নিশ্চুপ রেকর্ড চলতে শুরু করবে। অবস্থা দেখে মানুষ বলতে থাকবে: “এ কেমন রেকর্ড, আমার ছোট বড়ো কোনো কিছুই তো এর হিসেব থেকে বাদ পড়েনি। (সূরা কাহ্ফ : ৪৯) শেষ কথা উপরের কথাগুলো আরো একবার ভেবে দেখুন, অনুভব করার চেষ্টা করুন।

আপনার জীবন এক অন্তহীন জীবন, মৃত্যু এ জীবনের শেষ প্রান্ত নয় বরং দ্বিতীয় পর্বের প্রারম্ভ বিন্দু। মৃত্যু আমাদের দুই পর্বের মধ্যবর্তী সীমানা। বিষয়টিকে এভাবে বুঝুন যে কৃষক জমিনে ফসল বুনে, নিয়ম মাফিক চেষ্টা সাধনায় নিজেকে ব্যস্ত রাখে, এক পর্যায়ে ফসল প্রস্তুত হয়। কৃষক তা কাটে, গোলায় তুলে, সারাবছরের খাদ্যের ব্যবস্থা করে। ফসল কাটার অর্থ ফসলের এক পর্ব শেষ হয়ে অন্য পর্বের শুরু হয়া।

ইতোপূর্বে তার কাজ ছিলো ফসল বোনা ও যতœ নেয়া এখন তার কাজ হবে ফসল গোলায় তুলা ও নিজের প্রয়োজন মিটানো। ফসল কাটার পূর্বে ছিলো চেষ্টাসাধনা ও পয়সা ব্যয়ের পালা আর ফসল কাটার পর শুরু হয় মেহনতের ফলভোগ ও তা থেকে উপকৃত হয়ার পালা। মানুষের জীবনের অবস্থাও ঠিক একই রকম। মানুষ এ-পৃথিবীতে পরজগতের ফসল বুনছে, যত্ন নিচ্ছে। আমাদের প্রত্যেকেরই পরজগতে একটি খামার রয়েছে যা হয়তো সে চাষ করছে, অথবা ফেলে রাখছে পতিত বিনা কর্ষণে।

যারা কর্ষণ করছে তারা হয়তো এতে উত্তম অথবা অনুত্তম বীজ ফেলছে। বীজ ফেলে হয়তো রেখে দিচ্ছে অবহেলায় অথবা পরিচর্যা করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সেখানে হয়তো তিক্ত ফলের গাছ লাগাচ্ছে অথবা রূপন করছে সুস্বাদু ফলের বৃক্ষ। জমিনকে উর্বর করতে ব্যয় করছে সমগ্রশক্তি অথবা অপ্রাসঙ্গিক ব্যস্ততায় কাটাচ্ছে সময়। এ-ফসল তৈরির সময়সীমা মৃত্যুর পূর্বমূহুর্ত পর্যন্ত।

মৃত্যু পরকালের ফসল কাটার দিন। যখন এ-পৃথিবীতে আমাদের চোখ বন্ধ হয় তখন দ্বিতীয় জগতে গিয়ে তা খোলে। সেখানে যার যার খামার দৃষ্টিতে আসে। জীবনভর কর্ষিত অথবা ফেলে রাখা জমিন নজরে আসে আমাদের সবার। শুরু হয় ফসল কাটা, গোলায় তুলা ও তাত্থেকে উপকৃত হয়ার পালা।

এ-সময় কেবল সে ব্যক্তিই ফসল কাটে যে ইতোপূর্বে ফসল বুনেছে এবং সে ফসলই কাটে যা সে বুনেছে। প্রত্যেক কৃষকই জানে যে তার গোলায় ঠিক ততটুকু ফসলই আসবে যতটুকু সে মেহনতমজদুরি করেছে। তদ্রপভাবে পরকালেও মানুষ ঠিক ততটুকুই পাবে যতটুকু সে চেষ্টা সাধনা করেছে। মৃত্যু, চেষ্টা সাধনার সময় শেষ হয়ার সর্বশেষ ঘোষণা , আর পরকাল নিজের চেষ্টাসমূহের ফলাফল লাভের শেষ জায়গা। মৃত্যুর পর দ্বিতীয়বার চেষ্টা-সাধনার না কোনো সুযোগ রয়েছে, না রয়েছে পরকালীন জীবন শেষ হয়ার কোনো সম্ভাবনা।

কতইনা কঠিন এ-বাস্তবতা। যদি মানুষ মৃত্যুর পূর্বে এব্যাপারে সজাগ হতো! কারণ , মৃত্যুর পরে এব্যাপারটি বুঝে আসলে তখন আর কিছুই করার থাকবে না। মৃত্যুর পর সতর্ক হয়ার অর্থ তো শুধু এই যে, মানুষ কেবল এই বলে আফসোস করে করে সময় কাটাবে যে, সে অতীতে কত বড় ভুলই-না করেছে। এমন এক ভুল যা শুধরানোর সামন্যতম সুযোগ তার সামনে নেই। মানুষ তার পরিণাম সম্পর্কে গাফেল।

পক্ষান্তরে কালস্রোত তাকে অতি দ্রুত ওই সময়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে যখন ফসল কাটার লগ্ন চলে আসবে। মানুষ এ-পৃথিবীর তুচ্ছ ফায়দাসমূহ অর্জনের জন্য ব্যস্ত রয়েছে এবং মনে করছে, সে কাজ করছে প্রচুর। পক্ষান্তরে সে কেবল তার মূল্যবান সময়ই নষ্ট করে যাচ্ছে। মানুষের সামনে বিরাট সুযোগ রয়েছে যা ব্যবহার করে সে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে পারে। কিন্তু মানুষ কাঁদামাটি নিয়ে খেলছে।

তার প্রভু তাকে স্বর্গের দিগে ডাকছেন যা কল্পনাতীত নেয়ামত সামগ্রীতে ভরপুর , কিন্তু মানুষ কয়দিনের মিথ্যা আয়েশে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে আছে। মানুষ মনে করছে যে সে লাভ করছে, কিন্তু মূলত সে কেবলই হারাচ্ছে। দুনিয়াতে বাড়ি বানিয়ে সে মনে করছে সে জীবন গড়ছে কিন্তু আসলে সে বালির দেয়াল দাঁড় করাচ্ছে যা কেবল কিছুক্ষণ পর ধ্বসে পড়ার জন্যই দাঁড়াচ্ছে। হে মানুষ ! তুমি নিজেকে জানো, নিজেকে আবিষ্কার করো। গভীর মনোনিবেশের সাথে খুঁটিয়ে দেখ তুমি কি করছো, তোমার কী করা উচিত।

মানুষকে সফলকাম হয়ার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে কিন্তু মানুষ অসতর্ক হয়ে নিজের ব্যর্থতা নিজেই ডেকে আনছে। পরকাল ভাবনাঃ আত্মা এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবন - পর্ব ১ পরকাল ভাবনাঃ আত্মা এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবন - পর্ব ২ সৌজন্যেঃ ইসলাম হাউজ

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.