আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কারো বিশ্বাসে আঘাত করা কি ঠিক ?

কারো বিশ্বাসে আঘাত করা কি ঠিক ? অনেকেই নিজের বিশ্বাসকে সেরা মনে করে অন্যদের বিশ্বাসে আঘাত করে। এটা কতটুকো ঠিক আসুন জেনে নেই। বিশ্বাস কি তা আগে জেনে নেই। বিশ্বাস হচ্ছে সাধারনত পারিপারশিক বস্তু সমুহ জগ্য সম্পর্কে ব্যক্তির ধারনা। আবার বিশ্বাস কোন ব্যাক্তির তার নিশ্চয়তার উপর আস্তা হতেও পারে।

বিশ্বাস ২ রকম হতে পারে । ১, কোন ব্যাক্তির নিজের বিশ্বাস বা আত্নবিশ্বাস । ২, এক দল মনুষের কোন কিছুর উপর বিশ্বাস যেমন ধর্ম বিশ্বাস। বিশ্বাস কোন অযুক্তিক ধারনা নয়। মানুষ বাচে বিশ্বাস এ।

পরিবারে বাবা মা সন্তান এর মাঝে সম্পর্ক টিকে থাকে বিশ্বাসে । বিশ্বাস নতুন চিন্তা আনে আমাদের মাঝে। পৃথিবিতে যা কিছু এসেছে তার সবই শুরু কোন না কোন ব্যাক্তির বিশ্বাস বা ধারনা থেকে। বিশ্বাস এর মাধ্যমে ই শুরু হয় নূতন কিছু। আবিষ্কার এর শুরু,জানার শুরু বিশ্বাসে।

আসুন দেখি কিভাবে? বিমান আবিষ্কার এর ঘটনার দিকে তাকালে দেখি উইলবার আর অরভিল এর বিমান আবিস্কার চিন্তা ছোটবেলা থেকেই। ছোট থাকা অবস্তায় তারা বিশ=বআস করত যে তারা একডিন আকাশে উরবে। এই নিজেদের উপর আস্তা তাদের বিমান তৈরির দারপ্রান্ত নিয়ে যায় এবং তারা সফল হয়। অথচ তখন ানেক বিগ্ঞানীরা বলে দিয়ে ছিলেন আকাশে উরা নিছক কল্পনা। এভাবে সকল আবিষ্কার শুরুতে কারু ধারনা থেকে শুরু হয় এবং শেষে ফলাফল আসে।

মানে বিশ্বাসের শেষ সত্যে। তবে কখনও কারু বিশ্বাস মিথ্যা হতে পারে। তবে সকল সত্যের শুরু কোন না কোন বিশ্বাসে। তবে কি সকল বিশ্বাস এর শেষ সত্যি? না কোন কোন ক্ষেত্রে তা মিথ্যা হতেও পারে । মানুষ ভুল বিশ্বাসে থাকতে পারে, তা আপনি শোধরাতে পারেন তবে তার জন্য প্রয়োজন চিরন্তন সত্য বা প্রতিষ্ঠিত সত্য।

বিশ্বাস দিয়ে কখনও বিশ্বাস শোধরানো যায় না। প্রতিষ্ঠিত সত্য হচ্ছে সেইসব সত্য যা নিয়ে কারু সন্দেহ নেই। যেমন দিন রাত্রি ২৪ ঘন্টায় হয়। মানুষের রক্তে ৩ ধরনের কনিকা থাকে , ইত্যাদি ইত্যাদি। যেমন কেউ যদি বিশ্বাস করে পানি যৌগিক পদার্থ নয় ,তবে তাকে আপনি পনির তড়িৎ বিশ্লেষন করে হাতেনাতে দেখাতে পারেন হাইড্ড়োজেন আর অক্সিজেন দিয়ে পানি গঠিত।

এটা হচ্ছে প্রতিষ্ঠিত সত্য দিয়ে বিশ্বাস শোধরানো। এবার আসা যাক বিশ্বাস দিয়ে বিশ্বাস শোধরানোর বিষয়। যেমন কারো ধর্ম বিশ্বাস এবং কারু অবিশ্বাস। বিশ্বাসিরা মনে করে সষ্ট্রা তাদের সৃষ্টি করেছে ,অবিশ্বাসিরা তার উল্টো বলে কোন সষ্ট্রা নেই। মানুষ অ্যমিনো এসিড থেকে বিবর্তিত রুপ।

এখন কেউ যদি বলে এর প্রতিষ্ঠিত প্রমান চাই তবে তা দেয়া সম্ভব নয়। কারন এতে বিতর্ক বা মতভেদ আছে। অন্যদিকে নাস্তিকেরা যদি বলে আমরা সৃষ্টিকর্তাকে দেখতে চাই তবে তাও সম্ভব নয়। এটা অনুভবের বিষয়। অর্থা্ৎ দুটো বিষয়ই দু দলের বিশ্বাস।

তাই কোন মুক্তমনা যদি কারু ধর্মানুভিতিতে আঘাত করে এই ভেবে যে তা মিথ্যা তবে তা অন্যায়। যেহেতু তার কাছে কোন প্রতিষ্ঠিত সত্য নেই। যা আছে তা তার ধারনা বা বিশ্বাস। আর তার পরেও যদি সে তা করে তার ফলাফল হয় ভ্য়াবহ। মুসলমান দের উচিত কারু বিশ্বাস সম্পর্কে বাজে মন্টব্য না করা।

কারন কোরআনে আল্লাহ বলেন ''তোমরা অন্য ধর্মের সষ্ট্রাকে গালি দিও না কারন তাহলে তারা তোমার আল্লাকে গালি দিবে। ''' প্রতিষ্ঠিত সত্য দিয়ে করো বিশ্বাস শোধরানো যেতে পারে, কিন্তু বিশ্বাস দিয়ে বিশ্বাসে আঘাত করা অন্যায়। তাই কারু বিশ্বাসে আঘাত করার আগে দেখা দরকার আমার সত্য কতটুকু প্রতিষ্ঠিত , নিজের বিশ্বাস দিয়ে অন্যের বিশ্বাসে আঘাত করার কোন অধিকার নেই সে আপনি যত বড় মুক্তমমনাই হোন না কেন। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.