আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

প্রশাসন ও পুলিশে ভালো নেই পেশাদার কর্মকর্তারা

সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনে পেশাদারি শেষ হয়ে যাচ্ছে। সর্বস্তরে দলবাজদের আধিক্যে ভঙ্গ হচ্ছে সব রেকর্ড। দলবাজির দায়ে একদল বছরের পর বছর ওএসডি থাকছে। অন্যদিকে অনেক পেশাদার কর্মকর্তা একই কারণে যেতে পারছেন না গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে। সচিবালয়, পুলিশ সদর দফতর ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে স্পষ্ট অসন্তোষও পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

পুলিশ সদর দফতর ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তাদের কোণঠাসা করে সামনে থেকে এ বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন দলবাজরা। কয়েকজন মেধাবী কর্মকর্তার মুখে রাজনৈতিক কালিমা দিয়ে ওএসডি, জুনিয়রদের পদায়নের জন্য উচ্চপদের কয়েকজনকে বাধ্যতামূলক অবসর ও সিনিয়রদের অকার্যকর করে রেখে জুনিয়রদের চলতি দায়িত্বে পদায়নের বিষয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশ বাহিনীতে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অবস্থা উল্লেখ করার মতো। সাত বছর ধরে অনেক কর্মকর্তা ডিএমপিতে থেকেই নিয়েছেন একের পর এক পদোন্নতি।

আঞ্চলিকতার কারণে কয়েকজনকে পদোন্নতি দিয়ে ঢাকার বাইরে পোস্টিং দেওয়া হলেও ওই কর্মকর্তারা তদবিরের মাধ্যমে তাদের বদলির আদেশ বাতিল করে রয়েছেন রাজধানীতেই। কিন্তু ওএসডি থাকাবস্থায়ই কয়েকজন ঊধর্্বতন কর্মকর্তাকে যেতে হয়েছে অবসরে। এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরে ওএসডি ও পদায়নবঞ্চিত পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে দানা বেঁধেছে অসন্তোষ। ক্ষোভে ফুঁসে উঠছেন তাদের অনেকেই।

অন্যদিকে প্রশাসনের পদোন্নতিবঞ্চিত মেধাবী, দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তারা চান তাদের কাজের মূল্যায়ন।

এ জন্য নতুন সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। তাদের দাবি, মেধাবী, দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করে প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো হোক। তারা প্রশাসনে আর বিতর্ক চান না। রাজনৈতিক পরিচয়ে কিংবা বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দায়িত্বে থাকার অপরাধে যোগ্য কর্মকর্তাদের যেভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে, এতে ক্ষতি হচ্ছে প্রশাসনেরই। অনেক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রশাসনই হচ্ছে নতুন সরকারের আগামী পাঁচ বছরে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিতর্কের বাইরে রেখে একে ঢেলে সাজানোই হচ্ছে সরকারের বড় কাজ।

পুলিশ : সদর দফতর সূত্র জানায়, বিসিএস '৮২ ব্যাচের ফণীভূষণ চৌধুরী, নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা ও নাঈম আহমেদকে ডিঙিয়ে হাসান মাহমুদ খন্দকারকে আইজি পদে পদায়ন করা হয়। এ নিয়ে পুলিশে অসন্তোষ দেখা দিলে ফণীভূষণ চৌধুরীকে সচিব মর্যাদায় পদায়ন করা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশের সমন্বয়ক পদে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা এবং নাঈম আহমেদকে রাজশাহী পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমির (সরদা) প্রিন্সিপাল হিসেবে পদায়ন করা হয়। তাদের পরবর্তী '৮৪ ব্যাচের মো. জাবেদ পাটোয়ারী এবং এ কে এম শহীদুল হককে দেওয়া হয় সচিবের মর্যাদা।

বর্তমানে এ কে এম শহীদুল হক এডিশনাল আইজি (প্রশাসন) হিসেবে পুলিশ সদর দফতরে এবং জাবেদ পাটোয়ারী এডিশনাল আইজি হিসেবে এসবিতে দায়িত্বরত। এই ব্যাচে যারা পদোন্নতি ও পদবঞ্চিত হয়েছেন তারা হলেন- ড. সাদেকুর রহমান, ডা. বাহারুল আলম, এ কে এম মাহফুজুর রহমান, মাজেদুর রহমান, সাজ্জাদ আলী, সোহরাব হোসেন, মতিউর রহমান, মেজবাউন নবী, মনিরুজ্জামান ও আমিনুল ইসলাম। এই কর্মকর্তারা এখনো ডিআইজি পদে রয়েছেন। একই ব্যাচের শাহ জামাল রাজ অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতি পেলেও পদবঞ্চিত। এ ব্যাচের অনেকেই এডিশনাল আইজি শহীদুল হকের গ্রেডেশনে উচ্চ ধাপে রয়েছেন।

এ ছাড়া বিসিএস '৮৫ ব্যাচের ডিআইজি নাজিবুর রহমান, হেলাল উদ্দিন বদরী ও সাইফুল আলমকে ডিঙিয়ে অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় সিআইডি প্রধান মোখলেসুর রহমান ও ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদকে। '৮৪ ও '৮৫ ব্যাচের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে মঈনুর রহমানকে অতিরিক্ত আইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়। সম ব্যাচের অনেক কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে নুরুজ্জামানকে পদায়ন করা হয় ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি পদে। ওই ব্যাচের সর্বকনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তাকে দেওয়া হয় এ দায়িত্ব। '৮৯ ব্যাচের কামরুল ইসলামকে সম্প্রতি রেলওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি (চলতি দায়িত্ব) পদে পদায়ন করা হয়েছে।

অথচ '৮৫ ব্যাচের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এখনো অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। একই অবস্থা পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রেও। এখন পুলিশ বাহিনীতে তিনজন ডিআইজি, দুজন অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ওএসডি অবস্থায় রয়েছেন ১৫ জন কর্মকর্তা। এ ছাড়া পুলিশ সুপার থেকে ডিআইজি পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন কর্মকর্তার পদায়ন নেই কোথাও। তাদের অনেককেই পুলিশ সদর দফতর ও বিভিন্ন রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তাদের কারোরই বসার চেয়ার-টেবিল পর্যন্ত নেই। ওএসডি থাকা অবস্থায় ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন দুজন অতিরিক্ত আইজিপি। এ ছাড়া ডিআইজি মাজেদুল হক ১৫ মে ২০০৮ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি আছেন। ওএসডি আছেন ডিআইজি মো. মতিয়ার রহমান, শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী, মিজবাউন নবী, ডিআইজি ফারুক আহমেদ, ডিআইজি মো. আকবর আলী, পুলিশ সুপার কাজী মো. ফজলুল করিম ও মো. মাহমুদুর রহমান। সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন পুলিশ সুপার গাজী জসিমউদ্দিন।

অন্যদিকে বিএনপিমনা হিসেবে পরিচিত ছয় পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশ সুপার আলী হোসেন ফকির, ডিআইজি খান সাঈদ হাসান, অতিরিক্ত ডিআইজি মাজহারুল হক, এসপি কোহিনুর মিয়া এবং এসপি ওবায়দুর রহমান। ২০০৭ সালে মোহাম্মদপুর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়া শিবলী নোমান এখন ডিএমপির রমনা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার। দুই বছর আগে তিনি এই পদোন্নতি পান। পদোন্নতির আগে তিনি রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তার কার্যালয় রমনা থানা চত্বরেই। তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) ডিসি হিসেবে যোগ দেন মনিরুল ইসলাম। এখন পর্যন্ত তিনি ডিবিতেই আছেন। তবে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম-কমিশনার হিসেবে কর্মরত।

মনিরুল ইসলাম ডিএমপি কমিশনারের মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রশাসন : জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এবং বঞ্চিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে প্রশাসনে চার শতাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি)। এর মধ্যে সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম-সচিব, উপসচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব ও সহকারী সচিব রয়েছেন। তারা বঞ্চিত হয়ে আসছেন বিগত মহাজোট সরকারের সময় থেকেই। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে একইভাবে ওএসডি ছিলেন বহুসংখ্যক যোগ্য, দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তা।

২০০৯ সালে সর্বশেষ পদোন্নতি পাওয়া একজন যুগ্ম-সচিবের অভিযোগ, পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষেত্রে মেধাতালিকা যাচাই না করে বরং যারা একদম পেছনের দিকে আছেন, পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে তাদের। অথচ সামনের দিকে থাকা যোগ্য, মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না। এটি হচ্ছে মূলত নানাভাবে প্রভাব খাটানোর ফলে। বঞ্চিত অপর এক যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা জানান, '৮৪ ব্যাচে মোট কর্মকর্তা ছিলেন ৪৪০ জন। এর মধ্যে দুই দফায় ১২৭ জনকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

এর পর অনেকে অতিরিক্ত সচিবও হয়েছেন। সর্বশেষ পদোন্নতি পাওয়াদের তালিকায়ও আছেন এ ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা। কিন্তু আক্ষেপ হচ্ছে, যারা মেধাতালিকায় প্রথম দিকে রয়েছেন, পদোন্নতি হয়নি তাদের। অথচ এদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ কিংবা প্রশাসনিক নেতিবাচক কোনো রিপোর্ট নেই। জানা যায়, '৮৫ ব্যাচের মোট ১৫৫ জন কর্মকর্তা পদোন্নতিবঞ্চিত।

এর মধ্যে অন্তত ৬০ জন আছেন, যারা মেধাবী, যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। শুধু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ডিসি হওয়ার কারণে অনেকের পদোন্নতি হয়নি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা অনেকটা আক্ষেপ করে বলেন, 'আমাদের কি আর পদোন্নতি হবে না? যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধাতালিকায় থাকার পরও গত পাঁচ বছরে পদোন্নতি পাইনি। এখন পাব কি না তা জানি না। '

বিশেষজ্ঞ মত : প্রশাসন ও পুলিশে দায়িত্ব পালন করা সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, 'দেহ আছে প্রাণ নেই' এমন অবস্থা ওএসডি কিংবা পদায়নবঞ্চিত কর্মকর্তাদের।

প্রজাতন্ত্রে রাজনীতি চরম মাত্রায় প্রবেশ করার কুফলই হচ্ছে 'ওএসডি'। এতে প্রশাসন তার গতি হারাচ্ছে। ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে সরকারের। শুধু ওএসডিরাই বঞ্চিত হচ্ছেন তা নয়, এতে সরকারের লাখ লাখ টাকা অপচয় হচ্ছে। জনগণও বঞ্চিত হচ্ছে তাদের সেবা থেকে।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক ইসমাইল হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, একজন কর্মকর্তাকে দীর্ঘদিন ওএসডি করে রাখা হবে কেন? তার বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে তদন্ত করে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে চাকরিচ্যুতও করা যেতে পারে। একজন ওএসডি কর্মকর্তা তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ায় মানসিক যন্ত্রণায় ভোগেন। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের ব্যাপারে তিনি বলেন, 'বর্তমানে আমাদের দেশে পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ই প্রাধান্য পাচ্ছে। মেধা ও জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি পাশে ফেলে রেখে এভাবে পদোন্নতি দেওয়ায় মেধাবী কর্মকর্তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের জনগণ তথা সরকার।

এর ক্ষতিকর প্রভাব পুরো বাহিনীতেই পড়ছে। প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদের সাবেক সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, প্রশাসনে রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো কর্মকর্তার পদোন্নতি ও পদায়ন দেওয়া সমীচীন হবে না। পদোন্নতি, পদায়ন হওয়া উচিত যোগ্যতার ভিত্তিতে। তিনি বলেন, সরকার আসবে, সরকার যাবে। কিন্তু প্রশাসন যাতে একটা স্থায়ী অবকাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে এ জন্য প্রত্যেকের সচেষ্ট থাকা উচিত।

এ ব্যাপারে সরকারের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি দায়িত্ব আছে প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও। নিজেদের বাড়তি সুবিধার জন্য দলবাজিতে মেতে ওঠেন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ। এগুলো বন্ধ করা উচিত। না হলে ঢেলে সাজানো তো দূরের কথা, একটা সময় দেখা যাবে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে যোগ্য, দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তা খুঁজেই পাওয়া যাবে না। একটি ভালো প্রশাসনের জন্য যোগ্য, দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের বিকল্প নেই বলে মত দেন সাবেক এই সচিব।

 

 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.