আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

১৩.৫ বিলিয়ন বছর পবিত্র কোরআনে ৬ দিন কীভাবে হল?

অজ্ঞ সমর্থকের চেয়ে বিজ্ঞ প্রতিপক্ষ ভাল।

পবিত্র কোরআনে মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কে বলা হয়েছে, সূরা ইউনূসের ৩ নম্বর আয়াত; সূরা সাজদাহ’র ৪ নম্বার আয়াত; সূরা ফুরকানের ৫৯ নম্বর আয়াত; সূরা হুদের ৭ নম্বর আয়াত; সূরা ক্বাহাফের ৩৮ নম্বর আয়াত; সূরা হাদীদের ৪ নম্বর আয়াতে:
“যে আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করা হয়েছে ছয় দিনে”।
তবে, আমরা জানি বর্তমানে এই মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৫ বিলিয়ন বছরের চেয়েও বেশি। এমনকি যদি আমাদের জানা মহাবিশ্বের পরিধি বা আওতা কল্পনাতীতভাবে বেড়ে যায়, তাহলে হয়তো একদিন তা আরো প্রাচীন বলে ধরা দেবে। যদিও বলা হয়ে থাকে আমাদের মহাবিশ্বের বয় ১৩.৫ বিলিয়ন বছর।

কিন্তু আমাদের ছায়াপথে এমন অনেক নক্ষত্র আছে, যাঁদের বয়স মনে করা হয় ১৪-১৮ বিলিয়ন বছর। যাঁর মানে মহাবিশ্বের বয়স আরো বেশি হতেই পারে। তবে, সত্যি বলতে এসবের কোনো হিসাবই ছয় দিনের সাথে খাপ খায় না।
পবিত্র কোরআনের সূরা হাজ্ব’এ বলা হয়েছে, (৪৭)“আর তাঁরা তোমাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করতে বলে, অথচ আল্লাহ তাঁর ওয়াদা কখনো খেলাফ করবেন না। আর নিঃসন্দেহে তোমার প্রভূর কাছে ‘একদিন’ তোমরা যা গণনা কর, তার এক হাজার বছরের সমান”।

একই ধরণের কথা বলা হয়েছে সূরা সাজদাহ’র ৫ নম্বর আয়াতেও।
এর ভিত্তিতে একটা গাণিতিক হিসাব করলে, ফলাফল দাঁড়ায়:
হাদিসে কুদ্সীতে বর্ণিত আছে, যে হযরত আদম (আঃ) এর সৃষ্টির ১৪০০০ বছর আগে মুহাম্মদ (সাঃ) এর নূর সৃষ্টি করা হয়েছিল। তাহলে, আমাদের হিসাবে এখানে মোট সময়ের পরিমাণ হল:
১৪০০০ x ৩৫৫ x ১০০০ = ৪৯৭০০০০০০০! মানে চার’শ সাতানব্বই কোটি বছর (চন্দ্র বছর প্রায় ৩৫৫ দিনে হয়)। মোটামুটি পৃথিবীর আনুমানিক সৃষ্টি সময়কালের সমান। আবার, মুহাম্মদ (সাঃ) এর নূর একটানা ৭০০০০ বছর আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করেছিলেন।

তাহলে, আমাদের হিসাবে এখানে মোট সময়ের পরিমাণ হল:
৭০০০০ x ৩৫৫ x ১০০০ = ২৪৮৫০০০০০০০! মানে দুই হাজার চার’শ পঁচাশি হাজার বছর!
আবার, মুহাম্মদ (সাঃ) এর নূরকে সৃষ্ট আত্মারা ১০০০০০ বছর ধরে তাওয়াফ করেছেন। তাহলে, আমাদের হিসাবে এখানে মোট সময়ের পরিমাণ হল:
১০০০০০ x ৩৫৫ x ১০০০ = ৩৫৫০০০০০০০০! মানে তিন হাজার পাঁচ শত পঁঞ্চাশ হাজার বছর!
শুধু মাত্র এই সবগুলো হিসেবের যোগফলই দাঁড়ায় প্রায় ৬৫ বিলিয়ন বছরের বেশি! এবং বিজ্ঞানের পক্ষে এর সাথে দ্বিমত পোষণের সুযোগ নেই, যেহেতু একাধিক মহাবিশ্বের সম্ভাবনাকে বাতিল করে দেয়া যাচ্ছে না। যদিও ধারণা করা হয়েছিল, যে মহাবিস্ফোরণের পূর্বে মহাবিশ্বের সববস্তু এক জায়গায় জড়ো ছিল। তবে, এখন মনে করা হয় আমাদের মহাবিশ্ব সেই সময়ে অনেকগুলো বুদবুদের মধ্যে মাত্র একটি। যাঁর মানে মহাবিশ্বের সংখ্যা আরো অনেক থাকতে পারে।

নতুন এই ধারণার নাম Big Bounce!! তবে, এ সম্পর্কে আল্লাহ’তায়ালাই ভাল জানেন।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।