আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সংসদে তৃণমূল, নাজেহাল রাজ্যবাসী

কখনও দিল্লিতে মন্ত্রীসভার বৈঠকে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সম্মতি জানানো, কখনও রান্নার গ্যাসে ভরতুকি তোলার সিদ্ধান্ত সই করে আসা। কিন্তু রাজ্যে এসেই কেন্দ্রীয় সরকারের সেই সিদ্ধান্তগুলির বিরুদ্ধেই লোক দেখানো ‘প্রতিবাদ’, শহরে মিছিল, হুমকির নাটক। ইউ পি এ-২ সরকারের প্রথম তিন বছরে এরাজ্যে থেকে নির্বাচিত ছয় প্রতিমন্ত্রীর কোন কোন দপ্তর ছিল, তা বলতেও বিস্তর ভাবতে হবে কট্টর তৃণমূল সমর্থককেও। এখন আবার তৃণমূল সাংসদের নাম উঠে আসছে সারদা কেলেঙ্কারিতে। একদিন বাদেই হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন।

তার আগে তৃণমূল সাংসদদের ‘পারফরমেন্স’র খতিয়ান পরখ করলো গণশক্তি। রাজ্যের বিপর্যয়েও মানুষের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা তৃণমূল সাংসদের... ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে পরেই এরাজ্য বিধ্বংসী আইলার কবলে পড়ে দক্ষিণ এবং উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের একাংশ। কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির ক্ষতি হয়। হাজার হাজার মানুষ বাড়ি, ঘর সব হারিয়ে বিপন্ন, আশ্রয়হীন। ক্ষতিগ্রস্তদের বিরাট অংশ গরিব মানুষ।

রাজ্যে তখন বামফ্রন্ট সরকার। সমস্ত শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সরকার ত্রান ও উদ্ধারকার্যে। আর তখন সদ্য নির্বাচিত তৃণমূল সাংসদদের ভূমিকা কি? সুন্দরবন এলাকা থেকেই নির্বাচিত তৃণমূল সাংসদ, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সি এম জাটুয়া। উদ্ধারকার্যে সরকারকে সাহায্য করা তো দূরের কথা, এই তৃণমূল মন্ত্রী ঐ বিপর্যের সময়েই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আর্জি জানালেন যাতে আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পূর্নয়াসন ও বাঁধ মেরামতের জন্য রাজ্য সরকারকে টাকা না দেওয়া হয়! বিপন্ন রাজ্যবাসীর সঙ্গে এই নজিরবিহীন ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছিলেন তৃণমূলী সাংসদ। সাংসদ ও কিছু সময় মন্ত্রী থাকাকালীন সি এম জাটুয়ার ‘সাফল্য’ বলতে কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানোর এই চিঠিই! এরাজ্যের মানুষকেই অভিজ্ঞতার বিনিময়ে চিনে নিতে হবে তাঁদেরই ভোটে জেতা তৃণমূল সাংসদদের।

পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া কোন রাজ্যে এ নজির নেই যেখানে সে রাজ্য থেকে নির্বাচিত সাংসদ রাজ্য সরকারের বিরোধীতায় কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি লিখে প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও রাজ্যকে টাকা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন! এই বিরল নজিরের সৃষ্টিকর্তাও তৃণমূল কংগ্রেস। গত ২০০৯-র ২৫ মে মাসে দক্ষিণ এবং উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের একাংশে আছড়ে পড়ে আইলা। অনেকের মৃত্যু হয়। উত্তর ২৪পরগনা ও দক্ষিণ ২৪পরগনা এই দুই জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে নদীবাঁধের ক্ষতি হয় মারাত্মক। নদীবাঁধ নির্মাণের জন্য বিগত রাজ্য সরকারের আমলেই উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়েছিলো।

সাড়ে ৩হাজার কিমি নদীবাঁধের মধ্যে ৭৭৮কিমি নদীবাঁধ পুরোপুরি ধসে যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে গঠিত টাস্ক ফোর্স নদীবাঁধ নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত জানতে চায়। সেইসময় জাতীয় বিপর্যয়ের নিয়ম অনুযায়ী খরচের ৯০শতাংশ টাকা কেন্দ্রীয় সরকার ও বাকি ১০শতাংশ টাকা রাজ্য সরকারের খরচ করার কথা ছিলো। সেইমতো রাজ্য সরকার ৬হাজার কোটি টাকার প্রকল্প কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠিয়েও দেয়। কিন্তু হঠাৎই সুর বদল করে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, খরচের ১০শতাংশ নয়, ২৫শতাংশ টাকা রাজ্য সরকারকে বহন করতে হবে।

বিগত রাজ্য সরকার মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের সেই অন্যায় দাবিও মেনে নেয়। গত ২০০৯সালের আগস্ট মাসের মধ্যে বাঁধ নির্মাণের গোটা পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় সরকারকে পাঠিয়ে দেওয়ার পর গত ২০১০সালের জুলাই মাসে কেন্দ্র থেকে প্রকল্প রূপায়ণের সম্মতি আসে। আর ঠিক তখনই সেই প্রকল্প আটকাতে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে ঝাঁপিয়ে পড়েন তৃণমূল সাংসদ। আইলায় বিধ্বস্ত বাঁধের টাকা রাজ্য সরকারকে না দেওয়ার দাবি জানিয়ে যোজনা কমিশনের চেয়ারম্যান মন্টেক সিং আলুওয়ালিয়াকে ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯-এ চিঠি লিখেছিলেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী চৌধুরী মোহন জাটুয়া । তার ঠিক ৫দিন আগে ঐ একই ভাষা, দাবির চিঠি যোজনা কমিশনের কাছে গিয়েছিল দক্ষিণ ২৪পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি, মমতা ব্যানার্জির স্নেহধন্যা শামিমা শেখের কাছ থেকে।

জাটুয়া যোজনা কমিশনকে দেওয়া চিঠির সঙ্গে শামিমা শেখের ঐ চিঠিটিও জুড়ে দিয়েছিলেন। রাজ্যের স্বার্থকে পিছন থেকে ছুরি মারার নিদারুন উদাহরণ হিসাবেই রয়ে যাবে এই ঘটনা। কি জবাদ দেবেন মমতা ব্যানার্জি? সুন্দরবনের মানুষ অভিজ্ঞতায় টের পেয়েছেন, তৃণমূল প্রার্থীকে সংসদের পাঠানোর পরিনাম। আর আপনি? আপনার কষ্টের টাকা খাটবে বাজারে,সায় দিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদরাই হ্যাঁ , লক্ষ লক্ষ শ্রমিক-কর্মচারীর পেনশন তহবিলের টাকা শেয়ার বাজারের ফড়েদের হাতে তুলে দিতে চায় দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকার। ফাটকাবাজদের খুশি করতে প্রথম ইউ পি এ সরকারের আমলেও এই চেষ্টা হয়েছিল।

কিন্তু বামপন্থীদের প্রবল আপত্তিতে এবং স্থায়ী কমিটিতে তীব্র বিরোধিতায় তা আটকেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকারের আমলে শরিকদের কোনো বাধা না পেয়ে ২০১১ সালের ২৪শে মার্চ এই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভায় পেশ করে পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যা ন্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বিল, ২০১১। তখন কেন্দ্রের জোট সরকারে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েই ঘর করছে তৃণমূল, মন্ত্রিসভায় স্বয়ং মমতা ব্যােনার্জিসহ সাত তৃণমূল মন্ত্রী। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিলের পক্ষে তৃণমূলসহ সব শরিকের সমর্থন আদায় করে কংগ্রেস। তারপর ২৪শে মার্চ লোকসভায় এই বিল পেশের পক্ষেই কংগ্রেস ও বি জে পি সাংসদদের সাথে হাত তুলেই সমর্থন করেন তৃণমূল সাংসদ অম্বিকা ব্যা নার্জি ও গোবিন্দ নস্কর।

শুধু তাই নয়, ২০০৩ সালে এন ডি এ সরকারের আমলে যখন পেনশন তহবিল বেসরকারীকরণের লক্ষ্যে প্রথমবার বিল তৈরি হয়েছিল, সেই বিলের পক্ষেও মন্ত্রিসভায় সায় দিয়েছিলেন সেই সরকারের মন্ত্রী মমতা ব্যাপনার্জি। বামপন্থীদের দীর্ঘ এক দশক ধরে লড়াই আন্দোলনের চাপেই এতদিন পেনশন তহবিলের শেয়ার বাজারে যেতে পারেনি। রান্নার গ্যাসে ভরতুকি তুলে দেওয়ার পক্ষে সই করেন তৃণমূল সাংসদই গরিব, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত মানুষের মাথায় বাড়ি মেরে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে রান্নার গ্যা সে ভরতুকি তুলে দিয়ে বছরে মাত্র ৬টা সিলিন্ডার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। ভরতুকিতে কেন্দ্র বছরে ২৪টি (পরে অবশ্য ১২টি বলেছিলেন) সিলিন্ডার দিক বলে দাবি জানিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। ইউ পি এ সরকার থেকে ইস্তফা দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন, তিনি কতই না জনদরদী! কিন্তু ২০১২ সালের আগস্ট মাসে কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম দপ্তরের স্ট্যা ন্ডিং কমিটির যে বৈঠকে রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সর্বনাশা প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিলো, সেই বৈঠকে এই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে সই করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ রত্না দে নাগ।

কংগ্রেসের আনা সর্বনাশা প্রস্তাবে সিলমোহর লাগিয়ে তৃণমূল সেদিন সারা দেশের মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলেও একমাত্র বামপন্থীরাই কিন্তু রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। স্বার্থবিরোধী এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিলেন সি পি আই (এম) সাংসদ তপন সেন। সংসদের নথিতেই রয়েছে মানুষের সাথে তৃণমূলের বিশ্বাসঘাতকতার এই কাহিনী। এর আগে পেট্রোলের দাম নির্ধারণের বিষয়টি বিনিয়ন্ত্রণ করে এই জ্বালানির দাম নির্ধারণের ক্ষমতা কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকার যখন তেল কোম্পানিগুলির হাতে তুলে দেয়, তখন সেই সর্বনাশা পদক্ষেপে যারা সায় দিয়েছিলো, তৃণমূল কংগ্রেস তাদেরও অন্যতম। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক-বীমা বিদেশী হাতে তুলে দিতে সেদিন সায় দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জিই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কশিল্প বেসরকারীকরণ ও বীমাশিল্পের আরো বিলগ্নীকরণে লক্ষ্যে ২০১১ সালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তিনটি বিল অনুমোদিত হয়।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনই শুধু নয়, সংসদে পেশের সময়েও তৃণমূল সাংসদরা এবং ক্যা বিনেট মন্ত্রী মমতা ব্যাভনার্জি এর কোনো বিরোধিতাই করেননি। ব্যাঙ্কিং আইন সংশোধনী বিলটি এর আগে সংসদে বারবারই আনার চেষ্টা করেছিল প্রথম ইউ পি এ সরকার। ২০০৫ সালে প্রথম ওই বিল আনে তারা। সে সময়ে তীব্র বাধা দিয়ে এই বিল আটকে দেন বামপন্থীরা। দেশজুড়ে গড়ে উঠেছিল ব্যাপক আন্দোলন।

কেন্দ্রে দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকারের আমলে তাদের বড় শরিক থাকাকালীন তৃণমূল এই বিলের বিষয়ে কোনো আপত্তি করেনি। বিলটি পাস করাতে বদ্ধপরিকর ছিল মনমোহন সিং সরকার। বি জে পি’র সঙ্গে আপোস করেই তাই বিলটি শেষ পর্যন্ত পাস করানো হয় ২০১২ সালের ১৯শে ডিসেম্বর। অন্যদিকে, ১৯৯৯সালে এন ডি এ আমলে যখন বীমা নিয়ন্ত্রক ও উন্নয়ন আইন, ১৯৯৯ সংসদে অনুমোদন হয় তখন এই জোটের শরিক ছিল তৃণমূল এবং মমতা ব্যা নার্জি ছিলেন ক্যা বিনেট মন্ত্রী। এই আইনের বলেই বীমাশিল্পের ২৬শতাংশ শেয়ার বিদেশী বহুজাতিক সংস্থার কবলে যাওয়ার সুযোগ হয়।

২০১১ সালে সংসদে দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকার বীমাশিল্পের আরো বিলগ্নীকরণের লক্ষ্যে দুটি বিল পেশ করে। সেই সময়েও কেন্দ্রীয় সরকারের শরিক ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মন্ত্রিসভায় এই দুটি বিল পেশের সম্মতি দেন তৃণমূলের ক্যািবিনেট মন্ত্রী মমতা ব্যাইনার্জি। সংসদে পেশের সময়েও তৃণমূলীরা নয়, একমাত্র বামপন্থী সাংসদরা ও অ-বি জে পি, অ-কংগ্রেসী দলগুলিই এই দুটি বিলের বিরোধিতা করেছে। মন্ত্রিসভা ও সংসদে একরকম, বাইরে অন্যরকম, তৃণমূলের দ্বিচারিতারই নিদর্শন।

তৃণমূল সাংসদরা যখন সারদার প্রতীক এরাজ্যের বুকে সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনাতেও একেবারে প্রকাশ্যে চলে এসেছে তৃণমূলের একাধিক সাংসদের ভূমিকা। শহরে, গ্রামাঞ্চলে কয়েক লক্ষ মানুষ প্রতারিত, সর্বস্ব খুইয়ে বিপন্ন। সেই সারদা কান্ডেই চিটফান্ড কেলেঙ্কারির মাস্টারমাইন্ড সুদীপ্ত সেনে নিজেই সি বি আইকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন তাঁর ব্যবসার পথ মসৃন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল সাংসদ। মাসে মাসে মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া অঙ্কের বেতনও দিয়েছিলেন সাংসদকে। কে সেই সাংসদ? মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কুণাল ঘোষ।

রাজ্যসভায় সাংসদ হওয়ার পরে রাজ্যের স্বার্থের কোন বিষয়ে তিনি সরব হয়েছিলেন, মনে করতে পারবেনা কট্টর তৃণমূল সাংসদও। সারদার চিটফান্ড কেলেঙ্কারির ঘটনায় বারেবারেই এসেছে তাঁর নাম। সারদার মিডিয়া বিভাগের সি ই ও ছিলেন। প্রতারক সুদীপ্ত সেন সি বি আইকে লেখা চিঠিতে জানিয়েছিলেন, মাসে ১৬লক্ষ টাকার চেক পেতেন কুণাল ঘোষ। যদিও খোদ দলের অন্দরের রটনা আছে, নগদে আরও কয়েক লক্ষ টাকা প্রতি মাসে সারদা থেকে পেতেন তিনি।

শুধুই মিডিয়া বিভাগের দায়িত্ব পালনের জন্য’ নাকি পাওয়ার লবি এবং মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের সঙ্গে সারদার মত প্রতারক সংস্থার সমন্বয়ের দায়িত্ব পালনে এই পরিমান টাকার বেতন? ইতোমধ্যেই পুলিসী জেরার মুখে পড়তে হয়েছে এই কীর্তিমান সাংসদকে। দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকারের প্রথম তিন বছরে তৃণমূলের হাফ ডজন মন্ত্রীর কে কোন দপ্তর সামলিয়েছিলেন তা ইতোমধ্যেই ক্যুইজের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। শুধু কুণাল ঘোষই নয়, তৃণমূলের আরেক সাংসদ সৃঞ্জয় বসুর নামও চলে এসেছে সারদা কান্ডে। এই সাংসদ আবার প্রতিদিন পত্রিকা মালিক-সম্পাদক। তৃণমূলের আরেক সাংসদ শতাব্দী রায় আবার ছিলেন প্রতারক সংস্থা সারদার ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার’।

টেলিভিশন চ্যানেলের ফুটেজেই দেখা গেছে সারদার অনুষ্ঠানে শতাব্দী রায় নিজেই বলছেন, ‘ সারদার মত সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার হতে পেরে আমি গর্বিত’। শুধু তাই নয় সারদার আরেক শীর্ষ আধিকারিককে নিজে প্রভাবে রেলের এক কমিটিতে ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। আরেক অভিনেতা সাংসদ তাপসের বিরুদ্ধেও রয়েছে একটি চিটফান্ড সংস্থার সঙ্গে রীতিমতো ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ। এছাড়াও তৃণমূলের নেতা,দাপুটে মন্ত্রীদের সঙ্গে সারদা ও সুদীপ্ত সেনের ঘনিষ্ঠতা ইতোমধ্যেই রাজ্যবাসী জেনে গেছেন। আর এখানেই ‘ভয়’ পেয়ে গেছেন মা-মাটি-মানুষের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

রাজ্যজুড়ে কয়েক লক্ষ প্রতারিত,বিপন্ন মানুষজন, বিরোধী দল হাজার বার দাবি করলেও ‘সততার প্রতীক’ মুখ্যমন্ত্রীর ধনুকভাঙা পণ, সারদা কান্ডে সি বি আই নয়। আপত্তি কেন? সি বি আই তদন্তে নামলে কি ‘সতাতর প্রতীক’ বিজ্ঞাপনে আঁচড় লাগতে পারে। সুদীপ্ত সেনের মুখে রাজ্য প্রশাসন, পুলিসের প্রশংসা। সুদীপ্ত সেনের চিঠিতে তৃণমূল সাংসদের নাম। মমতা ব্যানার্জির মরিয়া চেষ্টা সেই অভিযুক্ত সাংসদদের আড়াল করার।

তবুও কালি মোছা যাচ্ছে না। বারবার সারের দাম বেড়েছে তৃণমূলের সায়ে তৃণমূল কতটা কৃষক-দরদী? দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকারে শরিক থাকাকালীন মমতা ব্যানার্জি এবং তাঁর দলের সাংসদরা একের পর এক কৃষক-বিরোধী সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছেন। ২০১০সালে যখন ইউরিয়া ছাড়া সব সারের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা বেসরকারী কোম্পানিগুলির হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন দেশের রেলমন্ত্রী ছিলেন মমতা ব্যানার্জি। তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে কংগ্রেস জোট সরকারের এই কৃষক-বিরোধী সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছিলেন তিনিই।

নয়া উদারনীতির ফলে সারের দাম বাড়ছে সেই ১৯৯০-৯১সাল থেকেই। ১৯৯০-৯১সালে প্রতি টন ইউরিয়া সারের দাম ছিলো ২৩৫০টাকা। আর ২০১১-১২সালে প্রতি টন ইউরিয়া সারের দাম বেড়ে ৫৫৭৭টাকা ৩৫পয়সায় পৌঁছে গেছে। মূল্যবৃদ্ধির হার ১৩৭.৩৩শতাংশ। একইরকমভাবে ১৯৯০-৯১সালে ৩৬৫০টাকা ছিলো প্রতি টন ডি এ পি সারের দাম।

আর ২০১১-১২সালে প্রতি টন ডি এ পি সারের দাম হয়েছে ২০,৯০৪টাকা। দাম বেড়েছে ৪৭৫শতাংশ। ১৯৯১সাল থেকে আজ পর্যন্ত সংসদের ভেতরে কখনো সারের মূল্যবৃদ্ধির বিরোধিতা করেননি মমতা ব্যানার্জি ও তৃণমূলের সাংসদরা। সার নিয়ে কৃষকদের ধোঁকা দেওয়ার উদাহরণ আরো আছে। ২০০২সালের সেপ্টেম্বর মাসে বি জে পি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের এন ডি এ সরকার দুর্গাপুর, হলদিয়া-সহ দেশের ৭টি ইউরিয়া সার তৈরির কারখানা এবং ৩টি ফসফেট তৈরির কারখানার ঝাঁপ বন্ধ করে দেওয়ার পর মানুষকে ভাঁওতা দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের একটি ফ্যাক্সের কাগজ দেখিয়ে সাংসদ মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন, দুর্গাপুরের সার কারখানা ফের খোলা হবে বলে কেন্দ্রের ‘বন্ধু সরকার’ তাঁকে কথা দিয়েছে।

হলদিয়া বন্দর শুকোচ্ছে তৃণমূলী মন্ত্রী, সাংসদদের জন্যই হলদিয়া বন্দর এই প্রথম প্রায় ২০০কোটি টাকা লোকসান করতে চলেছে। হলদিয়া বন্দরের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিক ও স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, এই অবদান তৃণমূলী জাহাজমন্ত্রী মুকুল রায়ের! কারণ তিনি যখন জাহাজ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, তখনই এই বন্দরের জন্য বরাদ্দ একমাত্র ড্রেজারটিকে নিয়ে যাওয়া হয় ওড়িশার পারাদীপে। শুকিয়ে মারার চক্রান্ত তখনই শুরু। হলদিয়া বন্দর থেকে শিল্পসংস্থা এ বি জি-কে রীতিমত মাফিয়ারাজ কায়েম করে তাড়ানোর কৃতিত্ব প্রাপ্য তৃণমূল সাংসদ শুভেন্দু অধিকারীর। তৃণমূলের আরেক প্রাক্তন সাংসদ শিল্পপতি স্বপনসাধন ওরফে টুটু বসুর অবাধে ব্যআবসা করার লক্ষ্য নিয়েই অধিকারী একাজ করেছিলেন বলে সবার অনুমান।

যার ফল লোকসান ২০০কোটি! ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.