আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নিশির সাথে কাটানো একটা সুন্দর বিকাল অথবা ম্যাডামের চোখ রাঙানীর গল্প !!!

বিষাদময় জীবন এগিয়ে যায় যুক্তিহীন মৃত্যুর দিকে !!! ডিসক্ল্বেইমার : নাই, যে কেউ এসে যে কোন কিছু ক্লেইম করতে পারেন। তবে উল্টা-পাল্টা কিছু ক্লেইম করলে ডাইরেক্ট ব্লক করা হবে !!! আরেকটা কথা, কোন একটা কারণে আগের পর্বগুলোর লিংক পোস্টে দেয়া যাচ্ছে না, দিলেই পোস্ট কনটেন্ট গায়েব হয়ে যাচ্ছে। আগের পর্বগুলি পড়লে এই পর্ব পড়ার সময় আকাশ থেকে পড়ার মত অনুভূতি বোধ করবেন না। নিশির সাথে কথা বলতে বলতে ক্যাম্পাসের বাইরে চলে আসলাম। আমাদের ক্যাম্পাসের ঠিক বাইরের দিকে একটা হল আছে।

আমাদের ভার্সিটির হলগুলোর একটা বিশেষত্ব হল, একটা হলে যত ছাত্র থাকে সবাই একই ডিপার্টমেন্টের। তবে এই হলটার একটা এক্সট্রা সুবিধা হল এই হলের সাথে একটা অ্যাটাচড পুকুরও আছে, যেইটা আর কোন হলে নাই। মেয়েদের হলের সাথেও একটা পুকুর অবশ্য আছে। তবে ঐখানকার পরিবেশ আর এইখানকার পরিবেশ পুরোটাই বিপরীত। * আমি হাটছি আর হা করে হলের দিকে তাকিয়ে আছি , খেয়ালই করি নাই নিশি আমার পাশে দাঁড়িয়ে।

হঠাৎ করেই আবার নিশির ডাক শুনলাম- -অ্যাই ই ই ই, কি হল তোমার ?!? - - অ্যাই ই ই ই ছেলে -বল কি বলবা !! - হা করে দেখার মত কি আছে ঐখানে ?!? -দেখো, কত সুন্দর না হলটা ?!? -এর মাঝে সৌন্দর্যের কি দেখলা ?!? -মানে এই যে কত সুন্দর অ্যাটাচড পুকুর, পুকুর পাড়ে গাছের ছায়া, কেমন যেন একটা ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব আছে। -আর একটা কথাও বলবা না। -কেন, আমি কি বলছি যে এতটা রিঅ্যাক্ট করতে হবে। - - - #%$#%%$#^^#%## #%$#%%$#^^#%## -#@^#%^^@%###@@#%$#%%$#^^#%## কথোপকথন এবং ঝগড়া একসময় শেষ হয়ে গেলেও নিশি আমার সাথে সাথেই হাটছিল। আমাদের ক্যাম্পাসটা শহর থেকে প্রায় ৫-৬ কি.মি. দুরে।

আবার ক্যাম্পাস থেকেও মেইনরোড প্রায় ২০ মিনিটের হাঁটা পথ। এই ২০ মিনিটের মাঝে ১৫ মিনিটই ঝগড়া করতে করতে পার হলাম। খেয়ালই করি নাই সেই কাঠফাটা রোদ কখন উধাও হয়ে গেছে, আকাশের কোণায় কাল মেঘ এসে জমা হচ্ছে। আমার যখন মেইন রোডের অনেক কাছাকাছি চলে এসেছি তখনই শুরু হল বাতাস। সাথে প্রচন্ড ধুলাঝড়।

এরপর আর কিছু বুঝে উঠার আগেই চোখে ধুলা ঢুকে গেল, একই সাথে নিশি শক্ত করে আমার হাত চেপে ধরল। আমি তখনও বুঝে উঠতে পারছি এখন কি করা উচিৎ, হাতটা ঝাড়া দিয়ে ছাড়িয়ে নিবো নাকি নিরাপদ কোথাও আশ্রয় নিবো। এরই মাঝে আমার চিন্তাভাবনাকে আরও শানিত করতে শন শন করে বর্ষা শুরু হয়ে গেল। বর্ষা মাথায় নিয়েই দৌড় শুরু করলাম, দৌড়াতে দৌড়াতে বাসস্ট্যান্ডের পাশের যাত্রী ছাউনির ভিতরে দাড়ালাম। আমাদের মত অনেককেই দেখলাম ছাউনির ভিতরে দাড়িয়ে আছে।

আমরাও সুবিধামত জায়গায় দাড়িয়ে পড়লাম। দাড়িয়ে দাড়িয়ে বৃষ্টি দেখছি, বৃষ্টির থেকে বাতাসের জোরই বেশি। যার কারণে মাঝে মাঝেই পানির ঝাপটা এসে গায়ে লাগছিল। আমি ভিজে যাচ্ছি তার পরেও মুগ্ধ হয়ে বৃষ্টি দেখছি। আজ মনে হয় আমার মুগ্ধ হওয়ার দিন।

যা দেখছি তাতেই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছি। আমার মুগ্ধতা কাটানোর জন্যই মনে হয় বৃষ্টিটা হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেল। বাতাসের জোরও অনেক কম। আমিও বের হবো হবো এমন ভাব নিচ্ছি। তখনি খেয়াল করলাম ছাউনির প্রত্যেক জোড়া চোখ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, আরেকটা জিনিসও তখন খেয়াল করলাম।

তা হল, নিশি তখনও আমার হাত চেপে ধরে দাড়িয়ে আছে। এতটাই জোর দিয়ে ধরেছে যে ব্লাড সার্কুলেশন বিঘ্নিত হয়ে আমার হাত ঝিমঝিম শুরু হয়ে গেছে। হাতটা সামান্য দুলাতে দুলাতে বললাম- -বৃষ্টি তো শেষ তাই না, চল বের হয়ে পড়ি। -হ্যা, চল বের হই। -আর হ্যা, আমার হাত ঝি ঝি ধরে গেছে।

-হাতটা ছেড়ে দিতে বললেই পারতা !!! -আমি আসলে তোমার মত অভ্দ্র না। - - আরে আজব তো, কান্না করো কেন ?!? - -আজব, প্লিজ নিশি, কান্না থামাও। মানুষজন কি ভাবছে বলোতো !!! - আগে বলো তুমি আমার কথায় মাইন্ড করো নাই !!! -নাহ, একদমই মাইন্ড করি নাই, এইবার কান্নাটা থামাও দয়া করে। ------------------------চলবে পরের পর্ব কালকেই দিবো ইনশাল্লাহ !!! ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১৬ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.