আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আন্তর্জাতিক পানি আইনের আলোকে ভারত বাংলাদেশের পানি বণ্টন বিরোধের ইতিহাস ....... মাহমুদুর রহমান

গনজাগরনের মাধ্যেমে পরিবর্তন সম্ভব....মানুষের চিন্তার পরিবর্তন করাটা জরুরি ....বুদ্ধিবৃত্তিক পুনরজাগরনে বিশ্বাসী জাতিসংঘ কনভেনশন ১৯৯৭-এর সংজ্ঞা অনুসারে পৃথিবীর ২৬৩টি নদী ও পানিপ্রবাহকে ‘আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কনভেনশনের ২(৬) ধারায় বলা হয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ’ বলতে এমন পানিপ্রবাহকে বোঝানো হবে যার অংশবিশেষ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত। ১৯৯২ সালের হেলসিংকি চুক্তির ১(১) ধারায় এ ধরনের পানিপ্রবাহের সংজ্ঞায় ‘আন্তঃসীমান্ত জলরাশি’ বলতে ভূউপরিস্থ ও ভূগর্ভস্থ পানির কথা বলা হয়েছে যা দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে প্রবাহিত। এসব আন্তঃসীমান্ত জলরাশি দীর্ঘ পথপরিক্রমা শেষে কোনো একটি দেশসংলগ্ন সাগরে গিয়ে মিলিত হয়। ভারত, চীন ও মিয়ানমারে উত্পত্তি হয়ে বিপুলসংখ্যক আন্তর্জাতিক নদী বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

মোট ৫৪টি নদী ও উপনদী ভারত এবং মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। হেলসিংকি এগ্রিমেন্ট ১৯৯২, জাতিসংঘ কনভেনশন ১৯৯৭, বার্লিন রুলস ২০০৪ লঙ্ঘন করে ভারত এর মধ্যেই এ ধরনের ৩৬টি নদীতে বাঁধ নির্মাণ করেছে। এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়া ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে অনেক ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর দিল্লিতে যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি হয়, আমাদের আঞ্চলিক সাম্রাজ্যবাদী প্রতিবেশী রাষ্ট্র সেটাও বিভিন্ন সময় লঙ্ঘন করেছে। ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ নিয়ে আমাদের আলোচনার অভিজ্ঞতা এক কথায় হতাশাব্যঞ্জক। উজানের দেশ হওয়ার সুবাদে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ৫৪টি আন্তর্জাতিক নদীর অধিকাংশের পানিই একতরফাভাবে আমাদের পরাক্রান্ত প্রতিবেশী প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসব কাঠামো নির্মাণের ব্যাপারে আগেভাগে আমাদের জানানোর কখনো প্রয়োজনও বোধ করেনি ভারত। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির আইনসঙ্গত হিস্যা থেকে বঞ্চিত করার সাম্রাজ্যবাদী নীল-নকশার সঙ্গে সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিমকোর্টও শামিল হওয়ায় আমাদের পরিবেশ আরও বিপন্ন হয়েছে। চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি এসএইচ কাপাডিয়ার (সম্প্রতি অবসরে গেছেন) নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ব ইতিহাসের এক চরম উচ্চাভিলাষী ও পরিবেশের জন্য সম্ভাব্য বিপর্যয় সৃষ্টিকারী নদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ভারত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে না দিলেও বেঞ্চের আদেশে বলা হয়, ‘নদী সংযোগের জন্য অবিলম্বে কমিটি গঠনের জন্য আমরা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিচ্ছি। আমরা (গঠিতব্য) কমিটিকেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিচ্ছি।

’ নদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ৩৭টি নদীর মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হবে। এর ফলে হিমালয় থেকে জন্ম লাভ করা পূর্বাঞ্চলের নদীগুলো থেকে ভারতের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে ১৭,৮০০ কোটি ঘনমিটার পানি সরিয়ে নেয়া হবে। এতে ভাটি ও বদ্বীপের বাংলাদেশের কৃষি, জীবন ও জীবিকা, নৌ চলাচল এবং সার্বিক জলজ-পরিবেশের ওপর ব্যাপক বিধ্বংসী প্রভাব পড়বে। এই বিপজ্জনক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার আগে আমি প্রতিবেশী দুটি দেশ তথা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বিরোধপূর্ণ অবস্থানের ইতিহাস সম্পর্কে পর্যালোচনা করতে চাই। এই লেখায় আমার আলোচনা মূলত গঙ্গা, তিস্তা, বরাক (টিপাইমুখ) বিরোধ এবং নদী সংযোগের ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছি।

বাংলাদেশের অভিশাপ ফারাক্কা বাঁধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির হাত থেকে ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা প্রাপ্তির কয়েক বছর পরই গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে খবর প্রচারিত হয় যে, ভারত শুকনো মৌসুমে গঙ্গা নদীর পানির গতিপথ পরিবর্তন করে ভাগীরথী নদীতে নিয়ে যাওয়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ওই সংবাদের বিষয়ে পাকিস্তান সরকার ১৯৫১ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেই পত্রের জবাব দিতে ভারত সরকার চার মাস সময় নেয়। ১৯৫২ সালের ৮ মার্চ ভারত জানায় যে, প্রকল্পটি একেবারেই প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। কাজেই, পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে প্রকল্পের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সে দেশের উদ্বেগ প্রকাশ ‘একেবারেই কাল্পনিক’।

পাকিস্তানের যুক্তিসঙ্গত উদ্বেগকে কাল্পনিক বলে মন্তব্য করার ঠিক এক দশক পরে, ১৯৬১ সালের ৩০ জুন অনেকটা আকস্মিকভাবেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রটিকে জানায় যে, ফারাক্কা বাঁধের নির্মাণ কাজ কার্যত শুরু হয়ে গিয়েছে। ভারত সরকারের এই স্বীকারোক্তির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট বিষয়টি নিজের হাতে নিয়ে নেন এবং সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি লেখেন। এতে বলা হয়, বিষয়টি এতই গুরুতর যে আমলাতান্ত্রিক পর্যায়ে এর সুরাহা সম্ভব নয় এবং এজন্য মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের অনুরোধ জানান তিনি। ১৯৬১ সালের ২৭ মার্চ চিঠিটি পাঠানো হয় এবং ১৯৬১ সালের এপ্রিলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ওই চিঠির জবাব দেন। মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক আহ্বানের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে এমন কোনো পরামর্শ আসবে না যা সমস্যাটির সন্তোষজনক সমাধানের ক্ষেত্রে কাজে দেবে।

এভাবেই মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ভাগ্য ঝুলে যায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আরও ১০ বছর অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের জন্ম না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকটি আর অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে এ সময়ের মধ্যে সচিবপর্যায়ে পাঁচটি বৈঠক হয় এবং ১৯৬৯ সালের ১৫ থেকে ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত তৃতীয় বৈঠকে পাকিস্তান নিম্নোক্ত চারটি সুনির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখপূর্বক একটি চুক্তির প্রস্তাব দেয়— (১) নির্ধারিত পয়েন্টে মাসিক ভিত্তিতে পাকিস্তানকে গঙ্গার পানির নির্ধারিত অংশ সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে হবে, (২) একান্তই যদি ভারত এ ধরনের কোনো স্থাপনা নির্মাণ করে তাহলে সেই নির্মাণ কাজ পূর্ব পাকিস্তানে গঙ্গা বাঁধ নির্মাণের অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই হতে হবে, (৩) চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য স্থায়ী গঙ্গা কমিশন গঠন, এবং (৪) মতভিন্নতা ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার কৌশল নির্ধারণ। তথাকথিত পর্যাপ্ত ‘মৌলিক কারিগরি উপাত্ত’ না থাকার অজুহাতে ভারত পাকিস্তানের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। ভাটির দেশ তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ১৯৭০ সালে উজানের ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ শেষ করে।

এ সময় ফারাক্কা থেকে হুগলি পর্যন্ত ২৪ মাইল দীর্ঘ ফিডার ক্যানেল তৈরির কাজও পূর্ণোদ্যমে এগিয়ে চলে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম হয় এবং ন্যায়সঙ্গত ভিত্তিতে অভিন্ন নদীর পানি ভাগাভাগি করে নেয়ার ঘোষিত উদ্দেশে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যু বিবেচনায় গঙ্গা ও তিস্তা নদীর পানি বণ্টন সমস্যা জেআরসির এখতিয়ারের বাইরে রেখে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে মীমাংসার সিদ্ধান্ত হয়। ভারতের অন্যায় চাপের কাছে নতি স্বীকার করে কোনো চুক্তি ছাড়াই ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সরকার ২১.৪.১৯৭৫ থেকে ৩১.৫.১৯৭৫ পর্যন্ত ৪১ দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়। এ সময় গঙ্গা থেকে ফিডার ক্যানেলে নিম্নোক্ত পরিমাণ পানি প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়া হয়।

মাস তারিখ পানি প্রত্যাহার এপ্রিল, ১৯৭৫ ২১-৩০ ১১,০০০ কিউসেক মে, ১৯৭৫ ১-১০ ১২,০০০ কিউসেক ১১-২০ ১৫,০০০ কিউসেক ২১-৩১ ১৬,০০০ কিউসেক ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল ভারতের তত্কালীন কৃষি ও সেচমন্ত্রী জগজীবন রাম অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে লোকসভায় (ভারতের নিম্নকক্ষ) ঘোষণা করেন যে, ওইদিনই বেলা এগারোটায় ফারাক্কার সংযোগ খাল চালু করা হয়েছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর তীব্র চাপের কাছে শেখ মুজিবুর রহমানের অসহায় আত্মসমর্পণের কারণে ভাটির বাংলাদেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জনগণের ভাগ্যে চিরস্থায়ীভাবে বিপর্যয় নেমে আসে। জেনারেল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সামরিক সরকার ১৯৭৬ সালে ফারাক্কা ইস্যুকে জাতিসংঘে উত্থাপনের সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয়ে এজেন্ডা নির্ধারণে গঠিত সাধারণ কমিটি ইস্যুটি বিশেষ রাজনৈতিক কমিটিতে আলোচনার জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ করে। ১৯৭৬ সালের ১৫ নভেম্বর বিশেষ রাজনৈতিক কমিটিতে এ নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক হয়।

বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকারের প্রতি ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থনের প্রেক্ষিতে অবশেষে ভারত অতিসত্বর বিরোধটির মীমাংসার ব্যাপারে সম্মত হয়। জাতিসংঘের বিশেষ রাজনৈতিক কমিটি তার চূড়ান্ত সুপারিশে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশের জন্য পুনরায় জাতিসংঘের ৩২তম অধিবেশনে যাওয়ার দরজা উন্মুক্ত রেখে দেয়। বিশেষ কমিটির সুপারিশ নম্বর ৫ ও ৬-এর কারণে গঙ্গার পানি ভাগাভাগি নিয়ে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু করতে বাধ্য হয়। ৫. পক্ষদ্বয়কে জাতিসংঘ ব্যবস্থার সামর্থ্যকে যথোপযুক্তভাবে ব্যবহারের জন্য যথাযথ বিবেচনার পরামর্শ দেয়া হলো। ৬. সমস্যাটির মীমাংসার জন্য অর্জিত অগ্রগতি সম্পর্কে নিরাপত্তা পরিষদের ৩২তম অধিবেশনে (সংক্ষুব্ধ) যে কোনো পক্ষই প্রতিবেদন দিতে পারবে।

অবশেষে ভারত ও বাংলাদেশ ১৯৭৭ সালের ৫ নভেম্বর গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে একটি সমাধানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। গ্যারান্টি ক্লজসহ ফারাক্কা পয়েন্টে বাংলাদেশের জন্য পানিপ্রবাহ অব্যাহত রাখার নিশ্চয়তা সংবলিত ওই আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ভারতের পক্ষে এসএস বার্নালা এবং বাংলাদেশের পক্ষে রিয়ার অ্যাডমিরাল এমএইচ খান। স্বাক্ষরের দিন, অর্থাত্ ৫ নভেম্বর ১৯৭৭ থেকে চুক্তির মেয়াদ ছিল পরবর্তী পাঁচ বছর। গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে এটাই ছিল ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক চুক্তি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাকি অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশ আজ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে উপনীত হতে পারেনি।

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সরিয়ে দিয়ে এক সামরিক অভ্যুত্থানে ১৯৮২ সালে বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করেন লে. জে. এইচএম এরশাদ। গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তির পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ফারাক্কা থেকে বাংলাদেশে ন্যূনতম পানি সরবরাহের পূর্বেকার গ্যারান্টি ক্লজ বাদ দিয়ে ১৯৮২ সালের ৭ অক্টোবর একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন সামরিক একনায়ক এরশাদ। প্রাথমিকভাবে সেই সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ছিল তিন বছর। ১৯৮৫ সালের ২২ নভেম্বর চুক্তিটি আবারও তিন বছরের জন্য নবায়ন করা হয়। গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জয়লাভ করে ক্ষমতাসীন হয়।

১৯৮৫ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ততদিনে শেষ হয়ে গিয়েছে। কোনো চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক কার্যকর না থাকায় ফারাক্কা পয়েন্ট দিয়ে ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নিতে থাকে। খালেদা জিয়া সরকারের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি স্বাক্ষরে ভারত একেবারেই আগ্রহী ছিল না। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি ১৯৯৩ সালের ৩ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে ইস্যুটি উত্থাপন করেন। খালেদা জিয়া বলেন, ‘ফারাক্কা বাঁধ চালুর সময় ভারত যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণ করেনি।

বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে অবজ্ঞা করে উজানে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে গঙ্গা তথা পদ্মা অববাহিকার ৪ কোটি মানুষ মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ফারাক্কা বাঁধ আমাদের জীবন-মরণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বাঁধের কারণে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে গাছপালার বৃদ্ধি কমে গেছে এবং ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার কারণে শিল্পের ওপর হুমকি সৃষ্টি হচ্ছে, কৃষি ধ্বংস হচ্ছে। পলির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় নদনদীর নাব্য কমে যাচ্ছে।

মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী সহসাই বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পদ্মা নদীর ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করত, বিভিন্ন পেশার এরকম অসংখ্য মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। অনেকেই তাদের বহু স্মৃতিবিজড়িত ঘরবাড়ি ছেড়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে। সমগ্র বিশ্ব যখন পরিবেশ রক্ষার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, তখন বাংলাদেশের বিশাল একটি জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্য ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এটা মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের স্পষ্ট লঙ্ঘন ছাড়া আর কিছু নয়।

সহজ কথায় বলতে গেলে ফারাক্কা বাঁধের কারণে আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামো বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ’ ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের আলোচনার সব উদ্যোগকে ভারত অব্যাহতভাবে উপেক্ষা করে গিয়েছে। অবশেষে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ গঙ্গা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পাঁচ বছর পরপর পরিস্থিতি পর্যালোচনার বিধান রেখে চুক্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ত্রিশ বছর। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়া নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর থেকে ভারত দুই দফায় কমপক্ষে ১০ বছর আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ গঙ্গা নদী থেকে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ১৯৭৫ সালের এপ্রিল থেকে ১৯৭৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত কোনো চুক্তি বলবত্ ছিল না। এরপর আবার ১৯৮৮ সালে সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর থেকে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তি স্বাক্ষরের আগ পর্যন্ত ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করেছে। ভারতের এই পানি প্রত্যাহার ছিল সব আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমি বিশ্বাস করি, জাতিসংঘ কনভেনশন ১৯৯৭-এর ৫ ও ৭ ধারা অনুসারে ভারতের ওই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ এখনও তার আঞ্চলিক পরাশক্তির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার সংরক্ষণ করে।

তিস্তা চুক্তি : একটি রাজনৈতিক মরীচিকা জেনারেল মইনের নেতৃত্বাধীন আধা সামরিক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এক ভারসাম্যহীন নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার ঠিক এক বছরের মাথায় ২০১০ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে যান। একতরফা কৃতজ্ঞতার ভারে ন্যুব্জ প্রধানমন্ত্রীর সেই সফর শেষে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৫০ দফা বিশিষ্ট এক যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। যৌথ ইশতেহারের ২৭ নম্বর দফায় বলা হয় : ‘শুকনো মৌসুমে তিস্তার পানি প্রবাহের স্বল্পতার কারণে উভয় দেশের জনগণের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে তিস্তার পানি বণ্টন সংক্রান্ত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার আলোচনা দ্রুত শেষ করার জন্য উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী মত দিয়েছেন। দুই প্রধানমন্ত্রী তাদের নিজ নিজ পানিসম্পদমন্ত্রীকে ২০১০ সালের এই ত্রৈমাসিকের মধ্যেই যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করতে বলেছেন। যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে ফেনী, মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতি, ধরলা ও দুধকুমার নদী প্রসঙ্গেও আলোচনা হবে।

’ বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যের ব্যাপার হলো, যদিও যৌথ ইশতেহারে তিস্তার পানি স্বল্পতার কারণে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এই তথ্য একেবারেই উল্লেখ করা হয়নি যে ভাটির দেশের জনগণের অধিকারকে উপেক্ষা করে একটি আন্তর্জাতিক নদীর ওপর দায়িত্বহীনভাবে একের পর এক বাঁধ দিয়ে এই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য ভারতই দায়ী। যাই হোক, ২০১১ সালে ঢাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ফিরতি সফরের সময় তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি হবে বলে আশা করেছিল বাংলাদেশ সরকার। অন্যদিকে সমগ্র বাংলাদেশের ওপর দিয়ে স্থল ট্রানজিট প্রোটোকল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের জন্য খুবই উদগ্রীব ছিল ভারত। প্রধানমন্ত্রীর ভারতপন্থী উপদেষ্টাকুল আশায় ছিলেন যে, বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক জনগণকে ধোঁকা দিয়ে তিস্তার পানি বণ্টন ও ট্রানজিট চুক্তির মতো একেবারেই আলাদা দুটি বিষয়ের মধ্যে এক প্রকার সংযোগ স্থাপনে হাসিনা সরকার সফল হবে। তবে তাদের এই অভিলাষ পূরণের পথে বাদ সাধেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

বাংলাদেশকে ন্যূনতম পানি দেয়ার ক্ষেত্রেও তিনি আপত্তি তোলেন। ফলে জনরোষের ভয়ে ভারতের প্রতি নতজানু বর্তমান বাংলাদেশ সরকার ট্রানজিট চুক্তি স্বাক্ষর স্থগিত করতে বাধ্য হয়। আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ১৯৭২ সালে যখন যৌথ নদী কমিশন গঠন করা হয়, তখনও স্পর্শকাতর ও জনগণের প্রত্যাশা বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে গঙ্গা ও তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যুর মীমাংসা করার সিদ্ধান্ত হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে শেখ মুজিবের সাড়ে তিন বছরের শাসনকালে কোনো ইস্যুরই মীমাংসা হয়নি।

অন্যদিকে ভারতকে একতরফাভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়ায় আমাদের জাতীয় স্বার্থের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা অর্জনের ৪১ বছর পরও ভারত তিস্তা সমস্যার সমাধানে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে ২০০১ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের তত্কালীন পানিসম্পদ মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক যৌথ নদী কমিশনের ৩৪তম বৈঠকের সূচনাতে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার উদ্ধৃতি দিচ্ছি : ‘১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে কমিশনের ৩২তম বৈঠকে তিস্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দু’দেশের সকল অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি প্রণয়নের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য একটি যৌথ বিশেষজ্ঞ কমিটি (জেসিই) গঠন করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালে জেসিইর প্রথম বৈঠকে সাতটি নদী নিয়ে আলোচনায় মতৈক্য হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এর মধ্যে তিস্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথম দফায় তিস্তা, মনু, খোয়াই, গোমতি, মুহুরী, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

আমি জানতে পেরেছি যে, এরপর ১৯৯৯ ও ২০০০ সালে জেসিইর মাত্র দুটি বৈঠক হয়েছে। জেসিই গঠনের পর তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিস্তার পানি বণ্টন সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব কমিশনের (জেআরসির) নিকট জেসিই পেশ করতে পারেনি। বাদবাকি নদীগুলোর প্রসঙ্গ আলোচনার বাইরেই রাখলাম। ’ বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিরাট অংশ তিস্তার পানিপ্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। তিস্তার ওপর ভারত ও বাংলাদেশে বাঁধ চালু রয়েছে।

কোনো পানি বণ্টন চুক্তি না থাকায় বাংলাদেশের তিস্তা বাঁধ প্রকল্প পানি স্বল্পতায় ধুঁকছে। তিস্তার পানি প্রবাহও মারাত্মকভাবে কমে গেছে। স্বাভাবিকভাবে জানুয়ারির প্রথম ১০ দিনে যেখানে ৭,০০০ কিউসেক পানি প্রবাহিত হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এ বছর ওই সময়ে প্রবাহিত হয়েছে মাত্র ৬০০ কিউসেক পানি। তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে আরও বিলম্ব একেবারেই সহনীয় নয়।

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, সেই ১৯৭২ সাল থেকেই তিস্তার প্রসঙ্গ নিয়ে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম আবদুর রাজ্জাক নিজ দলের মধ্যেও গোঁড়া ভারতপন্থী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। উপরে উদ্ধৃত বক্তৃতায় তিস্তা ইস্যুতে তার ব্যক্তিগত হতাশা স্পষ্টতই প্রতিফলিত হয়েছে। অন্যদিকে সিকিম থেকে বাংলাদেশের উপকূলের পথে তিস্তার দীর্ঘ ৪০০ কিলোমিটার জুড়ে ভারত মর্জিমাফিক বাঁধ নির্মাণ করে চলেছে। এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে গজলডোবার ওপর তিস্তা বাঁধ, সিকিমে দুটি জলবিদ্যুত্ বাঁধ—একটি কুলেখানিতে ও অন্যটি আরও উজানের দিকে।

ভারত সরকার তিস্তার ওপর নতুন বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। একের পর এক বাঁধ নির্মাণের প্রতিক্রিয়ায় পানি প্রবাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে নদীতে পলি জমেছে, নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে, ভাঙন তীব্রতর হয়েছে এবং পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। উজানে বাঁধ দিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তিস্তা ও মহানন্দার প্রায় সব পানিই প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এক সময়ের প্রমত্তা তিস্তা এখন কার্যত একটি মৃত নদীতে পরিণত হয়েছে।

শুকনো মৌসুমে গজলডোবা পয়েন্ট দিয়ে এখন ৫০০ কিউসেকেরও কম পানি আসছে। তিস্তায় ভারতের অব্যাহত লুণ্ঠনের ইতিহাস ও বর্তমানে নদীর দুরবস্থা আমলে না নিয়ে যদি কোনো পানিবণ্টন চুক্তি করা হয়, তাতে কার্যত আমাদের পরাক্রমশালী প্রতিবেশীর দীর্ঘদিনের অপকর্মকেই অনুমোদন দেয়া হবে এবং বাংলাদেশের জনগণের ন্যায়সঙ্গত স্বার্থ জলাঞ্জলির বিনিময়ে কেবল বর্তমান ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল হবে। তিস্তার পানি প্রত্যাহারের মাধ্যমে ভারত বার্লিন রুলস ২০০৪-এর ১২ ও ১৩ ধারা স্পষ্টতই লঙ্ঘন করেছে। এই দুটি ধারায় পানির ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসঙ্গত ব্যবহারের নীতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মুমূর্ষু তিস্তার বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে আমাদের জনগণের দুর্ভোগ আংশিক লাঘবের জন্য বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে : ১. তিস্তার ওপর গজলডোবা ও অন্যান্য বাঁধ নির্মাণের আগে পানি প্রবাহের ঐতিহাসিক রেকর্ডের ভিত্তিতে পানি বণ্টনের আলোচনা করতে হবে।

২০০১ সালের জেআরসির বৈঠকে আবদুর রাজ্জাক যে বিবৃতি দিয়েছিলেন, তাতেও স্পষ্ট; নদীর বর্তমান যে অবস্থা তাতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বণ্টন করার মতো আদৌ কোনো পানি অবশিষ্ট নেই। ২. জাতিসংঘ কনভেনশন লঙ্ঘন করে আন্তর্জাতিক নদীর পানি একতরফা ব্যবহারের মাধ্যমে নদী হত্যার দায়ে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে হবে। উক্ত দুটি ইস্যুর সমাধান না করে কোনো চুক্তি হলে তা হবে দেশদ্রোহিতামূলক এবং জাতীয় স্বার্থের পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণের শামিল। আমাদের মনে রাখা দরকার যে, মন্দ চুক্তির চেয়ে কোনো চুক্তি না থাকাই শ্রেয়। (আগামীবারে সমাপ্য) উৎসঃ আমার দেশ Click This Link  ।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.