আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বানিজ্যঃ সমস্ত নিয়ম-নীতি কে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে এই ভর্তি পরীক্ষা থেকে শিক্ষক-কর্মকর্তা গন হাতিয়ে নিলেন ৬ কোটি টাকারও বেশি।

হতাশা আর দু;খ ব্যাথা যাদের দেখে থমকে দাঁড়ায় আজকে তাদের খুব প্রয়োজন, বিশ্ব এসে দু হাত বাড়ায়। সম্প্রতি হয়ে গেল ২০১২ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। সমস্ত নিয়ম-নীতি কে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে এই ভর্তি পরীক্ষা থেকে শিক্ষক-কর্মকর্তা গন হাতিয়ে নিলেন ৬ কোটি টাকারও বেশি। ভর্তি ফরম বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৯ কোটি টাকা যার মাত্র ত্রিশ শতাংশ জমা হয়েছে বিশ্বাবিদ্যালয়ের কোষাগারে। শিক্ষকগন পরিদর্শকের দায়িত্ব পালনের জন্য টাকা নিয়েছেন বিধি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব থেকে।

আর রেখে দেওয়া ৭০ শতাংশ তথা ৬ কোটি টাকারও বেশি শিক্ষক-কর্মকর্তাগন ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। ভর্তি পরীক্ষা থেকে এভাবে টাকা নেওয়া চলছে ৯০ সাল থেকে অথচ একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে জমা দেবার কথা। আয় বৃদ্ধির জন্য এবার ইউনিট ১৪টি থেকে বাড়িয়ে ১৬ টি করা হয়েছে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হয় ৪টি ইউনিটে)। বিস্তারিত দেখতে চাইলে বিগত ১২ অক্টোবর ডেইলী স্টারে প্রকাশিত রিপোর্ট দেখুন। আর ১৬টি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া শুধু টাকার শ্রাদ্ধই নয়, ভর্তিচ্ছি ছাত্র-ছাত্রীসহ অভিভাবকদের ভোগান্তিরও এক শেষ!! বিস্তারিত: Click This Link দেশের এখনো বড় একটা জন গোষ্ঠী তাদের সন্তানের উচ্চতর পড়াশুনার জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারেনা, তাই এ সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয় অনেক ছাত্র-ছাত্রী, আর এই চাহিদার কথা মাথায় রেখে শিক্ষকগণ বের করে নিয়েছেন অভিভাবকদের পকেট কাটবার এক অভিনব পন্থা।

আমরা আগে দেখতাম বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সুন্দর সুন্দর কথা-মালা দিয়ে লিখা দেয়াল লিখন। “শিক্ষা সুযোগ নয়, অধিকার”, শিক্ষাকে পণ্য বানানো চলবে না” তখন এই কথা গুলির মহাত্য তেমন বুঝতাম না। এখন বুঝি। বাচ্চাদের স্কুলে পড়াতে কিম্বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা ডিগ্রী নিতে যে খরচ হয় সেট দেখলেই বুঝা যায় শিক্ষা কভাবে পণ্য হয়ে গেছে। কিন্তু যে কোন দামী পণ্যের মতই এই দামী শিক্ষা কিনে নেবার ক্ষমতা নাই বিশাল জনগোষ্ঠির।

অথচ প্রথম সংবিধানে “সমাজতন্ত্র” জুড়ে দেয়া আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় আর বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা এখন শিক্ষামন্ত্রী। এই বছরের শুরুর দিকে কিছু স্কুলে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় করা কে কেন্দ্র করে বেশ সরগরম ছিল মিডিয়া। সেই স্কুল ছিল বেসরকারী। এখন খোদ প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিনব উপায়ে দেশের সাধারন মানুষের পকেট কাটবার এই খবর-প্রতিবেদনে কি সরকারের টনক নড়বে? অন্যান্য পাবলিক ভার্সিটির মত এখানেও চারটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। আর বুয়েট ও অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার সাথে সমন্বয় করে পরীক্ষার তারিখ করা উচিত যাতে ছাত্র-ছাত্রীদের র্ভোগান্তি কমে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কিম্বা শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়ের টার্গেট না করে ভর্তিচ্ছু ছাত্রদের সর্বোচ্চ সুবিধার বিষয়টি যেন প্রথম বিবেচনা হয়। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।